আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

সোমবার, ২৬ জুন, ২০১৭

শাওয়ালের ছয় রোযার ফযিলত

৬টি রোযার ৩টি ফযীলত

১. নবজাত শিশুর মত পাপমুক্ত

হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে ওমর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُمْا  থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলার রসূল হযরত মুহাম্মদ   صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়দিন রোযা রাখলো, তবে সে গুনাহ সমূহ থেকে এমনিভাবে মুক্ত হয়ে যাবে, যেন সে আজই মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হলো।” (মাজমাউয যাওয়াইদ, খন্ড-৩য়, পৃ-৪২৫, হাদীস নং-৫১০২)

২. যেন সারা জীবন রোযা রাখল

হযরত সায়্যিদুনা আবু আইয়ুব رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত, হযরত মুহাম্মদ صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم এর সুগন্ধীময় বাণী হচ্ছে, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখলো, তারপর আরো ছয়টি রোযা শাওয়াল মাসে রাখলো, সে যেনো সারা জীবনই রোযা রাখলো।” (সহীহ মুসলিম, পৃ-৫৯২, হাদীস নং-১১৬৪)

রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭

ঈদের নামাযের পদ্ধতি

অন্তর জীবিত থাকবে

মদীনার   তাজেদার,   রাসূলদের   সরদার,   হুযুর  পুরনূর  صَلَّی   اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم  ইরশাদ  করেন:   “যে         ব্যক্তি    দুই ঈদের        রাতে (অর্থাৎ-ঈদুল    ফিতর    ও    ঈদুল    আযহার   রাত দু’টিতে) সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে জেগে থেকে ইবাদত করেছে,  তার  অন্তর  ঐ  দিন  মরবেনা,  যেদিন   মানুষের    অন্তর    মরে   যাবে।”      (ইবনে মাজাহ, ২য় খন্ড, ৩৬৫ পৃষ্ঠা হাদীস নং-১৭৮২, দারুল মারেফা বৈরুত)

জান্নাত ওয়াজীব হয়ে যায়

অন্য   এক   জায়গায়   হযরত   সায়্যিদুনা   মু‘আয  বিন    জাবাল   رَضِیَ   اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَنْہُ  বলেন:  “যে ব্যক্তি পাঁচটি    রাতে জেগে  থাকে (অর্থাৎ-জেগে সারা রাত ইবাদতে  কাটায়) তার জন্য   জান্নাত  ওয়াজীব     হয়ে    যায়।   (সে  রাতগুলো  হলো, ) যিলহজ্জ শরীফের ৮,  ৯  ও ১০ তারিখের রাত, (তিন   রাততো  এভাবে  হলো)   আর ৪র্থ রাতটি হলো   ঈদুল   ফিতরের রাত   এবং     ৫ম   রাতটি হলো  শাবানের   ১৫  তারিখ  রাত   (অর্থাৎ-শবে  বরাত)  ।  (আত্তারগীব  ওয়াত্তারহীব,  ২য়  খন্ড, ৯৮ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-২)

ঈদের   নামাযের   উদ্দেশ্যে    যাওয়ার    পূর্বেকার  সুন্নাত

হযরত  সায়্যিদুনা  বুরাইদা  رَضِیَ  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَنْہُ  থেকে  বর্ণিত;   নবীয়ে  রহমত,   শফীয়ে    উম্মত, তাজেদারে রিসালাত, হুযুর صَلَّی  اللّٰہُ  تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم    ঈদুল    ফিতরের    দিন    কিছু    খেয়ে  নামাযের উদ্দেশ্যে তাশরীফ নিয়ে যেতেন। আর ঈদুল আযহার দিন  নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু   খেতেন   না।   (তিরমিযী,    ২য়   খন্ড,    ৭০ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৫৪২, দারুল ফিকর বৈরুত) বুখারী শরীফের বর্ণনায় হযরত  সায়্যিদুনা আনাস رَضِیَ اللّٰہُ تَعَالٰی عَنْہُ থেকে বর্ণিত; হুযুর صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ  وَسَلَّم  ঈদুল  ফিতরের  দিন  কয়েকটি  খেজুর  না খেয়ে  (নামাযের উদ্দেশ্যে) তাশরীফ  নিয়ে     যেতেন     না।      আর খেজুরের        সংখ্যা বিজোড় হতো। (বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড, ৩২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯৫৩)

বুধবার, ১৪ জুন, ২০১৭

অপারেশন ছাড়াই ডেলিভারী

সন্তান      জন্মের      সময়      সহজতার        ব্যবস্থাপত্র  (মরিয়ম বিবির ফুল*)

মরিয়ম  বিবির  ফুল:  কোন  বাচ্চা   জন্মের   সময় ব্যথা শুরু হলে কোন খোলা বাসন বা বোতলের পানিতে ঢেলে দেওয়া হয়, তবে   যতই ভিজতে  থাকবে     ও      প্রষ্ফুটিত হতে     থাকবে       আল্লাহ্ তাআলার দয়ায়  মরিয়ম  বিবির ফুলের বরকতে বাচ্চার জন্ম  খুব সহজ ভাবেই  হবে।

মিসওয়াক বিষয়ক মাদানী ফুল

❁ দু’টি ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم:
১। মিসওয়াক করে দুই রাকাত নামায আদায় করা মিসওয়াক  ছাড়া  ৭০  রাকাতের  চেয়ে  উত্তম।  (আত-তারগীব ওয়াত  তারহীব, ১মখন্ড, ১০২   পৃষ্ঠা, হাদীস-১৮)
২। মিসওয়াকের ব্যবহার নিজের জন্য    আবশ্যক    করে     নাও।     কেননা,     তাতে মুখের       পরিচ্ছন্নতা এবং      আল্লাহ্     তাআলার সন্তুষ্টির মাধ্যম রয়েছে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন    হাম্বল,    ২য়   খন্ড,    ৪৩৮    পৃষ্ঠা, হাদীস- ৫৮৬৯)
মিসওয়াক
❁ হযরত সায়্যিদুনা  ইবনে  আব্বাস  رَضِیَ اللہُ   تَعَالٰی   عَنۡہُ বলেন:  মিসওয়াকে দশটি  গুণাগুণ রয়েছে:    মুখ পরিষ্কার   করে,   মাড়ি    মজবুত করে,  দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়,  কফ দূর  করে, মুখের দূর্গন্ধ     দূর     করে, সুন্নাতের  অনুসরণ       হয়, ফিরিশতারা   খুশি   হয়,   আল্লাহ   তাআলা   সন্তুষ্ট  হন,   নেকী   বৃদ্ধি   করে, পাকস্থলী   ঠিক রাখে।  (জামউল    জাওয়ামি’    লিস   সুয়ুতী,    ৫ম   খন্ড,  ২৪৯      পৃষ্ঠা,      হাদীস-      ১৪৮৬৭)     
❁      হযরত  সায়্যিদুনা    ইমাম    শাফেয়ী    رَحْمَۃُ      اللّٰہِ    تَعَالٰی    عَلَیْہِ বলেন:  চারটি জিনিস জ্ঞান  বৃদ্ধি  করে: অনর্থক কথাবার্তা    থেকে    বিরত    থাকা,    মিস্ওয়াকের  ব্যবহার,     নেককার     লোকদের    সংস্পর্শ    এবং নিজের  জ্ঞানের  উপর   আমল   করা।   (হায়াতুল হায়ওয়ান   লিদ্দামীরী,   ২য়     খন্ড,  ১৬৬   পৃষ্ঠা) 

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০১৭

অযু সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মাসাইল (পর্ব-৫)

অযুর মধ্যে সন্দেহ আসার ৫টি বিধান

❁ অযুকালীন সময়ে যদি কোন অঙ্গ ধৌত করা না   করার ক্ষেত্রে সন্দেহ  জাগে এবং   এ সন্দেহ জীবনে প্রথম বারের মত ঘটে থাকে, তাহলে সে অঙ্গ ধুয়ে নিন।  আর   যদি  এরূপ  সন্দেহ প্রায়ই ঘটে থাকে, তাহলে তার প্রতি  ভ্রুক্ষেপ করবেন  না।  অনুরূপ অযুর পরেও  যদি কোন অঙ্গ ধৌত করা  না   করার ক্ষেত্রে   সন্দেহ   সৃষ্টি   হয়,  তার প্রতি কোন দৃষ্টি দিবেন   না।   (বাহারে শরীয়াত, ১ম    খন্ড,  ৩১০    পৃষ্ঠা) 
❁আপনি  অযু  অবস্থায় ছিলেন,    কিন্তু এখন   আপনার অযু আছে কিনা, তাতে          আপনার          সন্দেহ সৃষ্টি            হলো। এমতাবস্থায়ও আপনার অযু বহাল থাকবে নতুন ভাবে  আপনাকে  অযু করতে   হবে না। কেননা, সন্দেহের    কারণে  অযু  ভঙ্গ  হয়  না।    (বাহারে শরীয়াত, ১ম    খন্ড,  ৩১১    পৃষ্ঠা) 
❁   প্ররোচনার   কারণে  অযু  ভেঙ্গে গেছে মনে করে  পুনরায়  অযু   করা   সাবধানতা অবলম্বন      করা      নয়  বরং      তা      শয়তানেরই  অনুকরণ মাত্র। (বাহারে শরীয়াত, ১ম    খন্ড,  ৩১১    পৃষ্ঠা) 
❁নিশ্চিতভাবে আপনি ততক্ষণ   পর্যন্ত   অযু   অবস্থায়   থাকবেন   যতক্ষণ  পর্যন্ত অযু ভঙ্গ হওয়ার উপর শপথ   করে  বলার মত আপনার প্রবল ধারণা না জন্মে।
❁আপনার স্মরণ   আছে  যে,  আপনার  একটি  অঙ্গ   অধৌত রয়ে  গেছে।    তবে  কোন      অঙ্গটি  অধৌত রয়ে গেছে  তা আপনি  নিশ্চিতভাবে   বলতে পারছেন না,   এমতাবস্থায়   আপনি   বাম   পা     ধুয়ে   নিন। (দুররে মুখতার, ১ম খন্ড, ৩১০ পৃষ্ঠা) 
অযুর মাসাইল

তন্দ্রা দ্বারা অযু ভঙ্গ হওয়া ও না হওয়ার বর্ণনা

তন্দ্রা   দ্বারা   অযু   ভঙ্গ   হওয়ার   দু’টি   শর্ত:   
(১)  তন্দ্রার সময় উভয় নিতম্ব    ভালভাবে সংযুক্ত না থাকা।   
(২)     অচেতন   অবস্থায়     তন্দ্রার    ক্ষেত্রে কোন   প্রতিবন্ধকতা  না  হওয়া।   দুটি    শর্ত  এক সাথে পাওয়া গেলে অর্থাৎ    তন্দ্রার সময়    উভয় নিতম্ব     ভালভাবে     সংযুক্ত     না     থাকলে     এবং  অচেতন   অবস্থায় তন্দ্রার   দ্বারা   অযু   ভঙ্গ   হয়ে  যাবে।   আর   একটি    শর্ত   পাওয়া     গেলে   এবং অপরটি  পাওয়া  না  গেলে তন্দ্রা  দ্বারা  অযু  ভঙ্গ  হবে না।

সোমবার, ১২ জুন, ২০১৭

অযু: অযু ভঙ্গ হওয়া ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন মাসাইল- (পর্ব ৪)

ক্ষত    ইত্যাদি   থেকে     রক্ত     বের   হওয়ার    ৫টি হুকুম



❁    রক্ত,  পুঁজ   বা  হলুদ    রঙের  পানি   শরীরের কোন স্থান থেকে বের হয়ে এমন স্থানে গড়িয়ে পড়ল বা গড়িয়ে পড়ার শক্তি ছিলো যা ধৌত করা অযু বা গোসলের মধ্যে ফরয। তাহলে অযু ভঙ্গ  হয়ে  যাবে। (বাহারে   শরীয়াত,   ১ম  খন্ড, ৩০৪ পৃষ্ঠা) 
❁  রক্ত যদি দেখা  যায় বা বের হয় কিন্তু গড়িয়ে পড়েনি,  যেমন- সূঁচের   মাথা   বা ছুরির     ধারালো     প্রান্ত  ইত্যাদি      বিদ্ধ    হওয়ার কারণে  রক্ত  বের  হয়  বা    দেখা গেলো    অথবা দাঁত খিলাল  করলো  বা   মিসওয়াক  করলো  বা আঙ্গুল   দ্বারা   দাঁত   মাজলো     অথবা   দাঁত দ্বারা কোন   জিনিস   যেমন-আপেল   ইত্যাদি কামড়  দিলো    এবং   এতে    রক্তের   চিহ্ন   দেখা   গেলো অথবা নাকের ছিদ্রে  আঙ্গুল প্রবেশ  করাল  এবং এতে রক্তের  লালচে   রং  দেখা গেলো  কিন্তু তা  প্রবাহিত হওয়ার মত ছিলো না তাহলে অযু ভঙ্গ হবে না।   (বাহারে   শরীয়াত,   ১ম  খন্ড, ৩০৪ পৃষ্ঠা)  
❁    যদি   রক্ত    বের   হয়ে প্রবাহিত হয় কিন্তু  প্রবাহিত  হয়ে এমন স্থানে না পৌঁছে  যা  ধৌত  করা  অযু  বা গোসলের  মধ্যে  ফরয, যেমন-চোখে   দানা  ছিলো তা ফেঁটে বের না হয়ে ভিতরেই রয়ে  গেলো।   অথবা  রক্ত  বা   পুঁজ বের না হয়ে কানের ভিতরেই   রয়ে গেলো অযু      ভঙ্গ    হবে     না।   (প্রাগুক্ত,   ২৭   পৃষ্ঠা)   
❁ ক্ষতস্থান খুবই বড়  এবং এতে  আর্দ্রতাও  দেখা যাচ্ছে, কিন্তু আর্দ্রতা যতক্ষণ পর্যন্ত প্রবাহিত হবে না   অযু   ভঙ্গ   হবে   না।  (বাহারে   শরীয়াত,   ১ম  খন্ড, ৩০৪ পৃষ্ঠা)

রবিবার, ১১ জুন, ২০১৭

অযুর ফরয, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মাকরূহ ও অন্যান্য- (পর্ব-৩)

অযুর ফরয ৪টি 

❁ মুখমন্ডল  ধৌত  করা।                                                        
❁  কনুই সহ দু’হাত ধৌত   করা।  
❁    মাথার   এক  চতুর্থাংশ  মাসেহ্ করা।    
 ❁    টাখনু সহ    দুই    পা    ধৌত    করা। (ফতোওয়ায়ে     আলমগিরী,  ১ম খন্ড, ৩, ৪, ৫ পৃষ্ঠা।   বাহারে  শরীয়াত,  ১ম খন্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠা)
অযুর ফরয, সুন্নাত, মুস্তাহাব, মাকরূহ

ধৌত করার সংজ্ঞা


কোন অঙ্গকে ধৌত করার অর্থ হচ্ছে, ঐ অঙ্গের প্রতিটি অংশে কমপক্ষে  দু ফোঁটা পানি প্রবাহিত করা। শুধুমাত্র  ভিজে  যাওয়া, পানিকে    তেলের মত     মালিশ    করা     অথবা    এক    ফোঁটা     পানি প্রবাহিত করাকে “ধৌত করা”  বলা   যাবে    না, আর   না   এইভাবে   অযু   গোসল   আদায়   হবে।  (ফতোওয়ায়ে  রযবীয়া  (সংকলিত) ,  ১ম  খন্ড, ২১৮ পৃষ্ঠা। বাহারে শরীয়াত,    ১ম   খন্ড, ২৮৮ পৃষ্ঠা)

অযুর পদ্ধতি ও দোআ (পর্ব-২)

অযুর সময় কা’বা শরীফের  দিকে মুখ করে উঁচু জায়গায় বসা মুস্তাহাব। অযুর জন্য নিয়্যত করা সুন্নাত।  নিয়্যত  না   করলেও    অযু  হয়ে   যাবে,   কিন্তু       সাওয়াব    পাবে    না।    অন্তরের     ইচ্ছাকে “নিয়্যত” বলে।    অন্তরে    নিয়্যত   করার   সাথে সাথে মুখে উচ্চারণ করাও  উত্তম। মুখে এভাবে নিয়্যত করুন যে, আমি আল্লাহ্ তাআলার নির্দেশ পালনার্থে     পবিত্রতা    অর্জন     করার    জন্য    অযু করছি।  بِسْمِ  الله  পড়ে নিন”।      এটাও  সুন্নাত। বরং  بِسْمِ   اللهِ   وَالْحَمْدُ   لِلّٰه  বলে  নিন।  এর  কারণে আপনি  যতক্ষণ   অযু অবস্থায় থাকবেন   ততক্ষণ ফিরিস্তাগণ       আপনার       জন্য       নেকী       লিখতে  থাকবেন।   (আল    মু’জামুস   সগীর  লিত তাবারানী, ১ম খন্ড, ৭৩ পৃষ্ঠা, হাদীস-১৮৬)
এখন   উভয়   হাত   কব্জি    পর্যন্ত   তিনবার    করে  ধৌত    করুন।     (পানির    নল    বন্ধ   করে)   উভয় হাতের আঙ্গুলগুলোও      খিলাল      করে      নিন।  কমপক্ষে     তিনবার    করে   ডানে   বামে,   উপরে নিচে     দাঁতগুলো  “মিসওয়াক   করুন।   প্রত্যেক বারে  মিসওয়াক   ধুয়ে  নিন।  হুজ্জাতুল   ইসলাম ইমাম      মুহাম্মদ     বিন মুহাম্মদ      বিন     মুহাম্মদ গাযালী  رَحۡمَۃُ   اللّٰہ    ِتَعَالٰی   عَلَیہِ     বলেন:   মিসওয়াক করার   সময়   নামাযে   ক্বিরাত পাঠ   ও  আল্লাহর যিকিরের  জন্য  মুখ   পবিত্র  করার   নিয়্যত  করা  উচিত।”   (ইহ্ইয়াউল   উলুম,   ১ম   খন্ড,   ১৮২  পৃষ্ঠা) 

শনিবার, ১০ জুন, ২০১৭

অযু: ফযিলত, পদ্ধতি, দোআ ও মাদানী ফুল- (পর্ব-১)

হযরত    ওসমান      গণি    رَضِیَ    اللّٰہُ    تَعَالٰی    عَنْہُ     এর  নবী-প্রেম

একদা  হযরত  সায়্যিদুনা  ওসমান  গণি  رَضِیَ  اللّٰہُ  تَعَالٰی   عَنْہُ  এক জায়গায়  পৌঁছে অযুর জন্য    পানি চাইলেন       এবং     অযু করলেন     আর     আপনা আপনিই  মুচকি হাসলেন। তারপর  সঙ্গীদেরকে  বললেন:   “আপনারা   কি   জানেন!   আমি   কেন মুচকি হাসলাম?” অতঃপর তিনি নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বললেন: “একদা হুযুর পুরনূর صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই জায়গায় অযু  করেছিলেন এবং অযু  শেষ করে তিনি        মুচকি      হেসেছিলেন      এবং      সাহাবায়ে কিরামদের      عَلَیۡہِمُ     الرِّضۡوَان     উদ্দেশ্যে ইরশাদ  করেন:      “তোমরা      কি       জান,      আমি        কেন  হেসেছি?”     তদুত্তরে সাহাবায়ে    কেরাম    عَلَیۡہِمُ  الرِّضۡوَان   আরয     করলেন:   “আল্লাহ্   তাআলা   ও তাঁর রাসূল صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ই এ বিষয়ে ভাল জানেন।”   প্রিয়  মুস্তফা  صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم    ইরশাদ  করেন:  “যখন  মানুষ  অযু     করে তখন      হাত ধোয়ার     সময়        হাতের     গুনাহ্, মুখমন্ডল    ধোয়ার    সময়    মুখমন্ডলের    গুনাহ্,  মাথা মাসেহ্ করার সময় মাথার গুনাহ্, আর পা ধোয়ার   সময়   পায়ের  গুনাহ  সমূহ্   ঝরে  যায়।  (মুসনাদে ইমাম   আহমদ  বিন  হাম্বল, খন্ড ১ম, পৃষ্ঠা ১৩০, হাদীস নং-৪১৫)

صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب! صَلَّی اللهُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد

শুক্রবার, ৯ জুন, ২০১৭

ফয়যানে লাইলাতুল ক্বদর

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা ! লাইলাতুল ক্বদর অত্যন্ত বরকতময় রাত। সেটাকে লাইলাতুল ক্বদর এজন্য বলা হয় যে, এতে সারা বছরের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। অর্থাৎ ফিরিশতাগণ রেজিষ্টারগুলোতে আগামী বছর সংগঠিত হবে এমন বিষয়াদি লিপিবদ্ধ করে নেন। যেমন তাফসীরে সাভী, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২৩৯৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ হয়েছে:    اَيْ اِظْهَارُ هَافِى دَوَاوِيْنِ الْمَلَاءِ الْاَعْلٰى 
তাছাড়া আরো অনেক মর্যাদা এ মুবারক রাতের রয়েছে। প্রসিদ্ধ মুফাসসির মুফতী আহমদ এয়ার খান নঈমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ  বর্ণনা করেন, “এ রাতকে লাইলাতুর ক্বদর কয়েক কারণে বলা হয়:
শবে ক্বদর, রমযান, কুরআন নাযিলের মাস
১। এতে আগামী বছরের ভালমন্দ নির্ধারিত করে ফিরিশতাদের হাতে অর্পন করা হয়। ক্বদর মানে তকদীর (নির্ধারণ করণ) অথবা ক্বদর মানে সম্মান অর্থাৎ সম্মানিত রাত।
২। এতে ক্বদর বা সম্মানিত কোরআন নাযিল হয়েছে।
৩। যে ইবাদত এ রাতে করা হয়, তাতে মর্যাদা রয়েছে।
৪। ক্বদর অর্থ সংকীর্ণতা, অর্থাৎ ফিরিশতা এ রাতে এতো বেশি পরিমাণে আসে যে, পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে যায়, জায়গা সংকুলান হয়না। এ সব কারণে সেটাকে শবে ক্বদর অর্থাৎ সম্মানিত রাত বলে। (মাওয়াইযে নঈমিয়া, পৃষ্ঠা ৬২)
বোখারী শরীফের হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি এ রাতে ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, তার সারা জীবনের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হবে।” (সহীহ বুখারী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৬০, হাদিস নং ২০১৪)

দিদারে মুস্তফা ﷺ ও ভালবাসার ফযিলত

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আকিদা ও আমল পরিশুদ্ধ করার এবং ধর্মীয় জরুরী বিষয়াদী জানার জন্য তবলীগে কুরআন ও সুন্নতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফিলায় সফর করাকে নিজ অভ্যাসে পরিণত করুন। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ দা’ওয়াতে ইসলামী আহলে হকদের সুন্নতে ভরপুর সংগঠন। এর একটি ঈমান তাজাকারী ঘটনা শুনুন ও বিমোহিত হোন।
দিদারে মুস্তফা ﷺ ও ভালবাসার ফযিলত
যেমন তাবলীগে কুরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতিমা শেষে (মুলতান) থেকে আশিকানে রসূলগণের অসংখ্য মাদানী কাফিলা সুন্নতের প্রশিক্ষণের জন্য শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে সফরে রওয়ানা হয়ে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায়  আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতিমা ১৪২৬ হিজরীতে আগরাতাজ কলনী বাবুল মদীনা করাচী এর একটি মাদানী কাফিলা সফরের নিয়ম মোতাবেক একটি মসজিদে পৌঁছে অবস্থান করছিল। রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ল তখন মাদানী কাফিলায় অংশগ্রহণকারী এক নতুন ইসলামী ভাইয়ের ভাগ্য চমকে উঠল। এবং তার স্বপ্নযোগে মদীনার তাজেদার হযরত মুহাম্মদ  এর দিদার নসিব হয়ে গেল। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। দা’ওয়াতে ইসলামীর সত্যতা মনে প্রাণে জেনে নিয়ে মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলেন।

নেককারদের ভালবাসার ফযীলত

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেনতো! আশিকানে রসূলদের সাহচার্যের বরকতে এক সৌভাগ্যবান ইসলামী ভাই এর জীবনে তাজেদারে রিসালাত হযরত মুহাম্মদ     এর যিয়ারত নসীব হয়ে গেল। এজন্য সর্বদা উত্তম সঙ্গ বেছে নেয়া চাই ও ভাল লোকদের ভালবাসা চাই। মাদানী কাফিলায় সফরকারী সৌভাগ্যবানদের ও নেককার লোকদের মুহাব্বত করার উত্তম সুযোগ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নেককার লোকদের ভালবাসার সাতটি ফযীলত শ্রবণ করুন এবং আন্দোলিত হোন।
(১) আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, ওরা কোথায়, যারা আমার সম্মানার্থে একে অপরকে ভালবাসত, আজ আমি তাদেরকে আমার (আরশের) ছায়াতলে রাখব। আজ আমার (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই। (মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৩৮৮, হাদীস-২৫৬৬)
(২) আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, যে সমস্ত লোক আমার জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা রাখে এবং আমারই জন্য একে অপরের কাছে বসে এবং পরস্পরের মধ্যে মেলামেশা করে আর টাকা খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালবাসা
ওয়াজিব হয়ে গেল। (মুআত্তা, খন্ড-২য়, পৃষ্ঠা-৪৩৯, হাদীস নং-১৮২৮)
(৩) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, যে সমস্ত লোক আমার সম্মানের জন্য একে অপরের সাথে মুহব্বত রাখে তাদের জন্য নূরের মিম্বর হবে যা দেখে নবী ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন অর্থাৎ পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করবেন।)
(সুনানে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-১৭৪, হাদীস নং-২৩৯৭, দারুল ফিকর, বৈরুত)
(৪) দু’ব্যক্তি একে অপরকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুহাব্বত করল যাদের একজন পূর্বে ও অপরজন পশ্চিমে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা’আলা উভয়কে একত্রিত করবেন এবং বলবেন, এই সেই ব্যক্তি যাকে তুমি আমার জন্য ভালবাসতে।
(শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৪৯২, হাদীস নং-৯০২২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
(৫) জান্নাতে ইয়াকুত পাথরের স্তম্ভ রয়েছে যার উপর জবরজদ পাথরদ্বারা নির্মিত বালাখানা রয়েছে, আর সেটা এমনই উজ্জল যেন আলোকিত নক্ষত্রের মত। লোকেরা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! ঐ ঘরে কে থাকবে? হুজুর   বললেন, ঐ সমস্ত লোক যারা আল্লাহ তাআলার জন্য পরস্পরের মধ্যে মুহাব্বত রেখেছে, একই জায়গায় বসে, একে অপরের সাথে মিলামিশা করেছে। (শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৪৮৭, হাদীস নং-৯০০২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
(৬) আল্লাহর ওয়াস্তে মুহাব্বতকারী আরশের পাশে ইয়াকুত পাথরের চেয়ারে বসা থাকবে। (আল মুজামুল কবির, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-১৫০, হাদীস নং-৩৯৭৩, দারু ইহইয়ায়িত তারাসিল আরবী, বৈরুত)
(৭) যে ব্যক্তি কারো সাথে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা রাখে, আল্লাহর ওয়াস্তে শত্রুতা রাখে, আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে, আল্লাহর ওয়াস্তে বিরত থাকে তাহলে সে নিজের ঈমান পরিপূর্ণ করল। (সুনানে আবু দাউদ, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-২৯০, হাদীস নং-৪৬৮১)
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৯৬-১৯৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন


মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

সবুজ গম্বুজের ইতিহাস

সবুজ গম্বুজ, যার দীদারের জন্য প্রতিটি আশিকের হৃদয় ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকে, আর চক্ষু অশ্রুসজল হয়ে যায়, এটাও বিদআতে হাসানা। কেননা হযরত মুহাম্মদ   এর প্রকাশ্য বেসাল শরীফের অনেক বছর পর তা নির্মিত হয়েছে। এ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছুটা জেনে নিন।
সবুজ গম্বুজের ইতিহাস
মাদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার, হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর রওযা ই আনওয়ারের উপর সর্ব প্রথম গম্বুজ শরীফ নির্মিত হয় ৬৭৮ হিজরী / ১২৬৯ খৃষ্টাব্দে এবং সেটার উপর হলদে রং লাগানো হয়। আর তা তখন হলদে গম্বুজ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলো। তারপর যুগ পরিবর্তন হতে লাগলো ৮৮৮ হিজরী / ১৪৮৩ খৃষ্টাব্দে কালো পাথর দিয়ে নতুন গম্বুজ তৈরি করা হলো। আর সেটার উপর সাদা রং লাগানো হলো। আশেকগণ সেটাকে ‘আলকুব্বাতুল বায়দ্বা’ অথবা ‘গুম্বাদে বায়দ্বা’ অর্থাৎ ‘সাদা গম্বুজ’ বলতে লাগলো। ৯৮০ হিজরী / ১৫৭২ খৃষ্টাব্দে চূড়ান্ত সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করা হলো। আর সেটাকে রংবেরং এর পাথর দিয়ে সাজানো হলো। তখন সেটার এক রং রইলনা। সম্ভবতঃ স্থাপত্য শিল্পের চিত্তাকর্ষক ও দৃষ্টি কেড়ে নেয়ার মতো দৃশ্যের কারণে সেটা রংবেরংয়ের গম্বুজ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করলো। ১২৩৩ হিজরী / ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সেটা নির্মাণ করা হলো। এরপর এ পর্যন্ত কেউ তাতে পরিবর্তন করেনি। অবশ্য, সবুজ রং এ সৌভাগ্য পেতে লাগলো যে, তা রংকর্মীদের হাতের মাধ্যমে সেটার গায়ে লেগে যাচ্ছে।
‘গুম্বদে খাদ্বরা’ (সবুজ গুম্বুজ) যা নিঃসন্দেহে বিদ’আতে হাসানা’ তা আজ সারা দুনিয়ার মুসলমানদের প্রত্যাবর্তনের বরকতময় স্থান, চোখের জ্যোতি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি। اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ  সেটাকে দুনিয়ার কোন শক্তি বিলীন করতে পারবেনা। যে সেটাকে বিরোধীতার কারণে নিশ্চিহ্ন করতে চাইবে, আল্লাহর পানাহ! সে নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
এগুলোর মতো সমস্ত নতুন আবিস্কৃত নেক কাজের বুনিয়াদ ওই হাদিসে পাক যা মুসলিম শরীফের বর্ণনায় ইতোপূর্বে উলে−খ করা হয়েছে, যাতে এরশাদ হয়েছে, যে কেউ ইসলামে ভালো পদ্ধতি চালু করে, সে তার সাওয়াব পাবে এবং তাদের সাওয়াবও যারা এর পর তদনুযায়ী আমল করবে।*
(*) মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه এর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘জাআল হক্ব’ বিদআত ও বিদআতের প্রকারভেদ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য সেটা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৯৫-১৯৬ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

তারাবীহর জামাআত ‘বিদআতে হাসানা’ (নতুন প্রচলিত পূণ্যময় কাজ)

মাদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার ﷺ নিজেও তারাবীহ পড়েছেন এবং এটাকে খুব পছন্দও করেছেন। কোরআনের ধারক, মদীনার সুলতান হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর মহান বাণী, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে রমযানে রাত্রি জাগরণ করে তার পূর্বাপর গুনাসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ উম্মতের উপর তারাবীহ ফরয করে দেয়া হয় কিনা এই আশঙ্কায় রসূল ﷺ  বাদ দিতেন, অতঃপর আমীরুল মু’মিনীন সায়্যিদুনা ওমর ফারূকে আযম  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  তাঁর খিলাফতের সময় মাহে রমযানুল মুবারকের একরাতে মসজিদে দেখতে পেলেন যে, কেউ একাকী আবার কেউ জামাআতে (তারাবীহ) পড়ছেন। এটা দেখে তিনি বললেন, আমি চাচ্ছি, সবাইকে এক ইমামের সাথে একত্রিত করে দেয়াই উত্তম হবে। তাই তিনি হযরত সায়্যিদুনা উবাই ইবনে কা’ব  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  কে সবার ইমাম করে দিলেন। অতঃপর যখন দ্বিতীয় রাতে তাশরীফ আনলেন, তখন দেখলেন লোকেরা জামাআত সহকারে (তারাবীহ) আদায় করছেন। (তিনি খুব খুশী হলেন) আর বললেন نِعْمَ الْبِدْعَةُ هٰذِه অর্থাৎ এটা উত্তম বিদআত। (বুখারী ১ম খন্ড , পৃঃ ৬৫৮, হাদিস নং -২০১০ )
বিদআত প্রসঙ্গ
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা ! আল্লাহর প্রিয় রাসূল ﷺ আমাদের প্রতি কতোই খেয়াল রেখেছেন। শুধু এ আশঙ্কায় তারাবীহ সবসময় পড়েননি যে, তা আবার উম্মতের উপর ফরয হয়ে যায় কিনা। এ হাদিসে পাক থেকে কিছু সংখ্যক কুমন্ত্রণার চিকিৎসাও হয়ে গেলো। যেমন, তারাবীর নিয়ম মোতাবেক জামাআত হুযুর ﷺ ও জারী করতে পারতেন, কিন্তু করেন নি।
অনুরূপভাবে, ইসলামে ভাল পদ্ধতির প্রচলনের জন্য তাঁর গোলামদেরকে সুযোগ করে দিলেন যে কাজ সৃষ্টিকুল শ্রেষ্ঠ শাহে মদীনা ﷺ করেন নি, ওই কাজ সায়্যিদুনা ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ নিছক আপন ইচ্ছায় করেন নি, বরং শাহেনশাহে দো আলম হযরত মুহাম্মদ ﷺ কিয়ামত পর্যন্ত ভালো ভালো কাজ চালু করার জন্য নিজের পবিত্র প্রকাশ্য জীবদ্দশায়ই অনুমতি দান করেছিলেন।

বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭

তারাবীর ৩৫ টি মাদানী ফুল

১। তারাবীহ্ প্রত্যেক বিবেকবান ও বালেগ ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনের জন্য সুন্নতে মুআক্কাদাহ। (দুররুল মুখতারঃ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৩) সেটা বর্জন করা জায়িয নেই।
২। তারাবীর নামায বিশ রাকাআত। সায়্যিদুনা ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর শাসনামলে বিশ রাকাতই পড়া হতো। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী: ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৯৯, হাদিস নং ৪৬১৭ নং হাদিস)
৩। তারাবীর জামাআত সুন্নতে মুআক্কাদাহ আলাল কেফায়া। সুতরাং যদি মসজিদের সবাই ছেড়ে দেয় তবে সবাই তিরস্কারযোগ্য কাজ করলো। (অর্থাৎ মন্দ কাজ করলো)। আর যদি কয়েকজন লোক জামাআত সহকারে পড়ে, তবে যারা একাকী পড়েছে, তারা জামাআতের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। (হেদায়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭০)
৪। তারাবীর নামাযের সময় হল এশার ফরয নামায পড়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এশার ফরয আদায় করার পূর্বে পড়ে নিলে বিশুদ্ধ হবে না। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৫)
৫। এশার ফরয ও বিতরের পরও তারাবী পড়া যায়। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৪) যেমন, কখনো ২৯ শে রমযান চাঁদ দেখার সাক্ষী পেতে দেরী হলে এমনই ঘটে থাকে।
৬। মুস্তাহাব হচ্ছে- তারাবীতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করা। যদি অর্ধ রাতের পরেও পড়ে তবুও মাকরূহ হবে না। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৫)
৭। তারাবীহ ছুটে গেলে তার কাযা নেই। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৪৯৪ পৃষ্ঠা)
৮। উত্তম হচ্ছে- তারাবীর বিশ রাকআত নামায দুই দুই রাকআত করে দশ সালাম সহকারে সম্পন্ন করা। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৫)

ফয়যানে তারাবীহ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ রমযানুল মুবারকে যেখানে আমরা অগণিত নে’মত পেতে পারি, সেগুলোর মধ্যে ‘তারাবীর সুন্নত’ও রয়েছে। সুন্নতের মহত্ত্বের কথা কি বলবো? আমিনার বাগানের সুবাসিত ফুল, আল্লাহর প্রিয় রসূল হযরত মুহাম্মদ এর জান্নাতরূপী বাণী, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালবাসে, সে আমাকে ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” (জামে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃ-৩১০, হাদীস নং-২৬৮৭)

ফয়যানে তারাবীহ

রমযানে ৬১ বার খতমে কোরআন

তারাবীহ সুন্নতে মুআক্কাদাহ। তাতে কমপক্ষে একবার খতমে কুরআনও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। আমাদের ইমামে আযাম আবু হানীফা  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , " রমযানুল মুবারকে ৬১ বার কুরআন করীম খতম করতেনঃ ত্রিশ খতম দিনে, ত্রিশ খতম রাতে আর একবার তারাবীহের নামাযে। তাছাড়া, তিনি  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , " ৪৫ বছর ইশার ওযু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন। (বাহারে শরীআত, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ-৩৭)
এক বর্ণনায় অনুযায়ী ইমাম আযম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه , " জীবনে ৫৫ বার হজ্ব করেছেন আর যে স্থানে তিনি ইন্তিকাল করেছেন সেখানে তিনি সাত হাজার বার কুরআন মজিদ খতম করেছেন। (উকুদুন হিমান, পৃ-২২১)

রোযা না রাখার অনুমতি সম্বলিত ৩৩টি বিধান

১. মুসাফিরের জন্য রোযা রাখা ও না রাখার মধ্যে নিজের স্বাধীনতা রয়েছে। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৪০৩)
২. যদি স্বয়ং ওই মুসাফিরের জন্য এবং তার সফরসঙ্গীদের জন্য রোযা ক্ষতিকর না হয়, তবে সফরে রোযা রাখা উত্তম। আর উভয়ের কিংবা তাদের কোন একজনের জন্য ক্ষতিকারক হয়, তাহলে রোযা না রাখা উত্তম। (দুররুল মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৪০৫)
রোযার বিধান
৩. মুসাফির ‘দ্বাহওয়ায়ে কুবরা* এর পূর্বক্ষণে মুকীম হিসেবে অবস্থান করলো, এখনো পর্যন্ত কিছুই খায়নি, এমতাবস্থায় রোযার নিয়্যত করে নেয়া ওয়াজিব। (আল-জাওয়াহারাতুন নাইয়েরাহ, খন্ড-১ম, পৃ-১৮৬) যেমন, আপনার ঘর বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ শহর চট্টগ্রামে। আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে রওনা হলেন। সকাল দশটার সময় পৌঁছে গেলেন। আর সোবহে সাদিক থেকে রাস্তায় কোন কিছু পানাহার করেননি। এমতাবস্থায় রোযার নিয়্যত করে নিন।
*দ্বাহওয়ায়ে কুবরা এর সংজ্ঞা রোজার নিয়্যতের বর্ণনার মধ্যে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
৪. দিনে যদি সফর করেন, তবে ওই দিনের রোযা না রাখার জন্য আজকের সফর ওযর নয়। অবশ্য, যদি সফরের মধ্যভাগে ভঙ্গ করেন তবে কাফফারা অপরিহার্য হবে না, কিন্তু গুনাহ্ অবশ্যই হবে। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৪১৬) আর রোযা কাযা করা ফরয হবে।

শুক্রবার, ২ জুন, ২০১৭

রোযার কাযা ও কাফফারার বিধানাবলী

(এখন ওইসব বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হচ্ছে, যে কাজ করলে শুধু কাযা অপরিহার্য হয়। কাযা করার পদ্ধতি হচ্ছে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে রমযানুল মুবারকের পর কাযার নিয়্যতে একটি করে রোযা রাখা।)
রোযার কাযা ও কাফফারার বিধানাবলী
১. এটা ধারণা ছিলো যে, সেহরীর সময় শেষ হয়নি। তাই পানাহার করেছে, স্ত্রী সহবাস করেছে। পরে জানতে পারলো যে, তখন সেহরীর সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় রোযা হয়নি, এ রোযার কাযা করা জরুরী। অর্থাৎ ওই রোযার পরিবর্তে একটা রোযা রাখতে হবে। (রদ্দুল মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৮০)
২. খানা খাওয়ার জন্য কঠোরভাবে বাধ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ শরীয়ত সম্মত বাধ্যবাধকতা (কেউ হত্যা কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলার হুমকি দিয়ে বললো, “রোযা ভেঙ্গে ফেল।” যদি রোযাদার নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, সে যা বলছে তা করেই ছাড়বে। তাহলে শরীয়তসম্মত বাধ্য করণ পাওয়া গেলো। এমতাবস্থায় রোযা ভাঙ্গার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে এ রোযার কাযা করে দেয়া অপরিহার্য। এখন যেহেতু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই শুধু কাযা ওয়াজিব হবে। (দুররে মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৪০২)
৩. ভুলবশতঃ পানাহার করেছে কিংবা স্ত্রী সহবাস করেছিলো, অথবা এমনভাবে দৃষ্টি করেছে যে, বীর্যপাত হয়েছে, কিংবা স্বপ্নদোষ হয়েছে, অথবা বমি হয়েছে, এসব অবস্থায় এ ধারণা করল যে, রোযা ভেঙ্গে গেছে, তাই এখন স্বেচ্ছায় পানাহার করে নিল। কাজেই, এখন শুধু কাযা ফরয হবে। (দুররে মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৭৫)

রোযার ভঙ্গের কারণ, রোযার মাকরূহ ও রোযা না রাখার ওযর সমূহ

রোযা ভঙ্গকারী ১৪ টি কারণ

১. পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায়; যদি রোযাদার হবার কথা স্মরণ থাকে। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৬৫)
২. হুক্কা, সিগারেট, চুরুট ইত্যাদি পান করলেও রোযা ভেঙ্গে যায়, যদিও নিজের ধারণায় কণ্ঠনালী পর্যন্ত ধোঁয়া পৌছেনি। (বাহারে শরীআত, খন্ড-৫ম, পৃ-১১৭)
রোযা ভঙ্গের কারণ, রোযার মাকরূহ, রোযা রাখার ওযর
৩. পান কিংবা নিছক তামাক খেলেও রোযা ভেঙ্গে যায়। যদিও আপনি সেটার পিক বারংবার ফেলে দিয়ে থাকেন। কারণ, কণ্ঠনালীতে সেগুলোর হালকা অংশ অবশ্যই পৌছে থাকে। (বাহারে শরীআত, খন্ড-৫ম, পৃ-১১৭)
৪. চিনি ইত্যাদি, এমন জিনিষ, যা মুখে রাখলে গলে যায়, মুখে রাখলো আর থুুথু  গিলে ফেললো এমতাবস্থায় রোযা ভেঙ্গে গেল। (বাহারে শরীআত, খন্ড-৫ম, পৃ-১১৭)
৫. দাঁতগুলোর মধ্যভাগে কোন জিনিষ ছোলা বুটের সমান কিংবা তদপেক্ষা বেশি ছিল। তা খেয়ে ফেললো। কিংবা কম ছিলো; কিন্তু মুখ থেকে বের করে পুনরায় খেয়ে ফেললো। এমতাবস্থায় রোযা ভেঙ্গে যাবে।(দুররে মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৯৪)
৬. দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে তা কণ্ঠনালীর নিচে নেমে গেলো। আর রক্ত থুুথু অপেক্ষা বেশি কিংবা সমান অথবা কম ছিলো, কিন্তু সেটার স্বাদ কণ্ঠে অনুভুত হলো। এমতাবস্থায় রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং যদি কম ছিলো আর স্বাদও কণ্ঠে
অনুভুত হয়নি, তাহলে এমতাবস্থায় রোযা ভাঙ্গবে না। (দুররে মুখতার, রদ্দুল মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৬৮)
৭. রোযার কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ‘ঢুস’ (*) নিলো, কিংবা নাকের ছিদ্র দিয়ে ঔষধ প্রবেশ করালো, তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-২০৪)
(*) অর্থাৎ কোন ঔষধের ফিতা কিংবা সিরিঞ্জ পায়খানার রাস্তায় প্রবেশ করালো, আর তা সেখানে স্থায়ীও হলো।

কন্যা সন্তানের ফযীলত

মনে রাখবেন! কন্যা সন্তানের ফযীলত কোন অংশে কম নয়। এই ব্যাপারে ৩টি হাদীসে রসূল শুনুন।

(১) যে ব্যক্তি নিজের তিনজন কন্যা সন্তানের লালন পালন করবে সে জান্নাতে যাবে এবং তাকে এমন মুজাহিদের সাওয়াব দান করবে, যে মুজাহিদ জিহাদ অবস্থায় রোযা রাখে ও নামায কায়েম করে। (আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব, খন্ড-৩য়, পৃ-৪৬, হাদীস নং-২৬ দারুল কুতবিল ইলমিয়্যাহ্ বৈরত)
কন্যা সন্তানের ফযিলত
(২) যার তিনজন কন্যা বা তিনজন বোন থাকবে এবং সে তাদের সাথে সদাচারণ করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(জামে তিরমিযী, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৬৬, হাদীস নং-১৯১৯, দারুল ফিকর, বৈরুত)

(৩) যে ব্যক্তি তিন জন কন্যা বা বোনকে এভাবে লালন-পালন করে যে তাদেরকে শিষ্টাচার (আদব) শিখায় এবং তাদের উপর দয়া করে এমনকি আল্লাহ তাআলা তাদের অমুখাপেক্ষী করে দেয় (অর্থাৎ তারা সাবালেগা হয়ে যায় বা তাদের বিবাহ শাদী হয়ে যায় বা তারা মাল-সম্পদের মালিক হয়ে যায়)। (লুমআত এর পাদটিকা,৪র্থ খন্ড, পৃঃ ১৩২)

বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০১৭

দুধপানকারী শিশুদের জন্য ১৬টি মাদানী ফুল

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেন তো! মাদানী কাফিলার কি বাহার রয়েছে। বাচ্চাদের বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচানোর জন্য প্রথমেই যে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় তা যথেষ্ট। এই মর্মে এখানে ১৬টি মাদানী ফুল দেখুন।
Baby Care, শিশুর যত্ন 
(১) ছেলে বা মেয়ে জন্ম হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ৭ সাতবার يَا بَرُّ (প্রথমে ও শেষে একবার করে দুরূদ শরীফ) পড়ে যদি বাচ্চাকে ফুঁক দেয়া হয় তাহলে اِنْ شَاءَ اَلله عَزَّوَجَل বালিগ হওয়া পর্যন্ত বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।

(২) জন্ম হওয়ার পর বাচ্চাকে প্রথমে নিমপাতার সাথে লবণ মিশিয়ে গরম পানি দিয়ে গোসল দিন, এরপর শুধু পানি দ্বারা গোসল দিন। তাহলে اِنْ شَاءَ اَلله عَزَّوَجَل বাচ্চা ঘা, বিচি, ফোড়া ইত্যাদি চর্মরোগ থেকে মুক্ত থাকবে।

(৩) লবণ মিশ্রিত পানি দিয়ে কিছুদিন বাচ্চাদের গোসল করাতে থাকুন যা বাচ্চাদের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপকারী।

রোযার নিয়ত ও নিয়তের ২০ টি বিধান

রোযার নিয়ত

রোযার জন্যও এমনিভাবে নিয়্যত করা পূর্বশর্ত যেভাবে নামায ও যাকাত ইত্যাদির জন্য পূর্বশর্ত। সুতরাং যদি কোন ইসলামী ভাই কিংবা বোন রোযার নিয়্যত ছাড়া সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একেবারে পানাহার বর্জন করে থাকে, তবে তাদের রোযা হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৩১)
রমযান শরীফের রোযা হোক কিংবা নফল অথবা নির্দিষ্ট কোন মান্নতের রোযা অর্থাৎ আল্লাহর জন্য কোন নির্দিষ্ট দিনের রোযার মান্নত করে, যেমন নিজের কানে শুনতে পায় এমন আওয়াজে বলে, “আমার উপর এ বছর আল্লাহ তাআলার জন্য রবিউন নূর (রবিউল আউয়াল) শরীফের প্রত্যেক সোমবারের রোযা ওয়াজিব।” তখন এটা ‘নির্ধারিত মান্নত’ হলো। আর এ মান্নত পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে গেলো। এ তিন ধরণের রোযার জন্য সূর্যাস্ত থেকে পরদিন ‘শরীয়তসম্মত অর্ধ দিবস’ (যাকে দ্বাহওয়ায়ে কুবরা বলা হয়) এর পূর্ব পর্যন্ত সময়-সীমার মধ্যে নিয়ত করে নিলে রোযা হয়ে যাবে।

রোযার নিয়ত

রোযার নিয়্যতের বিশটি মাদানী ফুল

১. রমযানের রোযা ও ‘নির্ধারিত মান্নত ও নফল রোযার জন্য নিয়্যতের সময়সীমা হচ্ছে- সূর্যাস্তের পর থেকে পরদিন ‘দ্বাহওয়ায়ে কুবরা’ অর্থাৎ ‘শরীয়ত সম্মত অর্ধ দিবস’ এর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত। এ পূর্ণ-সময়ের মধ্যে আপনি যখনই নিয়্যত করে নেবেন, এ রোযাগুলো বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৩২)

নামাযের ওয়াজিব সমূহ

ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনদের নামাযের নিয়মাবলীতে কিছু কাজ হচ্ছে ফরয, যেগুলো ব্যতীত নামাযই হবে না, কতিপয় বিষয় ওয়াজীব, যেগুলো ইচ্ছাকৃত ভাবে বর্জন করা গুনাহ্ এবং এর জন্য তাওবা করে নামাযকে পুনরায় আদায় করে দেয়া ওয়াজীব। আর ভূলবশতঃ ছুটে গেলে “সিজদায়ে সাহু” দেওয়া ওয়াজীব। আর কিছু রয়েছে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, সেগুলো ছেড়ে দেয়ার অভ্যাস করলে গুনাহ্ হয়, আর কতিপয় মুস্তাহাব রয়েছে যেগুলো করলে সাওয়াব, না করলে গুনাহ্ নেই। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় অংশ, ৬৬ পৃষ্ঠা)

(১) তাকবীরে তাহরীমার মধ্যে “أَللهُ اَكْبَرْ” বলা,
(২) ফরয নামাযের ৩য় ও ৪র্থ রাকাত ব্যতীত অবশিষ্ট সকল নামাযের প্রত্যেক রাকাতে ‘আলহামদু’ শরীফ পাঠ করা ও সূরা মিলানো (অর্থাৎ কুরআনে পাকের একটি বড় আয়াত যা ছোট তিন আয়াতের সমান হয় কিংবা তিনটি ছোট আয়াত পাঠ করা।)
(৩) আলহামদু শরীফ সূরার পূর্বে পাঠ করা,
(৪) আলহামদু শরীফ ও সূরার মাঝখানে ‘আমীন’ ও بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ব্যতীত আর কিছু না পড়া,

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন