আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

বাবরী চুল রাখা এবং মাথার চুলের ২২টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। হুযুরে আকরাম, নূরে মুজাস্সম صَلَّی اللّٰهُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর চুল মোবারক (চুলের গোছা) কখনো কান মোবারকের অর্ধেক পর্যন্ত, কখনো কান মোবারকের লতি পর্যন্ত এবং কখনো চুল মোবারক বেড়ে যেত তখন সেগুলো কাধ মোবারক দু’টিকে স্পর্শ করতো। (আশশামায়িলুল মুহাম্মদীয়া লিত তিরমিযী, ১৮, ৩৫, ৩৪ পৃষ্ঠা)
২। আমাদের উচিত সময়ে সময়ে তিনটি সুন্নাত আদায় করা, অর্থাৎ কখনো অর্ধ কান পর্যন্ত, আর কখনো সম্পূর্ণ কান পর্যন্ত, কোন সময় কাধ বরাবর চুল রাখা।
৩। কাধ পর্যন্ত বাবরী চুল লম্বা করার এ সুন্নাত নিজের উপর একটু কষ্টকর হয়ে থাকে, কিন্তু জীবনের কমপক্ষে একবার হলেও এ সুন্নাত আদায় করা উচিত। অবশ্য এটা খেয়াল রাখা উচিত যে, চুল যেন কাধের নিচে না আসে, পানিতে ভাল ভাবে ভিজার পর বাবরী চুলের লম্বার পরিমাণ লক্ষ্য করা যায়। তাই যে দিনগুলোতে চুল বাড়াবেন ঐ দিনগুলোতে গোসলের পর আঁচড়ানোর সময় ভাল ভাবে লক্ষ্য করবেন চুল কাধ অতিক্রম করেছে কিনা।

৪। আমার আক্বা আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন; মহিলাদের মতো কাধের নিচে চুল রাখা পুরুষের জন্য হারাম। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২১তম খন্ড, ৬০০ পৃষ্ঠা)।
৫। সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা, হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বণর্না করেন: পুরুষের জন্য মহিলাদের মতো চুল লম্বা রাখা জায়েয নেই। কিছু মানুষ সুফী সাজার জন্য লম্বা চুল রাখে, যা তাদের বুকে সাপের মতো ঝুলে থাকে, আর কিছু (মহিলাদের মত) খোপা করা হয়, আর কিছু জট বাঁধা হয় এগুলো নাজায়েয এবং শরীয়াতের পরিপন্থি। চুল লম্বা করা ও রং-বেরঙ্গের কাপড় পরিধানের নাম (সূফীবাদ) নয়, বরং হুযুরে আকদাস صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সম্পূর্ণ অনুসরণ এবং কুপ্রবৃত্তির চাহিদাকে দমন করার নাম। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৫৮৭ পৃষ্ঠা)।
৬। মহিলাদের মাথা মুন্ডানো হারাম। (খুলাছা আয ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ৬৬৪ পৃষ্ঠা)।
৭। মহিলাদের মাথার চুল কাটা (যা বর্তমানে ফ্যাশন হিসেবে চলমান) যেমন: বর্তমানে এ কাজ খ্রীষ্টান মহিলারা শুরু করেছে, যা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও গুনাহ এবং এর উপর (আল্লাহর ) অভিশাপ এসেছে। স্বামী যদি স্ত্রীকে এ কাজ করার জন্য নির্দেশও দেয় তবুও এভাবে করার কারণে স্ত্রী গুনাহগার হবে। শরীয়াতের বিধি-বিধানের বিপরীত কাজে কারো (অর্থাৎ- মাতা, পিতা, স্বামী অন্য কারো আদেশ) পালন করা যাবে না। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৫৮৮ পৃষ্ঠা) ছোট মেয়েদের চুলও পুরুষের মতো করে কাটাবেন না, ছোটবেলা থেকে তাকে মহিলা সূলভ লম্বা চুল রাখার মানসিকতা তৈরী করাবেন।
৮। কিছু লোক ডান অথবা বাম দিকে সিঁথী কাটে, এটা সুন্নাতের পরিপন্থি।
৯। সুন্নাত হচ্ছে, যদি মাথায় চুল থাকে, তবে মধ্যখানে সিঁথী কাটা। (প্রাগুক্ত)
১০। পুরুষের জন্য মাথা মুন্ডানো, চুল লম্বা করা, সিঁথী কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি রয়েছে। (রুদ্দুল মুখতার, ৯ম খন্ড, ৬৮২ পৃষ্ঠা)।
১১। নবীদের নবী, রাসূলে আরবী, মক্কী মাদানী হাশেমী صَلَّی اللّٰهُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم থেকে উভয় আমল সাব্যস্ত আছে; যদিওবা মাথা মুন্ডানো শুধুমাত্র ইহরাম থেকে বের হওয়ার সময় সাব্যস্ত আছে। অন্য সময়ে (মাথা মুন্ডানোর) ব্যাপারে কোন প্রমান দেখা যায় না। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৫৮৬ পৃষ্ঠা)
১২। আজ-কাল কাঁচি বা মেশিনের মাধ্যমে মানুষ কোথাও বড় কোথাও ছোট করে কিছু (বিধর্মীদের) কাটিং করতে দেখা যায়, এমন চুল রাখা সুন্নাত নয়।
১৩। নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যার চুল আছে সে যেন সেগুলোর যত্ন নেয়।” (আবু দাউদ শরীফ, ৪র্থ খন্ড, ১০৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৪১৬৩) অর্থাৎ- তা ধৌত করো, তেল লাগাও এবং আঁচড়াও।
১৪। হযরত সায়্যিদুনা ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ্ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام সর্বপ্রথম গোফ ছেটেছেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম সাদা চুল দেখেছেন। (সাদা চুল দেখার পর) তিনি ফরিয়াদ করেন: হে আমার প্রতিপালক! এগুলো কি? আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন: হে ইব্রাহীম! এটা হলো মর্যাদা (সম্মান)। তিনি আবার ফরিয়াদ করলেন: হে আমার প্রতিপালক! আমার মর্যাদা আরো বৃদ্ধি করে দাও। (মুয়াত্তা, ২য় খন্ড, ৪১৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৭৫৬) প্রসিদ্ধ মুফাস্সীর, হাকিমুল উম্মত, মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এ হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: তাঁর (হযরত ইব্রাহীম) عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর আগে কোন নবীর গোঁফ বাড়েনি এবং কেউ গোঁফও ছাটেনি আর তাঁদের ধর্মে গোঁফ ছাটার কোন বিধানও ছিল না। তাই এ আমলটি সুন্নাতে ইব্রাহীমি হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। (মিরাত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ১৯৩ পৃষ্ঠা)।
১৫। নিচের ঠোঁট এবং এর মধ্যবর্তী স্থানের পশমের আশে-পাশের চুল মুন্ডানো অথবা উপড়িয়ে ফেলা বিদয়াত। (আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৫৮ পৃষ্ঠা)।
১৬। ঘাড়ের পশম মুন্ডানো মাকরূহ। (প্রাগুক্ত, ৩৫৭ পৃষ্ঠা) অর্থাৎ- মাথার চুল মুন্ডানো ব্যতিত শুধুমাত্র ঘাড়ের পশম মুন্ডানো, যেমনিভাবে অধিকাংশ লোক দাঁড়ির খত বানানোর সময় ঘাড়ের পশম মুন্ডিয়ে ফেলে যদি সম্পূর্ণ মাথার চুল মুন্ডিয়ে ফেলে তখন তার সাথে ঘাড়ের পশমও মুন্ডানো যাবে। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৫৮৭ পৃষ্ঠা)
১৭। চারটি বস্তু সম্পর্কে শরীয়াতের ফায়সালা হলো, মাটিতে পুতে ফেলা; (১) চুল, (২) নখ, (৩) যে কাপড় দিয়ে ঋতুস্রাব এর রক্ত পরিস্কার করা হয়, (৪) রক্ত। (প্রাগুক্ত, ৫৮৮ পৃষ্ঠা, আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৫৮ পৃষ্ঠা)
১৮। পুরুষের জন্য দাঁড়ি অথবা মাথার সাদা চুলকে লাল অথবা সবুজ করা মুস্তাহাব, এ জন্য মেহেদী ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৯। দাঁড়ি অথবা মাথায় মেহেদী লাগিয়ে শোয়া উচিত নয়, এক হাকীমের বর্ণনায় এসেছে এভাবে মেহেদী লাগিয়ে শোয়ার ফলে মাথা ও অন্য গরম তাপ চোখে নেমে আসে, যা দৃষ্টি শক্তির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ঐ বিজ্ঞলোকের বর্ণনার দৃঢ়তা আমার কাছে প্রকাশ পেল এভাবে; একবার সগে মদীনার (লিখকের) عُفِىَ عَنْهُ: নিকট এক অন্ধ ব্যক্তি আসল এবং সে বণর্না দিল: আমি জন্মগত অন্ধ ছিলাম না। আফসোস একদা মাথায় কালো মেহেদী লাগিয়ে আমি শয়ন করেছিলাম, জাগ্রত হয়ে দেখতে পেলাম আমার চোখের জ্যোতি চলে গেছে! ২০।
 মেহেদী ব্যবহারকারীর গোঁফ এবং দাঁড়ির খতের কিনারায় দাঁড়িগুলো অল্প সময়ে সাদা ভাব প্রকাশ পায়, যা দেখতে সুন্দর দেখায় না তাই যদিও বার বার সম্পূর্ণ দাড়িতে মেহেদী লাগানো সম্ভব না হয়, শুধুমাত্র যেখানে সাদা চুলের প্রকাশ পায় সেখানে প্রতি চার দিন পর পর ঐ সমস্ত জায়গায় যেখানে সাদা চুল দৃষ্টিগোচর হয়, সেখানে সামান্য সামান্য মেহেদী লাগিয়ে দেয়া উচিত। “শরহুস সুদুর” কিতাবে হযরত সায়্যিদুনা আনাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বণির্ত রয়েছে: যে ব্যক্তি দাঁড়িতে কালো হিজাব ব্যতিত লাল অথবা সবুজ রং ধারণ করে এমন মেহেদী লাগায়, মৃত্যুর পর মুনকার নকীর তার কাছ থেকে কোন প্রশ্ন করবে না। মুনকার (ফেরেশতা) বলবে: হে নকীর (ফেরেশতা)! আমি তার কাছ থেকে কিভাবে প্রশ্ন করতে পারি! যার চেহারাতে ইসলামের নূর চমকাচ্ছে। (শরহুস সুদুর, ১৫২ পৃষ্ঠা)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for supporting.

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন