আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net

Saturday, September 15, 2018

প্রশ্নোত্তর (বয়ান করা, ওয়াজ নসীহত করা ও মহিলাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে)

আলেম নন এমন কারো পক্ষে বয়ান করা হারাম

প্রশ্ন: কোন ইসলামী বোন যদি আলিমা না হয়ে থাকেন, তিনি কি ইসলামী বোনদের সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় বয়ান করতে পারবেন?
উত্তর: যিনি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না, তিনি যেন দ্বীনি বয়ান না দেন। কেননা, আমার আক্বা আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ফতোওয়ায়ে রযবীয়ার ২৩তম খন্ডের ৩৭৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: ওয়াজ বলুন আর যে কোন ধরনের কথাবার্তাই বলুন- এতে সব চেয়ে প্রথম কথা হল আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم وَ عَزَّوَجَلّ এর অনুমতি। যে ব্যক্তি যথেষ্ট জ্ঞানের মালিক নন, তার পক্ষে ওয়াজ করা হারাম। সেই ব্যক্তির ওয়াজ শোনাও জায়েয নেই। কেউ যদি مَعَاذَ الله عَزَّوَجَل বদ-মাযহাবী হয়ে থাকে, তাহলে সে তো শয়তানেরই প্রতিনিধি। তার কথা শোনা তো জঘন্য ধরনের হারাম। (মসজিদে বয়ান দেবার ক্ষেত্রে তাকে বাধাঁ প্রদান করতে হবে)। আবার কারো বয়ান দ্বারা যদি ফিতনা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তাকেও ইমাম সাহেব সহ মসজিদের উপস্থিত লোকজন বাধাঁ দেবার হক রাখেন। আর যদি বিশুদ্ধ আকীদাসম্পন্ন পরিপূর্ণ সুন্নী আলেমে দ্বীন ওয়াজ করে থাকেন, তাহলে তাঁকে বাধাঁ দেবার অধিকার কেউ রাখে না। যেমন: মহান আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় পারার সূরা বাকারায় ১১৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন:

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُہٗ

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: কোন্ ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক অত্যাচারী যে আল্লাহর মসজিদ সমূহে তাঁর নাম নেওয়ায় বাধাঁ প্রদান করে। (পারা: ২, সূরা: আল বাকারা, আয়াত: ১১৪) (ফতোওয়ায়ে রজবীয়া, ২৩তম খন্ড, ৩৭৮ পৃষ্ঠা)

Thursday, September 13, 2018

কাপড় পরিধান বিষয়ক সুন্নাত ও আদব

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আমাদেরকে কাপড় পরিধানের যোগ্যতা দান করেছেন, পক্ষান্তরে অন্যান্য জীব জন্তুর নিকট কাপড় পরিধানের যোগ্যতা নেই।পোষাক পরিচ্ছদ দ্বারা আমরা লজ্জাস্থান ঢাকতে পারি, ঠান্ডা ও গরম থেকে বাঁচতে পারি। আর কাপড় চোপড় আমাদের মান মর্যাদা সৌন্দর্য কে বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। তবে নানা সম্প্রদায়ের নানা ধরণের পোষাক হয়ে থাকে কিন্তু সর্বাপেক্ষা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, সম্মানিত ও স্বতন্ত্র হচ্ছে মুসলমানের পোষাক। নিম্নে পোষাকের ব্যাপারে কতিপয় সুন্নাত ও আদাব পেশ করা হলো-

۞ সাদা রংয়ের পোষাক সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। এ রংয়ের পোষাক ছিল নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর অত্যন্ত পছন্দনীয় ও প্রিয়তর। হযরত সায়্যিদুনা সুমরা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন: নবীয়ে পাক, সাহেবে লাওলাক, হুযুর পুর নূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন, “তোমরা সাদা পোষাক পরিধান করো, কেননা তা অত্যন্ত পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং তা দ্বারা তোমরা মৃতদের কাফন পরিধান করাবে।”(সুনানে তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৮১৯, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-৩৭০)

Wednesday, September 12, 2018

কালো বিচ্ছু (দাঁড়ি রাখার বিধান সম্বলিত)

কথিত আছে, একবার কোয়েটার নিকটবর্তী এক গ্রামে ‘ক্লিন শেভ’করা এক বেওয়ারিশ যুবকের লাশ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেষে লোকজন মিলে লাশটি দাফন করে দিল। ইত্যবসরে মৃতের ওয়ারিশগণ খোঁজ খবর নিয়ে সেখানে এসে পৌঁছল। তারা লোকজনের সামনে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করল যে, তাদের এই প্রিয়জনের লাশটি তাদের গ্রামে নিয়ে গিয়ে সেখানে দাফন করতে চায়। অতএব, কবরের মাটি সরিয়ে ফেলা হল। লাশটির মুখের দিক হতে যখন পাথরের খন্ডটি সরিয়ে ফেলা হল তখন মৃতের অবস্থা দেখে লোকদের মুখ থেকে ভয়ঙ্কর চিৎকার বেরিয়ে আসল। কারণ, এইমাত্র যে যুবকটির লাশ দাফন করা হয়েছে, তার মুখ কাল দাঁড়িতে ছেয়ে গেছে, আর সে দাঁড়ি কালো চুলের নয় বরং তা ছিল কালো কালো বিচ্ছুরই। ভয়ঙ্কর, লোমহর্ষক এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন ইস্তেগফার পড়তে থাকে এবং তাড়াতাড়ি কবরটি ঢেকে দিয়ে ভয়ে সকলে পালিয়ে গেল। 

ইস্তিখারা কি ও ইস্তিখারার নামাযের পদ্ধতি

ইস্তেখারার শিক্ষা দিতেন

মদীনার তাজেদার, হুযুরে আনওয়ার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم লোকদেরকে গণনার পরিবর্তে ইস্তেখারার শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বণির্ত , রাসূলে আকরম, নূরে মুজাসসাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কোরআনের সূরা শিক্ষা দেওয়ার ন্যায় আমাদেরকে যে কোন বিষয়ে ইস্তেখারা করার শিক্ষা দিতেন। (বুখারী, কিতাবুত তাহাজ্জুদ, বাবু মা’জা ফিত তাতউয়ি মাছনা মাছনা, ১/ ৩৯৩, হাদীস- ১১৬২)

প্রসিদ্ধ মুফাসসির, হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ হাদীস শরীফটির আলোকে লিখেন: ইস্তেখারা মানে হলো মঙ্গল কামনা করা বা কারো নিকট হতে ভাল পরামর্শ গ্রহণ করা। যেহেতু ইস্তেখারার নামাযে এবং দোয়ায় বান্দা যেনো স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার নিকট পরামর্শ চায় যে, অমুক কাজটি করবো কি করবো না! তাই একে ইস্তেখারা বলা হয়। (মিরাতুল মানাজীহ, ২/ ৩০১)

Saturday, September 8, 2018

মুহাররম ও আশুরার রোযার ফযীলত

আশুরায় সংঘঠিত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

﴾১﴿ আশুরার দিন (অর্থাৎ ১০ মুহাররামুল হারাম) হযরত সায়্যিদুনা নুহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর নৌকা জুদী পাহাড়ে ভিড়ে।
﴾২﴿ এই দিনেই হযরত সায়্যিদুনা আদম সফিয়্যুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর অনিচ্ছাকৃত ভূলের তাওবা কবুল করা হয়েছে। 
﴾৩﴿ এই দিনেই হযরত ইউনুস عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর সম্প্রদায়ের তাওবা কবুল করা হয়। 
﴾৪﴿ এই দিনেই হযরত সায়্যিদুনা ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام  জন্ম গ্রহণ করেন। 
﴾৫﴿ এই দিনেই হযরত সায়্যিদুনা ঈসা রুহুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে সৃষ্টি করা হয়।(আল ফিরদাউস, ১ম খন্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৮৫৬।) 
﴾৬﴿ এই দিনেই হযরত সায়্যিদুনা মূসা কলিমুল্লাহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام ও তারঁ সম্প্রদায়ের মুক্তি অর্জিত হয় এবং ফিরআউন নিজ গোত্রসহ ডুবে যায়।(বুখারী, ২য় খন্ড, ৪৩৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৩৯৭-৩৩৯৮।) 
﴾৭﴿ এই দিন সায়্যিদুনা ইউছুফ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর কয়েদখানা থেকে মুক্তি অর্জিত হয়। 
﴾৮﴿ এই দিনেই হযরত সায়্যিদুনা ইউনুস عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام কে মাছের পেট থেকে বের করা হয়।(ফয়যুল কদীর, ৫ম খন্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৭০৭৫।) 
﴾৯﴿ সায়্যিদুনা ইমাম হুসাইন رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ কে তাঁর শাহজাদা ও সঙ্গী সাথী সহ তিনদিন ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত রাখার পর এই আশুরার দিনেই কারবালার বুকে অবর্ণনীয় নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে শহীদ করা হয়।

Wednesday, September 5, 2018

অশুভ প্রথা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস (৩)

রাশির ভাল-মন্দ প্রভাবের উপর বিশ্বাস করা কেমন?

নিজেকে জ্ঞানী বলে মনে করা অনেকে রাশির প্রভাবের উপর এমন ভাবে বিশ্বাস করে যে, বিয়ে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তারা নক্ষত্রের পরিভ্রমণ কিংবা অবস্থান অনুযায়ী করে থাকে। এ ধরনের লোক সহজেই জ্যোতিষী দাবীদারদের শিকারে পরিণত হয়, এদেরকে তারা বোকা বানিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে এমন হয় যে, ছেলে ও মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত হয়ে গেছে, প্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাৎ এবং পরস্পর তথ্য-উপাত্তের কাজও শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এক পক্ষ এই বলে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল যে, আমি খোঁজ নিলাম যে, ছেলে আর মেয়ে পরস্পর রাশিতে মিলছে না, তাই এই বিয়ে হতে পারে না। আমার আক্বা আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিলাø ত, মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলো: আকাশের নক্ষত্ররাজির প্রভাব এবং সেগুলোর শুভ অশুভ প্রভাবে বিশ্বাস করা কেমন? আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ উত্তর দিলেন: একজন আনুগত্যশীল মুসলমানের জন্য কোন বস্তুই অলক্ষুণে বা অশুভ নয়। অপরপক্ষে একজন কাফিরের জন্য কোন বস্তুই শুভ নয় এবং একজন গুনাহগার মুসলমানের জন্য তার ইসলামই শুভ, ইবাদত কেবল কবুল হওয়ার শর্তেই শুভ। গুনাহ করা বস্তুতই দুর্ভাগ্য। যদি রহমত এবং শাফায়াত তাকে সেই দুর্ভাগ্য থেকে বাঁচিয়ে নেয়, বরং দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে পরিণত করে দেয়, فَاُولٰئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّاٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ  (কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এমন লোকদের মন্দ কাজগুলোকে আল্লাহ সৎকর্মসমূহে পরিবর্তিত করে দেবেন;) (১৯তম পারা, আল ফুরকান, আয়াত ৭০) বরং কোন কোন সময় গুনাহ এভাবে সৌভাগ্য হয়ে যায় যে, বান্দা সেই গুনাহের কারণে ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকে, তাওবা করে এবং নেক আমলের চেষ্টায় থাকে। তবে সেই গুনাহ দূরীভূত হয়ে গেছে এবং অনেক নেকী পেয়ে গেছে, বাকি রইল নক্ষত্রের বিষয়, সেগুলোতে শুভ অশুভ বলতে কিছুই নাই বরং কেউ যদি নক্ষত্রকে নিজস্ব গুণে প্রভাবশালী বলে মনে করে, তবে তা শিরক এবং সেগুলো থেকে সাহায্য চাওয়া হারাম, অন্যথায় সেগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করা অবশ্যই তাওয়াক্কুলের বিপরীত। (ফতোয়ায়ে রযবীয়া, ২১/২২৩)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

কিছু মুমিন রইলো, কিছু কাফির হয়ে গেলো

হযরত সায়্যিদুনা যায়দ বিন খালিদ জুহনী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم আমাদেরকে হুদায়বিয়ার স্থানে বৃষ্টির পরে ফযরের নামায পড়ান। তিনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যখন নামায থেকে অবসর হলেন, তখন লোকদের দিকে নূরানী চেহারা ফিরালেন। অতঃপর ইরশাদ করলেন: তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব তায়ালা কী ইরশাদ করেছেন? সবাই বললেন: আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলই صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ভাল জানেন। প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: আমার বান্দারা সকাল করেছে, তো কিছু মুমিন হয়েছে আর কিছু কাফির। যেই ব্যক্তি বললো: আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের উপর বৃষ্টি হয়েছে, সে আমার উপর ঈমান রাখে, নক্ষত্রের উপর বিশ্বাস করে না আর যারা বললো: অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, তারা كَافِرٌ بِىْ مُؤمِنٌ بَالْكَوَاكَبِ অর্থাৎ আমাকে অস্বীকার করলো এবং নক্ষত্রকে বিশ্বাস করলো। (বুখারী, কিতাবুল আযান, বাবু ইয়াস্তাকবিলুল ইমামুন নাসা ইযা সাল্লামা, ১/২৯৫, হাদীস- ৮৪৬)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণেতা মুফতী মুহাম্মদ শরীফুল হক আমজাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ হাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় লিখেন: বিশ্বাস যদি এই হয় যে, নক্ষত্রই বৃষ্টি বর্ষণ করে, তবে এই বিশ্বাসটি হবে কুফর আর যদি এই বিশ্বাস হয় যে, বৃষ্টি হয় আল্লাহ তায়ালারই নির্দেশে, বিভিন্ন নক্ষত্রের উদয়-অস্ত তাঁর নিদর্শন স্বরূপ, তবে তাতে কোন অপরাধ নাই। তাই বলা যে, অমুক গ্রহের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, তা নিষেধ আর যদি বলে যে, অমুক গ্রহের অমুক অবস্থানের কারণে বৃষ্টি হয়েছে, জায়িয। (“ كَافِرٌ بِىْ مُؤمِنٌ بَالْكَوَاكَبِ” এর ব্যাখ্যায় মুফতী সাহেব লিখেন:) এখানে কুফর এবং ঈমানের আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য অর্থাৎ তারা আমাকে অস্বীকার করলো এবং গ্রহের অবস্থানকে বিশ্বাস করলো। (নুযহাতুল কারী, ২/৪৯৫, ৪৯৬)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

যেকোন নক্ষত্রকে যেখানে ইচ্ছা পাঠিয়ে দেন 

একদিন মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন মীরঠী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর আব্বাজান (যিনি জ্যোতির্বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন) আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর নিকট এলে তিনি তাঁর নিকট প্রশ্ন করেন: বলুন তো, বৃষ্টি সম্পর্কে আপনার কী ধারণা। কখন বৃষ্টি হবে? তিনি নক্ষত্রের অবস্থান ইত্যাদি থেকে হিসাব-নিকাশ করে বললেন: এই মাসে বৃষ্টি নাই, আগামী মাস থেকে বৃষ্টি হবে। এই বলে তিনি হিসাবটি আলা হযরতের দিকে ঠেলে দিলেন। আ’লা হযরত তা দেখে বললেন: সব কিছুর ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালারই হাতে, তিনি ইচ্ছা করলে আজও বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বললেন: তা কীভাবে হতে পারে, আপনি কি নক্ষত্রের অবস্থান দেখতে পাচ্ছেন না? আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: আমি সব কিছু দেখতে পাচ্ছি, সেই সাথে নক্ষত্রকে যিনি পরিচালনা করেন তাঁর ক্ষমতাও দেখতে পাচ্ছি। তারপর আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ সেই দুর্বোধ্য মাসআলাটি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন, সামনে ঘড়ি লাগানো ছিলো, আ’লা হযরত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: ঘড়িতে এখন সময় কতো? তিনি বললেন: সোয়া এগারটা। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: বারটা বাজার আর কতো দেরী? শাহ সাহেব বললেন: ঠিক পৌনে এক ঘণ্টা। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বসা থেকে উঠে বড় কাঁটাটি ঘুরিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ ঠনঠন করে বারটা বাজার শব্দ শোনা গেলো। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: আপনি তো বলেছিলেন বারটা বাজার আরো পৌনে এক ঘণ্টা বাকি রয়েছে। শাহ সাহেব বললেন: আপনি যে কাঁটা ঘুড়িয়ে দিয়েছেন, না হয় নিজের গতিতে চলতে চলতে পৌনে এক ঘণ্টা পরেই বারটা বাজতো। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: এভাবে সব কিছুর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন আল্লাহ তায়ালা। অনুরূপভাবে যেই নক্ষত্রকে যখন যেখানে ইচ্ছা তিনিই পাঠিয়ে দেন। তিনি যদি ইচ্ছা করেন, এক মাস কী, এক দিন কী, এই মুহূর্তেই বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারেন। তাঁর মুখ থেকে কথাটি শেষ হতে না হতেই, হঠাৎ চতুর্দিকে মেঘের ঘনঘটা দেখা গেলো এবং বৃষ্টি বর্ষণ হতে লাগলো।(তাজাল্লিয়াতে ইমাম আহমদ রযা, ১১৬ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد






--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা “মুহাম্মদ ইলয়াস আত্তার” কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৯৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত "অশুভ প্রথা" নামক রিসালার ৪০- নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন। 
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
ইসলামীক বাংলা বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন
কুসংস্কার বিষয়ক লিখাটির প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব,
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

অশুভ প্রথা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস (২)

কুসংস্কারের কোন বাস্তবতা নেই

বুখারী শরীফে হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বণির্ত , মদীনার তাজেদার, রাসূলদের সর্দার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: সংক্রমণ বলতে কিছু নাই, না আছে কোন অশুভ ফাল তথা অশুভ ইঙ্গিত, আর নাই পেঁচা-ও, না শূন্য (খালি) ও কুষ্ঠ থেকে পালাবে, যেমনিভাবে বাঘ দেখে পালাও। (বুখারী, কিতাবুত তিব্ব, ৪/২৪, হাদীস- ৫৭০৭ ও ওমদাতুল কারী, কিতাবুত তিব্ব, ১৪/৬৯২, হাদীস- ৫৭০৭)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারী মুফতী মুহাম্মদ শরীফুল হক আমজাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِহাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় বলেন: এই হাদীস শরীফটি থেকে প্রাপ্ত কিছু মাদানী ফুল উপস্থাপন করা হলো,

۞ জাহেলীয়তের যুগে মানুষের বিশ্বাস ছিলো যে, এমন কতগুলো রোগ রয়েছে যা অন্যের প্রতি সংক্রমিত হয়। যেমন: কুষ্ঠ, খোস পাঁচড়া, প্লেগ ইত্যাদি। হুযুরে পাক صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم সেই বিশ্বাসকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন এবং নিষেধ করে দিলেন। একজন গ্রাম্য লোক এসে উপস্থিত হলো, সে বললো : আমার উটগুলো পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন ও উন্নত     হয়ে থাকে। তা থেকে একটি খোস-পাচঁড়া বিশিষ্ট উট এসে সবাইকে খোস-পাচঁড়া বিশিষ্ট করে দিচ্ছে। হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করলেন: প্রথমটিকে খোস-পাঁচড়া কে বানিয়েছিলো? সে বললো: আল্লাহ তায়ালা। ইরশাদ করলেন: এভাবে বাকিগুলোকেও আল্লাহ তায়ালাই খোস-পাঁচড়া বিশিষ্ট বানিয়েছেন।

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন