আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

শনিবার, ৯ মে, ২০২০

মিস্ওয়াকের ২০টি মাদানী ফুল


প্রথমে দু’টি হাদীস শরীফ লক্ষ্য করুন:
১। মিস্ওয়াক করে দুই রাকাত নামায আদায় করা মিস্ওয়াক ছাড়া ৭০রাকাতের চেয়ে উত্তম। (আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১ম খন্ড, ১০২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৮)।
২। মিস্ওয়াকের ব্যবহার নিজের জন্য আবশ্যক করে নাও কেননা, তাতে মুখের পরিচ্ছন্নতা এবং আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির মাধ্যম রয়েছে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ২য় খন্ড, ৪৩৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৫৮৬৯)।
৩। দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা থেকে প্রকাশিত উর্দূ কিতাব “বাহারে শরীয়াত” প্রথম খন্ডের ২৮৮পৃষ্ঠায় সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরীকা, হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ লিখেন: মাশায়েখে কেরাম বলেন: “যে ব্যক্তি মিস্ওয়াকে অভ্যস্থ হয়, মৃত্যুর সময় তার কলেমা পড়া নসীব হয় এবং যে আফিম (এক প্রকার নেশার বস্তু) খায়, মৃত্যুর সময় তার কলেমা নসীব হবে না।”

৪। হযরত সায়্যিদুনা ইবনে আব্বাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত যে, মিস্ওয়াকে দশটি গুণাগুণ রয়েছে: মুখ পরিষ্কার করে, মাড়ি মজবুত করে, দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, কফ দূর করে, মুখের দূর্গন্ধ দূর করে, সুন্নাতের অনুসরণ হয়, ফিরিশতারা খুশি হয়, আল্লাহ্ তাআলা সন্তুষ্ট হন, নেকী বৃদ্ধি করে, পাকস্থলী ঠিক রাখে। (জামউল জাওয়ামি’ লিস্সুয়ুতী, ৫ম খন্ড, ২৪৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৪৮৬৭)।
৫। হযরত সায়্যিদুনা আবদুল ওয়াহাব শারানী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন: একবার হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর শিবলী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর ওযুর সময় মিস্ওয়াকের প্রয়োজন হয়। খুজে দেখা হলো কিন্তু পাওয়া গেল না। এজন্য এক দীনারের (অর্থাৎ একটি স্বর্ণের মূদ্রা) বিনিময়ে মিস্ওয়াক কিনে ব্যবহার করলেন। কিছু লোক বলল: এটা তো আপনি অনেক বেশী খরচ করে ফেলেছেন! কেউ আপনার  মতো এত বেশী দাম দিয়ে কি মিস্ওয়াক নেয়? হযরত আবু বকর শিবলী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: নিঃসন্দেহে এই দুনিয়া এবং এর সকল বস্তু আল্লাহ্ তাআলার নিকট মশার ডানার সমপরিমাণও মূল্য রাখেনা। যদি কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাআলা আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তবে আমি কি জবাব দেব, “তুমি আমার প্রিয় হাবীব صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুন্নাত কেন ছেড়ে দিলে?” যে ধন সম্পদ আমি তোমাকে দিয়েছিলাম তার বাস্তবতা তো আমার কাছে মশার ডানার সমপরিমাণও ছিল না। আর এ তুচ্ছ সম্পদ এই মহান সুন্নাতেকে (মিস্ওয়াক) পালনের জন্য কেন খরচ করলেনা? (লাওয়াকিহুল আনওয়ার থেকে সংক্ষেপিত, ৩৮ পৃষ্ঠা)।
৬। হযরত সায়্যিদুনা ইমাম শাফেয়ী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: চারটি জিনিস আকল তথা জ্ঞান বৃদ্ধি করে: অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা, মিস্ওয়াকের ব্যবহার, নেক্কার লোকদের সংস্পর্শ এবং নিজের জ্ঞানের উপর আমল করা। (ইহ্ইয়াউল উলুম, ৩য় খন্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা)।
৭। মিস্ওয়াক পিলু, যয়তুন, নিম ইত্যাদি তিক্ত গাছের হওয়া চাই।
৮। মিস্ওয়াক যেন কনিষ্ঠা আঙ্গুলের সমান মোটা হয়।
৯। মিস্ওয়াক যেন এক বিঘত পরিমাণ থেকে বেশী লম্বা না হয়। বেশী লম্বা হলে সেটার উপর শয়তান আরোহণ করে।
১০। মিসওয়াকের আঁশ যেন নরম হয়, শক্ত আঁশ দাঁত এবং মাড়ির মধ্যে ফাঁক (GAP) সৃষ্টি করে।
১১। মিস্ওয়াক যদি তাজা হয় তবে খুব ভাল নতুবা কিছুক্ষণ পানির গ্লাসে ভিজিয়ে রেখে নরম করে নিন।
১২। মিস্ওয়াকের আঁশ প্রতিদিন কাটা উচিত, আশঁগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত ফলদায়ক থাকে, যতক্ষণ মিস্ওয়াকে তিক্ততা অবশিষ্ট থাকে।
১৩। দাঁতের প্রস্থে মিস্ওয়াক করুন।
১৪। যখনই মিস্ওয়াক করবেন কমপক্ষে তিনবার করুন।
১৫। মিসওয়াক প্রত্যেকবার ধুয়ে নিন।
১৬। মিস্ওয়াক ডান হাতে এভাবে ধরুন যেন কনিষ্ঠা আঙ্গুল মিস্ওয়াকের নিচে এবং মধ্যবর্তী তিন আঙ্গুল উপরে থাকে, আর বৃদ্ধাঙ্গুল মাথায় থাকে।
১৭। প্রথমে ডান দিকের উপরের দাঁত সমূহে মিস্ওয়াক করবেন, অতঃপর বাম দিকের উপরের দাঁত সমূহে, তারপর ডান দিকের নিচের দাঁত সমূহে, এরপর বাম দিকের নিচের দাঁত সমূহের উপর মিস্ওয়াক করবেন।
১৮। মুষ্ঠি বেঁধে মিসওয়াক করার কারণে অর্শ্বরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
১৯। মিস্ওয়াক ওযুর পূর্ববর্তী সুন্নাত। অবশ্য সুন্নাতে মুআক্কাদা ঐ সময় হবে যখন মুখে দুর্গন্ধ হয়। (ফাতোওয়ায়ে রযবীয়া থেকে সংকলিত, ১ম খন্ড, ৬২৩ পৃষ্ঠা)।
২০ মিস্ওয়াক যখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়, তখন সেটাকে ফেলে দিবেন না; কেননা, এটা সুন্নাত পালণের উপকরণ। সেটাকে কোন জায়গায় সতর্কভাবে রেখে দিন কিংবা দাফন করে ফেলুন, অথবা পাথর বা ভারী জিনিস দিয়ে বেধেঁ সমুদ্রে ডুবিয়ে দিন।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for supporting.

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন