আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭

পর্দার মাসআলা (একাদশ পর্ব)

দোয়ার ফযীলত 
ইসলামী বোনেরা! আসলেই এই কথাটি বিশুদ্ধ যে, “নিয়্যত পরিস্কার তো মঞ্জিল সহজ” সেই ইসলামী বোনের সংশোধন হওয়ার আকাঙ্খা ছিলো আর এর জন্য দোয়াও করতো তখন আল্লাহ্ তাআলা তার সংশোধনের ব্যবস্থাও করে দিলেন। আমাদেরও উচিত, নফস ও শয়তানের আক্রমন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দোয়া করাতে অবহেলা না করা। কেননা, “দোয়া মুমিনের হাতিয়ার” দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যায়, রহমতে আলম, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দু'টি বাণী লক্ষ্য করুন: (১) “আমি কি তোমাদের সেই জিনিসের ব্যাপারে বলবো না, যা তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে মুক্তি দান করবে এবং তোমাদের রিযিক প্রশস্থ করে দিবে, রাত দিন আল্লাহ্ তাআলার নিকট দোয়া করতে থাকো। কেননা, দোয়া মুমিনের হাতিয়ার।” (মুসনদে আবু ইয়ালা, ২য় খন্ড, ২০১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৮০৬) 

(২) “দোয়া ভাগ্যকে পরিবর্তন করে দেয় এবং উপকার করার দ্বারা বয়স বৃদ্ধি পায় এবং বান্দা গুনাহের কারণে রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।” (ইবনে মাজাহ্, ৪র্থ খন্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪০২২) 

দা'ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত” এর ১৬তম অধ্যায়ের ১৯৯ পৃষ্ঠায় সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দোয়ার মাধ্যমে বিপদাপদ দূর হয়ে যায়, এখানে ভাগ্য দ্বারা উদ্দেশ্য তাকদীরে মুয়াল্লাক (ঝুলন্ত ভাগ্য) এবং বয়স বৃদ্ধি দ্বারাও এই উদ্দেশ্য যে, উপকার করা বয়স বৃদ্ধির কারণ এবং রিযিক দ্বারা আখিরাতের সাওয়াবই উদ্দেশ্য। কেননা, গুনাহ রিযিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ এবং হতে পারে যে, কখনো দুনিয়াবী রিযিক থেকেও বঞ্চিত হয়ে যায়।” 


কারো ঘরে উঁকি মেরো না 
প্রশ্ন:- জেনে শুনে কারো ঘরে উঁকি মারা কি শরীয়াতে নিষেধ রয়েছে? 
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! কিন্তু দরজা যদি আগে থেকেই খোলা থাকে এবং অনিচ্ছাকৃত কারো প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায় তবে সমস্যা নেই। কিন্তু আফসোস! শতকোটি আফসোস! ! বর্তমানে এই ব্যাপারে অধিকাংশ মুসলমানই উদাসীন। লোকেরা ঘরের দরজায় নিঃসংকোচে উঁকি মারে, যদি দরজা খোলা নাও থাকে তাহলে লাফিয়ে লাফিয়ে উঁকি মারে, দরজা দিয়ে উঁকি মারে, জানালা দিয়ে উঁকি মারে, পর্দা সরিয়ে উঁকি মারে এবং এই বিষয়ে কোন দ্বিধাবোধ করে না যে, কারো ঘরে উঁকি মারা শরীয়াতে নিষেধ রয়েছে। 

চোখ উপড়ে ফেলার অধিকার 
প্রশ্ন:- যদি দরজায় কড়া নাড়া সত্ত্বেও ভেতর থেকে কোন উত্তর পাওয়া না যায়, তবেও কি ঘরের ভেতর উঁকি মারতে পারবে না? 
উত্তর:- উঁকি মারতে পারবে না। হযরত সায়্যিদুনা আবু যর গিফারী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত; রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, রাসুলে আকরাম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمএর শিক্ষা মুলক বাণী হচ্ছে: “যে (ব্যক্তি) অনুমতি নেওয়ার পূর্বেই পর্দা সরিয়ে ঘরের ভেতরে দৃষ্টি দিলো এবং ঘরের বাসিন্দাদের গোপন কিছু দেখলো, তবে সে এমন কাজ করলো যা তার জন্য বৈধ ছিলো না, যখন সে ঘরের ভিতরে দৃষ্টি দিয়েছিলো তখন যদি কেউ তার চোখ উপড়ে দিতো তবে তাকে (চোখ উপড়ানো ব্যক্তি) আমি লজ্জিত করবো না। যদি কেউ এমন দরজার পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, যাতে কোন পর্দা নেই এবং দরজাও বন্ধ ছিলো না, এমতাবস্থায় যদি (অনিচ্ছাকৃতভাবে) সেদিকে দৃষ্টি চলে যায়, তবে সে গুনাহগার হবে না বরং গুনাহ ঘরের বাসিন্দাদের হবে।” (সুনানে তিরমিযী, ৪র্থ খন্ড, ৩২৪ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৭১৬) প্রসিদ্ধ মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বর্ণনাকৃত হাদীসে পাকের এই বাক্য “তাকে লজ্জিত করবো না” এর সম্পর্কে বলেন: “অর্থাৎ চোখ উপড়ানো ব্যক্তিকে আমি কোন প্রকারের শাস্তি দেবো না এবং না তাকে নিন্দিত করবো। কেননা, এখানে দোষ উঁকি মারা ব্যক্তিরই। 
স্মরণ রাখবেন! হানাফী মাযহাবে এই বাক্যটি ভয় দেখানো এবং ধমকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তা না হলে সেই চোখ উপড়ানো ব্যক্তি থেকে চোখের বদলা (কিসাস) অবশ্যই আদায় করা হবে। আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন: “ اَلْعَيْنُ بِالْعَيْنِ চোখ তো চোখের পরিবর্তেই উপড়ানো যেতে পারে, উঁকি মারার পরিবর্তে নয়।” (মিরআত, ৫ম খন্ড, ২৫৭ পৃষ্ঠা) 

কথাবার্তার সময় দৃষ্টি কোথায় থাকবে? 
প্রশ্ন:- কথাবার্তা বলার সময় দৃষ্টিকে নিচে রাখা কি আবশ্যক? 
উত্তর:- এর বিভিন্ন দিক রয়েছে। যেমন; যদি পুরুষের সম্মুখস্থ ব্যক্তি (অর্থাৎ যার সাথে কথা বলছে সে) আমরদ (সুশ্রী বালক) হয় এবং তাকে দেখার দ্বারা যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় (অথবা শরয়ী অনুমতি সাপেক্ষে পর-পুরুষের সাথে পর-নারী কথাবার্তা বলে) তখন দৃষ্টিকে এভাবে নত রেখে কথাবার্তা বলবে, যেন সম্মুখস্থ ব্যক্তির চেহারায় বরং শরীরের কোন অঙ্গ এমনকি পোশাকের উপরও যেন দৃষ্টি না পড়ে। যদি কোন ধরনের শরয়ী প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তাহলে সম্মুখস্থ ব্যক্তির চেহারায় দৃষ্টি দিয়ে কথাবার্তা বলাতেও কোন সমস্যা নেই। যদি দৃষ্টিকে সংযত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার নিয়্যতে প্রত্যেকের সাথে দৃষ্টি নত রেখে কথা বলার অভ্যাস বানিয়ে নেন, তাহলে এটা খুবই ভাল অভ্যাস। কেননা, পর্যবেক্ষন এটাই বলে যে, বর্তমান যুগে যার দৃষ্টি নত রেখে কথা বলার অভ্যাস নেই, যখন তার সুশ্রী বালক অথবা পর-নারীর সাথে কথা বলতে হয়, তখন দৃষ্টিকে নত রাখা তার জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। 

প্রিয় নবী ﷺ এর দৃষ্টির অনুকরণ 
প্রশ্ন:- তাজেদারে মদীনা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দৃষ্টি প্রদানের কয়েকটি পদ্ধতি বর্ণনা করুন? 
উত্তর:- হযরত সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন ঈসা তিরমিযী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ উদ্ধৃত করেন: “যখন প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কোন দিকে তাকাতেন তখন পরিপূর্ণ মনোযোগী হয়ে তাকাতেন, দৃষ্টি মোবারক নত হয়ে থাকতো, পবিত্র দৃষ্টি আসমানের পরিবর্তে অধিকাংশ সময় জমিনের দিকে থাকতো, অধিকাংশ সময় চোখ মোবারকের কিনারা দিয়ে দেখতেন।”(শামাইলে তিরমিযী, ২৩ পৃষ্ঠা, নম্বর- ৭) 
বর্ণনাকৃত হাদীস শরীফের এই বাক্য “পরিপূর্ণ মনোযোগী হয়ে তাকাতেন” এর উদ্দেশ্য হলো; দৃষ্টি সরাতেন না এবং এই বাক্যটি “দৃষ্টি মোবারক নত হয়ে থাকতো” অর্থাৎ যখন কারো দিকে তাকাতেন তখন আপন দৃষ্টি নত করে নিতেন। অযথা এদিক সেদিক তাকাতেন না। সর্বদা আল্লাহ্ তাআলার মুহাব্বতে মগ্ন থাকতেন, তাঁরই স্বরণে লিপ্ত এবং আখিরাতের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করতেন।( আল মাওয়াহিবু লিল্লাদুনড়বীয়া ওয়া শারহুয্ যুরকানী আলাল মাওয়াহিবি বিল্লাদুনড়বীয়া, ৫ম খন্ড, ২৭২ পৃষ্ঠা) এবং এই বাক্যটি “তাঁর দৃষ্টি মোবারক আসমানের পরিবর্তে অধিকাংশ জমিনের দিকে থাকতো” অর্থাৎ এটি তাঁর অত্যধীক লজ্জার প্রমাণ বহন করো, হাদীস শরীফে এসেছে; “হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যখন কথাবার্তা বলার জন্য বসতেন তখন নিজের দৃষ্টি শরীফ অধিকাংশ আসমানের দিকে উঠাতেন।”(আবু দাউদ, ৪র্থ খন্ড, ৩৪২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪৮৩৭) অর্থাৎ এই দৃষ্টি উঠানো ওহীর অপেক্ষায় হতো, তা না হলে দৃষ্টি মোবারক জমিনের দিকে রাখা দৈনন্দিন অভ্যাস ছিলো।(আবু দাউদ, ৪র্থ খন্ড, ৫২৬ পৃষ্ঠা। মাদারীজুন্ নাবুওয়াত, ১ম খন্ড, ৬ পৃষ্ঠা) 

জিস তরফ উঠ গেয়ী দম মে দম আ গেয়া, উস নিগাহে ইনায়াত পে লাখোঁ সালাম। 

জশনে বিলাদতের বরকতে আমার জীবনপরিবর্তন হয়ে গেলো 
ইসলামী বোনেরা! আমরা মুসলমানদের জন্য মদীনার তাজেদার, নবীকুল সরদার, হুযুরে আনওয়ার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শুবাগমণের দিনের চেয়ে বড় পুরস্কারের দিন আর কিইবা হতে পারে? সমস্ত নেয়ামত তাঁরই ওসীলায় তো পেলাম, এবং এই দিন ঈদের দিন থেকেও উত্তম এজন্য যে, তাঁরই ওসীলায় ঈদও ঈদে হয়েছে। এ জন্যই সোমবার শরীফে রোযা রাখার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ করেন: “فِيْهِ وُلِدتُ অর্থাৎ এই দিন আমার জন্ম হয়েছে।” (সহীহ্ মুসলিম, ৫৯১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১১৬২) 

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা'ওয়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পৃথিবীর অসংখ্য দেশের অগণিত জায়গায় প্রতি বছর ঈদে মিল্লাদুন্নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم খুবই জাঁকঝমকপূর্ণভাবে পালন করা হয়। রবিউন নূর শরীফের ১২তম রাতে আজিমুশ্মান ইজতিমায়ে মিলাদের আয়োজন করা হয়ে থাকে এবং ঈদের দিন মারহাবা ইয়া মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর শ্লোগানে অসংখ্য জুলুসে মিলাদ বের করা হয়। যাতে লক্ষ লক্ষ আশিকে রাসূল অংশগ্রহণ করে থাকেন। 

ঈদে মিলাদুন্নবী তো ঈদ কি ভি ঈদ হে, 
বিল ইয়াকিঁ¡ হে ঈদে ঈদাঁ ঈদে মিলাদুন্নবী। 

জশনে বিলাদতের অসংখ্য বাহার রয়েছে, তার মধ্য থেকে একটি বাহার শ্রবণ করুন: যেমনিভাবে- একজন ইসলামী বোনের বর্ণনা কিছুটা এ রকম; সাধারণ মেয়েদের মতো আমিও সিনেমা, নাটক দেখায় অভ্যস্থ ছিলাম। গানের প্রতি খুবই আগ্রহী এবং বিবাহ অনুষ্ঠানে সাজ-সজ্জা করে বেপর্দা অবস্থায় অংশগ্রহণ করায় উৎসাহী ছিলাম। “মৃত্যুর পরে আমার কি হবে” আমার ভিতর এর এটুকুও অনুভূতি ছিলো না! দু'বছর পূর্বে হঠাৎ বাবুল মদীনা করাচীতে আমার আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া হলো। তাদের বাসার একেবারে নিকটে ইসলামী বোনদের সুন্নাতে ভরা ইজতিমা অনুষ্ঠিত হতো। একজন ইসলামী বোনের দাওয়াতে আমিও সেখানে চলে গেলাম, اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ সেই ইজতিমা আমার চিন্তা-ভাবনাকে একেবারে পরিবর্তন করে দিলো! 
অতঃপর আমি বাবুল মদীনা করাচীতেই অনুষ্ঠিত রবিউন নূর শরীফের বাহার লক্ষ্য করলাম, তখন অন্তর নেকীর দিকে আরোও ধাবিত হলো, اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ আমি নামায আদায় করা শুরু দিলাম, মাদানী ইনআমাতের উপর আমল এবং শরয়ী পর্দা নসীব হয়ে গেলো। দা'ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাজ করাবস্থায় এই বর্ণনা লিখা পর্যন্ত এলাকা পর্যায়ে মাদানী ইনআমাতের যিম্মাদার হিসেবে সুন্নাতের খিদমত করার সৌভাগ্য অর্জন করছি। 
আয়ী নয়ি হুকুমত সিক্কা নয়া চলেগা, আলম নে রঙ্গ বদলা সুবহে শবে বিলাদত। 
صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

জশনে বিলাদত দেখে ইসলাম গ্রহণ 
ইসলামী বোনেরা! আল্লাহ্ তাআলা হিদায়েত দানকারী, তিনি যখন কাউকে কিছু দিতে চান, তখন নিজেই তার ব্যবস্থা করে দেন। যেমনিভাবে; একজন মডার্ন যুবতীর জন্য ব্যবস্থা হয়ে যাওয়াতে সে মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলো। سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل জশনে বিলাদতের কি অপূর্ব শান! এর মাধ্যমে না জানি কতো পথহারা পথ খুঁজে পেয়েছে। একজন ইসলামী ভাই বর্ণনা করেন: জশনে বিলাদতে মসজিদের আলোকসজ্জার প্রতি প্রভাবিত হয়ে একজন কাফির ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিলো যে, বাহ! বাহ! মুসলমানেরা নিজের প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর বিলাদতে কত আয়োজন সহকারে আনন্দ উদযাপন করে, মুসলমানদের তাদের নবীর প্রতি কিরূপ ভালবাসা রয়েছে। 

জশনে বিলাদত উদযাপনকারীর প্রতি প্রিয় আক্বা ﷺ খুশি হন 
سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل ! আমাদের প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم নিজেও তারঁ জশনে বিলাদত উদযাপনকারীকে ভালবাসেন। যেমনিভাবে- আমার আক্বা আ'লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ কিছুটা এরূপ বর্ণনা করেন: “অনেক আশিক্বানে রাসূল জশনে বিলাদত উদযাপনের কারণে প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمকে স্বপ্নে অত্যন্ত খুশি অবস্থায় দেখেছে এবং বলতে শুনেছে : مَنْ فَرِحَ بِنَافَرِحْنَا بِهٖ অর্থাৎ যে আমার প্রতি খুশি উদযাপন করে থাকে, আমিও তার উপর খুশি হয়ে যাই।” (খুলাছা ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ১৫তম খন্ড, ৫২২,৫২৩ পৃষ্ঠা) 

খুশিয়াঁ মানও ভাইও! ছরকার আঁ গেয়ে, 
ছরকার আঁ গেয়ে শাহে আবরার আঁ গেয়ে। 
ঈদে মিলাদুন্নবী সে হাম কো বেহদ পিয়ার হে, 
اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ দো জাঁহা মে আপনা বেড়া পার হে।
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৩৪৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত “পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর“ নামক কিতাবের  ---  নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই কিতাবটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
ইসলামিক বাংলা বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন