আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০

কসমের কাফফারা বিষয়ক মাদানী ফুল

কসমের কাফ্ফারা 
দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত অনুদিত পবিত্র কুরআন ‘খাযায়িনুল ইরফান সম্বলিত কানযুল ঈমান’ এর ২৩৫ পৃষ্ঠায় ৭ম পারার সূরা মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের ভুল শপথের কারণে পাকড়াও করবেন না, অবশ্য সেসব শপথের জন্য তোমাদের পাকড়াও করবেন, যেগুলো তোমরা সুদৃঢ় করেছ; এমন শপথের কাফ্ফারা হল 
দশজন মিসকিনকে আহার করানো,নিজের পরিবারের লোকদের যা আহার করাও তার মধ্যম মানের অথবা তাদের কাপড় দান করা কিংবা একজন গোলাম আযাদ করা। যে ব্যক্তি এসবে সক্ষমতা রাখে না সে তিন দিনের রোযা রেখে দেবে। এ হল তোমরা যখন কসম করবে তোমাদের শপথসমূহের কাফ্ফারা এবং নিজের শপথসমূহ রক্ষা করো। 
এভাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তোমাদেরকে নিজের নিদর্শনগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন,যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।” (পারা: ৭, সূরা: আল মায়িদা, আয়াত: ৮৯) 

কসম সম্পর্কিত ১৫টি মাদানী ফুল

দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ১১৮২ পৃষ্ঠা সম্বলিত ‘বাহারে শরীয়াত’ ২য় খন্ডের ২৯৮ থেকে ৩১১ এবং ৩১৯ পৃষ্ঠা হতে কসম ও কাফ্ফারা সংক্রান্ত ১৫টি মাদানী ফুল পেশ করছি (প্রয়োজনে কোন কোন স্থানে পরিবতর্ন করা হয়েছে)। 

কথায় কথায় কসম করা উচিত নয় 

(১) কসম করা জায়েয। কিন্তু যতটুকু সম্ভব কম করা উত্তম। কথায় কথায় কসম করা উচিত নয়। কেউ কেউ তো কসমকে কথার অংশ বানিয়ে ফেলেছে। (অর্থাৎ কথার ফাঁকে ফাঁকে কসম করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে)।  ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাদের মুখ হতে কসম বের হতেই থাকে। সে এতটুকু খেয়ালও করে না যে, তার কথাটা কি সত্য না মিথ্যা। এ খুবই দোষণীয় বিষয়, আর আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কোন নামে কসম করা মাকরূহ্। শরীয়াতের দৃষ্টিতে তা কসমও না। অর্থাৎ এ ধরনের কসম ভঙ্গ করাতে কাফ্ফারাও দিতে হয় না। 

বুধবার, ৩ জুন, ২০২০

'কসম' , কসম ভঙ্গ ও কাফফারা সম্পর্কিত মাসআলা (আপডেট চলমান)

কসমের সংজ্ঞা 

কসমকে আরবি ভাষায় ‘ইয়ামীন’ বলা হয়। অর্থাৎ ডান দিক। যেহেতু আরব লোকেরা কসম করা ও গ্রহণ কালে সাধারণতঃ পরস্পর ডান হাত মিলাত, তাই একে ইয়ামীন বলে থাকে। ইয়ামীন শব্দটি আবার ‘ইয়ামন’ শব্দ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এর অর্থ হল বরকত ও শক্তি। কসমে যেহেতু আল্লাহ্ তা‘আলার বরকতপূর্ণ নামও ব্যবহার করা হয়, এবং তা দ্বারা নিজের উক্তিতে শক্তি প্রদান করা হয়, তাই তাকে ইয়ামীন বলা হয়। অর্থাৎ বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী উক্তি বা কথা। (মিরআতুল মানাজীহ্, ৫ম খন্ড, ৯৪ পৃষ্ঠা)।
শরীয়াতের পরিভাষায় সেই চুক্তিকেই কসম বলা হয়, যার মাধ্যমে শপথকারী কোন কাজ করা বা না করা সম্পর্কে কঠিন ও মজবুত ইচ্ছা প্রকাশ করে। (দুররে মুখতার, ৫ম খন্ড, ৪৮৮ পৃষ্ঠা)।  উদাহরণ স্বরূপ, কেউ বলল: ‘আল্লাহর কসম, আমি আগামী কাল তোমার সব ঋণ পরিশোধ করে দিব’ -তাহলে এটি কসম। 

বুধবার, ২৭ মে, ২০২০

অবৈধ প্রেম-ভালবাসা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন:- যদি কেউ অনিচ্ছাকৃত ভাবে কারো প্রেমে আসক্ত হয়ে যায় এবং শরীয়াত বিরোধী কোন আচরণ না করে। তবে কি সে গুনাহগার হবে? 
উত্তর:- জ্বী, না। কেননা, এতে তার কোন ক্ষমতা ছিলো না। 

প্রশ্ন:- তাহলে এখন প্রেম রোগীর কি করা উচিত? 
উত্তর:- ধৈর্য ধারণ করে সাওয়াব অর্জন করা উচিত। 

প্রশ্ন:- কি অপরূপ! প্রেমের মাধ্যমে সাওয়াবও অর্জন করা যায়? 
উত্তর:- কেন নয়! এ কথাটা স্মরণ রাখবেন যে, না চাওয়া সত্ত্বেও যদি প্রেম হয়ে যায়, সেই অবস্থায়ও সাওয়াব অর্জন করার জন্য শরীয়াতের আনুগত্য আবশ্যক। উদাহরস্বরূপ; যদি কোন পুরুষের দৃষ্টি হঠাৎ কোন পর-নারীর উপর পড়ে যায় এবং তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়া সত্ত্বেও তার (সেই নারীর) চেহারা তার মনে গেঁথে যায়।

শুক্রবার, ২২ মে, ২০২০

রাগ দমন করার পদ্ধতি ও ফযীলত (দ্বিতীয় অংশ)

প্রথম অংশ

হাদীসে পাকে রয়েছে, “যে ব্যক্তি স্বীয় রাগকে দমন করবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সে ব্যক্তি থেকে  তার আযাব কে থামিয়ে দিবেন।” (শুয়ুবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৩১৫, হাদীস-৩১১)

জবাব দানে শয়তানের আগমন

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! কেউ যদি আমাদের উত্তেজিত করতে চায় অথবা ভালমন্দ বলে এমতাবস্থায় চুপ থাকার মধ্যে আমাদের জন্য নিরাপত্তা রয়েছে। যদি শয়তান আপনাকে লাখো কু-মন্ত্রণা দেয় যে, তুমিও তাকে জবাব দাও, না হলে মানুষ তোমাকে কাপুরুষ বলবে। মিয়া! ভদ্রতার যুগ এখন নেই। এভাবে নিশ্চুপ থাকলে তো মানুষ তোমাকে বাঁচতে দিবেনা। আমি একটি হাদিস শরীফ বর্ণনা করছি, তা আপনারা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন, তার পর আপনাদের ধারণা হবে যে, কেউ মন্দ বলার সময় চুপ থাকা ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার রহমতের কত নিকটে চলে যায়।

হায়জ ও নেফাস সম্পর্কে আটটি মাদানী ফুল

﴾১﴿ ইসলামী বোনেরা হায়জ ও নেফাস কালে দরসও দিতে পারবেন, বয়ানও করতে পারবেন। ইসলামী কিতাব স্পর্শ করাতেও কোন বাধাঁ নেই। তবে কুরআন শরীফে হাত, আঙ্গুলের মাথা কিংবা শরীরের কোন অংশ লাগানো নিষেধ ও হারাম। তাছাড়া কোন কাগজে বা চিরকুটে যদি কুরআন শরীফের আয়াত লিখিত থাকে এবং অন্য কিছু লেখাও পাশাপাশি না থাকে, তা হলে সেই ধরণের কাগজের সামনে-পিছনে কোণায় বা কোন অংশেই স্পর্শ করার অনুমতি নেই।

﴾২﴿ হায়েজ ও নেফাস অবস্থায় পবিত্র কুরআন কিংবা পবিত্র কুরআনের কোন আয়াত পাঠ করা ও স্পর্শ করা উভয়টি হারাম। পবিত্র কুরআনের বাংলা, ইংরেজী, ফার্সী, উর্দু কিংবা যে কোন ভাষায় অনুদিত অংশ পাঠ করা ও স্পর্শ করাও স্বয়ং কুরআন পাঠ করা ও স্পর্শ করারই সমতুল্য। (বাহারে শরীয়াত, ২য় খন্ড, ৪৯, ১০১ পৃষ্ঠা)

গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে মাদানী ফুল

মুসলমানদের কল্যাণ কামনায় এবং উপকার সাধনের নিয়্যতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৮০টি মাদানী ফুল পেশ করছি। নিজেকে অপব্যয় ও সম্পদ নষ্ট করা থেকে বাঁচাবার জন্য ভাল ভাল নিয়্যত নিয়ে পাঠ করতঃ এগুলো মেনে চলুন। তাহলে আখিরাতের অসংখ্য কল্যাণ লাভ করতে পারবেন। আর বিদ্যুৎ বাঁচানোর মাধ্যমে আপনার বিদ্যুৎ বিলও (BILL) কম আসবে।

আলোর সরঞ্জাম-এর ২৮টি মাদানী ফুল

বিদ্যুৎ কম খরচে এনার্জি সেভার বাল্ব 

۞আলোর জন্য কম বিদ্যুৎ ব্যয় করে এমনসব সরঞ্জামই ব্যবহার করবেন। ১০০ ওয়াট বাল্বের স্থলে ২০ ওয়াটের এনার্জি সেভার (Energy Saver) বাল্ব ৮০% বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে পারে। বরং যদি LED লাইট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে তা বিদ্যুৎ আরও কম খরচ করবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাদানী ফুল 
 ۞বৈদ্যুতিক বাতি – সংখ্যা - ওয়াট - ইউনিট - সাশ্রয়
বাল্ব                                 ৪ -    ৪০০    ৪২         ---
টিউব লাইট                     ৪  -  ১৬০     ১৮         ৫৭%
এনার্জি সেভার                ৪   -  ৮০       ৯           ৮০% 

খুবানির (Apricot) ১৪টি মাদানী ফুল ও ফালসা (Palsa)

খুবানি (Apricot)

অভিজ্ঞ ডাক্তারদের ভাষ্য মতে, খুবানি কাঁচা হোক কিংবা পাকা ফল, মানুষের শরীরের জন্য খুবই উপকারী ফল। এ জাতীয় ফল চোখ ও নাভী জ্বর ও ক্যান্সারের (Cancer) মতো রোগের ক্ষেত্রে খুবই উপকার দেয়। এর ফলে ভিটামিন (Vitamins), পটাসিয়াম, ভিটা-কারোটিন (Beta-carotene) অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। 

খুবানির (Apricot) ১৪টি মাদানী ফুল 

১। খুবানি শরীরে শক্তি যোগায়।
২। কোন কোন চিকিৎসকের মতে, খুবানি খেলে বয়স বৃদ্ধি পায়।
৩। খুবানি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৪। খুবানি খাবারকে তাড়াতাড়ি হজম করে।
৫। খুবানি ঢেকুর প্রতিরোধ করে।
৬। খুবানি যকৃতের কঠোরতা দূর করে।
৭। খুবানি পাকস্থলী ও অশ্বরোগের জন্য উপকারী।

তরমুজের ২৫টি মাদানী ফুল

১। আমার আক্বা আ’লা হযরত মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনা করেন: খাবারের পূর্বে তরমুজ খেলে পেটকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে দেয় এবং রোগকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৫ম খন্ড, ৪৪২ পৃষ্ঠা) ❃ গোল মরিচ, কালো জিরা, লবণ একত্রে পিষে একটি বোতলে সংরক্ষণ করুন, তরমুজের উপর ছিটিয়ে সেবন করলে তরমুজের স্বাদ অনেক বেড়ে যায়।  اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ হজমের ক্ষেত্রে ও উত্তম ঔষধ হিসাবে কাজ দিবে, আর ক্ষুধাও বৃদ্ধি পাবে। 
২। তরমুজ মিষ্টি কিনা চিনার উপায়: তরমুজ এর পুরো সিলকা কিংবা ধারা সমূহে কিংবা সিলকায় গোলাকার দাগ থাকে তবে এটির সবুজ রং যত গাঢ় হবে, اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَل ততই লাল ও মিষ্টি হবে। তরমুজের উপর হালকাভাবে হাত মারতেই যদি মাঝারী ধরণের আওয়াজ আসে, এটি  উন্নত ও পরিপক্ক হওয়ারই আলামত।

আমের ২৫টি মাদানী ফুল

ফলের রাজা (আম)

গ্রীষ্মকালের ফল আম হলো; আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে খুবই প্রিয় নেয়ামত। এর অনেক উপকারিতা রয়েছে।
১। আম নতুন রক্ত তৈরী করে, আম অন্ত্রকে শক্তিশালী করে, পাকস্থলী, কিডনী, মূত্রথলী, হৃদপিন্ডে শক্তি যোগায়।
২। আম খাওয়ার কারণে গ্যাস জনিত (Acidity) রোগের ক্ষেত্রে উপকার সাধিত হয়। তবে কার্বাইড (Carbide) নামক কেমিক্যাল দ্বারা পাকানো আম এ রোগকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
৩। যার ঘুম আসে না, সে যদি একটি আম খেয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ পান করে, اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ তার ঘুম এসে যাবে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

রমযানুল মুবারকের ১৩টি মাদানী ফুল

(এই সকল মাদানী ফুল তফসীরে নঈমী ২য় খন্ড থেকে নেয়া হয়েছে)

১. কা’বা শরীফ মুসলমানদেরকে তার নিকট ডেকে রহমত প্রদান করে, কিন্তু এটা (মাহে রমযান) এসে রহমত বন্টন করে। এ বিষয়টা এমন যেন সেটা (কা’বা) একটা কূপ, আর এটা (রমযান শরীফ) হচ্ছে সমুদ্র। অথবা ওটা (অর্থাৎ কা’বা) হচ্ছে সমুদ্র আর এটা (অর্থাৎ রমযান) হচ্ছে বৃষ্টি।

২. প্রতিটি মাসে বিশেষ বিশেষ কিছু দিন-তারিখ রয়েছে। আর তারিখগুলোর মধ্যেও বিশেষ মুহুর্তে ই’বাদত-বন্দেগী সম্পন্ন করা হয়। যেমন-ঈদুল আযহার কয়েকটা (বিশেষ) তারিখে হজ্জ, মুহররমের দশম দিন উত্তম, কিন্তু রমযান মাসে প্রতিদিনে ও প্রতিটি মুহুর্তে ইবাদত হয়। রোযা ইবাদত, ইফতার ইবাদত, ইফতারের পর তারাবীর জন্য অপেক্ষা করা ইবাদত, তারাবীহ পড়ে সাহারীর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ঘুমানো ইবাদত, তারপর সাহারী খাওয়াও ইবাদত। মোটকথা, প্রতিটি মুহুর্তে আল্লাহ তাআলার শান ও মহা বদান্যতাই নজরে পড়ে।

বুধবার, ২০ মে, ২০২০

কবর যিয়ারতের ১৬টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “আমি তোমাদেরকে (প্রথমে) কবর যিয়ারত করা থেকে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করো কেননা, সেটা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির কারণ, আর আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” (ইবনে মাযাহ্, ২য় খন্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৫৭১)।
২। মুসলমানের কবর জেয়ারত সুন্নাত এবং আওলিয়ায়ে কিরাম, শোহাদায়ে ইজাম رَحِمَهُمُ اللهُ السَّلَام এর দরবারের হাজেরী মহান সৌভাগ্য, তাদের জন্য ইছালে সাওয়াব করা মুস্তাহাব এবং সাওয়াবের কাজ। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৯ম খন্ড, ৫৩২ পৃষ্ঠা)।
৩। (অলী-আল্লাহর মাজার শরীফ) বা কোন মুসলমানের কবর যিয়ারতের জন্য যেতে চাইলে মুস্তাহাব হচ্ছে, প্রথমে নিজের ঘরে (মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে) দুই রাকাত নফল নামায আদায় করা, প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে একবার আয়াতুল কুরসী ও তিনবার সূরা ইখলাস পড়ে এ নামাযের সাওয়াব সাহিবে কবরকে পৌছিয়ে দেয়া। আল্লাহ্ তাআলা সেই মৃত ব্যক্তির কবরে নূর সৃষ্টি করবে এবং এ (সাওয়াব প্রেরণকারী) ব্যক্তিকে অনেক বেশী সাওয়াব প্রদান করবেন। (ফতোওয়ায়ে আলমগীরি, ৫ম খন্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা)।
৪। মাজার শরীফ বা কবর যিয়ারতের জন্য যাওয়ার সময় রাস্তায় অনর্থক কথায় মশগুল হবেন না। (প্রাগুক্ত) ৫। কবরকে চুম্বন করবেন না এবং কবরে হাতও লাগাবেন না। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া হতে সংগৃহীত, ৯ম খন্ড, ৫২২ ও ৫২৬ পৃষ্ঠা) বরং কবর থেকে কিছু দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবেন।
৬। কবরে সিজদায়ে তাজিমী করা হারাম এবং ইবাদতের নিয়্যতে করা কুফরী। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া হতে সংগৃহীত, ২২তম খন্ড, ৪২৩ পৃষ্ঠা)।
৭। কবরস্থানের মধ্যে ঐ সাধারণ রাস্তা দিয়ে যাবেন, যেখানে পূর্বে কখনও মুসলমানদের কবর ছিল না, যে রাস্তা নতুন তৈরী করেছে সেটার উপর দিয়ে যাবেন না। “রদ্দুল মুহতারে” বর্ণিত রয়েছে: (কবরস্থানের মধ্যে কবর বিলীন করে) যে নতুন রাস্তা তৈরী করা হয়েছে সেটার উপর চলাচল করা হারাম। (রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড, ৬১২ পৃষ্ঠা) বরং নতুন রাস্তায় কেবল ধারনার মাধ্যমে সেটার উপর চলাচল করা নাজায়িয ও গুনাহ। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠা)।
৮। কিছু অলীর মাজারে দেখা গিয়েছে যে, যিয়ারতকারীর সুবিধার জন্য মুসলমানদের কবরকে ভেঙ্গে বিলীন করে সমতল করে দেওয়া হয়েছে, এই রকম জায়গায় ঘুমানো, হাটা-চলা, দাঁড়ানো, তিলাওয়াত ও যিকির করার জন্য বসা হারাম, দূর থেকেই ফাতিহা পড়ে নিন।
৯। কবর যিয়ারত মৃত ব্যক্তির চেহারার সামনে দাঁড়িয়ে করা, আর কবরবাসীর পায়ের দিক থেকে যাবেন যেন তাঁর দৃষ্টির সামনে থাকেন, মাথার দিক থেকে আসবেন না, কারণ তাঁকে মাথা তুলে দেখতে হবে। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৯ম খন্ড, ৫৩২ পৃষ্ঠা)।
১০। কবরস্থানে এভাবে দাঁড়ান যেন কিবলার দিকে পিঠ এবং কবরবাসীর চেহারার দিকে মূখমন্ডল হয়, এরপর বলুন:
اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا اَهْلَ الْقُبُرِ يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ وَاَنْتُمْ لَنَا سَلَفٌ وَّنَحْنُ بِالْاَثَر 
অনুবাদ: হে কবরবাসী! তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ্ তাআলা আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুক, তোমরা আমাদের পূর্বে চলে এসেছ, আর আমরা তোমাদের পরে আগমনকারী। (ফতোওয়ায়ে আলমগীরি, ৫ম খন্ড, ৩৫০ পৃষ্ঠা)
১১। যে কবরস্থানে প্রবেশ করে এটা বলবে:
اَللهُمَّ رَبَّ الْاجْسَادِ الْبَالِيَةِ وَالْعِظَامِ النَّخِرَةِ الَّتِىْ خَرَجَتْ مِنَ الدُّنْيَا وَهِىَ بِكَ مُؤْمِنَةٌ اَدْخِلْ عَلَيْهَا رَوْحََا مِّنْ عِنْدِكَ وَسَلَامََا مِّنِّىْ
অনুবাদ: হে আল্লাহ! (হে) গলে যাওয়া শরীর ও পচনযুক্ত হাঁড়ের রব! যে দুনিয়া থেকে ঈমান সহকারে বিদায় নিয়েছে তুমি তার উপর আপন রহমত এবং আমার সালাম পৌছিয়ে দাও। তবে হযরত সায়্যিদুনা আদম عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام থেকে নিয়ে ঐ সময় পযন্ত যত মু’মিন মারা গিয়েছে সবাই তার (অর্থাৎ দোয়া পাঠকারীর) মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবে। (মুসান্নফে ইবনে আবি শায়বা, ১০ম খন্ড, ১৫ পৃষ্ঠা)
১২। নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, মালিকে জান্নাত, কাসিমে নেয়ামত, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করলো অতঃপর সে সূরা ফাতিহা, সূরা ইখলাস এবং সূরা তাকাসূর পড়ল তারপর এ দোয়া করলো; হে আল্লাহ! আমি যা কিছু কোরআন থেকে পড়েছি এগুলোর সাওয়াব এ কবরস্থানের মু’মিন নর-নারীকে পৌঁছিয়ে দাও। তবে সে সমস্ত মু’মিন কিয়ামতের দিন তার (অর্থাৎ ইছালে সাওয়াবকারীর) জন্য সুপারিশকারী হবে।” (শরহুস সুদুর, ৩১১ পৃষ্ঠা)।
১৩। হাদীস শরীফে রয়েছে: যে এগার বার সূরা ইখলাস পড়ে এর সাওয়াব মৃত ব্যক্তিকে পৌছাবে, তবে মৃত ব্যক্তির সমসংখ্যক পরিমান সাওয়াব সে (অর্থাৎ ইছালে সাওয়াব কারী) লাভ করবে। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠা)।
১৪। কবরের উপর আগর বাতি জ্বালানো যাবে না। কেননা, এটা বে-আদবী ও মন্দ কাজ (এবং এতে মৃত ব্যক্তির কষ্ট হয়) হ্যাঁ! যদি (উপস্থিত লোকদেরকে) সুগন্ধ (পৌঁছানোর) জন্য (জ্বালাতে চায় তবে) কবরের পাশে খালি জায়গা থাকলে সেখানে জ্বালাবে, কেননা, সুগন্ধি পৌঁছানো উত্তম কাজ। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া থেকে সংক্ষেপিত, ৯ম খন্ড, ৪৮২, ৫২৫ পৃষ্ঠা)।
১৫। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ অন্য জায়গায় বলেন: “সহীহ মুসলিম শরীফ”এ হযরত আমর বিন আস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত; তিনি ওফাতের সময় নিজের সন্তান কে বলেছেন: যখন আমি মারা যাব তখন আমার সাথে না কোন বিলাপ কারী যাবে, না আগুন যাবে। (সহীহ মুসলিম, ৭৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ১৯২)।
১৬। কবরের উপর চেরাগ বা মোমবাতি প্রভৃতি রাখবেন না। কারণ এটা আগুন, আর কবরের উপর আগুন রাখলে মৃত ব্যক্তির কষ্ট হয়, হ্যাঁ! রাতে পথচারীর জন্য বাতি জ্বালানো উদ্দেশ্য হয়, তবে কবরের এক পার্শ্বে খালি জায়গার উপর মোমবাতি বা চেরাগ রাখতে পারেন।

     صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

আংটি সম্পর্কিত ১৯টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

১। পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি পরিধান করা হারাম। সুলতানে দো জাহান, রহমতে আ’লামিন صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم স্বণের্র আংটি পরিধান করা থেকে নিষেধ করেছেন। (বুখারী, ৪র্থ খন্ড, ৬৭ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৫৮৬৩)
২। (অপ্রাপ্তবয়ষ্ক) ছেলেকে স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার পরানো হারাম। যে ব্যক্তি পরাবে সে গুনাহ্গার হবে। অনুরূপ ছেলের হাতে পায়ে অহেতুক মেহেদী দেওয়াও নাজায়েয। মহিলারা নিজেরা তাদের হাতে-পায়ে মেহেদী লাগাতে পারবে। কিন্তু ছেলেকে লাগালে গুনাহ্গার হবে। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা। দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৮ পৃষ্ঠা) ছোট মেয়ের হাতে পায়ে মেহেদী দেওয়াতে কোন বাধা নাই।
৩। লোহার আংটি জাহান্নামীদেরই অলংকার। (তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৭৯২)।
৪। পুরুষের জন্য সেরূপ আংটিই জায়েয যেগুলো (লেডিস ষ্টাইলের নয়) জেন্টস ষ্টাইলের। অর্থাৎ তা হবে কেবল এক পাথর বিশিষ্ট। আর যদি তাতে একের অধিক (কয়েকটি) পাথর থাকে, তাহলে তা রূপার হয়ে থাকলেও পুরুষদের জন্য নাজায়েয। (রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৫৯৭ পৃষ্ঠা)।

পাগড়ী বাঁধার ২৫টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, তাজেদারে রিসালাত, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰهُ تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ৬টি বাণী:
১। “পাগড়ী সহকারে দুই রাকাত নামায পাগড়ী বিহীন সত্তর (৭০) রাকাত (নামাযের) চেয়ে উত্তম।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরীল খাত্তাব, ২য় খন্ড, ২৬৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩২৩৩, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
২। “আমাদের এবং মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলো টুপির উপর পাগড়ী (পরিধান করা)। মুসলমান নিজের মাথায় প্রতিটি প্যাঁচ দেওয়াতে কিয়ামতের দিন তাঁর জন্য একটি করে নূর দান করা হবে।” (আল জামেউস সগীর লিস সুয়ুতী, ৩৫৩ পৃষ্ঠা, হাদীস - ৫৭২৫)
৩। “নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাগণ জুমার দিন পাগড়ী পরিধানকারীর উপর দরূদ প্রেরণ করেন।” (আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ১ম খন্ড, ১৪৭ পৃষ্ঠা, হাদীস৫২৯)
৪। “পাগড়ী সহকারে নামায আদায় করা দশ হাজার নেকীর সমপরিমাণ।” (প্রাগুক্ত, ২য় খন্ড, ৪০৬ পৃষ্ঠা, হাদীস - ৩৮০৫। ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২২০ পৃষ্ঠা)

পোশাকের ১৪টি মাদানী ফুল (সুন্নাত ও আদব)

প্রথমে তিনটি হাদীস লক্ষ্য করুন:
১। “জ্বীনের দৃষ্টি ও মানুষের লজ্জাস্থানের মাঝখানে পর্দা হচ্ছে, যখন কেউ কাপড় খুলে তবে যেন বিসমিল্লাহ পাঠ করে নেয়।” (আল মুজামুল আওসাত, ২য় খন্ড, ৫৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৫০৪) প্রসিদ্ধ মুফাস্সীর, হাকিমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন নঈমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: যেরূপ দেয়াল ও পর্দা মানুষের দৃষ্টির আড়াল হয়ে থাকে, অনুরূপভাবে আল্লাহ্ তাআলার যিকির জ্বীনদের দৃষ্টি থেকে আড়াল হবে, যার কারণে জ্বিন সেটাকে (অর্থাৎ- লজ্জাস্থান) দেখতে পাবে না। (মিরাত, ১ম খন্ড, ২৬৮ পৃষ্ঠা)
২। “যে ব্যক্তি কাপড় পরিধানের সময় এ দোয়া পাঠ করবে:
اَلْحَمْدُ لِلهِ الَّذِىْ كَسَانِىْ هٰذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ
(অনুবাদ: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তাআলার জন্য, যিনি আমাকে কাপড় পরিধান করিয়েছেন, আর আমার শক্তি ও সামর্থ্য ব্যতীত আমাকে দান করেছেন।) তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।” (শুআবুল ঈমান, ৫ম খন্ড, ১৮১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৬২৮৫)

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন