আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে মাদানী ফুল

মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় এবং উপকার সাধনের নিয়্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৮০টি মাদানী ফুল পেশ করছি। নিজেকে অপব্যয় ও সম্পদ নষ্ট করা থেকে বাঁচাবার জন্য ভাল ভাল নিয়্যত নিয়ে পাঠ করতঃ এগুলো মেনে চলুন। তাহলে আখিরাতের অসংখ্য কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। আর বিদ্যুৎ বাঁচানোর মাধ্যমে আপনার বিদ্যুৎ বিলও (BILL) কম আসবে।

আলোর সরঞ্জাম-এর ২৮টি মাদানী ফুল

বিদ্যুৎ কম খরচে এনার্জি সেভার বাল্ব 

۞আলোর জন্য কম বিদ্যুৎ ব্যয় করে এমনসব সরঞ্জামই ব্যবহার করবেন। ১০০ ওয়াট বাল্বের স্থলে ২০ ওয়াটের এনার্জি সেভার (Energy Saver) বাল্ব ৮০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। বরং যদি LED লাইট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা বিদ্যুৎ আরও কম খরচ করবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাদানী ফুল 
 ۞বৈদ্যুতিক বাতি – সংখ্যা - ওয়াট - ইউনিট - সাশ্রয়
বাল্ব                                 ৪ -    ৪০০    ৪২         ---
টিউব লাইট                     ৪  -  ১৬০     ১৮         ৫৭%
এনার্জি সেভার                ৪   -  ৮০       ৯           ৮০% 


۞এনার্জি সেভার নিতে হবে ভাল কোম্পানীর। যাতে করে টিউব লাইটের মত দৃষ্টির পক্ষে শীতল হয়। এমন বাল্ব নিবেন না যা চোখ টানে এবং দৃষ্টির পক্ষে ক্ষতিকর। 

۞বিদ্যুতের জন্য সর্বদা উন্নতমানের ক্যাবল দিয়ে ওয়েরিং করাবেন। 

۞দরজা-জানালা, দেওয়াল ও ছাদ ইত্যাদিতে হালকা ধরনের রঙ ব্যবহার করবেন। যেমন: সাদা বা অফ হোয়াইট (Off White)। হালকা রং করানো রুম কম ওয়াটের বাল্বেও উজ্জ্বল দেখায়। 

۞আপনার সকল কাজকর্ম দিনের আলোতেই সেরে নিবেন। দিনের কাজগুলো রাতে করতে গেলে বাতি জ্বালাতে হবে, তাতে অযথা বিদ্যুৎ খরচ হবে। 

۞দিনের বেলায় দরজা-জানালায় পর্দা থাকলে তা সরিয়ে দিবেন। আর পর্দাহীনতার আশঙ্কা না থাকলে এবং আপনার দৃষ্টিও বাইরের কোথাও অবাঞ্ছিত জায়গায় না পড়ে থাকলে, দরজা-জানালাও খুলে দিন। এতে করে স্বাস্থ্যকর উম্মুক্ত বাতাসের পাশাপাশি জীবানুনাশক আলোও পাবেন বরং স্বাস্থ্যকর রোদও পাবেন, আর বাতি ছাড়াও কাজ চলবে। 

۞বাল্ব বা টিউব লাইট দেওয়ালে না লাগিয়ে বরং সোজাসোজি ভাবে চোখে আলো না পড়ে মত ছাদের সাথেই লাগাবেন। যতই নিচের দিকে করে লাগাবেন ততই আলো বেশি পাবেন। 

۞প্রতিটি রুমে কেবল প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাল্বই জ্বালাবেন। একটি দিয়ে কাজ চললে দ্বিতীয়টি জ্বালাবেন না। 

۞আজকাল সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বাল্ব, টিউব লাইট ও গ্রীল লাইট (Grill Light) ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো পরিহার করা উচিত। কেননা, এগুলোর কারণে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়, অপর দিকে আলোও কম পাওয়া যায়। 

۞শপিং মলগুলোতে বৈদ্যুতিক ঝলক বাতি যত পারা যায় কমই জ্বালাবেন। 

۞কারখানাগুলোতেও এমনসব মেশিনারীজ ব্যবহার করবেন, যেগুলোতে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়। 

۞কোন কক্ষে কী পরিমাণে বিদ্যুৎ লাগবে সেটি নির্ণিত হবে কক্ষটির বড় ছোট অবস্থা এবং সেখানে কী পরিমাণ লোক রয়েছে সেটি নিয়ে। ব্যাপারটি ইলেক্ট্রিশিয়ানের উপর ছেড়ে না দিয়ে বরং আপনি নিজেই ভালভাবে চিন্তা করবেন যে, কোথায় কী পরিমাণ আলোর প্রয়োজন, সেভাবেই আপনি ব্যবস্থা নিবেন। 

۞যেখানে বেশি আলোর প্রয়োজন সেখানে কয়েকটি বাল্ব না জ্বালিয়ে বরং বড় একটি বাল্ব জ্বালানোই সাশ্রয়ী। তবে পাশে একটি ছোট বাল্বও লাগিয়ে রাখা ভাল। এতে করে বেশি আলোর দরকার না হলে, সেই ছোট বাল্বটি কাজে লাগানো যাবে। 

۞কেবল যেখানে আপনি লেখাপড়া বা অধ্যয়নের কাজে নিয়োজিত থাকবেন, সেখানেই আলো জ্বালাবেন। 
۞আলো বাড়ানোর জন্য মাসে অন্ততঃ এক বার হলেও বাল্ব ও টিউব লাইটগুলো পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। 

۞রুম থেকে বাইরে কোথাও যাওয়ার সময় বাল্ব ও পাখার সুইচগুলো এক বার দেখে নিন। সেগুলো অফ (OFF) করতে ভুলবেন না। 

۞পরিবারের সকলকে বিশেষ করে মাদানী মুন্না ও মাদানী মুন্নিদের প্রশিক্ষণ দিবেন, তারা যেন বিনাপ্রয়োজনে লাইট বা ফ্যানের সুইচ অন না রাখে। প্রয়োজন শেষে যেন শীঘ্রই অফ করে দেয়। এই শিক্ষাটি দোকান,অফিস, কারখানা ইত্যাদিতেও দিবেন। 

۞টয়লেটের (Toilets) বাতিগুলো সাধারণত: সব সময় জ্বলতে থাকে। প্রত্যেকেরই উচিত ব্যবহার শেষেই বাতিগুলো নিভিয়ে দেয়া। 

۞কোন কোন ইসলামী ভাই সন্ধ্যা হবার আগে আগেই লাইটগুলো জ্বালিয়ে দিয়ে থাকেন। অন্ধকার ঘনিয়ে এলেই কেবল প্রয়োজনে বাতিগুলোই জ্বালাবেন। 

۞বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বেই বাতিগুলো নিভিয়ে দিবেন অথবা প্রয়োজনে জিরো ওয়াটের বাল্ব জ্বালিয়ে দিবেন। তাছাড়া ঘরের সব কটি অপ্রয়োজনীয় লাইটের সুইচ অফ করতে ভুলবেন না। 

ঘর সারা রাত অন্ধকার রাখা 

۞সারা রাতব্যাপী ঘরকে অন্ধকার করে রাখা গৃহবাসীদের জন্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য ভয়ের কারণ। এতে চোরেরা সুযোগ নিতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের কীট-পতঙ্গ, ইঁদুর, তেলাপোকা ইত্যাদির উৎপাত বাড়তে পারে।বিভিন্ন ধরনের উৎপাতকারী প্রাণী আলোতে কমই বের হয়ে থাকে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা পাকা দালানগুলোতে কীটপতঙ্গ কম থাকে। মোটকথা, ঘরে মানুষ থাকলে আলোর প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই রয়েছে। 

۞মাগরিবের সময় যতক্ষণ পর্যন্ত যথেষ্ট আলো বিদ্যমান থাকে,অনেক লোক সেই সময়টাতেই ঘরের প্রায় সব ক’টি লাইটই জ্বালিয়ে দিয়ে থাকে। এরূপ তাড়াহুড়া করবেন না। কেবল প্রয়োজন মতই লাইট জ্বালাবেন। 

۞কোন কোন ভদ্র লোক সাধারণ মানুষের চলাফেরার সুবিধার জন্য ঘরের বাইরে সারা রাত বাতি জ্বালিয়ে রাখেন। এটি সাওয়াবের কাজ। কিন্তু সকালের আলো ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সেগুলো অফ করে দিবেন। 

۞দালানের করিডোরে কিংবা গ্যারেজে কখনো বিনা প্রয়োজনে বাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না। 

۞তেমন আনা- গোনা না থাকলেও কোন কোন দালানে সিঁড়ির লাইটগুলো জ্বালানো অবস্থায় থাকতে দেখা যায়। এর প্রতিবিধান স্বরূপ ডাবল সুইচের ব্যবস্থা রাখা দরকার। অর্থাৎ একটি বাটন থাকবে সিঁড়ির নিচের দিকে, আরেকটি থাকবে উপরের দিকে। এভাবে যে, উভয় দিক থেকেই বাতিটি নিভানো ও জ্বালানো যায়। 

মসজিদে বাতি ও পাখা ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ মাস্আলা 

۞বিনা প্রয়োজনে মসজিদেও বাল্ব জ্বালিয়ে রাখবেন না। আর প্রয়োজন শেষ হতেই নিভিয়ে দিবেন। এই ব্যাপারে মসজিদের খাদেমদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকা উচিত। কেননা, মসজিদের বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয় জনসাধারণের দেওয়া চাঁদা থেকেই। এর হিসাব-নিকাশ বড়ই কঠিন। কতগুলো মসজিদে আজানের সময় হওয়ার সাথে সাথেই সব লাইট-ফ্যান চালু করে দেওয়া হয়। অথচ এসব বাতির আলোরও কারো প্রয়োজন হয় না, পাখাগুলোর বাতাস নেওয়ারও কেউ থাকে না, কারণ মুসুল্লিরা সাধারণত: জামাত আরম্ভ হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে আগেই এসে থাকেন। খাদেমদের প্রতি আমার আবেদন, মসজিদে আসা মুসুল্লিদের দিকে চেয়ে কেবল প্রয়োজন মত লাইট-ফ্যানগুলো অন করবেন। যেই মুসুল্লিরা চলে যেতে থাকবেন, লাইট-ফ্যানও অফ করে দিবেন। রাতের বেলায় কেবল সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী বাতি রাখবেন। আমার আক্বা আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত মুজাদ্দিদে মিল্লাত মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ফতোওয়ায়ে রযবীয়ার ৯ম খন্ডের ৫০৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: মসজিদে আলোর ব্যবস্থা ইট-বালির তৈরি দালানের জন্য করা হয় না, বরং তা করা হয় মুসুল্লিদের জন্যই। এমনকি নামাযেও মূল লক্ষ্য ফরজ নামাযই। অর্থাৎ মূলত: মসজিদ নির্মাণ করা হয় সেই ফরজের উদ্দেশ্যেই। তাই যেখানে তাহাজ্জুদ ইত্যাদি নফল নামায পড়ুয়া লোক,যিকিরকারী লোকজন সারা রাত মসজিদে অবস্থান করেন, কিংবা সারা রাত ধরে মসজিদমুখী মুসুল্লিদের আনাগোনা থাকে, সে কারণে সেখানে সারা রাত ব্যাপী বাতি জ্বালিয়ে রাখার নিয়ম হয়ে যায়। নতুবা ওয়াকফ্ কারী যদি এভাবে বাতি জ্বালিয়ে রাখার অছিয়ত করে থাকেন, এমন মসজিদ ব্যতীত অন্যান্য সকল মসজিদে বাতি নিভিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। যতটি লাইটই জ্বলবে সবই অপব্যয়। [ফতোওয়ায়ে রযবীয়া। ৯ম খন্ড, ৫০৪ পৃষ্ঠা] 

মুসল্লি না থাকা অবস্থায় মসজিদে অযথা বাতি জ্বালানোর নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত ফতোয়া 

ফতোওয়ায়ে রযবীয়ার ২৩ খন্ডের ৩৭৪ ও ৩৭৫ পৃষ্ঠা থেকে একটি প্রশ্নোত্তর লক্ষ্য করুন। 
প্রশ্ন: যায়েদ ভোর পাঁচটার পরে সৌন্দর্য্য ও আলোকসজ্জার জন্য মসজিদে চেরাগ জ্বালিয়ে দিল। তিলাওয়াত কিংবা দ্বীনি কিতাব অধ্যয়ন করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। অথচ সেই সময়ে আলোর কোন প্রয়োজন বলতেই হয় না। কেননা, মুসল্লি এসে থাকেন পৌনে ছয়টা বাজে। জামাত শুরু হয় ছয়টার পরে। আর মসজিদে আলো ছড়িয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের সময়। তাছাড়া সরকারি লাইটগুলোর আলো এই তিনটি সময়েই যথেষ্ট পরিমাণে মসজিদের আঙ্গিনায় এসে পড়ে। মসজিদটির প্রবীন পরিচালক আমর যিনি নিজের পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করে যাচ্ছেন বরং বর্তমানেও মেরামতের কাজ করানো হচ্ছে, যায়েদকে এ সময়ে নিষ্প্রয়োজনে চেরাগ জ্বালাতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন: মসজিদের সম্পদ অপব্যয় করা যায় না। কিন্তু তার কথা যায়েদ মানছে না। এমতাবস্থায় চেরাগ জ্বালানো যাবে কি না? 

উত্তর: যেহেতু সেই সময়ে মসজিদে কোন লোকই আসে না, তাই চেরাগ জ্বালানো বৃথা এবং নিষেধ। বিশেষ করে যেহেতু গলিতে সরকারি লাইটগুলো জ্বালানো থাকে। আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। 

জশনে বিলাদতের সময় বাতি জ্বালানো 

বড় রাতগুলোতে এবং জশনে বিলাদতের সময় ভাল ভাল নিয়্যত সহকারে বাতি জ্বালানো জায়েয এবং সাওয়াবের কাজ। দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৫৬১ পৃষ্ঠা সম্বলিত ‘মালফুযাতে আলা হযরত’ কিতাবের ১৭৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, আরজ: মীলাদ শরীফে ঝলক লাইট, ফানুস ইত্যাদি দ্বারা আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্য্য বর্ধন করা অপব্যয়ের পর্যায়ভূক্ত হবে কি না? 

ইরশাদ: ওলামায়ে কেরামগণ বলেছেন:
 لَا خَيْرَ فِى الْاِسْرَافِ وَلَا اِسْرَافَ فِى الْخَيْرِ 

অর্থাৎ ‘অপব্যয়ে কোন কল্যাণ নেই। পক্ষান্তরে কল্যাণমূলক কাজে কোন অপব্যয় নেই।‘ 
যা দ্বারা জিকিরের সম্মান প্রদর্শন উদ্দেশ্য নিহিত থাকবে, তা কখনো নিষেধ হতে পারে না। 

এক হাজার বাতি 

হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ গাযালী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ‘ইহই্য়াউল উলুম’ কিতাবে সায়্যিদ আবু আলী রোজবারী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর বরাত দিয়ে লিখেছেন: কোন নেককার বান্দা একদা এক জিকিরের মাহফিলের ব্যবস্থা করলেন। তিনি মাহফিলে এক হাজারটি বাতি জ্বালালেন। বাহ্যিক দৃষ্টিসম্পন্ন এক লোক সেখানে গিয়ে পৌঁছল। আর এ অবস্থা দেখে সেখান থেকে ফিরে চলে আসতে চাইল। মাহফিলের ব্যবস্থাপক (যিনি ছিলেন আল্লাহর একনিষ্ট বান্দাদের একজন) তার হাত ধরে ফেললেন এবং তাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে বললেন: যে বাতিগুলো আমি আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য করো সন্তুষ্টির জন্য জ্বালিয়েছি আপনি সেগুলো নিভিয়ে দিন। লোকটি চেষ্টার পর চেষ্টা করেই চলল, কিন্তু একটি বাতিও নিভাতে পারল না। [ইহইয়াউল উলুম, ২য় খন্ড, ২৬ পৃষ্ঠা] 

লেহরাও সব্‌জ পরচম আয় আকা কে আশেকো! 
ঘর ঘর করো চেরাগাঁ কেহ্ ছরকার আ গয়ে। 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 

চুরি করে বিদ্যুতের লাইন নেয়া কেমন? 

۞জশনে বিলাদতের মজলিশে, নাতের মাহফিলে, বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠানে, দোকানে, কারখানা ইত্যাদিতে যে কোন স্থানে কেবল আইনগত বিধান মেনে চলে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন। বিভিন্ন উপায়ে বিদ্যুৎ চুরি করা হারাম ও জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মত কাজ। অতীতে যারা এমন কাজ করেছে তারা তাওবাও করে নেবেন আর যতটুকু বিদ্যুৎ চুরি করেছেন তার হিসাব করে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে বিলটিও পরিশোধ করে দিবেন। 

বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সম্পর্কে ১৪টি মাদানী ফুল
কম্পিউটার, টেপ রেকর্ডার, মোবাইল চার্জার ইত্যাদি 

۞কম্পিউটার, মনিটর (MONITOR), কপিয়ার, প্রিন্টার, টেপ রেকর্ডার, মোবাইল চার্জার ইত্যাদি ব্যবহৃত না হয়ে থাকলে বন্ধ অবস্থায় রাখুন। স্ট্যান্ডবাই (Standby) চালু রাখা অবস্থায়ও এগুলো বিদ্যুৎ খরচ করে। বিদ্যুৎ বাঁচানোর উত্তম পন্থা হল বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো যখন ব্যবহারে থাকবে না, “পাওয়ার সক্যেট”থেকে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দিবেন। এতে করে বিন্দুর মত হয়ে যে ছোট বাল্বটি জ্বলতে থাকে সেটিও বন্ধ হয়ে যাবে। এরূপ করাতে বিদ্যুৎ তো বাঁচবেই, সাথে আপনার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও সুরক্ষিত থাকবে। 

۞মনিটরের জায়গায় LCD বা LED ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ কম খরচ হয়। 

মাদানী চ্যানেলটি তখনই চালু করবেন, যখন কোন দর্শক থাকবে

۞গুনাহে ভরা না-জায়েয চ্যানেলগুলো দেখার মনোভাব পরিহার করত: সত্যিকারের তাওবা করে নিন। আর কেবল ১০০% শরীয়াত সম্মত মাদানী চ্যানেল দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এমনটি যেন কখনো না হয় যে, মাদানী চ্যানেল চালু করে দিয়ে আপনি কথাবার্তা ইত্যাদিতে বিভোর হয়ে যাবেন অথবা ঘরে এখানে ওখানে ঘোরাফেরা করতে থাকবেন। চ্যানেলটির মাধ্যমে একজন লোকও যদি উপকার না নিয়ে থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ অযথা ব্যয় হতে থাকবে। ইচ্ছাকৃত ভাবে এভাবে করতে থাকলে অবস্থা ভেদে আপনি সম্পদ নষ্ট করার গুনাহে গ্রেফতার হয়ে যাবেন এবং জাহান্নামের আজাবেরও যোগ্য হতে পারেন। 

۞আপনার রুমের,রান্নাঘরের (Kitchen) কিংবা টয়লেটের এগ্জাষ্ট ফ্যানটি (Exhaust Fan) প্রয়োজন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বন্ধ করে দিবেন। 

۞পানির অপচয় করবেন না। মোটর বেশি চললে বিদ্যুৎও বেশি খরচ হবে। 

۞বসার বা ঘুমাবার বেলায় এমন ব্যবস্থা নিবেন, যাতে কম সংখ্যক পাখাতে বেশি পরিমাণে মানুষ উপকৃত হয়। 

একটি পাখায় অনেক লোক উপকৃত হতে পারে 

۞স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাতের তারবিয়্যতের মাদানী কাফেলার মুসাফিররা মসজিদে বিদ্যুতের ব্যবহারে খুবই সাবধান থাকবেন। কেননা, চাঁদার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ব্যবস্থাপক ও আমীরে কাফেলা সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিবেন। এমন যেন না হয় যে, একটি পাখার নিচে কেবল একজন ইসলামী ভাই শুয়ে আছেন। যে কোন ঘরেই যেক্ষেত্রে একটি পাখার নিচে অনেক লোক শুতে পারে, সেক্ষেত্রে মসজিদ ও মাদরাসায় তা হতে পারে না কেন? 

۞ইলেক্ট্রিক ওভেন (Oven) ৬০০-১৫০০ ভোল্টের হয়ে থাকে। এটি ব্যবহারে খুব বিদ্যুৎ খরচ হয়। বিশেষ কোন প্রয়োজন না থাকলে এটির ব্যবহার করবেন না। 

U.P.S অধিক পরিমাণে বিদ্যুৎ খরচ করে 

۞ইউ পি এস (U.P.S) যত পারা যায় কমই ব্যবহার করবেন। কেননা, এটির “ব্যাটারি” রিচার্জ (Recharge) করার জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ খরচ হয়। তাই দিনের বেলায় ইউ পি এস (U.P.S) বন্ধ রেখে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব। 

۞শীতকালে ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক হিটার (Heater) সাধারণত ১৮০০ ভোল্টের হয়ে থাকে। এটিতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। যত পারা যায় কমই ব্যবহার করবেন। 

ইস্ত্রী মারাত্মক ভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে

۞ইস্ত্রী সাধারণত: ৮০০ থেকে ১২০০ ভোল্টের (অর্থাৎ ১০ থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানের সমপরিমাণ) হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে এবং বিল (BILL) বেশি বাড়ায়। বেশী প্রয়োজন না হলে,ইস্ত্রী কখনো ব্যবহার করবেন না। প্রয়োজনে ইস্ত্রী না দিয়েই কাপড় গায়ে দিবেন। এতে করে আপনার মূল্যবান সময়ও বাঁচবে, পকেটের টাকাও বাঁচবে। 

۞লিফট (LIFT) উল্লেখযোগ্য হারে বিদ্যুৎ খরচ করে। এটি খুব কমই ব্যবহার করবেন। সিঁড়িতে পায়ে হেটে আসা-যাওয়া করা এক ধরণের ব্যয়াম। স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী। 

۞থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিদ্যুতের সুইচগুলো (Switch) অফ্ করে দিন। একটি বাতি কিংবা একটি পাখাও যেন না চলে থাকে। 

۞কারো কারো অভ্যাস যে, বাইরে যাওয়ার সময়ও অহেতুক ঘরের বাতি অন্ রাখে। বিনা প্রয়োজনে এমনটি করবেন না। যদি এই কারণে জ্বালিয়ে রাখে যে, ঘরে ফিরে এলে অন্ধকারে না হাতড়াতে হয় কিংবা চোর ডাকাত ইত্যাদি থেকে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে বাধা নেই। 

ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজার সম্পর্কে ১৩টি মাদানী ফুল 

۞১৮ ঘনফুটের ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজার সাধারণত গড়ে ৫০০ ভোল্টের হয়ে থাকে। এটি আপনার ঘরে শতকরা ২৫ ভাগ বিদ্যুৎ খরচ করে। 

۞কখনো কখনো নিজের প্রয়োজনের চেয়েও বড় ফ্রিজ ক্রয় করা হয়ে থাকে। মনে রাখবেন! খালি ফ্রিজ বিদ্যুৎ বেশি খরচ করে। ফ্রিজে রাখার মত কিছু না থাকলে অন্তত পানি হলেও ভরে রাখবেন। পানি ঠান্ডা হলে সাওয়াবের নিয়্যতে মুসলমানদের পান করতে দিবেন। 

۞ফ্রিজে থার্মোস্টেট (Thermostat) নামের একটি পার্ট রয়েছে। যা দিয়ে ফ্রিজের কুলিং (Cooling) বা শৈথিল্যকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অধিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। অতএব ফ্রিজের কুলিং-কে মৌসুমের সাথে মিল রেখে এবং একান্ত প্রয়োজন মত করে রাখবেন। 

۞ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজার কখনো দেওয়ালের সাথে ঘেঁষে রাখবেন না। পিছনের দিকে বাতাস বের হতে পারে মত জায়গায় রাখবেন। 

۞রোদ পড়ে এমন স্থানে ফ্রিজ রাখবেন না। বরং ঘরের সবচেয়ে ঠান্ডা স্থানেই ফ্রিজ বসাবেন। 

۞বার বার ফ্রিজের দরজা খোলা-বাঁধার কারণে এটির শিথিলতায় ঘাটতি আসে এবং বিদ্যুৎও বেশি পরিমাণে খরচ হয়। 

۞ফ্রিজের দরজা বেশিক্ষণ পর্যন্ত খোলা রাখার কারণেও বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়। অতএব, কী কী বের করতে হবে তা আগে ভেবে নেয়ার পরই ফ্রিজ খুলবেন, আর জিনিস বের করে নেওয়ার পর তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিবেন। 

۞বার বার ফ্রিজ খুলবেন না। এর জন্য ওয়াটার কুলার ব্যবহার করুন। 

۞ফ্রিজে গরম গরম জিনিস ইত্যাদি রাখার কারণে এর ভেতরকার তাপ বৃদ্ধি পেয়ে যায়। ফলে বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়। 

۞রেফ্রিজারেটরের পিছনের দিকে নাজুক ধরনের একটি জাল বানানো থাকে। সেটিতে ধূলা-বালি পড়তে থাকে। এ কারণে ফ্রিজের নিজস্ব কাজ বাধাগ্রস্থ হয়। সপ্তাহ / পনের দিন পর পর পাওয়ার সার্কিট থেকে বিচ্ছিন্ন করে এটাকে পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম। 

۞যেসব ফ্রিজ ও রেফ্রিজারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরফ গলাতে পারে, যেগুলোকে ‘নো ফ্রস্ট’ (NO FROST) বলা হয়ে থাকে, সেসব ফ্রিজ তুলনামূলক বিদ্যুৎ বেশি খরচ করে। 

বাড়তি বরফ ফ্রিজ থেকে বের করে নেওয়ার উপায় 

۞আপনার ফ্রিজে কখনো এক ইঞ্চির ৪ ভাগের ১ ভাগ পরিমাণের বেশি বরফ জমতে দিবেন না। বরফ বের করে নেবার জন্য কিছুক্ষণ ফ্রিজটি বন্ধ করে রাখুন এবং দরজা খুলে দিন। হাতে বরফগুলো পরিস্কার করে নিন। প্রয়োজনে প্লাস্টিকের চামচ ব্যবহার করুন। কখনো লোহার চামচ বা চাকু ইত্যাদি ব্যবহার করে ফ্রিজ নষ্ট করবেন না। 

۞আপনাকে যদি কিছু দিনের জন্য বাইরে কোথাও যেতে হয়, তাহলে ফ্রিজ খালি করে বন্ধ করে দিবেন। ফ্রিজে যদি প্রয়োজনীয় কিছু থাকে, তাহলে কুলিং (Cooling) দ্বারা কাজ সেরে নিন। 

ওয়াশিং মেশিন সম্পর্কে ৩টি মাদানী ফুল 

۞আপনার ঘরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের প্রায় শতকরা ২০ ভাগ বিদ্যুৎ ওয়াশিং মেশিনে (Washing Machine) খরচ হয়। 

۞ওয়াশিং মেশিনে কাপড় কাঁচার সময় বিদ্যুতের পাশাপাশি কয়েক লিটার পানিও দিতে হয়। কাপড় বেশি পরিমাণে ধৌত করতে হলেই ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করবেন। দুই একটি কাপড় হাতেই কেঁচে নিবেন। 

۞কিছু কিছু ঘরে ওয়াশিং মেশিনের সাথে কাপড় শুকানোর ড্রাইয়ার (Dryer) ব্যবহৃত হয়। এতে করে বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যায়। যদি কাপড় শুকানোর মত খোলামেলা বা রোদময় জায়গা পাওয়া যায়, তা হলে ড্রাইয়ার ছাড়াই কাপড় শুকিয়ে নিবেন। 

এয়ার কন্ডিশন সম্পর্কে ৮টি মাদানী ফুল 

সুস্বাদু ফালুদা 

আমীরুল মুমিনীন হযরত মাওলায়ে কায়েনাত শেরে খোদা আলী মুরতাজা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর খেদমতে এক বার সুস্বাদু ফালুদা পেশ করা হল। তিনি বললেন: এই ফালুদার রং, গন্ধ ও স্বাদ কতই উন্নত! আমি পছন্দ করি না যে, আমার যে নফস এমন জিনিসে অভ্যস্থ নয়, তাকে দিয়ে এই রং, গন্ধ ও স্বাদের বস্তুটিতে অভ্যস্থ করিয়ে নিই। [হিল্ইয়াতুল আউলিয়া, ১ম খন্ড, ১২৩ পৃষ্ঠা] 

তাঁর উপর আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হোক। তাঁর সদকায় আমাদেরও বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক। 

اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 

AC ব্যবহার বাদ দিন, বিদ্যুৎ বাঁচান 

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আমীরুল মুমিনীন হযরত মাওলায়ে কায়েনাত শেরে খাদা আলী মুরতজা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর নফস নিয়ন্ত্রণের প্রতি মোবারকবাদ! আমরাও যদি প্রচন্ড গরমের সময় আমাদের নফসের তাড়নায় আইসক্রিম, ফালুদা, ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার সময় আমীরুল মুমিনীন মাওলায়ে কায়েনাত رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর এই ঈমান তাজাকারী কথাটি কখনো কখনো স্মরণে আনতে পারতাম! মনে রাখবেন! নফসকে বিভিন্ন ধরনের উপভোগযোগ্য দ্রব্য সামগ্রীর যতই অভ্যস্থ করে তোলা হয়, সে ততই আয়েশী ও উদাসীন হয়ে ওঠে। 
দেখুন! যে যুগে পাখা আবিষ্কার হয় নি, সে যুগেও মানুষ জীবন কাটিয়েছেন। বর্তমানে কত শত মানুষের যে এয়ার কন্ডিশনের রুমে থাকবার অভ্যাস সৃষ্টি হয়ে গেছে তারও হিসাব নেই। গরমের দিনে এয়ার কন্ডিশন ছাড়া তাদের ঘুমই হয় না। তারা শরীরের জয়েন্টের (জোড়ার) ব্যথায় ভুগতে থাকে। হায়! এই দুনিয়াতে নেয়ামত যতই উন্নত হবে,কিয়ামতের দিন সেটির হিসাবও বেশি হবে। তাই ঋতু পরিবর্তনের শীত ও গরম ভাবকে কখনো কখনো নিজের শরীরের সহনশীলতার সাথে মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাসও গড়ে তুলবেন। অবশ্য যারা এসি ব্যবহার করে থাকেন, তারা গুনাহগার নয়। এসির ব্যবহার যেহেতু জায়েয, তাই সেটিরও কিছু মাদানী ফুল কবুল করুন। 

۞দেড় (১.৫) টন একটি এ.সি (Air Conditioner) ২৪টি পাখা থেকেও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। 

۞এসি সব সময় ছায়াযুক্ত স্থানে রাখবেন। রোদময় জায়গায় রাখলে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। 

۞পাখায় কাজ সারলে অহেতুক এসি চালু করবেন না। 

۞আপনার এসির থার্মোস্টেটটি (Thermostat) ১৬ ডিগ্রীর স্থলে ২৬ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে সেট (Set) করুন। এতে করে আপনার মাসিক বিলও প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ কমে আসতে পারে। 

۞এসি চালু করার সময় শুরুতেই কুলিং (Cooling) কমিয়ে রাখবেন না। এতে করে সেটি ঠান্ডা হতে সময় লাগবে এবং বিদ্যুৎও বেশি খরচ হবে। 

۞রুমের দরজা বার বার খোলা বাঁধা করলেও এসির উপর চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎও বেশি খরচ হয়। 

۞এসির পাশাপাশি সিলিং ফ্যান ব্যবহার করাও উপকারী। 

۞প্রত্যেক মাসে এটির ফিল্টার (Filter) পরিষ্কার করা উত্তম। 

ঘরোয়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের গড় ক্ষমতা (ওয়াটে) 

বাবুর্চি খানার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি 


লোড টাইপ --- এভারেজ ভোল্ট 
টোস্টার             ---  ৮০০-১৫০০ 
গ্রেন্ডার/মিকচার  ---৩০০ 
কফি/টি মেকার ---- ৮০০-১০০০ 
মাইক্রো ওয়েভ ওভেন---  ৬০০-১৫০০ 

ঘরোয়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি 

ওয়াশিং মেশিন---  ৪০০-৭০০ 
ইস্ত্রী                  ---  ৮০০-১২০০ 

২১" ইঞ্চি টিভি 

সি আর টি ---    ৭০-৮০ 
এল সি ডি ---     ২০-২৫ 

২৫" ইঞ্চি টিভি 

সি আর টি ---   ৯০-১০০ 
এল সি ডি ---    ২৬-২৮ 
ডিপ ফ্রিজ (১৮ ঘনফুট)---৫০০ 
রেফ্রিজারেটর (১৮ ঘনফুট)---৫০০


ফ্যাকশ্চারর্স এন্ড ফিটিংস 

লোড টাইপ----এভারেজ ভোল্ট 
উজ্জ্বল বাল্ব--- ৪০-২০০ 
এনার্জি বাল্ব--- ৭0-৮০ 

পাখা 
সিলিং ফ্যান---   ৮০ 
ব্র্যাকেট ফ্যান --- ৫৫ 
পেডস্টল ফ্যান ---১৫৫ 

এসি 
এসি (১.৫ টন)--- ২০০০ 
এসি (১ টন) ---    ১৫০০ 
এসিটর ---           ১৮০০

উপরের সংখ্যাগুলো সাধারণত মাঝামাঝি ব্যয় হিসাবে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পন্যের ক্ষেত্রে ভিন্নও হতে পারে। 

গ্যাস বাঁচানোর ৩টি মাদানী ফুল 

۞ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য হিটার ব্যবহার না করে শীতকালীন পোষাক ব্যবহার করবেন। 

۞সম্ভব হলে ইন্সটেন্ট ওয়াটার গ্যাস ব্যবহার করবেন। এতে কেবল ব্যবহার করার সময় গ্যাস খরচ হয়। 

۞গ্যাসারে কনিক্যাল বেফল ঢালুন, আর শতকরা ২৫ ভাগ গ্যাস বাঁচান। কনিক্যাল বেফল বিহীন গ্যাসার বেশি গ্যাস ব্যবহার করে এবং গ্যাসের বিল বাড়ায়। 

শীতকালে গ্যাসের বিল বৃদ্ধি পায় কেন*? 


বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাদানী ফুল 
*এটার বিস্তারিত তথ্য ছুয়ী নার্দান গ্যাস পাইপ লাইঞ্জ লিমিটেড, মারকাযুল আউলিয়া লাহোর ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের একটি বিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for supporting.

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন