আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net

Wednesday, May 31, 2017

রোযার নিয়ত ও নিয়তের ২০ টি বিধান

রোযার নিয়ত

রোযার জন্যও এমনিভাবে নিয়্যত করা পূর্বশর্ত যেভাবে নামায ও যাকাত ইত্যাদির জন্য পূর্বশর্ত। সুতরাং যদি কোন ইসলামী ভাই কিংবা বোন রোযার নিয়্যত ছাড়া সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একেবারে পানাহার বর্জন করে থাকে, তবে তাদের রোযা হবে না। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৩১)
রমযান শরীফের রোযা হোক কিংবা নফল অথবা নির্দিষ্ট কোন মান্নতের রোযা অর্থাৎ আল্লাহর জন্য কোন নির্দিষ্ট দিনের রোযার মান্নত করে, যেমন নিজের কানে শুনতে পায় এমন আওয়াজে বলে, “আমার উপর এ বছর আল্লাহ তাআলার জন্য রবিউন নূর (রবিউল আউয়াল) শরীফের প্রত্যেক সোমবারের রোযা ওয়াজিব।” তখন এটা ‘নির্ধারিত মান্নত’ হলো। আর এ মান্নত পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে গেলো। এ তিন ধরণের রোযার জন্য সূর্যাস্ত থেকে পরদিন ‘শরীয়তসম্মত অর্ধ দিবস’ (যাকে দ্বাহওয়ায়ে কুবরা বলা হয়) এর পূর্ব পর্যন্ত সময়-সীমার মধ্যে নিয়ত করে নিলে রোযা হয়ে যাবে।

রোযার নিয়ত

রোযার নিয়্যতের বিশটি মাদানী ফুল

১. রমযানের রোযা ও ‘নির্ধারিত মান্নত ও নফল রোযার জন্য নিয়্যতের সময়সীমা হচ্ছে- সূর্যাস্তের পর থেকে পরদিন ‘দ্বাহওয়ায়ে কুবরা’ অর্থাৎ ‘শরীয়ত সম্মত অর্ধ দিবস’ এর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত। এ পূর্ণ-সময়ের মধ্যে আপনি যখনই নিয়্যত করে নেবেন, এ রোযাগুলো বিশুদ্ধ হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৩২)

নামাযের ওয়াজিব সমূহ

ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনদের নামাযের নিয়মাবলীতে কিছু কাজ হচ্ছে ফরয, যেগুলো ব্যতীত নামাযই হবে না, কতিপয় বিষয় ওয়াজীব, যেগুলো ইচ্ছাকৃত ভাবে বর্জন করা গুনাহ্ এবং এর জন্য তাওবা করে নামাযকে পুনরায় আদায় করে দেয়া ওয়াজীব। আর ভূলবশতঃ ছুটে গেলে “সিজদায়ে সাহু” দেওয়া ওয়াজীব। আর কিছু রয়েছে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, সেগুলো ছেড়ে দেয়ার অভ্যাস করলে গুনাহ্ হয়, আর কতিপয় মুস্তাহাব রয়েছে যেগুলো করলে সাওয়াব, না করলে গুনাহ্ নেই। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় অংশ, ৬৬ পৃষ্ঠা)

(১) তাকবীরে তাহরীমার মধ্যে “أَللهُ اَكْبَرْ” বলা,
(২) ফরয নামাযের ৩য় ও ৪র্থ রাকাত ব্যতীত অবশিষ্ট সকল নামাযের প্রত্যেক রাকাতে ‘আলহামদু’ শরীফ পাঠ করা ও সূরা মিলানো (অর্থাৎ কুরআনে পাকের একটি বড় আয়াত যা ছোট তিন আয়াতের সমান হয় কিংবা তিনটি ছোট আয়াত পাঠ করা।)
(৩) আলহামদু শরীফ সূরার পূর্বে পাঠ করা,
(৪) আলহামদু শরীফ ও সূরার মাঝখানে ‘আমীন’ ও بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ব্যতীত আর কিছু না পড়া,

খেজুরের ২৫ টি মাদানী ফুল

১. চিকিৎসকদের চিকিৎসক আল্লাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ এর বিশুদ্ধ বাণী, “উন্নতমানের ‘আজওয়াহ’ (মদীনা মুনাওয়ারার সর্বাপেক্ষা মূল্যবান খেজুরের নাম) এর মধ্যে প্রতিটি রোগের আরোগ্য রয়েছে।” আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী رضى الله عنه এর বর্ণনা অনুসারে, “সাতদিন যাবত প্রতিদিন সাতটি করে ‘আজওয়াহ’ খেজুর খেলে ‘কুষ্ঠরোগ’ (সাদারোগ) দূরীভূত হয়।” (ওমদাতুল কারী, খন্ড-১৪, পৃ-৪৪৬, হাদীস নং-৫৭৬৮)

খেজুর
২. প্রিয় আকা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা  এর জান্নাত রূপী বাণী হচ্ছে, “আজওয়া খেজুর জান্নাত থেকে।” এটা বিষ-আক্রান্তকে আরোগ্য দান করে।”(তিরমিযী শরীফ, খন্ড-৪র্থ, পৃ-১৭, হাদীস নং-২০৭৩) বোখারী শরীফের বর্ণনানুসারে, যে ব্যক্তি সকালে ৭টা ‘আজওয়া’ খেজুর খেয়ে নেয়, ওই দিন যাদু এবং বিষ তাকে ক্ষতি করতে পারবে না।” (সহীহ বোখারী, খন্ড-৩য়, পৃ-৫৪০, হাদীস নং-৫৪৪৫)

সাহরী ও ইফতারী: ফযিলত ও বিধানাবলী

সাহারী খাওয়া সুন্নত

আল্লাহ তাআলার কোটি কোটি অনুগ্রহ যে, তিনি আমাদেরকে রোযার মতো মহান নে’মত দান করেছেন। আর সাথে সাথে শক্তি অর্জনের জন্য সাহারীর শুধু অনুমতি দেন নি, বরং এতে আমাদের জন্য সাওয়াব রেখে দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় আকা, মাদানী ওয়ালে মোস্তফা হযরত মুহাম্মদ যদিও আমাদের মতো পানাহারের মুখাপেক্ষী নন, তবুও আমাদের প্রিয় আকা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা আমরা গোলামদের খাতিরে সাহারী করতেন, যাতে প্রিয় গোলামগণ তাদের দয়ালু মুনিব, সৃষ্টিকুলের বাদশাহ হযরত মুহাম্মদ এর সুন্নত মনে করে সাহারী করে নেয়। অনুরূপভাবে তারা দিনের বেলায় রোযা পালনে শক্তির সাথে সাথে সুন্নতের উপর আমল করার সাওয়াবও পেয়ে যায়। কোন কোন ইসলামী ভাইকে দেখা যায় যে, কখনো কখনো তাঁরা সাহারী করেন না। তখন সকালে নানা ধরনের কথা রচনা করে আর এভাবে বলে বেড়াতে শোনা যায়, “আমরা তো সাহারী ছাড়াই রোযা রেখে ফেলেছি।” মক্কী-মাদানী আকা হযরত মুহাম্মদ এর আশিকরা! সাহারী ছাড়া রোযা রাখার মধ্যে গর্বের কিছুই নেই, যার উপর গর্ব করা হচ্ছে বরং সাহারীর সুন্নত হাতছাড়া হয়ে যাবার জন্য লজ্জিত হওয়া চাই। আফসোস করা চাই। কারণ, তাজদারে রিসালাত হযরত মুহাম্মদ এর এক মহা সুন্নত হাতছাড়া হয়ে গেছে।

Tuesday, May 30, 2017

আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোযা (পর্ব ৩)

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আজকাল তো মামলাই উল্টা নজরে পড়ছে বরং এখনতো বাস্তবিক অবস্থা এমন হয়ে গেছে যে, যখন কেউ কারো সাথে ঝগড়া করে বসে, তখন গর্জে ওঠে এমনি বলে ফেলে, “চুপ হয়ে যা! নতুবা মনে রাখিশ! আমি রোযাদার। আর এ রোযার ইফতার তোকে দিয়েই করবো।” অর্থাৎ তোকে খেয়ে ফেলবো। আল্লাহর পানাহ! তওবা!! তওবা!!! এ ধরণের কথা কখনো মুখ থেকে বের না হওয়া চাই; বরং বিনয়ই প্রকাশ করা চাই। এসব বিপদ থেকে আমরা শুধু তখনই বাঁচতে পারবো, যখন নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নিয়মিতভাবে রোযা পালনের চেষ্টা করাবো।
বাকী পর্ব পড়তে ক্লিক করুন- প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব
বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রোযা

অঙ্গ প্রত্যঙ্গের রোযার সংজ্ঞা

সুতরাং এখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোযা অর্থাৎ দেহের সমস্ত অঙ্গকে গুনাহ্ থেকে রক্ষা করা’ এটা শুধু রোযার জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং গোটা জীবনই ওইসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহ্ থেকে বিরত রাখা জরুরী। আর এটা তখনই সম্ভব, যখন আমাদের অন্তর গুলোতে আল্লাহর ভয় পাকাপোক্ত হয়ে যাবে। আহ! কিয়ামতের ওই বেহুঁশকারী দৃশ্য স্মরণ করুন, যখন চতুর্দিকে নফসী নফসী’ এর অবস্থা হবে, সূর্য-আগুন বর্ষণ করবে, জিহ্বাগুলো পিপাসার তীব্রতার কারণে মুখ থেকে বের হয়ে পড়বে, স্ত্রী স্বামী থেকে, মা তার কলিজার টুকরা সন্তান থেকে, পিতা আপন পুত্র, আপন চোখের মণি থেকে পালাবে, অপরাধী-পাপীদেরকে ধরে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে, তাদের মুখের উপর মোহর চেপে দেয়া হবে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের গুনাহসমুহের তালিকা শুনাতে থাকবে, যা কুরআন পাকের সূরা ‘ইয়াসীন’-এ এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَىٰ أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ-
আজ আমি তাদের মুখগুলোর উপর মোহর করে দেবো। আর তাদের হাতগুলো আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পাগুলো তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। (পারা-২৩, ইয়াসিন, আয়াত-৬৫)

হায়! দূর্বল ও অক্ষম মানুষ! কিয়ামতের ওই কঠিন সময় সম্পর্কে নিজের হৃদয়কে সতর্ক করুন। সর্বদা নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গুনাহের কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টায় অব্যাহত রাখুন। এখন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোযার বিস্তারিত বর্নণা পেশ করা হচ্ছে-

Sunday, May 28, 2017

মাহে রমযান: ফযিলত ও বিধানাবলী (পর্ব ২)

রোযা কার উপর ফরয?

বাকী পর্ব পড়তে ক্লিক করুন- প্রথম পর্ব তৃতীয় পর্ব
তাওহীদ ও রিসালাতকে বিশ্বাস করা ও দ্বীনের সব জরুরী বিষয়ের উপর ঈমান আনার পর যেভাবে প্রত্যেক মুসলমানের উপর নামায ফরয বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে, অনুরূপভাবে রমযান শরীফের রোযাও প্রত্যেক মুসলমান (নর ও নারী) বিবেকসম্পন্ন ও প্রাপ্ত বয়স্কের উপর ফরয। ‘দুররে মুখতার’ এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, রোযা ২য় হিজরীর ১০ই শা’বানুল মুআয্যামে ফরয হয়েছে। (রদ্দুল মুহতার সম্বলিত দুররে মুখতার, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৩০)

মাহে রমাদ্বান: ফযিলত ও বিধানাবলী

রোযা ফরয হবার কারণ

ইসলামে বেশিরভাগ কাজ কোন না কোন মহান ব্যক্তির ঘটনাকে জীবিত রাখার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। যেমন, সাফা ও মারওয়ার মধ্যখানে হাজীদের ‘সাঈ’ হযরত সায়্যিদাতুনা হাজেরা رضى الله عنها এর স্মৃতিময়ী। তিনি رضى الله عنها তাঁর কলিজার টুকরা হযরত সায়্যিদুনা ইসমাঈল যবীহুল্লাহ عليه السلام এর জন্য পানি তালাশ করতে গিয়ে এ দুটি পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার প্রদক্ষিণ করেছেন ও দৌঁড়িয়েছেন। আল্লাহর নিকট হযরত সায়্যিদাতুনা হাজেরা رضى الله عنها এর এ কাজটা অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। তাই এই ‘সুন্নতে হাজেরা’ رضى الله عنها কে আল্লাহ তাআলা স্থায়ীত্ব দানের জন্য হাজীগণ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য ‘সাফা’ ও ‘মারওয়া’র সাঈকে (প্রদক্ষিণ করাকে) ওয়াজিব করে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে, রমযানের দিনগুলোতে কিছুদিন, আমাদের প্রিয় আকা, মক্কা ও মদীনার তাজেদার হুযুর পুরনূর হযরত মুহাম্মদ হেরা পর্বতের গুহায় অতিবাহিত করেছিলেন। তখন হুযুর দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকতেন, আর রাতে আল্লাহ তাআলার যিকরে মশগুল থাকতেন। তাই আল্লাহ তাআলা ওই দিন গুলোর স্মরণকে তাজা করার জন্য রোযা ফরয করেছেন; যাতে তাঁর মাহবুব এর সুন্নতও স্থায়ী হয়ে যায়।

নামাযের শর্ত ও ফরয সমূহ

ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনদের নামাযের নিয়মাবলীতে কিছু কাজ হচ্ছে ফরয, যেগুলো ব্যতীত নামাযই হবে না, কতিপয় বিষয় ওয়াজীব, যেগুলো ইচ্ছাকৃত ভাবে বর্জন করা গুনাহ্ এবং এর জন্য তাওবা করে নামাযকে পুনরায় আদায় করে দেয়া ওয়াজীব। আর ভূলবশতঃ ছুটে গেলে “সিজদায়ে সাহু” দেওয়া ওয়াজীব। আর কিছু রয়েছে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, সেগুলো ছেড়ে দেয়ার অভ্যাস করলে গুনাহ্ হয়, আর কতিপয় মুস্তাহাব রয়েছে যেগুলো করলে সাওয়াব, না করলে গুনাহ্ নেই। (বাহারে শরীয়াত, ৩য় অংশ, ৬৬ পৃষ্ঠা)
(এখানে রয়েছে নামাযের শর্ত  ও নামাযের ফরজ সহ  এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা-এডমিন)
নামাযের শর্ত ও ফরজ সমূহ

নামাযের ৬টি শর্ত

১. পবিত্রতা, ২. সতর ঢাকা, ৩. ক্বিবলামূখী হওয়া, ৪. সময়সীমা, ৫. নিয়্যত করা, ৬. তাকবীরে তাহরীমা।
এই ৬টির বিস্তারিত নিচে দেয়া হলো-
(১) পবিত্রতা: নামায আদায়কারীর শরীর, পোষাক ও যে স্থানে নামায আদায় করবে ঐ স্থান যে কোন ধরণের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া আবশ্যক। ( তাহতাবীর পাদটিকা সম্বলিত মারাকিউল ফালাহ, ২০৭ পৃষ্ঠা)

Tuesday, May 23, 2017

নামাযের পদ্ধতি (হানাফী)

অযু করে কিবলামুখী হয়ে এভাবে দাঁড়ান যেন উভয় পায়ের পাঞ্জার মধ্যভাগে চার আঙ্গুল দূরত্ব থাকে। এখন উভয় হাতকে কান পর্যন্ত নিয়ে যান যেন বৃদ্ধাঙ্গুল কানের লতি স্পর্শ করে। এ অবস্থায় আঙ্গুলকে বেশি খোলাও রাখবেন না আবার বেশি মিলিয়েও ফেলবেন না বরং স্বাভাবিক অবস্থায় রাখবেন আর হাতের তালু কিবলার দিকে করে রাখবেন এবং দৃষ্টি সিজদার জায়গায় থাকবে। এবার যে নামায আদায় করবেন সেটার নিয়্যত করুন। অর্থাৎ অন্তরে দৃঢ় ইচ্ছা করুন, সাথে সাথে মুখেও উচ্চারণ করুন, কেননা এটা উত্তম। (যেমন- আমি আজকের যোহরের চার রাকাত ফরয নামাযের নিয়্যত করলাম, যদি জামাত সহকারে আদায় করেন তবে এটাও বলুন, এই ইমামের পিছনে) এবার তাকবীরে তাহরীমা অর্থাৎ “أَللهُ اَكْبَرْ” বলতে বলতে হাত নিচে নামিয়ে আনুন এরপর নাভীর নিচে উভয় হাত এভাবে বাঁধুন যেন ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর এবং ডান হাতের মাঝখানের তিন আঙ্গুল বাম হাতের কব্জির পিঠের উপর আর বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল কব্জির উভয় পার্শ্বে থাকে। এখন এভাবে সানা পড়ুন:

سُبحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالى جَدُّكَ وَلَآ اِلهَ غَيْرُكَ
অনুবাদ:- অনুবাদ: হে আল্লাহ্! তুমি পবিত্র! আর আমি তোমার প্রশংসা করছি। তোমার নাম বরকতময়। তোমার মর্যাদা অতীব মহান। তুমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই।


নামায পড়ার পদ্ধতি
অতঃপর, তাআউয পড়ুন:
اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطن الرَّجِيْم
অনুবাদ: আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

অতঃপর তাসমিয়া পড়ুন:

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
অনুবাদ: আল্লাহর নামে আরম্ভ, যিনি পরম দয়ালু করুণাময়।

Monday, May 1, 2017

রমযানের ফযিলত ও মাসআলা- পর্ব-১

স্বর্ণের দরজা বিশিষ্ট মহল

বাকী পর্ব পড়তে ক্লিক করুন- দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব
সায়্যিদুনা আবূ সাঈদ খুদরী رضى الله عنه থেকে বর্ণিত, মক্কী মাদানী সুলতান, রহমতে আলামিয়ান হযরত মুহাম্মদ রহমতপূর্ণ বাণী হচ্ছে, “যখন রমযান মাসের প্রথম রাত আসে, তখন আসমানগুলো ও জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। আর সেগুলো সর্বশেষ রাত পর্যন্ত বন্ধ হয় না। যে কোন বান্দা এ বরকতময় মাসের যে কোন রাতে নামায পড়ে, তবে আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি সিজদার পরিবর্তে (অর্থাৎ বিনিময় স্বরূপ) তার জন্য পনের শত নেকী লিপিবদ্ধ করেন। আর তার জন্য জান্নাতে লাল পদ্মরাগ পাথরের মহল তৈরী করেন, যার ষাট হাজার দরজা থাকবে, প্রতিটি দরজার কপাট স্বর্ণের তৈরী হবে, যাতে লাল বর্ণের পদ্মরাগের পাথর খচিত থাকবে। সুতরাং যে কেউ রমযানের প্রথম রোযা রাখে তার জন্য আল্লাহ তাআলা রমযানের শেষ দিন পর্যন্ত গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা মাগফিরাতের দু‘আ করতে থাকে। রাত ও দিনে যখনই সে সিজদা করে তার ওই প্রতিটি সিজদার বিনিময়ে তাকে (জান্নাতে) একেকটা এমন গাছ দান করা হবে, সেটার ছায়া অতিক্রম করতে ঘোড়ার আরোহীকে পাঁচশ বছর দৌঁড়াতে হবে।” (শু‘আবুল ঈমান, খন্ড-৩য়, পৃষ্ঠা-৩১৪, হাদিস-৩৬৩৫)

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন