আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net
সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

হায়জ ও নেফাস সম্পর্কে আটটি মাদানী ফুল

﴾১﴿ ইসলামী বোনেরা হায়জ ও নেফাস কালে দরসও দিতে পারবেন, বয়ানও করতে পারবেন। ইসলামী কিতাব স্পর্শ করাতেও কোন বাধাঁ নেই। তবে কুরআন শরীফে হাত, আঙ্গুলের মাথা কিংবা শরীরের কোন অংশ লাগানো নিষেধ ও হারাম। তাছাড়া কোন কাগজে বা চিরকুটে যদি কুরআন শরীফের আয়াত লিখিত থাকে এবং অন্য কিছু লেখাও পাশাপাশি না থাকে, তা হলে সেই ধরণের কাগজের সামনে-পিছনে কোণায় বা কোন অংশেই স্পর্শ করার অনুমতি নেই।

﴾২﴿ হায়েজ ও নেফাস অবস্থায় পবিত্র কুরআন কিংবা পবিত্র কুরআনের কোন আয়াত পাঠ করা ও স্পর্শ করা উভয়টি হারাম। পবিত্র কুরআনের বাংলা, ইংরেজী, ফার্সী, উর্দু কিংবা যে কোন ভাষায় অনুদিত অংশ পাঠ করা ও স্পর্শ করাও স্বয়ং কুরআন পাঠ করা ও স্পর্শ করারই সমতুল্য। (বাহারে শরীয়াত, ২য় খন্ড, ৪৯, ১০১ পৃষ্ঠা)

গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে মাদানী ফুল

মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় এবং উপকার সাধনের নিয়্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৮০টি মাদানী ফুল পেশ করছি। নিজেকে অপব্যয় ও সম্পদ নষ্ট করা থেকে বাঁচাবার জন্য ভাল ভাল নিয়্যত নিয়ে পাঠ করতঃ এগুলো মেনে চলুন। তাহলে আখিরাতের অসংখ্য কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। আর বিদ্যুৎ বাঁচানোর মাধ্যমে আপনার বিদ্যুৎ বিলও (BILL) কম আসবে।

আলোর সরঞ্জাম-এর ২৮টি মাদানী ফুল

বিদ্যুৎ কম খরচে এনার্জি সেভার বাল্ব 

۞আলোর জন্য কম বিদ্যুৎ ব্যয় করে এমনসব সরঞ্জামই ব্যবহার করবেন। ১০০ ওয়াট বাল্বের স্থলে ২০ ওয়াটের এনার্জি সেভার (Energy Saver) বাল্ব ৮০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। বরং যদি LED লাইট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা বিদ্যুৎ আরও কম খরচ করবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাদানী ফুল 
 ۞বৈদ্যুতিক বাতি – সংখ্যা - ওয়াট - ইউনিট - সাশ্রয়
বাল্ব                                 ৪ -    ৪০০    ৪২         ---
টিউব লাইট                     ৪  -  ১৬০     ১৮         ৫৭%
এনার্জি সেভার                ৪   -  ৮০       ৯           ৮০% 

খুবানির (Apricot) ১৪টি মাদানী ফুল ও ফালসা (Palsa)

খুবানি (Apricot)

অভিজ্ঞ ডাক্তারদের ভাষ্য মতে, খুবানি কাঁচা হোক কিংবা পাকা ফল, মানুষের শরীরের জন্য খুবই উপকারী ফল। এ জাতীয় ফল চোখ ও নাভী জ্বর ও ক্যান্সারের (Cancer) মতো রোগের ক্ষেত্রে খুবই উপকার দেয়। এর ফলে ভিটামিন (Vitamins), পটাসিয়াম, ভিটা-কারোটিন (Beta-carotene) অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। 

খুবানির (Apricot) ১৪টি মাদানী ফুল 

১। খুবানি শরীরে শক্তি যোগায়।
২। কোন কোন চিকিৎসকের মতে, খুবানি খেলে বয়স বৃদ্ধি পায়।
৩। খুবানি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৪। খুবানি খাবারকে তাড়াতাড়ি হজম করে।
৫। খুবানি ঢেকুর প্রতিরোধ করে।
৬। খুবানি যকৃতের কঠোরতা দূর করে।
৭। খুবানি পাকস্থলী ও অশ্বরোগের জন্য উপকারী।

তরমুজের ২৫টি মাদানী ফুল

১। আমার আক্বা আ’লা হযরত মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন: খাবারের পূর্বে তরমুজ খেলে পেটকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে দেয় এবং রোগকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৫ম খন্ড, ৪৪২ পৃষ্ঠা) ❃ গোল মরিচ, কালো জিরা, লবণ একত্রে পিষে একটি বোতলে সংরক্ষণ করুন, তরমুজের উপর ছিটিয়ে সেবন করলে তরমুজের স্বাদ অনেক বেড়ে যায়।  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ হজমের ক্ষেত্রে ও উত্তম ঔষধ হিসাবে কাজ দিবে, আর ক্ষুধাও বৃদ্ধি পাবে। 
২। তরমুজ মিষ্টি কিনা চিনার উপায়: তরমুজ এর পুরো সিলকা কিংবা ধারা সমূহে কিংবা সিলকায় গোলাকার দাগ থাকে তবে এটির সবুজ রং যত গাঢ় হবে, اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَل ততই লাল ও মিষ্টি হবে। তরমুজের উপর হালকাভাবে হাত মারতেই যদি মাঝারী ধরণের আওয়াজ আসে, এটি  উন্নত ও পরিপক্ক হওয়ারই আলামত।

আমের ২৫টি মাদানী ফুল

ফলের রাজা (আম)

গ্রীষ্মকালের ফল আম হলো; আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে খুবই প্রিয় নেয়ামত। এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।
১। আম নতুন রক্ত তৈরী করে, আম অন্ত্রকে শক্তিশালী করে, পাকস্থলী, কিডনী, মূত্রথলী, হৃদপিন্ডে শক্তি যোগায়।
২। আম খাওয়ার কারণে গ্যাস জনিত (Acidity) রোগের ক্ষেত্রে উপকার সাধিত হয়। তবে কার্বাইড (Carbide) নামক কেমিক্যাল দ্বারা পাকানো আম এ রোগকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
৩। যার ঘুম আসে না, সে যদি একটি আম খেয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করে, اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ তার ঘুম এসে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

রমযানুল মুবারকের ১৩টি মাদানী ফুল

(এই সকল মাদানী ফুল তফসীরে নঈমী ২য় খন্ড থেকে নেয়া হয়েছে)

১. কা’বা শরীফ মুসলমানদেরকে তার নিকট ডেকে রহমত প্রদান করে, কিন্তু এটা (মাহে রমযান) এসে রহমত বন্টন করে। এ বিষয়টা এমন যেন সেটা (কা’বা) একটা কূপ, আর এটা (রমযান শরীফ) হচ্ছে সমুদ্র। অথবা ওটা (অর্থাৎ কা’বা) হচ্ছে সমুদ্র আর এটা (অর্থাৎ রমযান) হচ্ছে বৃষ্টি।

২. প্রতিটি মাসে বিশেষ বিশেষ কিছু দিন-তারিখ রয়েছে। আর তারিখগুলোর মধ্যেও বিশেষ মুহুর্তে ই’বাদত-বন্দেগী সম্পন্ন করা হয়। যেমন-ঈদুল আযহার কয়েকটা (বিশেষ) তারিখে হজ্জ, মুহররমের দশম দিন উত্তম, কিন্তু রমযান মাসে প্রতিদিনে ও প্রতিটি মুহুর্তে ইবাদত হয়। রোযা ইবাদত, ইফতার ইবাদত, ইফতারের পর তারাবীর জন্য অপেক্ষা করা ইবাদত, তারাবীহ পড়ে সাহারীর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ঘুমানো ইবাদত, তারপর সাহারী খাওয়াও ইবাদত। মোটকথা, প্রতিটি মুহুর্তে আল্লাহ তাআলার শান ও মহা বদান্যতাই নজরে পড়ে।

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

কবর যিয়ারতের ১৬টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “আমি তোমাদেরকে (প্রথমে) কবর যিয়ারত করা থেকে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো কেননা, সেটা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির কারণ, আর আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” (ইবনে মাযাহ্, ২য় খন্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৫৭১)।
২। মুসলমানের কবর জেয়ারত সুন্নাত এবং আওলিয়ায়ে কিরাম, শোহাদায়ে ইজাম رَحِمَهُمُ اللهُ السَّلَام এর দরবারের হাজেরী মহান সৌভাগ্য, তাদের জন্য ইছালে সাওয়াব করা মুস্তাহাব এবং সাওয়াবের কাজ। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৯ম খন্ড, ৫৩২ পৃষ্ঠা)।
৩। (অলী-আল্লাহর মাজার শরীফ) বা কোন মুসলমানের কবর যিয়ারতের জন্য যেতে চাইলে মুস্তাহাব হচ্ছে, প্রথমে নিজের ঘরে (মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে) দুই রাকাত নফল নামায আদায় করা, প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে একবার আয়াতুল কুরসী ও তিনবার সূরা ইখলাস পড়ে এ নামাযের সাওয়াব সাহিবে কবরকে পৌছিয়ে দেয়া। আল্লাহ্ তাআলা সেই মৃত ব্যক্তির কবরে নূর সৃষ্টি করবে এবং এ (সাওয়াব প্রেরণকারী) ব্যক্তিকে অনেক বেশী সাওয়াব প্রদান করবেন। (ফতোওয়ায়ে আলমগীরি, ৫ম খন্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা)।
৪। মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারতের জন্য যাওয়ার সময় রাস্তায় অনর্থক কথায় মশগুল হবেন না। (প্রাগুক্ত) ৫। কবরকে চুম্বন করবেন না এবং কবরে হাতও লাগাবেন না। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া হতে সংগৃহীত, ৯ম খন্ড, ৫২২ ও ৫২৬ পৃষ্ঠা) বরং কবর থেকে কিছু দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবেন।
৬। কবরে সিজদায়ে তাজিমী করা হারাম এবং ইবাদতের নিয়্যতে করা কুফরী। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া হতে সংগৃহীত, ২২তম খন্ড, ৪২৩ পৃষ্ঠা)।
৭। কবরস্থানের মধ্যে ঐ সাধারণ রাস্তা দিয়ে যাবেন, যেখানে পূর্বে কখনও মুসলমানদের কবর ছিল না, যে রাস্তা নতুন তৈরী করেছে সেটার উপর দিয়ে যাবেন না। “রদ্দুল মুহতারে” বর্ণিত রয়েছে: (কবরস্থানের মধ্যে কবর বিলীন করে) যে নতুন রাস্তা তৈরী করা হয়েছে সেটার উপর চলাচল করা হারাম। (রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড, ৬১২ পৃষ্ঠা) বরং নতুন রাস্তায় কেবল ধারনার মাধ্যমে সেটার উপর চলাচল করা নাজায়িয ও গুনাহ। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠা)।
৮। কিছু অলীর মাজারে দেখা গিয়েছে যে, যিয়ারতকারীর সুবিধার জন্য মুসলমানদের কবরকে ভেঙ্গে বিলীন করে সমতল করে দেওয়া হয়েছে, এই রকম জায়গায় ঘুমানো, হাটা-চলা, দাঁড়ানো, তিলাওয়াত ও যিকির করার জন্য বসা হারাম, দূর থেকেই ফাতিহা পড়ে নিন।
৯। কবর যিয়ারত মৃত ব্যক্তির চেহারার সামনে দাঁড়িয়ে করা, আর কবরবাসীর পায়ের দিক থেকে যাবেন যেন তাঁর দৃষ্টির সামনে থাকেন, মাথার দিক থেকে আসবেন না, কারণ তাঁকে মাথা তুলে দেখতে হবে। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৯ম খন্ড, ৫৩২ পৃষ্ঠা)।
১০। কবরস্থানে এভাবে দাঁড়ান যেন কিবলার দিকে পিঠ এবং কবরবাসীর চেহারার দিকে মূখমন্ডল হয়, এরপর বলুন:
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا اَهْلَ الْقُبُرِ يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ وَاَنْتُمْ لَنَا سَلَفٌ وَّنَحْنُ بِالْاَثَر 
অনুবাদ: হে কবরবাসী! তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ্ তাআলা আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুক, তোমরা আমাদের পূর্বে চলে এসেছ, আর আমরা তোমাদের পরে আগমনকারী। (ফতোওয়ায়ে আলমগীরি, ৫ম খন্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা)
১১। যে কবরস্থানে প্রবেশ করে এটা বলবে:
اَللهُمَّ رَبَّ الْاجْسَادِ الْبَالِيَةِ وَالْعِظَامِ النَّخِرَةِ الَّتِىْ خَرَجَتْ مِنَ الدُّنْيَا وَهِىَ بِكَ مُؤْمِنَةٌ اَدْخِلْ عَلَيْهَا رَوْحََا مِّنْ عِنْدِكَ وَسَلَامََا مِّنِّىْ
অনুবাদ: হে আল্লাহ! (হে) গলে যাওয়া শরীর ও পচনযুক্ত হাঁড়ের রব! যে দুনিয়া থেকে ঈমান সহকারে বিদায় নিয়েছে তুমি তার উপর আপন রহমত এবং আমার সালাম পৌছিয়ে দাও। তবে হযরত সায়্যিদুনা আদম عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام থেকে নিয়ে ঐ সময় পযন্ত যত মু’মিন মারা গিয়েছে সবাই তার (অর্থাৎ দোয়া পাঠকারীর) মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবে। (মুসান্নফে ইবনে আবি শায়বা, ১০ম খন্ড, ১৫ পৃষ্ঠা)
১২। নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, মালিকে জান্নাত, কাসিমে নেয়ামত, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করলো অতঃপর সে সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস এবং সূরা তাকাসূর পড়ল তারপর এ দোয়া করলো; হে আল্লাহ! আমি যা কিছু কোরআন থেকে পড়েছি এগুলোর সাওয়াব এ কবরস্থানের মু’মিন নর-নারীকে পৌঁছিয়ে দাও। তবে সে সমস্ত মু’মিন কিয়ামতের দিন তার (অর্থাৎ ইছালে সাওয়াবকারীর) জন্য সুপারিশকারী হবে।” (শরহুস সুদুর, ৩১১ পৃষ্ঠা)।
১৩। হাদীস শরীফে রয়েছে: যে এগার বার সূরা ইখলাস পড়ে এর সাওয়াব মৃত ব্যক্তিকে পৌছাবে, তবে মৃত ব্যক্তির সমসংখ্যক পরিমান সাওয়াব সে (অর্থাৎ ইছালে সাওয়াব কারী) লাভ করবে। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠা)।
১৪। কবরের উপর আগর বাতি জ্বালানো যাবে না। কেননা, এটা বে-আদবী ও মন্দ কাজ (এবং এতে মৃত ব্যক্তির কষ্ট হয়) হ্যাঁ! যদি (উপস্থিত লোকদেরকে) সুগন্ধ (পৌঁছানোর) জন্য (জ্বালাতে চায় তবে) কবরের পাশে খালি জায়গা থাকলে সেখানে জ্বালাবে, কেননা, সুগন্ধি পৌঁছানো উত্তম কাজ। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া থেকে সংক্ষেপিত, ৯ম খন্ড, ৪৮২, ৫২৫ পৃষ্ঠা)।
১৫। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ অন্য জায়গায় বলেন: “সহীহ মুসলিম শরীফ”এ হযরত আমর বিন আস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত; তিনি ওফাতের সময় নিজের সন্তান কে বলেছেন: যখন আমি মারা যাব তখন আমার সাথে না কোন বিলাপ কারী যাবে, না আগুন যাবে। (সহীহ মুসলিম, ৭৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৯২)।
১৬। কবরের উপর চেরাগ বা মোমবাতি প্রভৃতি রাখবেন না। কারণ এটা আগুন, আর কবরের উপর আগুন রাখলে মৃত ব্যক্তির কষ্ট হয়, হ্যাঁ! রাতে পথচারীর জন্য বাতি জ্বালানো উদ্দেশ্য হয়, তবে কবরের এক পার্শ্বে খালি জায়গার উপর মোমবাতি বা চেরাগ রাখতে পারেন।

     صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

আংটি সম্পর্কিত ১৯টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি পরিধান করা হারাম। সুলতানে দো জাহান, রহমতে আ’লামিন صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم স্বণের্র আংটি পরিধান করা থেকে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, ৪র্থ খন্ড, ৬৭ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৫৮৬৩)
২। (অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) ছেলেকে স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার পরানো হারাম। যে ব্যক্তি পরাবে সে গুনাহ্গার হবে। অনুরূপ ছেলের হাতে পায়ে অহেতুক মেহেদী দেওয়াও নাজায়েয। মহিলারা নিজেরা তাদের হাতে-পায়ে মেহেদী লাগাতে পারবে। কিন্তু ছেলেকে লাগালে গুনাহ্গার হবে। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা। দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৮ পৃষ্ঠা) ছোট মেয়ের হাতে পায়ে মেহেদী দেওয়াতে কোন বাধা নাই।
৩। লোহার আংটি জাহান্নামীদেরই অলংকার। (তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৭৯২)।
৪। পুরুষের জন্য সেরূপ আংটিই জায়েয যেগুলো (লেডিস ষ্টাইলের নয়) জেন্টস ষ্টাইলের। অর্থাৎ তা হবে কেবল এক পাথর বিশিষ্ট। আর যদি তাতে একের অধিক (কয়েকটি) পাথর থাকে, তাহলে তা রূপার হয়ে থাকলেও পুরুষদের জন্য নাজায়েয। (রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৭ পৃষ্ঠা)।

পাগড়ী বাঁধার ২৫টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, তাজেদারে রিসালাত, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ৬টি বাণী:
১। “পাগড়ী সহকারে দুই রাকাত নামায পাগড়ী বিহীন সত্তর (৭০) রাকাত (নামাযের) চেয়ে উত্তম।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরীল খাত্তাব, ২য় খন্ড, ২৬৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩২৩৩, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
২। “আমাদের এবং মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো টুপির উপর পাগড়ী (পরিধান করা)। মুসলমান নিজের মাথায় প্রতিটি প্যাঁচ দেওয়াতে কিয়ামতের দিন তাঁর জন্য একটি করে নূর দান করা হবে।” (আল জামেউস সগীর লিস সুয়ুতী, ৩৫৩ পৃষ্ঠা, হাদীস - ৫৭২৫)
৩। “নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ জুমার দিন পাগড়ী পরিধানকারীর উপর দরূদ প্রেরণ করেন।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ১ম খন্ড, ১৪৭ পৃষ্ঠা, হাদীস৫২৯)
৪। “পাগড়ী সহকারে নামায আদায় করা দশ হাজার নেকীর সমপরিমাণ।” (প্রাগুক্ত, ২য় খন্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা, হাদীস - ৩৮০৫। ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২২০ পৃষ্ঠা)

পোশাকের ১৪টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

প্রথমে তিনটি হাদীস লক্ষ্য করুন:
১। “জ্বীনের দৃষ্টি ও মানুষের লজ্জাস্থানের মাঝখানে পর্দা হচ্ছে, যখন কেউ কাপড় খুলে তবে যেন বিসমিল্লাহ পাঠ করে নেয়।” (আল মুজামুল আওসাত, ২য় খন্ড, ৫৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৫০৪) প্রসিদ্ধ মুফাস্সীর, হাকিমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: যেরূপ দেয়াল ও পর্দা মানুষের দৃষ্টির আড়াল হয়ে থাকে, অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তাআলার যিকির জ্বীনদের দৃষ্টি থেকে আড়াল হবে, যার কারণে জ্বিন সেটাকে (অর্থাৎ- লজ্জাস্থান) দেখতে পাবে না। (মিরাত, ১ম খন্ড, ২৬৮ পৃষ্ঠা)
২। “যে ব্যক্তি কাপড় পরিধানের সময় এ দোয়া পাঠ করবে:
اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ كَسَانِىْ هٰذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ
(অনুবাদ: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তাআলার জন্য, যিনি আমাকে কাপড় পরিধান করিয়েছেন, আর আমার শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত আমাকে দান করেছেন।) তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।” (শুআবুল ঈমান, ৫ম খন্ড, ১৮১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৬২৮৫)

বাবরী চুল রাখা এবং মাথার চুলের ২২টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। হুযুরে আকরাম, নূরে মুজাস্সম صَلَّی اللّٰهُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর চুল মোবারক (চুলের গোছা) কখনো কান মোবারকের অর্ধেক পর্যন্ত, কখনো কান মোবারকের লতি পর্যন্ত এবং কখনো চুল মোবারক বেড়ে যেত তখন সেগুলো কাধ মোবারক দু’টিকে স্পর্শ করতো। (আশশামায়িলুল মুহাম্মদীয়া লিত তিরমিযী, ১৮, ৩৫, ৩৪ পৃষ্ঠা)
২। আমাদের উচিত সময়ে সময়ে তিনটি সুন্নাত আদায় করা, অর্থাৎ কখনো অর্ধ কান পর্যন্ত, আর কখনো সম্পূর্ণ কান পর্যন্ত, কোন সময় কাধ বরাবর চুল রাখা।
৩। কাধ পর্যন্ত বাবরী চুল লম্বা করার এ সুন্নাত নিজের উপর একটু কষ্টকর হয়ে থাকে, কিন্তু জীবনের কমপক্ষে একবার হলেও এ সুন্নাত আদায় করা উচিত। অবশ্য এটা খেয়াল রাখা উচিত যে, চুল যেন কাধের নিচে না আসে, পানিতে ভাল ভাবে ভিজার পর বাবরী চুলের লম্বার পরিমাণ লক্ষ্য করা যায়। তাই যে দিনগুলোতে চুল বাড়াবেন ঐ দিনগুলোতে গোসলের পর আঁচড়ানোর সময় ভাল ভাবে লক্ষ্য করবেন চুল কাধ অতিক্রম করেছে কিনা।

সোমবার, ১৮ মে, ২০২০

পানি পান করার ১২টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। রাসূলুল্লাহ صَلَّی اللهُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুইটি আলীশান ফরমান: “উটের ন্যায় এক নিঃশ্বাসে (পানি) পান করো না। বরং দুই বা তিন (নিঃশ্বাসে) পান করো। আর পান করার পূর্বে بِسْمِ الله  বলে পান  করো এবং পান করার পর اَلْحَمْدُ لله  বলো।” (সুনানে তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৩৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-১৮৯২)
২। নবীয়ে আকরাম صَلَّی اللهُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم পাত্রের ভিতর শ্বাস ফেলতে কিংবা তাতে ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, ৩য় খন্ড, ৪৭৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং৩৭২৮)।  প্রখ্যাত মুফাস্সীর, হাকিমুল উম্মত, হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন: “পাত্রের ভিতর শ্বাস ফেলা জীব জন্তুদের কাজ। তাছাড়া নিঃশ্বাস কখনো বিষাক্ত হয়ে থাকে। তাই নিতান্তই যদি শ্বাস ফেলতে হয়, তবে পাত্র থেকে মুখ পৃথক করে শ্বাস ফেলবে অর্থাৎ শ্বাস ফেলার সময় মুখ থেকে পানির পাত্রটি সরিয়ে নিতে হবে। গরম দুধ বা চা ফুঁক দিয়ে ঠান্ডা করবেন না। বরং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, ঠান্ডা হওয়ার পরই পান করুন। (মিরআত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৭৭ পৃষ্ঠা) তবে দরূদ শরীফ ইত্যাদি পাঠ  করে শিফার নিয়্যতে পানিতে ফুঁক দিলে তাতে কোন অসুবিধা নেই।”
৩। পান করার পূর্বে بِسْمِ الله পাঠ করে নিন।
৪। চুমুক দিয়ে ছোট ছোট ঢোঁকে পান করুন। বড় বড় ঢোঁকে পান করলে যকৃতের (Liver) রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
৫। পানি তিন নিঃশ্বাসে পান করুন।
৬। বসে এবং ডান হাতে পানি পান করুন।
৭। বদনা (লোটা) ইত্যাদি দ্বারা অযু করা হলে সেটার অবশিষ্ট পানি পান করা ৭০টি রোগ থেকে শিফা স্বরূপ। কেননা, সেটা পবিত্র জমজমের পানির সাদৃশ্য রাখে। এই দুই প্রকার (অর্থাৎ অযুর অবশিষ্ট পানি এবং যমযমের পানি) ব্যতীত অন্য যে কোন পানি দাঁড়িয়ে পান করা মাকরূহ। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়্যাহ, ৪র্থ খন্ড, ৫৭৫ পৃষ্ঠ-, খন্ড-২১, পৃষ্ঠা-৬৬৯) এ দু’ধরণের পানি কিবলামূখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করবেন। 
৮। পান করার পূর্বে দেখে নিন পাত্রে ক্ষতিকর জিনিস ইত্যাদি আছে কিনা (ইত্তেহাফুস সাদাত লিয যুবাইদী, ৫ম খন্ড, ৫৯৪ পৃষ্ঠা)। 
৯। পানীয় বস্তু পান করার পর اَلْحَمْدُ لله বলবেন। 
১০। হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ গাযালী  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: بِسْمِ الله পাঠ  করে পান করা শুরু করবেন, ১ম নিঃশ্বাসের পর اَلْحَمْدُ لِلهِ! দ্বিতীয় নি:শ্বাসের পর اَلحَمدُ لِلهِ رَبِّ العلَمِين এবং   তৃতীয় নিঃশ্বাসের পর اَلحَمدُ لِلهِ رَبِّ العلَمِين الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ পাঠ করবেন। (ইহ্ইয়াউল উলূম, ২য় খন্ড, ৮ পৃষ্ঠা)। 
১১। গ্লাসে  অবশিষ্ট মুসলমানের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন উচ্ছিষ্ট পানি ব্যবহারের উপযোগী হওয়া সত্ত্বেও তা অযথা ফেলে দিবেন না। 
১২। বর্ণিত রয়েছে: سُوْرُ الْمُؤْمِنِ شِفَاءٌ অর্থাৎ মুসলমানের উচ্ছিষ্টে শিফা রয়েছে। (আল ফতোয়াল ফিকহিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনে হাজর আল হায়তামী, ৪র্থ খন্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা। কাশফুল খিফা, ১ম খন্ড, ৩৮৪ পৃষ্ঠা) পানি পান করার কিছুক্ষণ পর খালি গ্লাসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে, গ্লাসের উপর থেকে বেয়ে কয়েক ফোঁটা পানি গ্লাসের তলায় জমা হয়ে যায়। তাও পান করে নিবেন। 

রবিবার, ১০ মে, ২০২০

গরম থেকে বেঁচে থাকার মাদানী ফুল

গ্রীষ্মকাল একটি নেয়ামত

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ! গ্রীষ্মকালও আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে নেয়ামত স্বরূপ আর এর মধ্যে অসংখ্য হিকমত রয়েছে। গরমের তীব্রতা যখন বেড়ে যায়, তখন ধৈর্য ধারণ করা উচিত। ঠান্ডা ও গরমকে মন্দ বলা বড়ই দোষনীয় ব্যাপার। গরমের মৌসুমের ব্যাপারে অভিযোগকারী বস্তুত গরম সৃষ্টিকারীর প্রতি অভিযোগ করছে আর যেন বলছে, দেখো! আল্লাহ্ তাআলা গরমের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন!

আগুন দেখে অজ্ঞান হয়ে গেলো! (ঘটনা)

মু’মিন বান্দাকে গরমের তীব্রতা থেকে শিক্ষা গ্রহন করা উচিত। দুনিয়াবী গরমের মাধ্যমে কিয়ামতের দিনের গরমের তীব্রতা এবং জাহান্নামের বিভীষিকাময় আগুনের কথা স্মরণ করা উচিত। আজকে যখন দুনিয়ার সামান্য এই গরম সহ্য করা যাচ্ছে না, তবে কাল কিয়ামতের দিনের বিভীষিকাময় গরম ও আগুনের তাপ কিভাবে সহ্য করতে পারবে!

বুধবার, ৬ মে, ২০২০

মিসওয়াকের ফযীলত ও মিসওয়াক করার পদ্ধতি


কখন মিসওয়াকের সাওয়াব পাওয়া যাবে না!

প্রত্যেক আমল তার নিয়্যতের উপর নির্ভরশীল: ভাল নিয়্যত না হলে তার সাওয়াব পাওয়া যায় না। সুতরাং মিসওয়াক করার সময় এরূপ নিয়্যত করে নিন: “সুন্নাতের সাওয়াব অর্জনের জন্য মিসওয়াক করবো এবং এর দ্বারা যিকির ও দরূদ এবং কোরআন তিলাওয়াত করার জন্য মুখ পরিষ্কার করবো।”

মিসওয়াক সম্পর্কিত ১০টি হাদীস শরীফ

১: মিস্ওয়াক সহকারে দুই রাকাত নামায আদায় করা মিস্ওয়াক ছাড়া ৭০ রাকাতের চেয়ে উত্তম। (আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/১০২, হাদীস- ১৮)

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

কাপড় পরিধান বিষয়ক সুন্নাত ও আদব

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আমাদেরকে কাপড় পরিধানের যোগ্যতা দান করেছেন, পক্ষান্তরে অন্যান্য জীব জন্তুর নিকট কাপড় পরিধানের যোগ্যতা নেই।পোষাক পরিচ্ছদ দ্বারা আমরা লজ্জাস্থান ঢাকতে পারি, ঠান্ডা ও গরম থেকে বাঁচতে পারি। আর কাপড় চোপড় আমাদের মান মর্যাদা সৌন্দর্য কে বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। তবে নানা সম্প্রদায়ের নানা ধরণের পোষাক হয়ে থাকে কিন্তু সর্বাপেক্ষা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, সম্মানিত ও স্বতন্ত্র হচ্ছে মুসলমানের পোষাক। নিম্নে পোষাকের ব্যাপারে কতিপয় সুন্নাত ও আদাব পেশ করা হলো-

۞ সাদা রংয়ের পোষাক সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। এ রংয়ের পোষাক ছিল নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর অত্যন্ত পছন্দনীয় ও প্রিয়তর। হযরত সায়্যিদুনা সুমরা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন: নবীয়ে পাক, সাহেবে লাওলাক, হুযুর পুর নূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন, “তোমরা সাদা পোষাক পরিধান করো, কেননা তা অত্যন্ত পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং তা দ্বারা তোমরা মৃতদের কাফন পরিধান করাবে।”(সুনানে তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৮১৯, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-৩৭০)

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৮

প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কিত ১৫ টি মাদানী ফুল

৮টি হাদীস শরীফ 
(১) “আল্লাহ্ তা’আলা নেক মুসলমানের সদকায়/ খাতিরে তাঁর আশেপাশের ১০০টি ঘর থেকে বিপদাপদ দূরীভূত করে দেন। অতঃপর তিনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই আয়াতে করীমা তিলাওয়াত করেন: 

وَلَوْلَا دَفْعُ اللهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: ”আর যদি আল্লাহ্ মানুষের মধ্য থেকে একজনকে অন্যের দ্বারা প্রতিহত না করেন, তবে অবশ্যই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।” (৩য় পারা, সূরা বাক্বারা, আয়াত- ২৫১) (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৮ম খন্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৩৫৩৩) 

(২) “আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হল- যে আপন প্রতিবেশীর কল্যাণকামী হয়ে থাকে।” (তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৯৫১) 

(৩) “ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার দুষ্টামী থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।” (মুসলিম, ৪৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৬) 

(৪) “ঐ ব্যক্তি মুমীন নয়, যে নিজে পেট ভরে আহার করেছে, আর তার প্রতিবেশী অনাহারে রয়েছে।”(শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৩৮৯) অর্থাৎ- সে পূর্ণঙ্গ মুমীন নয়। 

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৮

কবর ও দাফনের মাদানী ফুল (নিয়মাবলী)

۞আল্লাহ্ তাআলার বাণী: 

أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ كِفَاتًا (25) أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا (26) 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আমি কি জমিনকে একত্রকারী করিনি। তোমাদের জীবিত ও মৃতদের। (পারা- ২৯, সূরা- মুরসালাত, আয়াত- ২৫, ২৬) 

এ আয়াতে মোবারাকার ব্যাখ্যায় “নূরুল ইরফান” ৯২৭ পৃষ্ঠার বর্ণিত আছে; এভাবে যে, জীবিতরা যমীনের পৃষ্ঠের উপর আর মৃতরা যমীনের পেটে একত্রিত আছে। 

۞মৃতকে দাফন করা ফরযে কিফায়া (অথার্ৎ একজনও দাফন করে দেয় তবে সবাই দায়মুক্ত হয়ে যাবে, নতুবা যার কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল আর দাফন করাইনি গুনাহগার হবে) মৃতকে যমীনে রেখে চারিদিক থেকে দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেয়া জায়েয নেই। (বাহারে শরীয়তে, ১ম খন্ড, ৮৪২ পৃষ্ঠা) 

۞কবর সমুহ আল্লাহ্ তাআলার নেয়ামত। কেননা, এতে মৃতকে দাফন করে দেয়া হয়। যাতে পশু এবং অন্যান্য বস্তগুলো তার খেয়ানত না করে। 

মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ, ২০১৮

জানাযার ১৫টি মাদানী ফুল

৪টি ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

১। যে (ব্যক্তি)কোন মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মৃতের পরিবারের নিকট গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করলো, তবে আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য এক ক্বিরাত সাওয়াব লিখে দিবেন, অতঃপর যদি মৃতের সাথে যায় তবে আল্লাহ্ তাআলা দুই ক্বিরাত প্রতিদান লিখেন, অতঃপর যদি মৃতের জানাযার নামায আদায় করে, তবে তিন ক্বিরাত, অতঃপর যদি কাফন-দাফনে উপস্থিত থাকে তবে চার ক্বিরাত আর প্রতি ক্বিরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। (সংশোধিত ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৯ম খন্ড, ৪০১ পৃষ্ঠা। উম্দাতুল ক্বারী, ১ম খন্ড, ৪০০ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪৭) 

২। মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে, (তার মধ্যে একটি হলো) যখন মৃত্যু হবে তখন তার জানাযায় অংশ নেয়া। (মুসলিম, ১১৯২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৫ (২১৬২), সংক্ষেপিত) 

৩। “যখন কোন জান্নাতী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন আল্লাহ্ তাআলা ঐ সমস্ত লোকদের শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করেন যারা তার জানাযা নিয়ে চলে, যারা এর পেছনে চলে এবং যারা তার জানাযার নামায আদায় করে। (আল ফিরদাউস বিমাসুরিল খাত্তাব, ১০ম খন্ড, ২৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ১১০৮) 

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

তেল লাগানো ও চিরুনী ব্যবহার সম্পর্কিত ১৯টি মাদানী ফুল

﴾১﴿ হযরত সায়্যিদুনা আনাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: আল্লাহর মাহবুব, হুযুর পুরনূর, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم প্রায়ই আপন মাথা মোবারকে তেল ব্যবহার করতেন, আর দাঁড়ি মোবারক চিরুনী দিয়ে আঁচড়াতেন। মাথা মোবারকে প্রায়ই কাপড় রাখতেন। এমনকি কাপড়টি তেলে ভিজা থাকত। [ আশ শামায়িলুল মোহাম্মদীয়া লিত তিরমিযী, ৪র্থ পৃষ্ঠা] বুঝা গেল, ‘সারবন্দ’ ব্যবহার করা সুন্নাত। ইসলামী ভাইদের উচিত, যখনই মাথায় তেল লাগাবে, ছোট একটি কাপড় মাথায় বেঁধে নেবে। এতে করে اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ টুপি ও পাগড়ী মাথার তেল থেকে রক্ষা পাবে। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَل সগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ (লিখক) অনেক বছর ধরে ‘সারবন্দ’ ব্যবহার করে আসছে।

﴾২﴿ নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “যার চুল রয়েছে, সে যেন সেগুলোর সম্মান করে।” [সুনানে আবু দাঊদ, ৩ খন্ড, ১০৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪১৬৩]। অর্থাৎ সেগুলো ধৌত করবে, তেল লাগাবে, আর চিরুনী দিয়ে আঁচড়াবে। [আশি‘আতুল লুমআত, ৩ খন্ড, ৬১৭ পৃষ্ঠা]

রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাদানী ফুল

আল্লাহর অলীর আমন্ত্রণের কাহিনী 

কোন এক ধনবান ব্যক্তি একদা হযরত সায়্যিদুনা হাতেম আসাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ কে দাওয়াত দিল এবং আমন্ত্রণে যাওয়ার জন্য খুব জোর করল। তিনি বললেন: তুমি যদি আমার এ তিনটি শর্ত মেনে নাও, তাহলে আসব। ১. আমার যেখানে ইচ্ছা বসব। ২. আমার যা ইচ্ছা খাব। ৩. আমি যা বলব, তোমাদের তা করতে হবে। ধনবান লোকটি এই তিনটি শর্ত মেনে নিল। আল্লাহর অলীর সাক্ষাতের জন্য অসংখ্য লোকজন জমা হল। নির্দিষ্ট সময়ে হযরত সায়্যিদুনা হাতেম আসাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِএসে পৌঁছলেন। লোকজন যেখানে তাদের জুতো রেখেছিল তিনি এসেই সেখানে বসে গেলেন। খাওয়া-দাওয়া যখন শুরু হল, হযরত সায়্যিদুনা হাতেম আসাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আপন থলের ভিতর থেকে একটি শুকনো রুটি বের করে তা খেয়ে নিলেন। খাওয়া-দাওয়া যখন শেষ হয়ে গেল, তিনি মেজবানকে উদ্দেশ্য করে বললেন: একটি চুলা নিয়ে আস আর তাতে একটি তাবা রাখ। যেই হুকুম সেই কাজ। আগুনের তাপে যখন তাবাটি কয়লার মত লাল হয়ে গেল, তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ তখন সেই তাবাটির উপর খালি পায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর বললেন: আজকের খাবারে আমি শুকনো রুটি খেয়েছি। এই কথা বলে তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ তাবা থেকে নেমে গেলেন। এরপর উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আপনারা প্রত্যেকেও এক এক করে এই তাবায় দাঁড়িয়ে আজকের দাওয়াতে যা যা খেয়েছেন তার হিসাব দিয়ে যান। এ কথা শুনে লোকদের মুখে চিৎকার শুরু হল। সকলে সমস্বরে বলল: হুজুর! এই ক্ষমতা তো আমাদের কারো নেই। (কোথায় গরম তাবা আর কোথায় আমাদের নরম পা। আমরা সবাই তো এমনিতেই গুনাহ্গার (দুনিয়াবাজ লোক)। তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: যেক্ষেত্রে আপনারা দুনিয়ার এই গরম তাবায় দাঁড়িয়ে আজকের মাত্র এক বেলা খাবারের মত নেয়ামতের হিসাব দিতে অপারগ রয়ে গেলেন, সেক্ষেত্রে কাল কিয়ামতের দিন এত দীর্ঘ জীবনের সকল নেয়ামতের হিসাবগুলো কীভাবে দিবেন? অতঃপর তিনি সূরা তাকাসুরের শেষের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:
 ثُمَّ لَتُسئَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيْمِ 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদের সবাইকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। 

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন