আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

আংটি সম্পর্কিত ১৯টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি পরিধান করা হারাম। সুলতানে দো জাহান, রহমতে আ’লামিন صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم স্বণের্র আংটি পরিধান করা থেকে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, ৪র্থ খন্ড, ৬৭ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৫৮৬৩)
২। (অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) ছেলেকে স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার পরানো হারাম। যে ব্যক্তি পরাবে সে গুনাহ্গার হবে। অনুরূপ ছেলের হাতে পায়ে অহেতুক মেহেদী দেওয়াও নাজায়েয। মহিলারা নিজেরা তাদের হাতে-পায়ে মেহেদী লাগাতে পারবে। কিন্তু ছেলেকে লাগালে গুনাহ্গার হবে। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা। দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৮ পৃষ্ঠা) ছোট মেয়ের হাতে পায়ে মেহেদী দেওয়াতে কোন বাধা নাই।
৩। লোহার আংটি জাহান্নামীদেরই অলংকার। (তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৭৯২)।
৪। পুরুষের জন্য সেরূপ আংটিই জায়েয যেগুলো (লেডিস ষ্টাইলের নয়) জেন্টস ষ্টাইলের। অর্থাৎ তা হবে কেবল এক পাথর বিশিষ্ট। আর যদি তাতে একের অধিক (কয়েকটি) পাথর থাকে, তাহলে তা রূপার হয়ে থাকলেও পুরুষদের জন্য নাজায়েয। (রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৭ পৃষ্ঠা)।

৫। পাথর বিহীন আংটি পরিধান করা নাজায়েয। কেননা, এটি কোন আংটি নয়, বরং রিংই।
৬। হুরূফে মুকাত্তাআত-খুদিত (পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে বিভিন্ন বর্ণ খুদিত) আংটি ব্যবহার করা জায়েয। কিন্তু হুরূফে মুকাত্তাআত খুদিত আংটি অযুবিহীন অবস্থায় পরিধান করা, স্পর্শ করা অথবা মুসাফাহাকালে হাত মিলানো ব্যক্তিটির এই আংটিখানা অযুবিহীন অবস্থায় স্পর্শ হয়ে যাওয়া জায়েয নেই।
৭। অনুরূপ পুরুষদের জন্য একাধিক (জায়েয) আংটি পরিধান করা কিংবা (একাধিক) রিং পরিধান করা নাজায়েয। কেননা রিংটি আংটি নয়। মহিলারা রিং পরতে পারবে। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৪৬৮ পৃষ্ঠা)
৮। এক পাথর বিশিষ্ট রূপার একটি আংটি যদি সাড়ে চার মাশা বা ৪ গ্রাম ৩৭৪ মিলিগ্রাম হতে কম ওজনের হয়ে থাকে তাহলে সেটি পরিধান করা জায়েয। যদিও তা মোহরের (সিল) প্রয়োজনে না হয়ে থাকে। কিন্তু তা পরিহার করা (অর্থাৎ যার ষ্টাম্পের প্রয়োজন নেই, তার পক্ষে জায়েয আংটিও পরিধান না করাই) উত্তম। আর (যাকে আংটি দিয়ে ছাপ দিতে হয় অর্থাৎ আংটিকে মোহর হিসাবে ব্যবহার করতে হয়, তার পক্ষে) মোহরের প্রয়োজনে কেবল জায়েযই নয় বরং সুন্নাত। অবশ্য অহংকার প্রদর্শনের জন্য কিংবা মেয়েদের মতো টিপ-টাপ ষ্টাইলের অথবা অন্য কোন ঘৃনিত উদ্দেশ্যে একটি আংটিই বা কেন, এরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে তো স্বাভাবিক কাপড়-চোপড় পরিধান করাও নাজায়েয। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ১৪১ পৃষ্ঠা)
৯। দুই ঈদে আংটি পরিধান করা মুস্তাহাব। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ৭৭৯, ৭৮০ পৃষ্ঠা) কিন্তু পুরুষেরা কেবল জায়েয আংটিগুলোই পরিধান করবে।
১০। আংটি পরিধান করা কেবল তাদের জন্যই সুন্নাত, যাদের মোহর করার প্রয়োজন রয়েছে (অর্থাৎ ষ্টাম্প হিসাবে ব্যবহার করার)। যেমন; সুলতান, কাজী, আলিম-ওলামা যাঁরা ফতোয়ায় মোহর ব্যবহার করেন। এরা ব্যতীত অন্যান্যদের জন্য যাদের মোহরের প্রয়োজন নেই, তাদের জন্য সুন্নাত নয়। অবশ্য পরিধান করা জায়েয। (আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠা)। বর্তমানে অবশ্য আংটির মাধ্যমে মোহর করার প্রচলন আর নেই। বরং এ কাজের জন্য ষ্টাম্পই তৈরি করা হয়ে থাকে। সুতরাং আংটির মাধ্যমে যাদের মোহর করার প্রয়োজন আর নেই, সেসব কাজী ইত্যাদির জন্যও আংটি পরিধান করা আর সুন্নাত রইল না।
১১। পুরুষেরা আংটির পাথর হাতের তালুর দিকে করে রাখবে আর মহিলারা রাখবে হাতের পিঠের দিকে করে। (আল হিদায়া, ৪র্থ খন্ড, ৩৬৭ পৃষ্ঠা)।
১২। রূপার রিং বিশেষ করে মহিলাদেরই অলংকার। পুরুষদের পক্ষে মাকরূহ (তাহরীমি, নাজায়েয ও গুনাহ্)। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা) ।
১৩। মহিলারা স্বর্ণের বা রূপার যত খুশি আংটি এবং রিং ব্যবহার করতে পারবে। এতে ওজন বা পাথরের সংখ্যার কোন নির্দিষ্টতা নেই।
১৪। লোহার আংটির উপর রূপার খোল চড়িয়ে দেওয়াতে লোহা মোটেই দেখা যাচ্ছে না, এমন আংটি পরিধান করা পুরুষ বা নারী কারো জন্য নিষেধ নয়। (আলমগিরী, ৫র্থ খন্ড, ৩৩৫ পৃষ্ঠা)।
১৫। উভয় হাতের যে কোন হাতেই আংটি পরিধান করতে পারবে তবে কনিষ্ঠা আঙ্গুলে পরবে। (রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৬ পৃষ্ঠা)।
১৬। মান্নতের কিংবা ফুঁক দেওয়া ধাতুর তৈরি চেইন পুরুষের জন্য পরিধান করা নাজায়েয ও গুনাহ্। অনুরূপ ভাবে -
১৭। মদীনা মুনাওয়ারা কিংবা আজমীর শরীফের রূপার অথবা অন্য যেকোন ধাতুর রিং এবং ষ্টাইল করে তৈরি করা আংটি পরাও জায়েয নেই।
১৮। জ্বীনে ধরা, ভূতে ধরা কিংবা অন্য যেকোন রোগের জন্য রূপার বা অন্য যেকোন আংটি পরাও পুরুষদের জন্য জায়েয নেই।
১৯। যদি কোন ইসলামী ভাই ধাতুর তৈরি চেইন, রিং, নাজায়েয আংটি ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে শরীয়াত মতে আবশ্যক যে, তা এক্ষুণি ফেলে দিয়ে তাওবা করে নিন। আর আগামীতে না পরার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন। তাছাড়া অন্যান্য ইসলামী ভাইকেও তা পরতে বারণ করুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for supporting.

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন