আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net

Sunday, August 20, 2017

হজ্বের মাসাইল: পর্ব ২৬- হজ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর-২


ইহরাম পরিহিত অবস্থায় টিস্যু পেপারের ব্যবহার




প্রশ্ন: টিস্যু পেপার দিয়ে মুখের ঘাম অথবা ওযুর পানি কিংবা সর্দিতে নাক পরিষ্কার করতে পারবে কিনা?

উত্তর: পরিষ্কার করতে পারবে না।

প্রশ্ন: মুখের মধ্যে কাপড় অথবা টিস্যু পেপারের মুখোশ লাগানো কেমন?

উত্তর: নাজায়িয ও গুনাহ। শর্ত পাওয়া অবস্থায় কাফ্‌ফারাও আবশ্যক হবে।

হজ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর-২

প্রশ্ন: মুহরিম সুগন্ধিযুক্ত টিস্যু পেপার ব্যবহার করে নিল, তাহলে?

উত্তর: সুগন্ধিমুক্ত টিস্যু পেপারে যদি সুগন্ধির যথাযথ প্রভাব থাকে অর্থাৎ সেই পেপার সুগন্ধি দ্বারা স্যাত স্যাতে হয়ে যায়। তাহলে সেই ভিজাটা শরীরের উপর লাগাবস্থায় যেই হুকুম সুগন্ধির হয়ে থাকে, সেই হুকুম তারও হবে অর্থাৎ যদি অল্প (অর্থাৎ কম হয় এবং সম্পূর্ণ অঙ্গ প্রতঙ্গে না লাগে তাহলে সদকা করতে হবে, তা নাহলে যদি অধিক হয় অথবা সম্পূর্ণ অঙ্গে লেগে যায়, তাহলে ‘দম’ ওয়াজিব হবে। আর যদি প্রভাব না থাকে বরং শুধু সুগন্ধ আসে তবে যদি এটার মাধ্যমে চেহারা ইত্যাদি পরিষ্কার করল এবং চেহারা অথবা হাতে সুগন্ধির প্রভাব এসে যায়। তাহলে কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। এ জন্য যে এতে সুগন্ধির আসল প্রভাব পাওয়া যায়নি এবং টিস্যু পেপার ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য সুগন্ধি থেকে উপকার নেয়া নয়। (ইহরাম আওর খুশবুদার সাবুন, ৩১ পৃষ্ঠা) যদি কেউ এমন রুমে প্রবেশ করল, যাকে সুগন্ধ ধোঁয়া দেয়া হল এবং তার কাপড়ে সুগন্ধ লেগে গেল, তবে কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না, কেননা সে সুগন্ধির প্রভাব থেকে উপকার গ্রহণ করেনি। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, ২৪১ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: শোয়ার সময় সেলাই করা কাপড় শরীরের উপরে দিতে পারবে কিনা?

উত্তর: চেহারা ব্যতিরেকে এক বা তার চেয়ে বেশী চাদরও শরীরের উপর দিতে পারবে, যদিওবা পূর্ণ পা ঢেকে যায়।

প্রশ্ন: উড়ো জাহাজ অথবা বাস ইত্যাদির প্রথম সিটের পিছনে কিংবা বালিশের উপর মুখ রেখে মুহরিম ঘুমিয়ে পড়ে, তবে তার কি হুকুম?

উত্তর: বালিশের উপর মুখ রেখে শুয়ে পড়লে তার কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না, কিন্তু এটা মাকরূহ তাহরিমী অথবা বাস ইত্যাদির প্রথম সিটের পিছে চেহারা রেখে ঘুমানো জায়েয। কেননা সাধারণত বাসের সিট দরজার কাঠের মত শক্ত থাকে, বালিশের মত নরম হয়না।

প্রশ্ন: হাঁটুর উপর চেহারা রেখে শোয়া কেমন? বালিশের উপর চেহারা রেখে শুয়াতে কাফ্‌ফারা দিতে হয় না কিন্তু সেটা মাকরূহ কেন?

উত্তর: যদি শুধু হাঁটুর উপর চেহারা থাকে (অর্থাৎ হাঁটুর শক্ত জায়গার উপর) জায়েয। কেননা কাপড়ের ভিতর যদি শক্ত জাতীয় কোন জিনিস থাকে, তবে সেই শক্ত জিনিসের হুকুম গন্য হবে। কাপড়ের নয়, যেমন ভাবে উলামায়ে কেরাম ছোট বস্তা এবং পুটলির কাপড় ব্যতিত হুকুম লিখেছেন। কিন্তু হাঁটুর উপর চেহারা রেখে শোয়াতে এই অবস্থা অনেক কষ্টকর বরং ঘুমন্তাবস্থায় হাঁটুর শক্ততার উপর এবং শুধু কাপড়ের উপর চেহারা চলে আসবে তাই এটা থেকে বিরত থাকা (অর্থাৎ বাঁচা) উচিৎ। তা নাহলে কাফ্‌ফারার অবস্থাদি সৃষ্টি হতে পারে এবং যতটুকু পর্যন্ত বালিশের সম্পর্ক রয়েছে, তবে সেটা নরম কাপড়ের মত (এ জন্যই নিষেধ করা হয়েছে) কিন্তু مِن ڪُلِّ الْوُجُوه (অর্থাৎ প্রত্যেক প্রকার) কাপড় নয় (এজন্য কাফ্‌ফারা ওয়াজিব নয়)।

প্রশ্ন: মুহরিম সর্দি থেকে বাঁচার জন্য চেইন (zip) ওয়ালা বিছানাতে চেহারা এবং মাথা ছাড়া বাক্বী শরীর ঢেকে ঘুমাতে পারবে কিনা?

উত্তর: ঘুমাতে পারবে। কেননা অভ্যাসগত ভাবে এটাকে পোশাক পরিধান করা বলা যাবে না।

প্রশ্ন: যদি মুহরিমের প্রস্রাবের ফোঁটা পড়ে তাহলে কি করবে?

উত্তর: সেলাই ছাড়া নেংটি বেঁধে নিবে। সাধারাণত ইহরাম অবস্থায় নেংটি বাঁধা জায়েয, যদি সেটা সেলানো না হয়। (ফাতোওয়ায়ে রযবীয়া, ১০ম খন্ড, ৬৬৪ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: রোগ ইত্যাদির বাধ্যবাধকতায় সেলাই করা কাপড় পরিধানে কোন কাফ্‌ফারা আছে কি?

উত্তর: জ্বি হ্যাঁ। রোগ ইত্যাদির কারণে যদি মাথা থেকে পা পর্যন্ত সকল কাপড় পরিধান করার প্রয়োজন হয়। তখন একই অনিচ্ছাকৃত অপরাধ ধরে নেয়া হবে। যদি চার প্রহর কিংবা তার অধিককাল পরিধান করে তখন দম ওয়াজিব হবে, আর তার চেয়ে কম হলে সদকা দিতে হবে। আর যদি ঐ রোগে মাত্র একটি কাপড়ের প্রয়োজন ছিল। সে ইচ্ছাকৃত দুটি পরিধান করে।
সে তার সাথে সেলাই করা গেঞ্জি পরে নিল। তখন সে পদ্ধতিতে একটি মাত্র কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে। তবে গুনাহগার হবে, আর যদি দ্বিতীয় কাপড় দ্বিতীয় স্থানে পড়ে নেয়। যেমন: পায়জামার প্রয়োজন ছিল, সে তার সাথে কাপড়ও পরে নিল। তখন ইহাকে একটি জুরমে গাইরে ইখতিয়ারী হিসেবে গণ্য করা হবে, আর অপরটি হল জুরমে ইখতিয়ারী। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৮ পৃষ্ঠা। আলমগিরী, ১ম খন্ড, ২৪২ পৃষ্ঠা)


প্রশ্ন: যদি প্রয়োজন ছাড়া সকল কাপড় পরিধান করে নেয়, তখন কতটুকু কাফ্‌ফারা দিতে হবে?

উত্তর: যদি প্রয়োজন ছাড়া সকল কাপড় এক সঙ্গে পরিধান করে নেয় তখন ইহাকে একটি গুনাহ হিসেবে গণ্য করা হবে, আর দুইটি জুরম হবে ঐ সময়ে, যখন একটি প্রয়োজন বশতঃ আর অপরটি প্রয়োজন ছাড়া হবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৮ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: যদি মুখ উভয় হাত দ্বারা ঢেকে নেয় কিংবা মাথায় অথবা চেহারাতে কেউ হাত রেখে দিল, তখন তার হুকুম কি?

উত্তর: মাথা অথবা নাকের উপর নিজের কিংবা অন্য কারো হাত রাখা জায়েয। হযরত আল্লামা আলী ক্বারী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেন: নিজের কিংবা অন্য কারো হাত নিজের মাথা অথবা নাকের উপর রাখা সর্বসম্মতিক্রমে মুবাহ (অর্থাৎ জায়েয)। কেননা যে ব্যক্তি এ রকম করে, তাকে গোপনকারী বলা যায় না। (লুবাবুল মানাসিক ওয়াল মাসলাকুল মুতাকাস্‌সিত, ১২৩ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: তাহলে কি মুহরিম দোআ করার পর নিজের হাত মুখে বুলাতে পারবে না?

উত্তর: বুলাতে পারবে। মুখে হাত রাখার সাধারণত অনুমতি রয়েছে। দাঁড়ি বিশিষ্ট ইসলামী ভাই দোআর পরে মুখের উপর বরং ওযুর মধ্যেও এই ভাবে হাত বুলানো থেকে বাঁচা উচিত, যার দ্বারা চুল পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রশ্ন: যদি কাঁধে সেলাই করা কাপড় নিল তখন তার কাফ্‌ফারা কি?

উত্তর: কোন কাফ্‌ফারা দিতে হবে না। সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেন: পরিধান করার উদ্দেশ্য এটা যে, সে কাপড়কে এভাবে পরিধান করবে যেমন: স্বভাবগত পরিধান করা হয়, তা না হলে যদি জামায় লুঙ্গি বেঁধে নিল অথবা পায়জামাকে লুঙ্গির মত ভাঁজ করে পায়ের পিছনে না রাখে, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। এমনিতেই আচকানকে জড়িয়ে উভয় কাঁধের উপর রেখে দিল। কাফ্‌ফারা দিতে হবে না, কিন্তু এটা মাকরূহ এবং মোড়ার (অর্থাৎ কাঁধের উপর) সেলাইকৃত কাপড় রেখে দিলে কোন সমস্যা নেই। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৬৯ পৃষ্ঠা)

ওকুফে আরাফাত প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন: ১০ তারিখের রাতেও কি ওকুফে আরাফাত হয়?

উত্তর: জ্বি হ্যাঁ! কারণ ওকুফের সময় জুলহিজ্জার ৯ তারিখ যোহরের প্রথম ওয়াক্ত হতে শুরু করে ১০ তারিখের ফযর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, ২২৯ পৃষ্ঠা)


মুজদালিফা প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন


প্রশ্ন: যার কোন প্রতিবন্ধকতা নেই তাকে মুজদালিফা থেকে মীনার উদ্দেশ্যে কখন বের হওয়া উচিৎ?

উত্তর: সূর্য উদয়ের শুধু এতটুকু সময় অবশিষ্ট থাকে, যাতে (সুন্নাত অনুযায়ী ক্বিরাতের সাথে) দু’রাকাত নামায আদায় করা যেতে পারে, সেই সময় চলা শুরু করবে। যদি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করে, তাহলে সুন্নাতে মুআক্কাদাহ বাদ পড়ে গেল। এমন করা “মন্দ কাজ” কিন্তু দম ইত্যাদি ওয়াজিব নয়। হ্যাঁ! যদি মীনা শরীফের দিকে চলা শুরু করল কিন্তু ভীড় ইত্যাদির কারণে মুজদালিফাতেই সূর্য উদিত হয়ে গেল তখন সুন্নাত ত্যাগকারী বলা যাবে না।

রমী প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন: যদি কোন দিন অর্ধেকের চেয়েও বেশী কংকর নিক্ষেপ করল, যেমন: এগার দিবসে তিনটি শয়তানকে ২১ টি কংকর মারার কথা ছিল কিন্তু ১১টি কংকর নিক্ষেপ করল, তাহলে তার কি শাস্তি?

উত্তর: প্রতিটি কংকরের বিনিময়ে একটি একটি সদ্‌কা দিতে হবে। সদরুশ শারীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেন: এক দিনও কংকর মারেনি অথবা এক দিন সম্পূর্ণ করেছে কিংবা মারল অথবা এগার দিবস ইত্যাদিতে ১০টি কংকর পর্যন্ত মারল কিংবা কোন দিন সম্পূর্ণ অথবা অধিকাংশ কংকর অন্যান্য দিনে মারল তবে এই সমস্ত অবস্থাতে দম ওয়াজিব, আর কোন দিন অর্ধেক থেকে কম ছেড়ে দিল, যেমন: দশম দিবসে চারটি কংকর মারল। তিনটি ছেড়ে দিল। অথবা অন্যান্য দিনে ১১টি মারল ১০টি ছেড়ে দিল, কিংবা অন্যান্য দিনে করল, তবে প্রতিটি কংকরের বিনিময়ে একটা সদকা দিতে হবে, আর যদি সদ্‌কার মূল্য দমের সমান হয়ে যায়, তবে কিছু কম করে দেবে। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৭৮ পৃষ্ঠা)

কোরবানী প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন: দশম তারিখের রমী করার পরে যদি জিদ্দা শরীফে গিয়ে তামাত্তুর কোরবানী এবং হলক করতে চায় তাহলে পারবে কিনা?

উত্তর: করতে পারবে না। কেননা জিদ্দা শরীফ হেরমের সীমানার বাইরে। যদি করে তবে একটি কোরবানীর, আর দ্বিতীয়টা হলক্বের (মাথা মুন্ডানোর) এ রকম দু’টি দম দেয়া ওয়াজিব হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: তামাত্তু ও কিরানকারী হাজী যদি রমী করে নেয়ার পূর্বে কোরবানী করে দেয়, কিংবা কোরবানীর আগে হলক করে। তখন তার জন্য কোন কাফ্‌ফারা আছে কি?

উত্তর: উভয় অবস্থায় দম দিতে হবে।


প্রশ্ন: যদি ইফরাদ হজ্বকারী কোরবানীর আগে হলক (মাথা মুন্ডায়) করে তাহলে কোন শাস্তি আছে কিনা?

উত্তর: নেই। কেননা মুফরিদ হাজীর উপর কোরবানী ওয়াজিব নয়। তার জন্য ইহা মুস্তাহাব। (প্রাগুক্ত, ১১৪০ পৃষ্ঠা) যদি সে কোরবানী করতে চায়, তখন তার জন্য উত্তম হল, প্রথম হলক করবে তারপর কোরবানী করবে।


মাথা মুন্ডানো ও চুল ছোট করার প্রসঙ্গে প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন: যদি হাজী সাহেব দ্বাদশ দিবসের পরে হারাম থেকে বের হয়ে মাথা মুন্ডিয়ে নিল, তখন তার শাস্তি কি?

উত্তর: দুটি দম দিবে। একটি হল হারামের বাইরে গিয়ে হলক করার জন্য, আর অন্যটি দ্বাদশ দিবসের পরে হলক হওয়ায় জন্য। (রদ্দুল মুখতার, ৩য় খন্ড, ৬৬৬ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: যদি ওমরার হলক (মাথা মুন্ডানো) হারামের বাইরে করতে চায়, তখন করে নিতে পারবে কিনা?

উত্তর: করতে পারবে না। যদি করে নেয়া হয়, দম ওয়াজিব হবে। তবে তার জন্য কোন সময় নির্দিষ্ট নেই। (দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৬৬৬ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: যারা জেদ্দা শরীফ ইত্যাদিতে কাজ করে তাদেরকেও কি প্রত্যেকবার ওমরার মধ্যে মাথার চুল মুন্ডাতে হবে?

উত্তর: জ্বি হ্যাঁ! না হলে ইহরামের বাধ্যবাধকতা শেষ হবে না।

প্রশ্ন: যে মহিলার চুল ছোট (যেভাবে আজকাল ফ্যাশন হিসেবে চুল রাখা হয়) ওমরা করার আগ্রহ আছে কিন্তু বার বার চুল ছোট করলে মাথার চুল শেষ হয়ে গেল অর্থাৎ আঙ্গুলের এক তৃতীয়াংশ বা এক দাগ থেকে কম বাক্বী থাকল। এখন যদি ওমরা করে তবে চুল কমানো সম্ভব নয় এ অবস্থায় ক্ষমা পাবে কিনা?

উত্তর: যতক্ষণ মাথার চুল অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত মহিলার জন্য প্রত্যেকবার চুল কমানো ওয়াজিব। হুজুর صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “মহিলাদের জন্য সম্পূর্ণ মাথা মুন্ডানো নয় বরং চুল কমানো ওয়াজিব”। (আবু দাউদ, ২য় খন্ড, ২৯৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৯৮৪)
এমন মহিলা যার চুল আঙ্গুলের এক তৃতীয়াংশ বা এক দাগ থেকে কম রয়ে গেল তার জন্য এখন কমাতে হবে না। কেননা কমানো সম্ভব নয় এবং তার জন্য সম্পূর্ণ মাথা মুন্ডানো নিষেধ। এমন অবস্থায় যদি হজ্ব করতে হয়, তবে উত্তম হল আইয়ামে নহর (অর্থাৎ ১২ই জিলহজ্জ এর সূর্য অস্ত যাওয়ার পর) এর শেষে ইহরাম থেকে বের হয়ে আসবে, আর যদি আইয়ামে নহর এর শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি, তবে তার জন্য কোন জিনিস আবশ্যক হবে না।

পৃথক কতিপয় প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন: যদি মুহরিমের মাথা ফেটে যায় কিংবা মুখে আঘাত হয়, আর বাধ্য হয়ে সে মুখ কিংবা মাথায় পট্টি বেঁধে থাকে। তার উপর কোন গুনাহ আছে কি না?

উত্তর: বাধ্য হয়ে করলে কোন গুনাহ নেই। তবে জুরমে গাইরে ইখতিয়ারীরও কাফ্‌ফারা দিতে হবে। তাই যদি দিনে রাতে কিংবা তার চেয়ে বেশী সময়ে এত চওড়া পট্টি বেঁধে থাকে যে, মাথার এক চতুর্থাংশ কিংবা তার অধিক কিংবা মুখ ঢেকে গেল, তখন দম দিতে হবে। আর তার কম হলে সদ্‌কা আবশ্যক হবে। ইহা ছাড়া শরীরের অন্যান্য অঙ্গে কিংবা মহিলারা মাথায় বাধ্য হয়ে ইহা বেঁধে নিলে কোন ক্ষতি নেই।

প্রশ্ন: তামাত্তু ও কিরানকারী হজ্বের অপেক্ষায় আছে, আর এই সময়কালে সে ওমরা করে নিতে পারবে কি না?

উত্তর: কিরানকারীর ইহরাম এখনও অবশিষ্ট আছে, ইহা তো সে করতেই পারে না। আর মুতামাত্তু ব্যক্তি প্রসঙ্গে ওলামায়ে কিরামগণ মতভেদ করেছেন। তবে উত্তম হল এই যে, সে যতবার মনে চায় নফলী তাওয়াফ করে নিবে। আর যদি ওমরা করে নেয় তখন কতিপয় ওলামার মতে ইহা দ্বারা কোন ক্ষতি হবে না। তবে হজ্বের আহকাম থেকে অবসর হয়ে তামাত্তুকারী কিংবা কিরান কিংবা মুফরিদ কেউ ওমরা করে নিতে পারবে। স্মরণ রাখুন! আইয়্যামে তাশরিকে (অর্থাৎ ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩) জুলহিজ্জাহ মাসের উক্ত পাঁচ দিনে ওমরা করা মাকরূহে তাহরিমী, আর যদি ওমরা করে থাকে দম আবশ্যক হবে।

প্রশ্ন: আরব শরীফের বিভিন্ন জায়গা, যেমন: দামাম এবং রিয়াদ ইত্যাদিতে বসবাসকারী যারা মীকাত থেকে বাহিরে বসবাস করে, তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি নেই। তারা পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ইহরাম ব্যতীত মীকাত থেকে অতিক্রম করে ইহরাম বাঁধে এবং হজ্ব করে, তাদের জন্য কি হুকুম?

উত্তর: (১) আইন এর বিরোধীতা করে নিজেকে নিজে লাঞ্চনায় উপস্থাপন করা বৈধ নয়। (২) ইহরাম ব্যতীত মীকাত থেকে সামনে অতিক্রম করার কারণে আওফ (অর্থাৎ মীকাত পর্যন্ত পুনরায় ফিরে এসে ইহরাম বাঁধা) অথবা দম ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ যদি পূর্বের অবস্থায় হজ্ব অথবা ওমরা করে নিল তবে দম ওয়াজিব হবে এবং গুনাহগার হবে এবং যদি এখন হজ্ব কিংবা ওমরা এর কার্যসমূহ শুরু করা ব্যতীত ঐ বছরে মীকাত পর্যন্ত ফিরে এসে যে কোন প্রকারের ইহরাম বাঁধে, তবে দম বাতিল হয়ে যাবে, আর না হলে হবে না।

প্রশ্ন: হজ্ব ওমরার সাঈর পূর্বে মাথা মুন্ডিয়ে নিল কয়েক দিন অতিবাহিত হয়ে গেল কি করবে?

উত্তর: হজ্বের মধ্যে মাথা মুন্ডানোর সময় সাঈর পূর্বেই হয়ে থাকে অর্থাৎ (মাথা) মুন্ডানোর পূর্বে সাঈ করা সুন্নাতের পরিপন্থি সুতরাং কেউ যদি সাঈর পূর্বে মাথা মুন্ডিয়ে ফেলল, তবে কোন সমস্যা নেই এবং কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও অতিরিক্ত কিছু সাব্যস্ত হবে না। কেননা সাঈর জন্য কোন শেষ সময় নির্ধারিত নয়। তবে যদি সাঈ করা ব্যতীত ঘরে ফিরে আসে তাহলে ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে দম সাব্যস্ত হবে, অতঃপর যদি সে ফিরে এসে সাঈ করে নেয়, তবে দম বাতিল হয়ে যাবে বরঞ্চ উত্তম হচ্ছে যে, সে দম দিবে। কেননা এটার মধ্যে ফকীরদের উপকার রয়েছে। এই হুকুম তখনই হবে, যখন মাথা মুন্ডানো নিজের সময় অর্থাৎ আইয়ামে নহরে দশ তারিখের কংকর নিক্ষেপ করার পর করিয়েছিল, যদি কংকর নিক্ষেপ করে অথবা আইয়ামে নহরের পরে মাথা মুন্ডিয়েছিল, তাহলে দম ওয়াজিব হবে। অতঃপর যদি সম্পূর্ণ অথবা তাওয়াফ এর অধিকাংশ অর্থাৎ চার চক্কর দিয়েছিল, তাহলে ইহরাম থেকে বের হয়ে যাবে, না হলে নয়। কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার কারণেও সাঈ বাতিল হবে না। কেননা এটা ওয়াজিব। সুতরাং তাকে সাঈ করতে হবে।

প্রশ্ন: যে ব্যক্তি ইফরাদ হজ্ব এর নিয়্যত করেছে, কিন্তু ওমরা করে ইহরাম খুলে ফেলেছে তার উপর কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে কি এবং এখন সে কি করবে?

উত্তর: হজ্বের ইহরাম ওমরা করে খুলে ফেলা বৈধ নয় এবং এভাবে করলে ঐ ব্যক্তি ইহরাম থেকে বাহির হবে না বরঞ্চ এখন ও সে মুহরিম থাকবে। তার জন্য আবশ্যক যে, সে হজ্বের কর্মসমূহ আদায় করার পর ইহরাম খুলে ফেলবে। হজ্বের আহকাম সমূহ আদায় করা ব্যতীত ইহরাম খুলে ফেলার নিয়্যত করে নেয়া যথেষ্ট নয়। সুতরাং যখন তার ইহরাম অবশিষ্ট থাকবে তখন যদি নিষিদ্ধ বিষয় গুলো থেকে একটি করার কারণে কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে। তবে কাফ্‌ফারা শুধু একটাই অপরিহার্য হবে, যদিওবা ইহরাম নিষিদ্ধ হওয়ার সমস্ত কার্যাবলি করে ফেলে। যেমন: সেলাই করা কাপড় পরিধান করে নিল, খুশবু লাগিয়ে নিল, মাথা মুন্ডায়ে নিল ইত্যাদি। এ সমস্ত কাজের জন্য একটাই দম আবশ্যক হবে। এখন তার জন্য আবশ্যক হচ্ছে সেলাইকৃত কাপড় খুলে পুনরায় সেলাইবিহীন ইহরামের কাপড় পরিধান করবে, তাওবা করবে এবং পূর্বের হজ্বের ইহরামের নিয়্যত করে হজ্বের আরকান সমূহ পূর্ণ করবে।

প্রশ্ন: যে ব্যক্তি ঈদুল আযহার কুরবানী করতে চায়, সে যদি জিলহজ্জের চাঁদ উদিত হওয়ার পর ইহরাম বাঁধে, তবে নখ এবং অপ্রয়োজনীয় চুল ইত্যাদি কাটবে কিনা? কেননা এই দিনগুলোতে তার জন্য নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। তার জন্য কোন আমল করাটা উত্তম?

উত্তর: হাজীর যদি প্রয়োজন হয়, তবে তার জন্য নখ ও চুল কাটা মুস্তাহাব, স্বরণ রাখবেন! যদি এত দিন অতিবাহিত হয়ে গেল যে, এখন নখ এবং চুল কাটা ব্যতীত ইহরাম বেঁধে নিলে চল্লিশ (৪০) দিন হয়ে যাবে, তবে এখন কাটা আবশ্যক কেননা চল্লিশ (৪০) দিন থেকে অতিরিক্ত দেরী করা গুনাহ।

প্রশ্ন: তবে কি ১৩ই জিলহজ্জ থেকে ওমরা শুরু করে দেওয়া হবে?

উত্তর: জ্বি, না। আইয়্যামে তাশরীক অর্থাৎ ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩ই জিলহজ্জ এই পাঁচ দিনে ওমরার ইহরাম বাঁধা মাকরূহে তাহরীমি। যদি বাঁধে তবে দম অপরিহার্য হবে। (দুররে মুখতার, ৩য় খন্ড, ৫৪৭ পৃষ্ঠা) ১৩ তারিখের সূর্যাস্তের পর ইহরাম বাঁধাতে পারে


প্রশ্ন: মক্কার বসবাসকারী যারা এই বছর হজ্ব করেনি তারও কি এই দিবস গুলোতে (অর্থাৎ ৯ থেকে ১৩) ওমরা করতে পারবে না?

উত্তর: তাদের জন্যও এই দিনগুলোতে ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা করা মাকরূহে তাহরীমি। আফাকী, হিল্লী এবং মীকাতী সবার জন্য আসল নিষেধাজ্ঞা হল এই দিনগুলোতে ওমরার ইহরাম বাঁধা। ওমরার সময় সারা বছর কিন্তু পাঁচ দিন ওমরা বাঁধা মাকরূহে তাহরীমি, আর যদি ৯ তারিখের পূর্বে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় এই পাঁচ দিনে ওমরা করলে সমস্যা নেই এবং এই অবস্থায় মুস্তাহাব হচ্ছে এই দিনগুলো (৯ থেকে ১৩) অতিবাহিত করে ওমরা করা। (লুবাবুল মানাসীক, ৪৬৬ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: আশহুরী হজ্বে (হজ্বের মাস সমূহে) যদি কেউ হিল্লী অথবা হারমী ওমরাও করে এবং হজ্বও করে তবে এর ব্যাপারে কি হুকুম রয়েছে?

উত্তর: এভাবে হজ্বকারীর উপর দম সাব্যস্ত হবে, কেননা তাকে হজ্বে ইফরাদ করার অনুমতি রয়েছে যার মধ্যে ওমরা অন্তর্ভূক্ত নয়। বরঞ্চ সে শুধু ওমরা করতে পারবে।

প্রশ্ন: ইহরামে খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধৌত করা কেমন? না ধোইলে ময়লা পেটে যাবে এবং পরে না ধোইলে হাত পিচ্ছিল এবং দুর্গন্ধযুক্ত থেকে যাবে, কি করা যায়?
উত্তর: উভয় বার সাবান ইত্যাদি ব্যতিত হাত ধোয়ে নিন, যদি কোন অমোচনীয় কালি অথবা পিচ্ছিলতা হাতে লেগে থাকে, তবে প্রয়োজনে কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। কিন্তু লোম যেন না ভাঙ্গে এই ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করুন।

প্রশ্ন: ওযু করার পরে মুহরিম ব্যক্তির রুমাল দ্বারা হাত পরিষ্কার করা কেমন?
উত্তর: মুখে কাপড় লাগাতে পারবে না। শরীরের (পুরুষেরা মাথায়ও) অপর অঙ্গ সমূহেও এভাবে সতর্কতার সাথে পরিষ্কার করে নিবেন, যেন ময়লাও না থাকে আর লোমও টপকে না পড়ে।

প্রশ্ন: মুহরিমা মুখে এমন নেকাব লাগাল যা দ্বারা তার চেহারা স্পর্শ হয় না, তার অনুমতি আছে কিনা?
উত্তর: যদি চেহারায় স্পর্শ না হয়, তখন নেকাব লাগাতে পারবে। তারপরও তাতে কয়েকটি মাসআলার সৃষ্টি হয়। যেমন বাতাস চলল কিংবা ভুলে নিজ হাত নেকাবে লেগে যায় এবং কিছুক্ষণের জন্য নেকাব সমস্ত চেহারায় লেগে যায়, তখন তার সদকা দেয়া আবশ্যক হবে।

প্রশ্ন: হলক করানোর সময় মুহরিম নিজ মাথায় সাবান লাগাবে কিনা?
উত্তর: সাবান লাগাবেন না। কেননা তখন ময়লা বের হবে, আর ইহরামকালীন ময়লা দূরীভূত করা হারাম।

প্রশ্ন: ঋতুবতী মহিলা ঋতুকালীন ইহরামের নিয়্যত করতে পারে কিনা?
উত্তর: করতে পারে। তবে ইহরামের নফল নামায আদায় করতে পারবে না, আর তাওয়াফও পবিত্র হওয়ার পরে করবে।

প্রশ্ন: সেলাইযুক্ত চপ্পল পরিধান করা কেমন?
উত্তর: পায়ের মধ্যখানে উচ্চ অংশটি আবৃত না হলে জায়িয হবে।

প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় গিরা বা সেপ্টিপিন অথবা বোতাম লাগানো কেমন?
উত্তর: সুন্নাতের পরিপন্থি। লাগানো ব্যক্তি মন্দ কাজ করল, অবশ্য দম ইত্যাদি ওয়াজিব নয়।

প্রশ্ন: সাধারণত হাজীগণ সতর্কতাবশতঃ একটি দম আদায় করে থাকে, এটা কেমন হয়, আর যদি পরে জানা হয় যে, বাস্তবেই একটি দম ওয়াজিব হয়েছিল। তখন ঐ সতর্কতাবশতঃ দম তার জন্যে যথেষ্ট হবে কিনা?
উত্তর: ওয়াজিব হওয়ার পরে আদায় করল, তাই যথেষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু সতর্কতা মূলক দম দেয়ার পর দম ওয়াজিব হল তাহলে যথেষ্ট হল না।

প্রশ্ন: মুহরিম নাক কিংবা কানের ময়লা দূরীভূত করতে পারবে কিনা?
উত্তর: অযুর মধ্যে নাকের নরম হাড্ডি পর্যন্ত প্রতিটি লোমে পানি পৌছানো সুন্নাতে মুআক্কাদা এবং গোসলের মধ্যে ফরয। অতএব নাকের ময়লা জমে শুকিয়ে গেলে তা বের করতে হবে, আর চোখের পলকের মধ্যে পাপড়ী শুকিয়ে গেছে সেটাও অযু এবং গোসলের মধ্যে ধোয়া ফরয। কিন্তু এই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যাতে লোম না ভাঙ্গে। বাকি রইল কানের ময়লা পরিষ্কার করা। এর অনুমতি কেউ দেয়নি। অতএব এটার হুকুম সেটাই যা শরীরের রয়েছে। অর্থাৎ এটা পরিষ্কার করা মাকরূহে তানযিহী। কিন্তু এই সর্তকতা জরুরী যেন লোম বা চুল না ঝড়ে।

প্রশ্ন: নিজ জীবিত পিতা মাতার জন্যে ওমরা করতে পারে কিনা?
উত্তর: করতে পারে। ফরয নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত হোক কিংবা কোন নফলী কাজের, প্রত্যেক প্রকারের সাওয়াব জীবিত হোক কিংবা মৃত সকলকে ইছালে সাওয়াব করতে পারে।

প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় উকুন মারার কাফ্‌ফারা বর্ণনা করুন।
উত্তর: নিজের উকুন নিজের শরীর কিংবা কাপড়ে মেরে ফেলল কিংবা নিক্ষেপ করে দিল। তখন উকুন একটি হলে রুটির একটি টুকরা, আর দুই কিংবা তিনটি হলে এক মুষ্টি আনাজ আর এর চেয়ে বেশী হয়, তাহলে সদকা। উকুন গুলো মারার জন্য মাথা অথবা কাপড় ধৌত করল অথবা রোদে দিল তখন সেটাই কাফ্‌ফারা যা মারার মধ্যে রয়েছে। অন্য কেউ তার আদেশে তার উকুন মারল তখনও মুহরিমের উপর কাফ্‌ফারা রয়েছে। যদিও দমনকারী ইহরামের অবস্থায় না হয়। মাটি ইত্যাদিতে পড়ে থাকা উকুন, অন্যের শরীরে অথবা কাপড়ের উকুন মারাতে তার উপরে কোন হুকুম নেই। যদি ঐ ব্যক্তিও মুহরিম হয়।

হজ্বে আকবর (আকবর হজ্ব)

প্রশ্ন: জুমার দিন যে হজ্ব হয়, তাকে হজ্বে আকবর বলা কেমন?
উত্তর: কোন সমস্যা নেই। যেমনিভাবে ১০ম পারায় সূরা তাওবা এর ৩নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَ اَذَانٌ مِّنَ اللّٰہِ وَ رَسُوۡلِہٖۤ اِلَی النَّاسِ یَوۡمَ الۡحَجِّ الۡاَکۡبَرِ

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং ঘোষণাকারী ঘোষণা দিচ্ছে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে সমস্ত লোকের মধ্যে মহান হজ্বের দিনে। (পারা: ১০, সূরা: তাওবা, আয়াত: ৩)

সদরুল আফাযিল, হযরত আল্লামা মাওলানা সায়্যিদুনা মুহাম্মদ নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ এই আয়াতে কারীমার ব্যাপারে উল্লেখ করেন: হজ্বকে হজ্বে আকবর বলেছেন এই কারণে যে, ঐ সময়ে ওমরাকে হজ্বে আসগর (ছোট হজ্ব) বলা হত এবং এক বর্ণনা এই যে, ঐ হজ্বকে হজ্বে আকবর এই জন্যেই বলা হয়েছে যে ঐ রছরে রাসুলে করীম, রউফুর রহীমصَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم হজ্ব করেছিলেন এবং এই হজ্ব জুমার দিন হয়েছিল। এই জন্য মুসলমানরা সেই হজ্বকে, যেটা জুমার দিন হয়। বিদায় হজ্বের মুযাক্কির (অর্থাৎ স্মরণ করিয়ে দেয়ার) জন্য হজ্বে আকবর বলে। নবী করীম صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “দিনসমূহের মধ্যে উত্তম হচ্ছে ঐ আরাফার দিন যা জুমার দিনের সাথে মিলে যায় এবং সেই দিনের হজ্ব সেই সত্তর হজ্বের চেয়ে উত্তম যা জুমার দিন হয়না।” (ফাতহুল বারী, ৯ম খন্ড, ২৩১ পৃষ্ঠা, হাদীসের ব্যাখ্যা: ৪৬০৬)

আরব শরীফে কর্মরতদের জন্য

প্রশ্ন: মক্কায়ে মুকাররমায় কর্মরত ব্যক্তি কিংবা সেখানের স্থায়ী বাসিন্দা যদি তায়িফ শরীফ গমন করে। তখন প্রত্যাবর্তনকালে তাকে হজ্ব ও ওমরার ইহরাম বাঁধা জরুরী কিনা?
উত্তর: এই নিয়মটি স্মরণ রাখুন যে, মক্কাবাসী যদি কোন কাজের উদ্দেশ্যে “হেরমের সীমানার” বাইরে যায়। তবে মীকাতের ভিতরেই (যেমন জিদ্দা শরীফ) থাকে, তখন সে ফিরে আসাতে ইহরামের প্রয়োজন নেই, আর যদি “মীকাতের” বাইরে (যেমন মদীনায়ে পাক, তায়িফ, রিয়াদ ইত্যাদি) যায় তখন ইহরাম ছাড়া প্রত্যাবর্তন হওয়া জায়িয নেই।

ইহরাম না বাঁধে তো হিলা

প্রশ্ন: যদি কোন ব্যক্তি জিদ্দা শরীফে কাজ করে তখন নিজের ঘর যেমন বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য জিদ্দা শরীফ আসল। তখন তার কি ইহরাম করা আবশ্যক হবে?
উত্তর: যদি জিদ্দা শরীফে যাওয়ার নিয়্যত ছিল। তখন তার ইহরাম করার প্রয়োজন নেই। বরং এখন জিদ্দা শরীফ থেকে মক্কায়ে মুকাররমায় যেতে হলে ইহরাম ব্যতীত যেতে পারবেন। তাই যে ব্যক্তি হারাম শরীফে ইহরাম ব্যতীত যেতে চায়, সে হিলা করতে পারে তবে শর্ত হল বাস্তবিকই তার ইচ্ছা ছিল প্রথমেই সেখানে যাওয়া। যেমন জিদ্দা শরীফ যাওয়া ছিল। আর মক্কায়ে মুকাররমা হজ্ব ও ওমরার ইচ্ছায় সে যাচ্ছে না। যেমন ব্যবসার জন্যে জিদ্দা শরীফ যায়, আর নিজ কাজ থেকে অবসর হয়ে মক্কায়ে মুকাররমা যাওয়ার ইচ্ছা করল, আর যদি প্রথম থেকেই মক্কায়ে মুকাররমা যাওয়ার ইচ্ছা করে, তখন কিন্তু ইহরাম ছাড়া যেতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষে বদলী হজ্ব করতে যায় তার জন্যে এই হিলা করা জায়িয নেই।

হজ্ব কিংবা ওমরার জন্য আর্থিক সহযোগীতা চাওয়া কি?

প্রশ্ন: কতিপয় মিসকিন আশিক তার ইশকের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে হজ্ব কিংবা ওমরা করার জন্য মানুষের নিকট আর্থিক সাহায্য চায়। ইহা কি জায়িয?
উত্তর: ইহা হারাম। সদরুল আফাযিল মাওলানা নঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বর্ণনা করেন যে, ইয়ামেনের কতিপয় লোক সম্পদহীন হয়ে হজ্বের সফরে যায়, আর তারা নিজেদেরকে মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরশীল) বলে দাবী করে। তারা মক্কায়ে মুকাররমা গিয়ে সুওয়াল (ভিক্ষাবৃত্তি) করা আরম্ভ করে দেয়, আবার কখনো তারা পর সম্পদ আত্মসাৎ ও খেয়ানতে লিপ্ত হয়ে যেত। তাদের ব্যাপারে নিম্নের আয়াতে মুকাদ্দাসা পূর্বেই বর্ণিত হয়েছিল, আর নির্দেশ হল তোমরা হজ্বে সম্পদসহ যাও।
আর অন্যের উপর বোঝা চেপে দিওনা। ভিক্ষা থেকে বিরত থাক। নিশ্চয় উত্তম সম্পদ হল খোদাভীতি অবলম্বন করা, আর আয়াতে মুকাদ্দাসা এই

وَ تَـزَوَّدُوۡا فَاِنَّ خَيۡرَالـزَّادِ التَّقۡوٰي 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: তোমরা সম্পদ সঙ্গে নাও। আর সকলের চেয়ে উত্তম সম্পদ হল খোদাভীতি অবলম্বন করা। (পারা: ২, সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৯৭)

সুলতানে মদীনা صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “যে সকল ব্যক্তি মানুষের নিকট ভিক্ষা করে অথচ তার কোন অভাব নেই। অধিক সন্তানও নেই যে, সে মূলত সক্ষম ব্যক্তি। কিয়ামতের দিন এভাবেই সে হাজির হবে, যে তার মুখে মাংস থাকবে না।”(শুআবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ২৭৪ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩৫২৬)
মদীনার প্রেমিকরা! ধৈর্য্যধারণ করুন! ভিক্ষার নিষেধাজ্ঞায় কঠোর গুরুত্ব রয়েছে, আর ফুকাহায়ে কিরাম رَحِمَهُمُ اللهُ السَّلام অতটুকু লিখেছেন যে: গোসলের পরে ইহরাম বাঁধার পূর্বে নিজ শরীরে সুগন্ধি লাগিয়ে নিন। তবে শর্ত হল নিজের কাছে বিদ্যমান থাকতে হবে, আর যদি নিজের কাছে না থাকে তখন অন্যের নিকট তালাশ করিওনা। কেননা ইহাও এক প্রকার ভিক্ষা। (রাদ্দুল মুহতার, ৩য় খন্ড, ৫৫৯ পৃষ্ঠা)

জব বুলাইয়া আক্বা নে, খুদ হি ইনতিজাম হো গেয়ি।

صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد

ওমরার ভিসায় হজ্বের জন্য অপেক্ষা করা কেমন?

প্রশ্ন: কিছুলোক নিজ দেশ থেকে রমজানুল মুবারকে ওমরার জন্য ভিসা নিয়ে হারামাইন তৈয়্যেবাইনে গমন করে। ভিসার সময়কাল শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ওখানে থেকে যায়। কিংবা হজ্ব করে নিজ দেশে চলে যায়, তাদের এ কাজ শরীয়াত মতে সঠিক কিনা?
উত্তর: দুনিয়ার সকল দেশের নিয়ম কানুন এই যে, ভিসা ছাড়া অন্য দেশের কোন লোককে, দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না। আর হারামাঈনে তৈয়্যেবাইনেও এই একই নীতি।
ভিসার মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থানকারী ব্যক্তি যদি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সে ইহরাম অবস্থায় থাকলেও তাকে বন্দি করে নেয়া হয়। তখন তাকে আর হজ্বও করতে দেয়া হয় না। ওমরার সুযোগও দেয়া হয় না বরং শাস্তি দিয়ে তাকে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মনে রাখবেন! যে আইনের বিরোধিতা করলে লাঞ্চনা, ঘুষ, মিথ্যা ইত্যাদি বিপদে পড়ার আশঙ্খা রয়েছে সেই আইনের বিরোধিতা করা জায়েয নেই। সুতরাং আমার আক্বা আ’লা হযরত ইমামে আহ্‌লে সুন্নাত মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: মুবাহ (অর্থাৎ জায়েয) বিষয়ের মধ্যে থেকে কিছু বিষয় আইনগত ভাবে অপরাধ হয়ে থাকে। তবে জড়িত হওয়া (অর্থাৎ এভাবে আইনের বিরোধিতা করা) নিজের সত্বাকে কষ্ট ও লাঞ্চনার জন্য সম্মুখিন করা, আর এটা না-জায়েয। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ১৮তম খন্ড, ৩৭০ পৃষ্ঠা) সুতরাং visa ছাড়া দুনিয়ার যে কোন দেশে থাকা কিংবা হজ্বের জন্য অবস্থান করা জায়েয নেই। অবৈধ পদ্ধতিতে হজ্বের জন্য অবস্থান করাকে مَعَاذَ اللہ عَزَّوَجَلَّ আল্লাহ ও রাসুল عَزَّوَجَلَّ وَ صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দয়া মনে করা কঠিন স্পর্ধা।

অবৈধভাবে হজ্বকারীদের নামাযের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা

প্রশ্ন: হজ্বের জন্য ভিসা ছাড়া অবস্থানকারী নামায সম্পূর্ণ পড়বে অথবা ক্বসর?
উত্তর: ওমরার ভিসায় গিয়ে অবৈধভাবে হজ্বের জন্য অবস্থান করা অথবা পৃথিবীর যে কোন দেশে visa এর সময় পূর্ণ হওয়ার পর অবৈধভাবে থাকার যার নিয়্যত রয়েছে, যেই শহর বা গ্রামে মুকিম হবে সেখানে যতক্ষণ থাকবে তার জন্য মুকিমের আহকাম বর্তাবে, যদিও বা বছরের পর বছর যেখানে অবস্থান করে, বরঞ্চ একবারও যদি ৯২ কি:মি: অথবা এর চেয়ে বেশী দূরত্বের সফর করার ইচ্ছায় ঐ শহর অথবা গ্রাম থেকে বের হয়, তাহলে নিজের বাসস্থান থেকে বাহির হতেই মুসাফির হয়ে গেল। এখন তার ইকামতের নিয়্যত অনর্থক। উদাহারণ স্বরূপ কোন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে ওমরার ভিসায় মক্কা মুকাররমা গেল, আর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় মক্কা শরীফেই মুকীম রয়েছে। তবে তার উপর মুকীমের আহকাম বর্তাবে। এখন যদি উদাহরণ স্বরূপ সেখান থেকে মদীনাতুল মুনাওয়ারা زَادَہَا للہُ شَرَفًا وَّ تَعۡظِیۡمًا চলে আসল, চাই বছরের পর বছর অবৈধভাবে অবস্থান করুক, মুসাফির থাকবে। এমনকি পুনরায় মক্কা মুকাররমায় زَادَہَا للہُ شَرَفًا وَّ تَعۡظِیۡمًا চলে আসা সত্ত্বেও মুসাফির থাকবে। তাকে নামায ক্বসর পড়তে হবে। তবে পুনরায় ভিসা যদি পেয়ে যায়, তবে ঐ অবস্থায় ইকামতের নিয়্যত করতে পারবে।

হেরেমের মধ্যে কবুতর এবং ফড়িংকে উড়ানো, কষ্ট দেওয়া

প্রশ্ন: হেরেমের কবুতর এবং ফড়িংকে অযথা উড়ানো কেমন?
উত্তর: আ’লা হযরত رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: হেরেমের কুবতর উড়ানো নিষেধ। (মালফুযাতে আ’লা হযরত, ২০৮ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: হেরেমের কবুতর এবং ফড়িংকে কষ্ট দেওয়া কেমন?
উত্তর: হারাম। সদরুশ শরীয়াহ رَحۡمَۃُ اللہِ تَعَالٰی عَلَیْہِ বলেছেন: হেরেমের পশু শিকার করা অথবা তাকে কোন কষ্ট দেওয়া হারাম। মুহরিম এবং গাইরে মুহরিম উভয় একই হুকুমের অন্তর্ভূক্ত। (বাহারে শরীয়াত, ১ম খন্ড, ১১৮৬ পৃষ্ঠা)

প্রশ্ন: মুহরিম কবুতর জবাই করে কি খেতে পারবে?
উত্তর: বাহারে শরীয়াতের প্রথম খন্ডের ১১৮০ পৃষ্ঠায় রয়েছে: মুহরিম জঙ্গলের জানোয়ারকে জবাই করলো, তবে হালাল হলনা বরং মৃত এটাই যে, জবাই করার পর তাকে খেয়ে ফেলল যদিও বা কাফ্‌ফারা দেওয়ার পর খেয়েছে। তাহলে পুনরায় খাওয়ার কাফ্‌ফারা দিবে এবং যদি না দিয়ে থাকে তাহলে একটা কাফ্‌ফারাই যথেষ্ট।

প্রশ্ন: হেরেমের ফড়িং ধরে খেতে পারবে কিনা?
উত্তর: হারাম (তবে ফড়িং হালাল মৃত মাছের মত খেতে পারবে এটাকে জবাই করার প্রয়োজন নেই)।

প্রশ্ন: মসজিদুল হারাম এর বাইরে মানুষের পায়ের নিচে পিষ্ট হওয়া আহত এবং মৃত অসংখ্য ফড়িং থাকে, যদি এই ফড়িং গুলোকে খেয়ে নেয় তবে হুকুম কি?
উত্তর: যদি কেউ ফড়িং খেয়ে নেয় তবে তার উপর কোন কাফ্‌ফারা আবশ্যক হবে না। কেননা হেরেমে শিকারকৃত ঐ জানোয়ার খাওয়া হারাম, যা শরয়ী নিয়মে জবাই করলে হালাল হয়ে যাবে। যেমন: হরিণ ইত্যাদি, আর এমন শিকার হারাম হওয়ার কারণ হল হেরেমে শিকার করলে সেই জানোয়ার মৃত সাব্যস্ত হয়, আর মৃত প্রাণী খাওয়া হারাম। ফড়িং কে খাওয়া এই জন্য হালাল, যেহেতু ফড়িংকে জবেহ করা শরীয়তে শর্ত নেই। এটাকে যেভাবেই জবাই করা হোকনা কেন হালাল হবে। যেভাবে পায়ের নিচে পিষ্ট করে অথবা গলায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে মারা হোক। তারপরও হালাল হবে। তবে স্মরণ রাখুন যে, ইচ্ছাকৃত ফড়িং শিকার করার অনুমতি হেরেম শরীফে নেই।

প্রশ্ন: হেরেমের স্থলের জঙ্গলের পশুকে জবাই করার কাফ্‌ফারা বলে দিন।
উত্তর: ইহার কাফ্‌ফারা হল ইহার সমপরিমাণ মূল্য সদকা করা।

প্রশ্ন: হেরেমের মুরগী জবাই করা এবং খাওয়া কেমন?
উত্তর: হালাল। ঘরোয়া পশু যেমন মুরগী, ছাগল, গরু, মহিষ, উট ইত্যাদি জবাই করা এবং তার মাংস খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। তবে জঙ্গলী পশু শিকার করার নিষেধাজ্ঞা আছে।

প্রশ্ন: মসজিদুল হেরেমের বাইরে অনেক ফড়িং থাকে, যদি কোন ফড়িং পা কিংবা গাড়িতে পিষ্ট হয়ে আহত বা নিহত হল তবে?
উত্তর: কাফ্‌ফারা দিতে হবে। বাহারে শরীয়তের ১ম খন্ড, ১১৮৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে: ফড়িংও স্থলের জানোওয়ার। তাকেও মারলে কাফ্‌ফারা দিবে, আর একটি খেজুরই কাফ্‌ফারা দেওয়া যথেষ্ট। ১১৮১ পৃষ্ঠায় রয়েছে: কাফ্‌ফারা আবশ্যক হওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃত হত্যা করা শর্ত নয়। অনিচ্ছাকৃত ভাবে মারা গেলেও কাফ্‌ফারা দিতে হবে।

প্রশ্ন: মসজিদুল হারামে অসংখ্যা ফড়িং থাকে। খাদেম পরিষ্কার করার সময় ওয়েপার ইত্যাদি দ্বারা দয়াবিহীন হেচড়াতে থাকে, যার কারণে আহত হয় ও নিহত হয়। যদি তা না করে তবে কিভাবে পরিষ্কার করবে। ঠিক সেভাবেই শুনেছি কবুতরের সংখ্যা কমানোর জন্য তাদেরকে ধরে কোন দূরে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসে অথবা খেয়ে ফেলে।
উত্তর: ফড়িং যদি এতো অধিক যে তাদের কারণে সমস্যা হয়ে থাকে তবে সেগুলোকে মারলে সমস্যা নেই, তা না হলে ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে। তা ইচ্ছাকৃত হত্যা করুক অথবা অনিচ্ছাকৃত হত্যা করুক। হেরেমের কবুতর ধরে জবাই করে দিলে ক্ষতিপূরণ আবশ্যক হবে। ঠিক সেভাবেই হেরেমের বাইরেও ছেড়ে আসলেও ক্ষতিপূরণ আবশ্যক। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের শান্তির সাথে হেরেমে চলে আসার বিষয়টা জানা না যায়। উভয় অবস্থায় ক্ষতিপূরণ কবুতরের সমপরিমাণ মূল্য এবং সেটা দ্বারা ঐ মূল্য যে সেখানে এই সমস্ত বিষয়াদি পরিচিতি এবং দৃশ্যাবলোকনকারী দু’জন ব্যক্তি বর্ণনা করবে এবং যদি দু’জন ব্যক্তি পাওয়া না যায়, তবে এক জনের কথা বিশ্বাস করে নেওয়া হবে।

প্রশ্ন: হেরেমের মাছ খাওয়া কেমন?
উত্তর: মাছ স্থলের পশু নয়। তাকে খেতে পারেন এবং প্রয়োজনে শিকারও করতে পারেন।

প্রশ্ন: হেরেমের ইঁদুরকে মেরে ফেললে কি কাফ্‌ফারা রয়েছে?
উত্তর: কোন কাফ্‌ফারা নেই। তাকে মারা জায়েয। বাহারে শরীয়তের ১ম খন্ডের ১১৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে: কাক, চিল, বাঘ, বিচ্ছু, সাপ, ইঁদুর, এমন কুকুর যেটা কামড় দিয়ে থাকে, বিচ্ছুর মত পোকা, মশা, কচ্ছপ, কাঁকড়া, প্রজাপতি, কামড় দেয় এমন পিঁপড়া, মাছি, টিকটিকি এবং হাশরাতুল আরদ অর্থাৎ পোকা-মাকড়, বেজী, শিয়াল, খেক শিয়াল যখন এই ধরনের হিংস্র প্রাণী আক্রমন করে অথবা যে পশু এমন হয় যা প্রথমেই আক্রমণ করে, যেমন: সিংহ, চিতা, তেন্দওয়া, এমন পশু যা চিতা বাঘের মত হয়ে থাকে। এগুলোকে মারতে কোন ক্ষতি নেই। অনুরূপ ভাবে পানির সমস্ত প্রাণীদের জবাই করাতে কাফ্‌ফারা হয় না।

صَلُّوْا عَلَی الۡحَبِیۡب! صَلَّى اللہُ تَعَالٰی عَلٰی مُحَمَّد

হারামের গাছ-পালা কাটা

প্রশ্ন: হারামে শরীফে গাছ-পালা কাটার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা দান করুন।
উত্তর: দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃত প্রকাশিত ১২৫০ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত”এর ১১৮৯-১১৯০ পৃষ্ঠার কিছু মাসআলা অবলোকন করুন। হারামের গাছপালা ৪ প্রকারের রয়েছে। (১) কেউ সেটা রোপন করেছে এবং সেটা এমন গাছ অন্যান্য মানুষরাও রোপন করে। (২) রোপন করেছে কিন্তু এ রকম না যেটা মানুষ রোপন করে। (৩) কেউ সেটাকে রোপন করেনি, কিন্তু এরকম যেটাকে লোকেরা রোপন করে। (৪) রোপন করেনি, না ঐ রকম গাছ কেউ রোপন করে। প্রথমত তিন প্রকারকে কাটা ইত্যাদিতে কিছু নয় অর্থাৎ জরিমানা নেই। বাকি রইল, এই কথা সে যদি কারও দেশে আছেন, তাহলে মালিক ক্ষতিপূরন নিবে। ৪র্থ প্রকারে জরিমানা দিতে হবে এবং যদি কারও দেশে হয়, তাহলে ক্ষতিপূরন নিবে এবং জরিমানা ঐ সময়ই আছে যখন ভেঙ্গে যায় অথবা উত্তোলনকৃত না হয়। জরিমানা এটাই যে, ওটার দামের শষ্য মিসকীনের উপর সম্পূর্ণ করে প্রত্যেক মিসকীনকে একটি সদ্‌কা, আর যদি শষ্যের দাম সম্পূর্ণ সদ্‌কা থেকে কম হয়, তাহলে এক মিসকীনকেই দিয়ে দিবে। আর তার জন্য হারামের মিসকীন হওয়া জরুরি নয়, আর এটাও হতে পারে যে সম্পূর্ণ মূল্যই সদ্‌কা করে দেয়। অথবা এমনও করা যেতে পারে ঐ মূল্যের পশু ক্রয় করে হারামে জবাই করে দিবে রোযা রাখা যথেষ্ট নয়। মাসআলা ৩: যে গাছ শুকিয়ে গেছে সেটা উত্তোলন করতে পারবে এবং তা দ্বারা উপকার গ্রহণ করা যাবে। মাসআলা ৫: গাছের পাতা ভাঙ্গলে যদি গাছের কোন ক্ষতি না হয়, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। অনুরূপভাবে যে গাছ বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটাকেও কাটলে জরিমানা হবে না। যদি মালিক থেকে অনুমতি নিয়ে নেয়, তাহলে তাকে তার মূল্য দিয়ে দেয়। মাসআলা ৬: কিছু লোক একত্রিত হয়ে যদি গাছ কাটে, তাহলে একজনই ক্ষতিপূরন দিবে। যা সবার উপর ভাগ হয়ে যাবে। সবাই মুহরিম হোক অথবা মুহরিম না হোক, অথবা কিছু মুহরিম হোক অথবা কিছু মুহরিম না হোক। মাসআলা ৭: হেরেমের পিলু অথবা অন্য কোন গাছের মিসওয়াক বানানো বৈধ নয়। মাসআলা ৯: নিজে অথবা জীব-জন্তু চলতে অথবা তাবু স্থাপন করতে কিছু গাছ কেটে থাকে (অর্থাৎ নষ্ট হতে থাকে) তবে সমস্যা নেই। মাসআলা ১০: ফতোয়া এটাই যে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ঐখানকার ঘাস জানোয়ার কে খাওয়ানো বৈধ। এছাড়া কাটা, উপরে ফেলা এগুলোর হুকুম উহাই হবে, যা গাছের এবং শুকনা ঘাস ব্যতীত তা থেকে প্রত্যেক প্রকারের উপকারীতা অর্জন করা বৈধ। খুটি ভাঙ্গাতে এবং তুলে ফেলাতে কোন সমস্যা নেই।

মীকাত থেকে ইহরাম ব্যতীত অতিক্রম করা সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: যদি কোন আফাকী মীকাত থেকে ইহরাম না বেঁধে ওমরা করে নেয়, তবে তার হুকুম কি?
উত্তর: যদি মক্কা মুকাররমার ইচ্ছায় কোন আফাকী চলে এবং মীকাতে ইহরাম ব্যতীত প্রবেশ করে ফেলে, তবে তার উপর দম ওয়াজিব হবে। এখন মসজিদে আয়িশা থেকে ইহরাম বাঁধা যথেষ্ট নয়। হয়তো দম দেবে অথবা আবার মীকাত থেকে বাইরে যাবে এবং ওখান থেকে ওমরা ইত্যাদির ইহরাম বেঁধে আসবে তখন দম রহিত হয়ে যাবে।

♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥♥
লিখাটি আমিরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত হজ্ব ও ওমরা সম্পর্কিত  রফিকুল হারামাঈন (হজ্ব ও ওমরার পদ্ধতি ও দোআ সমূহ) এর ২৩২-২৫৩ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত।রফিকুল হারামাঈন হজ্ব ও ওমরা বিষয়ে এক পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া ও মাসআলার কিতাব। কিতাবটির এন্ড্রয়েড অ্যাপ ও পিডিএফ বই ইন্সটল ও ডাউনলোড করুন। 
  • এন্ড্রয়েড অ্যাপ ইন্সটল লিংক
  • পিডিএফ বই ডাউনলোড লিংক
আমাদের এই প্রয়াসকে এগিয়ে নিতে অবশ্যই পাশে থাকবেন, নিচের শেয়ার বাটনগুলো থেকে অন্তত একটি সোস্যাল সাইটে শেয়ার করুন। কপি করে রিপোস্ট করুন হোয়াটসেপ বা ফেসবুকে। কমেন্ট করে জানান অভিমত। আশা করি আবার আসবেন আমাদের এই সাইটে। ভাল থাকুন সুস্থ্য থাকুন।

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের পিডিএফ লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন