আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net
মাসাইল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাসাইল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কাযায়ে ওমরী আদায় করার নিয়ম

প্রত্যেক   দিনের   কাযা    হয়  মাত্র  ২০   রাকাত।  ফজরের    ২    রাকাত,    জোহরের       ৪     রাকাত,  আছরের    ৪    রাকাত,    মাগরিবের    ৩    রাকাত,  ইশার  ৪ রাকাত এবং বিতরের ৩ রাকাত মিলে মোট ২০ রাকাত। আর এভাবেই নিয়্যত করবে যে; “সর্বপ্রথম  ফযরের  যে নামায  আমার উপর কাযা  রয়েছে    তা  আমি  আদায়   করে   দিচ্ছি।” প্রত্যেক নামাযে এভাবেই   নিয়্যত  করবে। আর যার     যিম্মায়   অধিক   নামায   কাযা   রয়েছে   সে সহজের    জন্য   এভাবে   পড়লেও  জায়েয  হবে যে, প্রত্যেক রুকু ও সিজদাতে  ৩+৩  বার  سُبْحٰنَ رَبِّىَ  الْعَظِيْم,   سُبْحٰنَ رَبِّىَ  الْاَ عْلٰى পড়ার  পরিবর্তে মাত্র  ১+১ বার   পড়বে।   কিন্তু  সর্বদা এবং  সব ধরণের নামাযে এটা খেয়াল রাখা বাঞ্চনীয় যে, রুকুতে পরিপূর্ণভাবে পৌঁছার পরেই “سُبْحٰنَ”এর সীন    শুরু    করবে     (এর       আগে  নয়।)    এবং “عَظِيْم”   শব্দের    মীম   পড়া    শেষ   করেই   রুকু থেকে মাথা উঠাবে।  এরূপ  সিজদাতেও করতে হবে।   সহজতার   এক   পদ্ধতিতো   এটা   হলো।  আর   “দ্বিতীয়   পদ্ধতি”   এই   যে,   ফরয   নামায  সমূহের  তৃতীয় ও   চতুর্থ  রাকাতের মধ্যে  اَلْحَمْدُ পড়ার   পরিবর্তে  শুধুমাত্র   ৩  বার   সুবহানাল্লাহ পড়ে রুকুতে চলে যাবে। কিন্তু বিতরের প্রত্যেক রাকাতেই    اَلْحَمْدُ   এবং   সুরা   অবশ্যই    পড়তে হবে।  আর   “তৃতীয়   সহজতর পদ্ধতি” এই যে, শেষ   বৈঠকে তাশাহুদ অর্থাৎ  আত্তাহিয়্যাত  এর পরে উভয় দরূদ শরীফ এবং দোয়ায়ে  মাছুরার পরিবর্তে   শুধু   اَللّٰہُمَّ   صَلِّ   عَلٰی   مُحَمَّدٍ   وَّاٰلِهٖ   পড়ে  সালাম  ফিরিয়ে  নিবে।  আর  “চতুর্থ      সহজতর পদ্ধতি    হলো,   বিতরের    ৩য়    রাকাতের   মধ্যে  দোয়ায়ে কুনুত এর পরিবর্তে “اَللهُ اَکْبَرُ” বলে মাত্র একবার কিংবা তিনবার رَبِّ اغْفِرْ لِىْ  পড়ে নিবে।    (ফতোওয়ায়ে   রযবীয়া  হতে  সংগৃহীত, ৮ম খন্ড, ১৫৭ পৃষ্ঠা) 

মনে   রাখবেন! সহজতার এই  পদ্ধতির   অভ্যাস কখনো  বানাবেন   না।  সামগ্রিক  নামায  সুন্নাত  মোতাবেক  আদায় করবেন   এবং   তাতে ফরয, ওয়াজীব সমূহের সাথে সাথে সুন্নাত ও মুস্তাহাব সমূহের ও খেয়াল রাখবেন।

তওবার পদ্ধতি

সদরুল      আফাযিল      হযরত      আল্লামা      সায়্যিদ মুহাম্মদ  নঈমুদ্দীন  মুরাদাবাদী  رَحۡمَۃُ  اللہِ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ   বলেন:  তাওবার  রুকন তিনটি। যথা-
(১) কৃত   পাপ    স্বীকার   করা।   
(২)     এতে    লজ্জিত  হওয়া।
(৩) ঐ গুনাহের কাজ ছেড়ে দেয়ার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা        করা।        আর        যদি        ঐ        গুনাহের  ক্ষতিপূরণের  ব্যবস্থা   থাকে,  তাহলে পরবর্তীতে যথাযথভাবে         তা         ক্ষতিপূরণ        করে        নেয়া আবশ্যক।   যেমন-    নামায    ত্যাগকারী   ব্যক্তির তাওবা    শুদ্ধ    হওয়ার    জন্য    ঐ      নামায    কাযা আদায় করে নেয়া জরুরী। (খাযায়েনুল ইরফান, ১২ পৃষ্ঠা)

ঘুমন্ত   ব্যক্তিকে   নামাযের   জন্য   জাগিয়ে   দেয়া  ওয়াজিব

কেউ ঘুমাচ্ছে কিংবা নামায আদায় করতে ভুলে গিয়েছে তবে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তির জন্য  জরুরী  হবে  যে,   ঘুমন্ত   ব্যক্তিকে    জাগিয়ে দেয়া    কিংবা  ভুলে  যাওয়া    ব্যক্তিকে   নামাযের কথা   স্মরণ  করিয়ে    দেয়া।  (বাহারে   শরীয়াত, ১মখন্ড,    ৭০১পৃষ্ঠা)     (অন্যথায়    সে   গুনাহগার হবে।) মনে রাখবেন! জাগ্রত  করা কিংবা স্মরণ করিয়ে     দেয়া    তখনই    ওয়াজীব      হবে,    যখন আপনার প্রবল ধারণা হয় যে, এ ব্যক্তি অবশ্যই নামায পড়বে অন্যথায় ওয়াজীব নয়।

কাযা নামাযের পদ্ধতি

৩০ পারায় (সুরাতুল মাঊন)   এর আয়াত  নং ৪ ও ৫ এ ইরশাদ হচ্ছে:

فَوَیۡلٌ    لِّلۡمُصَلِّیۡنَ ۙ﴿۴﴾  الَّذِیۡنَ ہُمۡ عَنۡ صَلَاتِہِمۡ  سَاہُوۡنَ ۙ﴿۵﴾

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: সুতরাং ঐ সকল নামাযীদের     জন্য  অনিষ্ট   রয়েছে,   যারা  আপন নামায থেকে ভুলে বসেছে।

প্রসিদ্ধ      মুফাসসির,      হাকীমুল      উম্মত     হযরত মুফতী   ইয়ার  খাঁন  رَحْمَۃُ   اللّٰہِ  تَعَالٰی   عَلَیْہِ  সূরা মাঊন এর ৫নং আয়াতের টীকায় বলেন: নামায থেকে ভুলে বসার কিছু ধরণ রয়েছে: কখনো না পড়া,      নিয়মিত      ভাবে      নামায      না      পড়া,   নির্ধারিত   সময়ে    নামায    না   পড়া,    শুদ্ধভাবে  নামায     না     পড়া,      আগ্রহ     ভরে     না     পড়া,  বুঝে-শুনে নামায আদায়  না করা,   অলসতা ও   বেপরোয়া   ভাবে   নামায   আদায়    করা।   (নূরুল  ইরফান, ৯৫৮ পৃষ্ঠা) 

জাহান্নামের ভয়ানক উপত্যকা

সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরীকা হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আমজাদ  আলী আযমী  رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ    বলেন:     জাহান্নামে     “ওয়াইল”     নামের  একটি        ভয়ানক        উপত্যকা       রয়েছে,         যার ভয়াবহতা থেকে স্বয়ং জাহান্নামও আশ্রয় প্রার্থনা করে।  আর   জেনে  বুঝে নামায  কাযা কারীরাই ঐ স্থানের যোগ্য।  (বাহারে   শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা)

মুসাফিরের নামায

আল্লাহ  তাআলা  সূরা নিসার ১০১   নং  আয়াতে ইরশাদ করেন:

وَ  اِذَا  ضَرَبۡتُمۡ  فِی  الۡاَرۡضِ   فَلَیۡسَ    عَلَیۡکُمۡ  جُنَاحٌ  اَنۡ تَقۡصُرُوۡا مِنَ الصَّلٰوۃِ ٭ۖ اِنۡ  خِفۡتُمۡ   اَنۡ یَّفۡتِنَکُمُ  الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا   ؕ     اِنَّ   الۡکٰفِرِیۡنَ   کَانُوۡا   لَکُمۡ   عَدُوًّا   مُّبِیۡنًا ﴿۱۰۱﴾

কানযুল    ঈমান    থেকে    অনুবাদ:    এবং       যখন তোমরা  যমীনে  সফর     করো   তখন  তোমাদের এতে গুনাহ নেই যে, কোন কোন নামায ‘কসর’ করে পড়বে;যদি  তোমাদের  আশংকা হয়   যে, কাফিররা তোমাদেরকে     কষ্ট       দেবে।    নিশ্চয় কাফিরগণ  তোমাদের   প্রকাশ্য  শত্রু। (পারা-৫, সূরা-নিসা, আয়াত- ১০১) 
সদরুল    আফাযিল     হযরত     আল্লামা    মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মদ নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী رَحْمَۃُ اللّٰہِ تَعَالٰی   عَلَیْہِ   বলেন:   কাফিরদের     ভয়    কসরের জন্য শর্ত নয়,  হযরত   সায়্যিদুনা ইয়ালা ইবনে  উমাইয়া  হযরত সায়্যিদুনা ওমর ফারুকে আযম  رَضِیَ  اللّٰہُ تَعَالٰی   عَنْہُএর নিকট    আরয করলেন: “আমরাতো           নিরাপত্তার           মধ্যে           রয়েছি,  তারপরেও                   কেন                   আমরা                   কসর  করবো?”বললেন: “এতে আমারও আশ্চর্যবোধ হয়েছিল     তখন    আমি     রহমতে    আলম,     নূরে মুজাস্সাম,  হুযুর صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর   নিকট   বিষয়টি   জিজ্ঞাসা   করলাম।   হুযুরে  আকরাম,  নূরে     মুজাস্সাম,  শাহে  বনী  আদম, রাসূলে   মুহতাশাম      صَلَّی   اللّٰہُ   تَعَالٰی   عَلَیْہِ   وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم  ইরশাদ করলেন:    “তোমাদের জন্য এটা (কসর    করা)    আল্লাহ্    তাআলার      পক্ষ    থেকে সদকা  স্বরূপ,  তোমরা  তাঁর  সদকা  কবুল  করে নাও।” (সহীহ মুসলিম, ১ম খন্ড, ২৩১ পৃষ্ঠা) 

সিজদায়ে সাহু ও তিলাওয়াতে সিজদার বর্ণনা

(১)    নামাযের ওয়াজীবগুলোর মধ্য  থেকে  যদি কোন  একটি   ওয়াজীব  ভুলে     বাদ   পড়ে   যায় অথবা     নামাযের     ফরয     ও     ওয়াজীব     সমূহে  ভুলক্রমে  দেরী   হয়ে  যায়   তবে  সিজদায়ে  সাহু ওয়াজীব।       (রদ্দুল       মুহতার      সম্বলিত      দুররে মুখতার,    ২য়     খন্ড,    ৬৫৫    পৃষ্ঠা)     
(২)     যদি   সিজদায়ে সাহু  ওয়াজীব   হওয়া  সত্ত্বেও করলো  না,       তবে     নামায    পুনরায়    পড়া     ওয়াজীব। (প্রাগুক্ত)   
(৩)  ইচ্ছাকৃত    ভাবে  ওয়াজীব   বর্জন করলো, তবে সিজদায়ে  সাহু   দিলে যথেষ্ট  হবে না।     পুনরায়     নামায       আদায়       করে     দেওয়া ওয়াজীব।    

ইমামত ও জামাআতের বর্ণনা

সুস্থ সবল ব্যক্তির ইমামের জন্য ছয়টি শর্ত


(১) বিশুদ্ধ আকীদা সম্পন্ন মুসলমান হওয়া,
(২) প্রাপ্ত বয়স্ক    হওয়া,
(৩) বিবেকবান হওয়া,
(৪)  পুরুষ  হওয়া,     
(৫)  কিরাত  বিশুদ্ধ  হওয়া,   
(৬)   মা’যুর না  হওয়া (শরয়ী ভাবে অক্ষম না হওয়া) ।  (রদ্দুল  মুহতার  সম্বলিত  দুররে  মুখতার,  ২য়  খন্ড, ২৮৪ পৃষ্ঠা)

ইমামের অনুসরণ করার ১৩টি শর্ত


(১) নিয়্যত করা
(২) ইক্তিদা করা আর ইক্তিদার নিয়্যত তাহরীমার সাথে হওয়া অথবা তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে হওয়া তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, নিয়্যত   ও    তাহরীমার     মাঝখানে   অন্য    কোন  বাহ্যিক  কাজ দ্বারা  যেন  ব্যবধান   সৃষ্টি   না হয়)

শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নামাযের ৩৩টি মাকরূহে তানযীহী

(১)  অন্য  কাপড়    থাকা    সত্ত্বেও   কাজ   কর্মের পোষাকে     নামায     আদায়     করা।     (গুনিয়াতুল মুসতামলা,       ৩৩৭     পৃষ্ঠা)    মুখে     এমন    কোন জিনিস রাখা যার দ্বারা কিরাতই পড়া সম্ভব হয় না   কিংবা   এমন   শব্দাবলী   বের   হয়ে   যায়   যা  কুরআনে পাকের নয় তাহলে নামাযই ভঙ্গ হয়ে যাবে।     (দুররে   মুখতার,   রদ্দুল   মুহতার)      

(২) অলসতাবশতঃ    খালি    মাথায়      নামায     আদায়  করা।    (আলমগিরী,    ১ম     খন্ড,    ১০৬     পৃষ্ঠা)    নামাযরত   অবস্থায়   টুপি   কিংবা   ইমামা   শরীফ  পড়ে    গেলে     তা    উঠিয়ে      নেয়া    উত্তম,    যদি “আমলে     কসীর”     এর     প্রয়োজন     না       হয়।   “আমলে কসীর” করতে  হলে নামায   ভঙ্গ হয়ে যাবে।   আর   বার   বার   উঠাতে   হলে   তবে   তা  পতিত অবস্থায় রেখে   দিন।   না উঠানোতে যদি একাগ্রতা  ও বিনয়   প্রকাশ উদ্দেশ্য  হয় তাহলে না    উঠানোই   উত্তম।   (রদ্দুল    মুহতার   সম্বলিত দুররে     মুখতার,     ২য়   খন্ড,   ৪৯১   পৃষ্ঠা)     যদি কাউকে    খালি     মাথায়    নামায   আদায়   করতে দেখা    যায়    বা   তার   টুপি   পড়ে   যায়   তাহলে তাকে অপর ব্যক্তি টুপি পরিয়ে দেবেন না।

নামাযের ৩২টি মাকরূহে তাহরীমা

(১)   নামাযরত   অবস্থায়    দাঁড়ি,   শরীর    কিংবা কাপড় ইত্যাদি নিয়ে খেলা করা। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, ১০৪ পৃষ্ঠা)
(২) কাপড় গুটিয়ে নেয়া (যেমন-আজকাল কিছু কিছু  লোক সিজদাতে যাওয়ার  সময়  পায়জামা ইত্যাদি    সামনে  অথবা  পিছনের  দিকে   উঠিয়ে নেয়।  (গুনিয়াতুল  মুসতামলা, ৩৩৭  পৃষ্ঠা) হ্যাঁ! যদি     কাপড়  শরীরের  সাথে  লেগে  যায়   তবে  এক হাতে ছাড়িয়ে নিলে কোন ক্ষতি নেই।

কাঁধের উপর চাদর ঝুলানো

(৩)    সাদল   অর্থাৎ   কাপড়   ঝুলানো।     যেমন- মাথা  অথবা  কাঁধে  এমনভাবে  চাদর  বা  রুমাল  ইত্যাদি    রাখা   যে   উভয়   পার্শ্ব    ঝুলতে   থাকে। অবশ্য  যদি  এক  পার্শ্বকে  অপর    কাঁধের   উপর তুলে   দেয়   এবং  অপরটি   ঝুলতে    থাকে,  তবে ক্ষতি     নেই।    (রদ্দুল     মুহতার     সম্বলিত    দুররে মুখতার,   ২য় খন্ড, ৪৮৮ পৃষ্ঠা)  
(৪)   আজকাল কিছু  সংখ্যক  লোক এক  কাঁধের উপর  এভাবে রুমাল  রাখে   যে,  তার  এক  প্রান্ত  পেটের   উপর অপর প্রান্ত   পিঠের  উপর  ঝুলতে থাকে  এভাবে নামায      আদায়      করা       মাকরূহে        তাহরীমী।  (বাহারে শরীয়াত,   ৩য়  অংশ,  ১৬৫ পৃষ্ঠা)  
(৫)  উভয়   আস্তীন   হতে  একটি   আস্তীনও  যদি   অর্ধ  কব্জি   অপেক্ষা  বেশি   উঠে   থাকে  তবে    নামায  মাকরূহে      তাহরীমী        হবে।       (রদ্দুল      মুহতার সম্বলিত   দুররে মুখতার,  ২য়  খন্ড,  ৪৯০ পৃষ্ঠা)

বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

নামায ভঙ্গকারী ২৯টি বিষয়

(১)   কথাবার্তা     বলা।   (রদ্দুল   মুহতার   সম্বলিত দুররে   মুখতার,    ২য়   খন্ড,     ৪৪৫   পৃষ্ঠা)     
(২) কাউকে সালাম করা 
(৩) সালামের উত্তর দেয়া। (তাহতাবী        পাদটিকা        সম্বলিত        মারাক্বিউল  ফালাহ,    ৩২২  পৃষ্ঠা) 
 (৪)   হাঁচির   উত্তর  দেয়া। (নামাযে  নিজের   হাঁচি  আসলে   চুপ  থাকবেন।) যদি   “اَلْحَمْدُ   لِلّٰه”    বলেও ফেলেন    তবু   কোন অসুবিধা  নেই  আর   যদি  ঐ  সময়  তা   না   বলে থাকেন      তবে       নামায      শেষ       করে      বলবেন (আলমগিরী,  ১ম খন্ড,  পৃষ্ঠা ৯৮) 
(৫) সুসংবাদ শুনে উত্তরে    “اَلْحَمْدُ لِلّٰه”বলা। (আলমগিরী, ১ম খন্ড,   পৃষ্ঠা   ৯৯)   
(৬)    খারাপ   সংবাদ     (যেমন কারো  মৃত্যুর   সংবাদ)  শুনে  اِنَّا   لِلّٰهِ   وَ  اِنَّاۤ  اِلَيْهِ  رٰجِعُوْنَ   বলা।   (প্রাগুক্ত)   
 (৭)   আযানের     উত্তর দেয়া।  (আলমগিরী,  ১ম  খন্ড, পৃষ্ঠা ১০০)  

>>Donate Us<< ⬅ Click For More...



(৮) আল্লাহ তাআলার নাম   শুনে উত্তরে  جَلَّ جَلَا لُه ٗ বলা। (গুনিয়াতুল   মুসতামলা, ৪২০   পৃষ্ঠা) 
(৯) নবী করীম,  রউফর  রহীম   صَلَّی   اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم    এর   মহান   নাম  শুনে  উত্তরে   দরূদ শরীফ পড়া। (যেমন-  صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم    বলা)  (আলমগিরী,  ১ম  খন্ড,  ৯৯  পৃষ্ঠা) (অবশ্য  যদি جَلَّ جَلَا لُه ٗ বা صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم  এ  কথা  গুলো   উত্তরের  নিয়্যতে   না বলে থাকলে নামায ভঙ্গ হবে না।) 

নামাযে কান্না করা

নামাযের প্রায় ১৪টি মুস্তাহাব

(১)   নিয়্যতের  শব্দ  সমূহ  মুখে    উচ্চারণ   করা। (রদ্দুল মুহতার সম্বলিত তানবীরুল আবছার, ২য় খন্ড,   ১১৩   পৃষ্ঠা)   (এটা   অর্থবহ   তখনই   হবে  যখন   অন্তরে   নিয়্যত   থাকে   অন্যথায়   নামাযই  হবে  না।)   
(২)   কিয়ামের    মধ্যে  উভয়  পায়ের গোড়ালীর     মধ্যভাগে     চার     আঙ্গুলের     দূরত্ব  থাকা।  (আলমগিরী,  ১ম  খন্ড,  ৭৩  পৃষ্ঠা)   
 (৩) কিয়াম অবস্থায় সিজদার স্থানে 
(৪) রুকূ অবস্থায় উভয়     পায়ের    পিঠের    উপর    
(৫)     সিজদাতে  নাকের  দিকে  
(৬)  বৈঠকে  কোলের  উপর 
 (৭)  প্রথম   সালামে   ডান   কাঁধের   দিকে   এবং     
(৮) দ্বিতীয়  সালামে  বাম  কাঁধের  দিকে  দৃষ্টি  রাখা। (রদ্দুল মুহতার সম্বলিত তানবীরুল আবছার, ২য় খন্ড,        ২১৪       পৃষ্ঠা)       
(৯)       একাকী        নামায আদায়কারী   রুকূ   ও   সিজদার   মধ্যে   বিজোড়  সংখ্যায়   তিনবারের   বেশি     (যেমন-   ৫,   ৭,   ৯ ইত্যাদি)   তাসবীহ   বলা।   (রদ্দুল   মুহতার,   ২য়  খন্ড,  ২৪২     পৃষ্ঠা)   
(১০)  হিলইয়া  ও    অন্যান্য কিতাবে   রয়েছে,   হযরত  সায়্যিদুনা   আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক رَضِیَ اللّٰہُ تَعَالٰی عَنْہُ প্রমুখ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইমামের জন্য তাসবীহ পাঁচবার বলা   মুস্তাহাব।  

শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

প্রসঙ্গ: ফয়যানে জুমা (পর্ব-৩)

দুই জুমার মধ্যবর্তী দিন সমূহে নূর

হযরত   সায়্যিদুনা   আবু   সাঈদ   رَضِیَ   اللہُ   تَعَالٰی  عَنۡہُ   থেকে বর্ণিত;  নবী করীম, রউফুর রহীম,  রাসূলে   আমীন  صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی   عَلَیْہِ   وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم ইরশাদ     করেন:  “যে    ব্যক্তি   জুমার  দিন  ‘সুরা কাহাফ’  পাঠ  করবে,  দুই  জুমার  মধ্যবর্তী  দিন  সমূহ তার  জন্য নূর
দ্বারা আলোকিত থাকবে।” (আস সুনানুল  কুবরা লিল বায়হাকী, ৩য়  খন্ড,  ৩৫৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৫৯৯৬) 

ফয়যানে জুমা: জুমার নামাযের ফযিলত ও মাসাইল
কা’বা পর্যন্ত নূর

অপর  বর্ণনায়   রয়েছে;“যে  ব্যক্তি  জুমার  রাতে  (অর্থাৎ   বৃহস্পতিবার   ও    শুক্রবারের     মধ্যবর্তী  রাতে) ‘সুরাতুল কাহাফ’ পাঠ করবে, তার জন্য সেখান   থেকে   কা’বা   শরীফ     পর্যন্ত     নূর    দ্বারা আলোকিত  হবে।”  (সুনানে  দারমী,  ২য়  খন্ড,  ৫৪৬ পৃষ্ঠা, হাদীস-৩৪০৭) 


প্রসঙ্গ: ফয়যানে জুমা (পর্ব-২)

প্রত্যেক     জুমার      দিন      ১      কোটি      ৪৪      লক্ষ  জাহান্নামীদের মুক্তি

সুলতানে  মদীনা  صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم  ইরশাদ  করেন:  “জুমার  দিনের    রাত-দিন  ২৪ ঘন্টার মধ্যে এমন   কোন  ঘন্টা  নেই, যার মধ্যে প্রতিনিয়ত  ৬ লক্ষ দোযখীকে  মুক্তি দেয়া হচ্ছে  না,    যাদের     উপর    জাহান্নাম     ওয়াজীব      হয়ে  গেছে।”    (মুসনাদে      আবু    ইয়ালা,    ৩য়    খন্ড, ২৯১, ২৩৫ পৃষ্ঠা, হাদীস-৩৪২১, ৩৪৭১) 

কবরের আযাব থেকে মুক্ত

প্রিয়  আক্বা,  মক্কী  মাদানী  মুস্তফা,  হুযুর   পুরনূর  صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم   ইরশাদ    করেন:  “যে   ব্যক্তি    জুমার   দিন    কিংবা    জুমার      রাতে মৃত্যুবরণ করবে, সে কবরের আযাব থেকে মুক্তি পাবে    এবং    কিয়ামতের    দিন    সে    এমনভাবে  উঠবে      যে,      তার      উপর      শহীদদের      মোহর  থাকবে।”    (হিলআতুল    আউলিয়া,    ৩য়    খন্ড,  ১৮১ পৃষ্ঠা, হাদীস-৩৬২৯) 


প্রসঙ্গ: ফয়যানে জুমা (পর্ব-১)

জুমার দিন দরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত

নবীদের         সুলতান,         রহমতে         আলামিয়ান,  সরদারে   দো-জাহান,  মাহবুবে   রহমানصَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি আমার   উপর   জুমার   দিন    দুইশত    বার    দরূদ শরীফ পাঠ   করবে, তার  দুইশত বছরের গুনাহ্ মাফ   হয়ে    যাবে।”  (জমউল   জাওয়ামেয়  লিস সুয়ূতী, ৭ম   খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা, হাদীস-২২৩৫৩) 

صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب!                     صَلَّی اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد

প্রিয়      ইসলামী     ভাইয়েরা!    আমরা     কতই    না সৌভাগ্যবান   যে,    আল্লাহ্   তাআলা     তাঁর   প্রিয় হাবীব    صَلَّی    اللّٰہُ    تَعَالٰی    عَلَیْہِ    وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم    এর  ওসিলায়         আমাদেরকে         বরকতময়        জুমার  নিয়ামত      দ্বারা      ধন্য      করেছেন।     আফসোস! আমরা অকৃতজ্ঞরা অন্যান্য দিনের মতো জুমার  দিনটিকেও  অলসতার  মধ্যে  অতিবাহিত  করি।  অথচ  জুমার দিন ঈদের দিন, জুমার দিন সকল দিনের সরদার, জুমার দিনে জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা  হয় না, জুমার রাতে জাহান্নামের দরজা  খোলা হয়  না, জুমাকে কিয়ামতের   দিন নববধূর     মতো     উঠানো     হবে,     জুমার     দিনে  মৃত্যুবরণকারী   সৌভাগ্যবান মুসলমান শহীদের  মর্যাদা  লাভ  করে  এবং  কবরের  আযাব  থেকে   নিরাপদ  হয়ে যায়। প্রসিদ্ধ মুফাসসির, হাকীমুল উম্মত     হযরত   আল্লামা   মুফতী   আহমদ   ইয়ার খাঁন       رَحْمَۃُ        اللّٰہِ      تَعَالٰی       عَلَیْہِ      এর      বর্ণনা অনুসারে;“জুমার দিন হজ্ব হলে সেটার সাওয়াব সত্তরটি  হজ্জের  সাওয়াবের   সমপরিমাণ    হবে।  জুমার    দিনের    একেকটি   সৎকাজের   সাওয়াব সত্তরগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। (যেহেতু জুমার দিনের মর্যাদা অনেক বেশি, তাই) জুমার দিনে গুনাহের শাস্তিও   সত্তর গুণ   পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। (মীরআত, ২য় খন্ড, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬ পৃষ্ঠা) 

মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৭

নামাযের প্রায় ৯৬টি সুন্নাত

তাকবীরে তাহরীমার সুন্নাত সমূহ


(১) তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানো,
(২) এ  সময়  হাতের  আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা। (অর্থাৎ না একেবারে মিলিয়ে রাখবেন, না ফাক   রাখবেন)   
(৩)  উভয়   হাতের   তালু  ও আঙ্গুলগুলোর   পেট   কিবলামূখী   রাখা।   
(৪)  তাকবীরের সময় মাথা না ঝুঁকানো,
(৫) তাকবীর শুরু করার পূর্বেই উভয় হাতকে কান পর্যন্ত উঠিয়ে নেয়া,
(৬)  কুনূতের তাকবীর ও 
(৭) দুই  ঈদের তাকবীর  গুলোতেও   এগুলো   সুন্নাত।  (দুররে  মুখতার, রদ্দুল মুহতার,  ২য় খন্ড,    ২০৮ পৃষ্ঠা) ইমামের উচ্চস্বরে اَللهُ اَكْبَرُ বলা,
(৯) سَمِـعَ  اللهُ لِمَنْ حَمِدَه এবং 
(১০) সালাম বলা  (প্রয়োজনের অতিরিক্ত আওয়াজকে উঁচু করা মাকরূহ)  (রদ্দুল মুহতার, ২য় খন্ড,  ২০৮ পৃষ্ঠা)
(১১) তাকবীরের পরপরই হাত   বেঁধে  ফেলা  সুন্নাত। (অনেকেই তাকবীরে উলার  পর  হাত ঝুলিয়ে   দেয় অথবা কনুই  ঝুলিয়ে দেয় অথবা কনুই  দু’টি পিছনের   দিকে একবার ঝাঁকি  দিয়ে  তারপর হাত বাঁধে।  তাদের এ কাজ   সুন্নাতের  পরিপন্থী) ।   (দুররে মুখতার, রদ্দুল মুহতার, ২য় খন্ড, ২২৯ পৃষ্ঠা) 

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭

কুরবানীর চামড়া সংগ্রহকারীর জন্য ২২ টি নিয়্যত এবং সতর্কতা

নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দু’টি বাণী:

(১) “মুসলমানের নিয়্যত তার আমল থেকে উত্তম।”(মুজাম কবীর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ১৮৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৫৯৪২)

(২) “ভাল নিয়্যত বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয়।”(আল ফিরদাউছ বিমাছুরিল খাত্তাব, ৪র্থ খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৬৮৯৫)
কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ
দু’টি মাদানী ফুল: 
 ভাল নিয়্যত ছাড়া কোন ভাল কাজের সাওয়াব অর্জিত হয়না।
 ভাল নিয়্যত যত বেশি, সাওয়াবও তত বেশি।

পশুর এমন ২২টি অংশ, যা খাওয়া যায়না

“ফয়যানে সুন্নাত” ১ম খন্ডের ৪০৫-৪০৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে: আমার আক্বা আ‘লা হযরত, ইমামে আহমদ রযা খাঁন رحمة الله عليه বলেন: হালাল পশুর সব অংশই হালাল কিন্তু কিছু অংশ আছে যা খাওয়া হারাম, নিষিদ্ধ অথবা মাকরূহ। যেমন: (১) রগের রক্ত (২) পিত্ত (৩) মূত্রথলি (৪, ৫) পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ (৬) অন্ডকোষ (৭) জোড়া, শরীরের গাঁট (৮) হারাম মজ্জা (৯) ঘাড়ের দো পাট্টা, যা কাঁধ পর্যন্ত টানা থাকে (১০) কলিজার রক্ত (১১) তিলির রক্ত (১২) মাংসের রক্ত, যা যবেহ করার পর মাংস থেকে বের হয় (১৩) হৃদপিন্ডের রক্ত (১৪) পিত্ত অর্থাৎ ঐ হলদে পানি যা পিত্তের মধ্যে থাকে (১৫) নাকের আর্দ্রতা (ভেড়া-ভেড়ীর মধ্যে অধিক হারে থাকে) (১৬) পায়খানার রাস্তা (১৭) পাকস্থলি (১৮) নাড়িভূড়ি (১৯) বীর্য (২০) ঐ বীর্য, যা রক্ত হয়ে গেছে (২১) ঐ বীর্য, যা মাংসের টুকরো হয়ে গেছে (২২) ঐ বীর্য, যা পূর্ণ জানোয়ার হয়ে গেছে এবং মৃত অবস্থায় বের হয়েছে অথবা জবেহ করা ছাড়া মারা গেছে। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২০তম খন্ড, ২৪০-২৪১ পৃষ্ঠা)

>>Donate Us<< ⬅ Click For More...



বিবেকবান কসাইরা এসব হারাম বস্তু বের করে ফেলে দিয়ে থাকে কিন্তু অনেকের তা জানা থাকে না কিংবা অসাবধানতাবশতঃ এরকম করে থাকে। তাই আজকাল প্রায় অজ্ঞাতবশতঃ যেসব জিনিস তরকারীর সাথে রান্না করা হয়, সেগুলোর পরিচয় প্রদানের চেষ্টা করছি।

রক্ত

জবাই করার সময় যে রক্ত বের হয় সেটাকে “দমে মাসফূহ” (প্রবাহিত রক্ত) বলা হয়। তা অপবিত্র, খাওয়া হারাম, জবাই করার পর যে রক্ত মাংসের মধ্যে থেকে যায়, যেমন- ঘাড়ের কাটা অংশে, হৃদপিন্ডের ভিতর, কলিজা, প্লীহা ও মাংসের আভ্যন্তরিণ ছোট ছোট রগের মধ্যে, এসব যদিও নাপাক নয় তবুও এসব রক্ত খাওয়া নিষিদ্ধ। তাই রান্না করার পূর্বে এগুলো পরিস্কার করে নিন। মাংসের মধ্যে কিছু জায়গায় ছোট ছোট রগে রক্ত থাকে তা চোখে পড়া খুবই কঠিন। রান্নার পর ঐ রগগুলো কালো রেখার ন্যায় হয়ে যায়। বিশেষতঃ মগজ, মাথা, পা ও মুরগীর রান ও ডানার মাংস ইত্যাদির মধ্যে হালকা কালো রেখা দেখা যায়, খাওয়ার সময় তা বের করে ফেলে দিন। মুরগীর হৃদপিন্ডও সরাসরি রান্না করবেন না, লম্বাতে চার ভাগ করে কেটে ফাঁক করে প্রথমে সেটার রক্ত ভালভাবে পরিস্কার করে নিন।

কসাইদের জন্য ২০টি মাদানী ফুল (করণীয়)

(১) প্রথমে কোন অভিজ্ঞ মাংস বিক্রেতার তত্ত্বাবধানে জবেহ ইত্যাদির কাজ শিখে নিবে, কেননা অনভিজ্ঞের জন্য এ কাজ জায়েয নেই। এ কারণে কারো পশুর মাংস এবং চামড়া ইত্যাদিকে প্রচলিত নিয়ম থেকে সরে গিয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(২) অভিজ্ঞ কসাইরও উচিত, তাড়াহুড়া করতে গিয়ে অসাবধানতাবশতঃ চামড়ার সাথে প্রচলিত নিয়মের চেয়ে বেশি মাংস লেগে থাকতে না দেয়া। এভাবে নাড়িভূড়ি বের করার সময়েও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী, যেন অযথা মাংস ও চর্বি এর সাথে চলে না যায়। এমনকি খাওয়ার উপযুক্ত হাঁড়গুলোও ফেলে না দিয়ে টুকরো টুকরো করে মাংসের সাথে ঢেলে দিন এবং অভিজ্ঞ মাংস বিক্রেতারও নিয়ম বহির্ভূত মাংস ও চামড়ার ক্ষতি করা জায়েয নেই।

কুরবানীর মাংস বন্টন করার বিস্তারিত জেনে নিন

কুরবানীতে আকীকার অংশ

কুরবানীর গরু বা উটে আকীকার অংশ হতে পারে। (রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৪০ পৃষ্ঠা)


সম্মিলিত কুরবানীর মাংস ওজন করে বন্টন করতে হবে

একাধিক ব্যক্তি মিলে গরু দিয়ে কুরবানী করলে মাংস ওজন দিয়ে বন্টন করা আবশ্যক। অনুমান করে মাংস বন্টন করা জায়েয নেই, এরকম করলে গুনাহগার হবে। বেশি বা কম হলে সন্তুষ্টচিত্তে একে অপরকে ক্ষমা করে দেওয়াও যথেষ্ট নয়। (বাহারে শরীয়াত থেকে সংক্ষেপিত, ৩য় খন্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠা) তবে যদি অংশীদার সকলেই একই ঘরে বসবাস করে, মিলে-মিশে বন্টন করে এবং এক সাথে খায় অথবা অংশীদাররা নিজেদের অংশের মাংস নিতে না চায়, এমতাবস্থায় ওজন করে ভাগ করার প্রয়োজন নেই।

অনুমানের ভিত্তিতে মাংস বন্টনের দু’টি কৌশল

যদি অংশীদাররা নিজেদের অংশের মাংস নিয়ে যেতে চায়, তাহলে ওজন করার ঝামেলা ও পরিশ্রম থেকে বাঁচতে চাইলে নিম্নলিখিত দুটি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।
১) জবেহ করার পর ঐ গরুর সম্পূর্ণ মাংস এমন একজন বালেগ মুসলমানকে দান করে মালিক বানিয়ে দিবে, যে তাদের সাথে কুরবানীতে অংশীদার নয়। এখন সে অনুমান করে সবাইকে মাংস বন্টন করে দিতে পারবে।

বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৭

কুরবানীর পদ্ধতি

(কুরবানী হোক কিংবা এমনি অন্য কোন জবেহ হোক)
আমাদের দেশে এই নিয়মটা চলে আসছে যে, জবেহকারী কিবলামূখী হয় এবং পশুকেও কিবলামূখী করা হয়। কিবলা যেহেতু আমাদের পাক ভারত উপমহাদেশের (WEST) পশ্চিম দিকে, সেহেতু পশুর মাথা (SOUTH) দক্ষিণমুখী করতে হবে। যাতে পশুকে বাম পাজরে শোয়ালে এটির পিঠ (EAST) পূর্ব দিকে হয় এবং তার মুখমন্ডল কিবলামুখী হয়ে যায়। আর জবেহকারী নিজের ডান পা পশুর গর্দানের ডান অংশের (গর্দানের নিকটবর্তী অংশের) উপর রাখবে এবং জবেহ করবে। জবেহকারী নিজের কিংবা পশুর মুখমন্ডল কিবলামূখী না করলে মাকরূহ হবে। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২০তম খন্ড, ২১৬ ও ২১৭ পৃষ্ঠা)
কুরবানীর পদ্ধতি ও দোআ

কুরবানীর পশু জবেহ করার পূর্বে নিম্নলিখিত দোয়া পাঠ করবেন

إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
{কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আমি আমার মুখমন্ডল তাঁর দিকে ফিরালাম একমাত্র তাঁরই জন্যে, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। একমাত্র তাঁরই হয়ে এবং আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভূক্ত নই। (পারা-৮, সূরা- আনআম, আয়াত- ৭৯)}

ঘোড়ার আরোহী (কুরবানীর পূর্ণাঙ্গ মাসআলা মাসাইল)

হযরত সায়্যিদুনা আহমদ বিন ইছহাক رحمة الله عليه বলেন : আমার ভাই দরিদ্র হওয়া সত্বেও আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়্যতে প্রতি বছর কুরবানীর ঈদে কুরবানী করতেন। তাঁর ইন্তিকালের পর আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, কিয়ামত সংগঠিত হয়ে গেছে আর মানুষ তাদের নিজ নিজ কবর থেকে বের হয়েছে হঠাৎ আমার মরহুম ভাইকে একটি সুন্দর বিচিত্র বর্ণের ঘোড়ায় আরোহী অবস্থায় দেখলাম। তাঁর সাথে আরো অনেক ঘোড়া ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম : ‘হে আমার ভাই আল্লাহ্ তাআলা আপনার সাথে কি ধরনের আচরণ করেছেন? তিনি বললেন : ‘আল্লাহ্ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (জিজ্ঞাসা করলাম) “কোন আমলের কারণে?” উত্তরে বললেন: “একদিন কোন এক গরীব বৃদ্ধা মহিলাকে সাওয়াবের নিয়্যতে আমি একটি দিরহাম দান করেছিলাম, ঐ দানই কাজে এসেছে।” আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম: “এগুলো কিভাবে পেলেন?” উত্তরে বললেন: “এই সব ঘোড়া আমার কুরবানীর ঈদের (আমার দেওয়া) কুরবানীর পশু এবং যেই ঘোড়ায় আমি আরোহণ করেছি তা আমার জীবনের প্রথম কুরবানী।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম: “এখন কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছেন?” তিনি উত্তরে বললেন: “জান্নাতের উদ্দেশ্যে”। এই কথা বলে তিনি আমার দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। (দুররাতুন নাছেহীন, ২৯০ পৃষ্ঠা) 
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তারঁ উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক। 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

প্রিয় নবীর ﷺ চারটি বাণী

(১) “কুরবানী দাতার কুরবানীর পশুর প্রত্যেকটি লোমের পরিবর্তে একটি করে নেকী অর্জিত হয়।” (তিরমিযি, ৩য় খন্ড, ১৬২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৪৯৮)

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন