আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net
Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts
Showing posts with label অন্যান্য. Show all posts

Friday, June 7, 2019

কদম বুসি বা পা চুম্বনের বিধান

রচনায়: মুহাম্মদ আবু নাছের জিলানী

আবহমান কাল থেকে মুসলমানদের নিকট এই রীতি চালু রয়েছে যে, সম্মানিত ব্যক্তিবর্গদের কদম বুসি করা। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, এই কদম বুসি (পায়ে হাত দিয়ে সালাম করা/ পদচুম্বন) করলে অনেকেই লাফিয়ে উঠে শিরকের ফতোয়া তোলে আর বলে- বাবা তুমি আমাকেও গুনাহগার বানাইওনা, নিজেকেও গুনাহগার বানাইওনা। হায়! আফসোস, তিনি নিজেও সুন্নাত আমল করল না, অন্য মুসলমান ভাইকেও সুন্নাত আমল করতে বাধা দিল। মূলতঃ এর বিরোধিতা ঐ সব ব্যক্তিরা করে থাকে, যাদের কাছে কুরআন, হাদিস ও ফেকাহ-ফতোয়ার জ্ঞান নাই অথবা থাকলেও বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করে থাকে।

ইজ্জতদার ও সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের আলাদা ইজ্জত ও সম্মানের মানদন্ড হল- কদম বুসি ও হাত বুসি। মহান রাব্বুল আলামীনের আলীশান ঘোষণা- وَلِلّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُوْلِهِ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ “ইজ্জ্বত আল্লাহর জন্য তাঁর রাসুলের জন্য এবং মুমিনদের জন্য।” তাই মুসলিম সমাজে যারা অজ্ঞতার হেতু সে সুন্নাত পরিত্যাগ করে অগণিত সওয়াব ও নেকী হতে বঞ্চিত হচ্ছে তাদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনার জন্য সংক্ষিপ্ত পরিসরে হাদিস শরীফের মূল এবারত সুত্রসহ বর্ণনা করার চেষ্টা করছি। 

Wednesday, September 5, 2018

অশুভ প্রথা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস (৩)

রাশির ভাল-মন্দ প্রভাবের উপর বিশ্বাস করা কেমন?

নিজেকে জ্ঞানী বলে মনে করা অনেকে রাশির প্রভাবের উপর এমন ভাবে বিশ্বাস করে যে, বিয়ে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও তারা নক্ষত্রের পরিভ্রমণ কিংবা অবস্থান অনুযায়ী করে থাকে। এ ধরনের লোক সহজেই জ্যোতিষী দাবীদারদের শিকারে পরিণত হয়, এদেরকে তারা বোকা বানিয়ে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে এমন হয় যে, ছেলে ও মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা পাকাপোক্ত হয়ে গেছে, প্রয়োজনীয় দেখা-সাক্ষাৎ এবং পরস্পর তথ্য-উপাত্তের কাজও শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এক পক্ষ এই বলে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল যে, আমি খোঁজ নিলাম যে, ছেলে আর মেয়ে পরস্পর রাশিতে মিলছে না, তাই এই বিয়ে হতে পারে না। আমার আক্বা আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিলাø ত, মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলো: আকাশের নক্ষত্ররাজির প্রভাব এবং সেগুলোর শুভ অশুভ প্রভাবে বিশ্বাস করা কেমন? আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ উত্তর দিলেন: একজন আনুগত্যশীল মুসলমানের জন্য কোন বস্তুই অলক্ষুণে বা অশুভ নয়। অপরপক্ষে একজন কাফিরের জন্য কোন বস্তুই শুভ নয় এবং একজন গুনাহগার মুসলমানের জন্য তার ইসলামই শুভ, ইবাদত কেবল কবুল হওয়ার শর্তেই শুভ। গুনাহ করা বস্তুতই দুর্ভাগ্য। যদি রহমত এবং শাফায়াত তাকে সেই দুর্ভাগ্য থেকে বাঁচিয়ে নেয়, বরং দুর্ভাগ্যকে সৌভাগ্যে পরিণত করে দেয়, فَاُولٰئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيِّاٰتِهِمْ حَسَنٰتٍ  (কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এমন লোকদের মন্দ কাজগুলোকে আল্লাহ সৎকর্মসমূহে পরিবর্তিত করে দেবেন;) (১৯তম পারা, আল ফুরকান, আয়াত ৭০) বরং কোন কোন সময় গুনাহ এভাবে সৌভাগ্য হয়ে যায় যে, বান্দা সেই গুনাহের কারণে ভীত ও সন্ত্রস্ত থাকে, তাওবা করে এবং নেক আমলের চেষ্টায় থাকে। তবে সেই গুনাহ দূরীভূত হয়ে গেছে এবং অনেক নেকী পেয়ে গেছে, বাকি রইল নক্ষত্রের বিষয়, সেগুলোতে শুভ অশুভ বলতে কিছুই নাই বরং কেউ যদি নক্ষত্রকে নিজস্ব গুণে প্রভাবশালী বলে মনে করে, তবে তা শিরক এবং সেগুলো থেকে সাহায্য চাওয়া হারাম, অন্যথায় সেগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করা অবশ্যই তাওয়াক্কুলের বিপরীত। (ফতোয়ায়ে রযবীয়া, ২১/২২৩)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

কিছু মুমিন রইলো, কিছু কাফির হয়ে গেলো

হযরত সায়্যিদুনা যায়দ বিন খালিদ জুহনী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বর্ণনা করেন: রাসূলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم আমাদেরকে হুদায়বিয়ার স্থানে বৃষ্টির পরে ফযরের নামায পড়ান। তিনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যখন নামায থেকে অবসর হলেন, তখন লোকদের দিকে নূরানী চেহারা ফিরালেন। অতঃপর ইরশাদ করলেন: তোমরা কি জান যে, তোমাদের রব তায়ালা কী ইরশাদ করেছেন? সবাই বললেন: আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলই صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ভাল জানেন। প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: আমার বান্দারা সকাল করেছে, তো কিছু মুমিন হয়েছে আর কিছু কাফির। যেই ব্যক্তি বললো: আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের উপর বৃষ্টি হয়েছে, সে আমার উপর ঈমান রাখে, নক্ষত্রের উপর বিশ্বাস করে না আর যারা বললো: অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, তারা كَافِرٌ بِىْ مُؤمِنٌ بَالْكَوَاكَبِ অর্থাৎ আমাকে অস্বীকার করলো এবং নক্ষত্রকে বিশ্বাস করলো। (বুখারী, কিতাবুল আযান, বাবু ইয়াস্তাকবিলুল ইমামুন নাসা ইযা সাল্লামা, ১/২৯৫, হাদীস- ৮৪৬)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণেতা মুফতী মুহাম্মদ শরীফুল হক আমজাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ হাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় লিখেন: বিশ্বাস যদি এই হয় যে, নক্ষত্রই বৃষ্টি বর্ষণ করে, তবে এই বিশ্বাসটি হবে কুফর আর যদি এই বিশ্বাস হয় যে, বৃষ্টি হয় আল্লাহ তায়ালারই নির্দেশে, বিভিন্ন নক্ষত্রের উদয়-অস্ত তাঁর নিদর্শন স্বরূপ, তবে তাতে কোন অপরাধ নাই। তাই বলা যে, অমুক গ্রহের প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, তা নিষেধ আর যদি বলে যে, অমুক গ্রহের অমুক অবস্থানের কারণে বৃষ্টি হয়েছে, জায়িয। (“ كَافِرٌ بِىْ مُؤمِنٌ بَالْكَوَاكَبِ” এর ব্যাখ্যায় মুফতী সাহেব লিখেন:) এখানে কুফর এবং ঈমানের আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য অর্থাৎ তারা আমাকে অস্বীকার করলো এবং গ্রহের অবস্থানকে বিশ্বাস করলো। (নুযহাতুল কারী, ২/৪৯৫, ৪৯৬)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

যেকোন নক্ষত্রকে যেখানে ইচ্ছা পাঠিয়ে দেন 

একদিন মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন মীরঠী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর আব্বাজান (যিনি জ্যোতির্বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন) আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর নিকট এলে তিনি তাঁর নিকট প্রশ্ন করেন: বলুন তো, বৃষ্টি সম্পর্কে আপনার কী ধারণা। কখন বৃষ্টি হবে? তিনি নক্ষত্রের অবস্থান ইত্যাদি থেকে হিসাব-নিকাশ করে বললেন: এই মাসে বৃষ্টি নাই, আগামী মাস থেকে বৃষ্টি হবে। এই বলে তিনি হিসাবটি আলা হযরতের দিকে ঠেলে দিলেন। আ’লা হযরত তা দেখে বললেন: সব কিছুর ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালারই হাতে, তিনি ইচ্ছা করলে আজও বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বললেন: তা কীভাবে হতে পারে, আপনি কি নক্ষত্রের অবস্থান দেখতে পাচ্ছেন না? আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: আমি সব কিছু দেখতে পাচ্ছি, সেই সাথে নক্ষত্রকে যিনি পরিচালনা করেন তাঁর ক্ষমতাও দেখতে পাচ্ছি। তারপর আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ সেই দুর্বোধ্য মাসআলাটি সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন, সামনে ঘড়ি লাগানো ছিলো, আ’লা হযরত তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: ঘড়িতে এখন সময় কতো? তিনি বললেন: সোয়া এগারটা। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: বারটা বাজার আর কতো দেরী? শাহ সাহেব বললেন: ঠিক পৌনে এক ঘণ্টা। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বসা থেকে উঠে বড় কাঁটাটি ঘুরিয়ে দিলেন, তৎক্ষণাৎ ঠনঠন করে বারটা বাজার শব্দ শোনা গেলো। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: আপনি তো বলেছিলেন বারটা বাজার আরো পৌনে এক ঘণ্টা বাকি রয়েছে। শাহ সাহেব বললেন: আপনি যে কাঁটা ঘুড়িয়ে দিয়েছেন, না হয় নিজের গতিতে চলতে চলতে পৌনে এক ঘণ্টা পরেই বারটা বাজতো। আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: এভাবে সব কিছুর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন আল্লাহ তায়ালা। অনুরূপভাবে যেই নক্ষত্রকে যখন যেখানে ইচ্ছা তিনিই পাঠিয়ে দেন। তিনি যদি ইচ্ছা করেন, এক মাস কী, এক দিন কী, এই মুহূর্তেই বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারেন। তাঁর মুখ থেকে কথাটি শেষ হতে না হতেই, হঠাৎ চতুর্দিকে মেঘের ঘনঘটা দেখা গেলো এবং বৃষ্টি বর্ষণ হতে লাগলো।(তাজাল্লিয়াতে ইমাম আহমদ রযা, ১১৬ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد






--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা “মুহাম্মদ ইলয়াস আত্তার” কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৯৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত "অশুভ প্রথা" নামক রিসালার ৪০- নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন। 
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
ইসলামীক বাংলা বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন
কুসংস্কার বিষয়ক লিখাটির প্রথম পর্বদ্বিতীয় পর্ব,
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

অশুভ প্রথা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস (২)

কুসংস্কারের কোন বাস্তবতা নেই

বুখারী শরীফে হযরত সায়্যিদুনা আবু হুরায়রা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বণির্ত , মদীনার তাজেদার, রাসূলদের সর্দার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: সংক্রমণ বলতে কিছু নাই, না আছে কোন অশুভ ফাল তথা অশুভ ইঙ্গিত, আর নাই পেঁচা-ও, না শূন্য (খালি) ও কুষ্ঠ থেকে পালাবে, যেমনিভাবে বাঘ দেখে পালাও। (বুখারী, কিতাবুত তিব্ব, ৪/২৪, হাদীস- ৫৭০৭ ও ওমদাতুল কারী, কিতাবুত তিব্ব, ১৪/৬৯২, হাদীস- ৫৭০৭)
বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকারী মুফতী মুহাম্মদ শরীফুল হক আমজাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِহাদীস শরীফটির ব্যাখ্যায় বলেন: এই হাদীস শরীফটি থেকে প্রাপ্ত কিছু মাদানী ফুল উপস্থাপন করা হলো,

۞ জাহেলীয়তের যুগে মানুষের বিশ্বাস ছিলো যে, এমন কতগুলো রোগ রয়েছে যা অন্যের প্রতি সংক্রমিত হয়। যেমন: কুষ্ঠ, খোস পাঁচড়া, প্লেগ ইত্যাদি। হুযুরে পাক صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم সেই বিশ্বাসকে নিশ্চিহ্ন করে দিলেন এবং নিষেধ করে দিলেন। একজন গ্রাম্য লোক এসে উপস্থিত হলো, সে বললো : আমার উটগুলো পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন ও উন্নত     হয়ে থাকে। তা থেকে একটি খোস-পাচঁড়া বিশিষ্ট উট এসে সবাইকে খোস-পাচঁড়া বিশিষ্ট করে দিচ্ছে। হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করলেন: প্রথমটিকে খোস-পাঁচড়া কে বানিয়েছিলো? সে বললো: আল্লাহ তায়ালা। ইরশাদ করলেন: এভাবে বাকিগুলোকেও আল্লাহ তায়ালাই খোস-পাঁচড়া বিশিষ্ট বানিয়েছেন।

Sunday, July 29, 2018

অশুভ প্রথা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস (১)

অলক্ষুনে কে? 

কোন বাদশা একদা তার সভাসদদের নিয়ে দরবারে বসা ছিলো। এমন সময় কালো বর্ণের এক চোখ কানা ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হল বাদশার সম্মুখে। সবাই অভিযোগ করল, এই লোকটি এমন ধরনের অলক্ষুনে যে, কেউ যদি সকালে উঠে একে দেখে, সেই দিন তাকে অবশ্যই কোন না কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। সুতরাং তাকে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেওয়া হোক। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর বাদশা বললেন, চূড়ান্ত বিচার করার আগে আমি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখবো, কাল সকালে সর্বপ্রথম আমি তাকে দেখবো, তারপর অন্য কাজে হাত দেবো। পরদিন সকালে বাদশা যখন ঘুম থেকে উঠলো, দরজা খুলতেই সর্বপ্রথম সেই কানা ব্যক্তিটিকেই দাঁড়ানো দেখতে পেলো। তাকে দেখেই বাদশা পেছনে ফিরে গেলো এবং দরবারে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলো। পোষাক পাল্টাবার পর বাদশা যখনই জুতোয় পা দিলো, তখনই তাতে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত বিচ্ছু তাকে দংশন করলো।

Thursday, July 19, 2018

কিয়ামতের পরীক্ষা

মাদানী মুন্নার ভয়

অর্ধরাতে একটি ছোট্ট মাদানী মুন্না হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসে গেল এবং চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। তার পিতা গভীর রাতে কান্নার আওয়াজ শুনে ভয়ে জাগ্রত হয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন: “হে আমার প্রিয় বৎস! কাঁদছ কেন?” মাদানী মুন্না কাঁদতে কাঁদতে উত্তর দিল: “আব্বাজান! আগামীকাল বৃহস্পতিবার। শিক্ষক আগামীকাল পূর্ণ সপ্তাহের পরীক্ষা নিবেন।আমি পড়ার প্রতি মনোযোগ দিই নাই। তাই আগামীকাল শিক্ষক আমাকে প্রহার করবে। একথা বলে বাচ্চা হাউমাউ করে আরো উচ্চ আওয়াজে কাঁদতে লাগল। এ ঘটনায় পিতার চোখে অশ্রু এসে গেল এবং সে নিজের নফস কে সম্বোধন করে বলতে লাগলেন: “এই বাচ্চাকে মাত্র এক সপ্তাহের হিসাব দিতে হবে এবং শিক্ষককে চাইলে কোন বাহানাও দেয়া যায়। তারপরও সে কাঁদছে এবং প্রহারের ভয়ে তার চোখে ঘুম আসছে না। আর আফসোস! হায় আফসোস! আমার উপরতো পূর্ণ জীবনের হিসাব ঐ একক পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা’আলার নিকটেই দিতে হবে। যাকে কোন বাহানা দেয়া যাবে না। তদুপরি আমার কিয়ামতের পরীক্ষা সামনে রয়েছে। কিন্তু আমি অলসতার ঘুমে ঘুমিয়ে রয়েছি। অবশেষে আমার কোন ভয় আসছে না কেন? (দুররাতুন নাছেহীন, ২৯৫ পৃষ্ঠা)

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এই ঘটনায় আমাদের জন্য শিক্ষণীয় অসংখ্য মাদানী ফুল রয়েছে। আমাদের চিন্তা করা উচিৎ যে, একটি মাদানী মুন্না তার ধ্যান এবং মাদানী চিন্তাধারা দেখুন! মাদানী মুন্না মাদ্রাসার হিসাবের ভয়ে কান্না করছে, আর তার পিতা কিয়ামতের হিসাব নিকাশের কঠোরতা স্মরণ করে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছেন।

করীম আপনে করম কা সদকা লাঈম বে কদর কো না শরমা
তো আওর গাদা ছে হিসাব লেনা গাদা ভী কোয়ী হিসাব মে হে।

Sunday, January 21, 2018

ইসলামীক বই পাঠ প্রতিযোগিতা-২০১৭ এর ফলাফল

প্রাথমিক ভাবে প্রকাশিত রেজাল্টের পর আজ ২৫ জানুয়ারী-২০১৭ প্রকাশিত হলো ফাইনাল রেজাল্ট। পূর্বের প্রাথমিক ভাবে প্রকাশিত রেজাল্ট এর পিডিএফ ফাইল সহ ফাইনাল রেজাল্ট এর পিডিএফ ফাইল পাবেন এখানে। আর টেক্সট আকারে পাবেন শুধুমাত্র ফাইনাল রেজাল্ট এর। ইসলামী জীবন এর প্রথম পাবলিক ইভেন্ট “ইসলামীক বই পাঠ প্রতিযোগিতা-২০১৭“ সমাপ্ত। আসছে অক্টোবরে আমাদের দ্বিতীয় সিজন আয়োজিত হবে। ভুল-ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে প্রত্যেক কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। বিজয়ীদের পূর্ণ ঠিকানা মেসেজ করার অনুরোধ রইলো। বিস্তারিত Winner List পিডিএফ ফাইলে দেখুন।

Sunday, December 31, 2017

ইসলামী বই পাঠ প্রতিযোগিতা-২০১৭ এর সকল সেটের প্রশ্ন ও উত্তর

সংরক্ষনের জন্য ও সকলেই যাচাই করার জন্য আমাদের এবারের আয়োজনের সকল প্রশ্ন ও উত্তর ইসলামী জীবন ব্লগে পাবলিশ করা হলো। বইয়ের নাম ও পৃষ্ঠা সহ উল্লেখ করা হয়েছে। যারা মাসআলা গুলো জানেন না, ভুল উত্তর দিয়েছেন যার মানে দাঁড়ায় আপনি সেসকল মাসআলা জানেন না। তাদের প্রতি অনুরোধ, বিজয়ী হওয়া বাদ দিন, অন্তত মাসআলা গুলো শিখে নিন। কেননা, নবী করীম ﷺ বলেন "একটি মাসয়ালা শিক্ষা করা আমার মতে সারা রাত জেগে নফল নামাজ পড়ার চেয়েও উত্তম।"


প্রশ্ন সেট নং ১

১/ অযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ'র সাথে দুরুদ শরীফ পাঠ করা...?
উত্তর: মুস্তাহাব। (নামাযের আহকাম, ১৩/২৮)

২/ মাকে এমন কোন কথাটি বলল, যার দরুন মৃত্যুর পর তার আকৃতি গাধার মত হয়ে গেল?
উত্তর: তুমি গাধার মত চিৎকার কর। (সামুদ্রিক গম্বুজ, ২০)

৩/ সিলেবাস অনুযায়ী- বয়স্কদের ফ্রি কোরআন শিক্ষা দানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কি?
উত্তর: মাদরাসাতুল মদীনা। (নামাযের আহকাম, ১৫৩/১০০)

৪/ পুলসিরাত তিনিই সহজে পার হতে পারবেন যিনি আল্লাহর... থাকেন। এখানে কি হবে?
উত্তর: ভয়ে প্রকম্পিত। (চার ভয়ঙ্কর স্বপ্ন, ১৯)

৫/ ২৮ টি কুফরী বাক্য বইটি নিতান্তই ছোট। এই বইটিতে আরো কুফরী বাক্য সম্পর্কে জানতে কোন কিতাবটি পড়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে?
উত্তর: কুফরীয়া কালেমাত কে বারে মে সুওয়াল জাওয়াব।  (২৮ টি কুফরী বাক্য, ১৩)

৬/ নামাযে আমীন উচ্চ আওয়াজে বলা কি?
উত্তর: মাকরূহে তানযীহি। (নামাযের আহকাম১৮২/১২৩)

৭/ যে একবার সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে, সে পুনরায় সমবেদনা জ্ঞাপন করতে যাওয়া কি?
উত্তর: মাকরূহ। (নেক্কার হওয়ার উপায়, ২৮)

৮/ নিজের কৃত কর্মের আত্মসমালোচনা করার জন্য সিলেবাসে উল্লিখিত রিসালা (ছোট পুস্কিতা) এর নাম কি?
উত্তর: মাদানী ইনআমাত। (আমি সংশোধন হতে চাই, ১২)

৯/ দাসীর বর্ণনানুযায়ী- কতজনকে পুলসিরাতে উঠানো হয় এবং এর মধ্যে কতজন পুলসিরাত পার হতে সক্ষম হন এবং তিনি কে?
উত্তর: ৪ জন, ১ জন, হযরত ওমর বিন আবদুল আজিজ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ (চার ভয়ঙ্কর স্বপ্ন- ১৬,১৭)

১০/ রওজা শরীফ যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে গোসল করা...?
উত্তর: মুস্তাহাব। (নামাযের আহকাম, ৮৬/৬০)

১১/ যে আমার সুন্নাত থেকে চল্লিশটি হাদীস আমার উম্মতদের শিক্ষা দেবে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে আমার ... অন্তর্ভূক্ত করে নেব। কিসের অন্তর্ভূক্ত?
উত্তর: শাফায়াতের। (চার ভয়ঙ্কর স্বপ্ন- ২৯)

১২/ ব্যস! আল্লাহর ঘরের তো সমস্ত রীতিই উল্টো। বাক্যটি কোন প্রকারের কুফরী বাক্যের উদাহরণ?
উত্তর: অভিযোগ ও আপত্তির সময় উচ্চারিত। (২৮ টি কুফরী বাক্য, ৬)

Friday, October 27, 2017

"বই পাঠ প্রতিযোগিতা-২০১৭" এর প্রতিযোগীদের নাম

৩০ নভেম্বর-২০১৭ তারিখের পর আর কারো রেজিষ্ট্রেশন করা হবে না।

আপনার ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে প্রতিযোগিতার ফ্রেম লাগাতে ক্লিক করুন  👉  এখানে

নিশ্চিতভাবে যারা অংশ নিবেন, নাম্বারটি সবুজ করতে যোগাযোগ করুন

১। ইফতেখার আলম>> চট্টগ্রাম>> হোয়াটসেপ

২। Sabekun Nahar (Simu)>> চাঁপাইনবাবগঞ্জ>> ফেসবুক পেজ

৩। Md Jobayer Mahmud>> নরসিংদী>> ফেসবুক পেজ

৪। মুহাম্মদ ইসমাঈল হুসাইন>> ঢাকা>> হোয়াটসেপ

৫। সোহেল রেজা>> ঢাকা>> হোয়াটসেপ
সাদা ও সবুজ এই দুই ক্যটাগরিই অংশ নিতে পারবে
৬। ইসমাইল>> কুমিল্লা>> হোয়াটসেপ

৭। M. M. Rahman Ashrafi>> ঢাকা >> ফেসবুক পেজ

৮। মুহাম্মদ খলিলুর রহমান>> চট্টগ্রাম>> ফেসবুক পেজ

৯। মোহাম্মদ আবদুল মোতালেব>> চট্টগ্রাম>> ফেসবুক পেজ

১০। মোহাম্মদ আরমান হোসেন>> চট্টগ্রাম>> হোয়াটসেপ

১১। শামীম কাদরী>> দিনাজপুর>> হোয়াটসেপ

১২। Md Saidullah>> কুমিল্লা>> ফেসবুক পেজ

১৩। Md Rahamat Ullah>> চট্টগ্রাম>> হোয়াটসেপ

১৪। শাওন আহমেদ>> হবিগঞ্জ>> ফেসবুক পেজ

১৫। Masum Billah Sunny>> চট্টগ্রাম>> হোয়াটসেপ

১৬। মুহাম্মদ অামানুল ইসলাম>> ঢাকা>> ফেসবুক পেজ

১৭। এ.বি.এম. আবিদুর রহমান>> হবিগঞ্জ>> ফেসবুক পেজ

১৮। মোঃ বোরহান উদ্দিন>> কুমিল্লা>> ফেসবুক পেজ

১৯। সৈয়দ রাকিবুর রহমান>> ঢাকা>> ফেসবুক পেজ

২০। মোল্লা শাকির আহমদ মাছুম>> মৌলভীবাজার>> ফেসবুক পেজ
প্রতিযোগীদের ক্রম অনুসারে টেষ্টের তারিখ
২১। কাশফিয়া হক>> ঢাকা>> ফেসবুক পেজ

২২। নাফিসা সালসাবিল>> কুমিল্লা>> ফেসবুক পেজ

২৩। Juyel Ahmed Jawdan>> সিলেট>> ফেসবুক পেজ

২৪। ইসমাঈল হোসেন প্রামানিক>> পাবনা>> ফেসবুক পেজ

২৫। Md Mamun>> নোয়াখালী>> ফেসবুক পেজ

Tuesday, September 12, 2017

২৮ টি কুফরী বাক্য

অভাব-অনটন, রোগ-শোক, মানসিক কষ্ট এবং আপন জনের মৃত্যুতে অনেক লোক আঘাতের আতিশয্যে কিংবা উত্তেজনায় এসে আল্লাহর পানাহ্! কুফরী বাক্য বলে থাকে। আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধে আপত্তি করা, তাঁকে অত্যাচারী, অভাবী, পর-মুখাপেক্ষী অথবা অপারগ মনে করা কিংবা বলা, এসবই প্রকাশ্য কুফরী বাক্য। স্মরণ রাখবেন! শরীয়াতের অনুমতি ছাড়া জেনে বুঝে যে প্রকাশ্য কুফরী বাক্য বলে এবং অর্থ জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি তাতে হ্যাঁ বলে বরং এর পক্ষে যে ব্যক্তি মাথা নেড়ে সায় দেয়, সেও কাফির হয়ে যায়। এর বিবাহ-বন্ধন ও বাইয়াত ভঙ্গ হয়ে যায় এবং জীবনের সমস্ত নেক আমল ধ্বংস হয়ে যায়। যদি হজ্ব আদায় করে থাকে, তবে তাও নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ঈমান নবায়নের পর (অর্থাৎ পুনরায় নতুন ভাবে মুসলমান হওয়ার পর) সামর্থ্যবান হওয়া সাপেক্ষে নতুন সূত্রে হজ্ব ফরয হবে।

বিপদের সময় বলা হয়, এমন কতিপয় কুফরী বাক্যের উদাহরণ

(১) আপত্তি করে বলা: ঐ ব্যক্তি লোকদের সাথে যা কিছুই করুক, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য পূর্ণ (FULL) স্বাধীনতা রয়েছে।

(২) এইভাবে আপত্তি করে বলা: কখনো আমরা অমুকের সাথে সামান্য কিছু করলে আল্লাহ তৎক্ষনাৎ আমাদের পাকড়াও করে ফেলেন।

(৩) আল্লাহ সর্বদা আমার শত্রুদের সহায়তা করেছেন। 

(৪) সর্বদা সবকিছু আল্লাহর সমীপে সমর্পণ করেও দেখেছি, কিছুই হয়না। 

(৫) আল্লাহ তাআলা আমার ভাগ্যকে এখনো পর্যন্ত সামান্য ভাল করলেন না। 

Wednesday, June 14, 2017

অপারেশন ছাড়াই ডেলিভারী

সন্তান      জন্মের      সময়      সহজতার        ব্যবস্থাপত্র  (মরিয়ম বিবির ফুল*)

মরিয়ম  বিবির  ফুল:  কোন  বাচ্চা   জন্মের   সময় ব্যথা শুরু হলে কোন খোলা বাসন বা বোতলের পানিতে ঢেলে দেওয়া হয়, তবে   যতই ভিজতে  থাকবে     ও      প্রষ্ফুটিত     হতে     থাকবে       আল্লাহ্ তাআলার দয়ায়  মরিয়ম  বিবির ফুলের বরকতে বাচ্চার জন্ম  খুব সহজ ভাবেই  হবে। 

অপারেশন ছাড়া ডেলিভারী 

অপারেশন  ছাড়াই জন্ম হয়ে গেলো (মরিয়ম বিবির ফুলের উপকারীতা)

দা’ওয়াতে ইসলামীর জামেয়াতুল মদীনার এক শিক্ষক ইসলামী ভাইয়ের বর্ণনা:  আমার দ্বিতীয় বাচ্চার জন্মের  দিন ছিলো।  আমার  বাচ্চার  মা  হাসপাতালের  নির্দিষ্ট কক্ষে   (লেবার রুমে) ভর্তি ছিলো। কিছু সময় পর আমি এক মাদানী মুন্নার জন্মের          সুসংবাদ        পেলাম।         হাসপাতালের অপেক্ষমান    রুমে এক   ব্যক্তির   সাথে    সাক্ষাত হলো।  তখন তিনি কথায়  কথায় মরিয়ম বিবির ফুলের  কথা     আলোচনা করলেন,  তখন  আমি জিজ্ঞাসা  করার     পর  সে  বললো:  যদি বাচ্চার  জন্মের   পর   ব্যথা শুরু হয়, তবে  এই  শুষ্ক  ফুল কোন   খোলা বাসন   বা বোতলের  পানিতে যদি ঢেলে  দেওয়া হয়,   তবে  যতক্ষণ    পর্যন্ত তাজা  থাকবে       এবং       ফুটতে      থাকবে।       আর      এর উপকারীতা   হলো    এটাই    যে,   বাচ্চার জন্মের সময় সহজতা  হয়।  তারপর  কম  ও  বেশি  দুই  বছর   পর  যখন   তৃতীয়  বাচ্চার   জন্মের  পর্যায়ে আসলো। তখন   মহিলা ডাক্তার   আমার  বাচ্চার মাকে অপারেশনের মাধ্যমে বাচ্চা জন্মের জন্য  মানসিক   ভাবে প্রস্তুত   থাকতে  বললেন।   আমি মরিয়ম বিবির ফুলের কথা স্মরণ করলাম, তখন আমি  দেশীয়   ঔষধের দোকান    থেকে   মরিয়ম বিবির   ফুল  সংগ্রহ   করলাম। 
 আর   যখন  বাচ্চা জন্মের সময় আসলো,  তখন আমি সেটা পানির মধ্যে   ঢেলে   দিলাম।    আল্লাহ্    তআলার   দয়ায় অপারেশন   ছাড়াই    মাদানী   মুন্নীর জন্ম   হয়ে  গেলো।   এক    বছর    পর   চতুর্থ   বাচ্চার   জন্যও ডাক্তার অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট করে দিলেন, কিন্তু  আমি   অন্যান্য ওযীফার পাশাপাশি   (যেটা মাকতাবাতুল  মদীনা   কর্তৃক     প্রকাশিত  কিতাব “ঘরোয়া চিকিৎসা” এর মধ্যে  রয়েছে) মরিয়ম  বিবির ফুল ব্যবহার করি। এভাবে ও অপারেশন ছাড়াই মাদানী  মুন্নীর জন্ম   হয়ে  গেলো।   এর কমপক্ষে    দুই    বছর   পর    যখন    পঞ্চম   বাচ্চার জন্মের    পর্যায় আসলো,    তখন    আমি   আমার ঘরের     পাশ্ববর্তী    হাসপাতালে    নিয়ে    গেলাম।  সেখানেও     ডাক্তাররা মেডিকেল     রিপোর্ট     ও  তাদের   গবেষণার   দৃষ্টিতে অপারেশন    করতে বলেন। আমি  চেষ্টা করে টাকার  ব্যবস্থাও প্রস্তুত রেখেছিলাম  এবং ওযীফা  আদায়ের  পাশাপাশি যখন  জন্মের  সময়  হলো,  তখন মরিয়ম  বিবির ফুল  খোলা  বোতলের    পানিতে   ঢেলে    দিলাম, ডাক্তার     অপারেশন ছাড়া     জন্মানোর     জন্য অনেক    চেষ্টা     করার   পর    অপারেশনের   জন্য  টাকা    জমা    করানোর     জন্য     বললেন।    এখন অপারেশন          ছাড়া           উপায়          নেই           এবং অপারেশনের    ব্যবস্থাও   শুরু   করে   দেন।  টাকা ব্যাংকে ছিলো, হাসপাতালের   পাশে   এটিএম  বুথ থেকে টাকা বের   করলাম এবং কাউন্টারের কাছে   জমা   করে   দিলাম।  কিন্তু অপারেশনের পূর্বেই আল্লাহ্ তাআলার দয়ায় নিরাপদে মাদানী মুন্নার    জন্মের   সংবাদ পেলাম।    মরিয়ম   বুটির ব্যবহারের  জন্য  চার  ও  পাঁচ  ইসলামী  ভাইকে  পরামর্শ দিলাম। তাদের মধ্য থেকে  একজনকে ডাক্তার   অপারেশনের জন্য    বলে   রেখেছিলো اَلْحَمْدُ  لِلّٰہِ  عَزَّوَجَلَّ  তার   ঘরে   অপারেশন   ছাড়াই  জন্ম হয়ে গেলো।
 
*এটাকে মরিয়ম বুটি এবং মরিয়মের পাঞ্জাও বলা হয়। পাঞ্জার আকৃতিটা শুষ্ক অবস্থায় হয়ে থাকে। পাঁশারীর (দেশীয় ঔষধের) দোকানেও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মক্কা মদীনায় স্থানীয় মহিলারা ও ছেলেরা জমিনের উপর রেখে জিনিসগুলো বিক্রি করে এবং তাদের কাছেও পাওয়া যাবে। এর বৈশিষ্ট্য ও বরকত সম্পর্কে অবহিত আশিকানে রাসূল সেখান থেকে তাবারুক আকারে গ্রহণ করেন এবং অন্যান্যদেরকেও উপহার হিসেবে পেশ করেন। যাকে দেওয়া হয় তার সেটা ব্যবহারের পদ্ধতি জানাটা জরুরী একটু পুরাতন হলে আরো ভালো।

কাঁদতে কাঁদতে অন্ধ হয়ে যাওয়া মহিলা

হযরত সায়্যিদুনা হাওয়াছ رَحۡمَۃُ  اللّٰہ  تَعَالٰی   عَلَیہِ বলেন: আমরা ইবাদতগুজার মহিলা রাহেলার নিকট গেলাম। সে অধিক হারে রোযা রাখতো। এমনভাবে কাঁদতো যে, তার চোখের জ্যোতি চলে যায়। এতো বেশি নামায পড়তো যে, দাঁড়াতে পারতো না তাই বসেই নামায আদায় করতো। আমরা তাকে সালাম করলাম। অতঃপর মহান আল্লাহ্ তাআলার ক্ষমা ও অনুগ্রহের আলোচনা করছিলাম যাতে তার অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যায়। সে এ কথা শুনে একটি চিৎকার দিলো এবং বললো: “আমার নফসের অবস্থা আমার জানা আছে; অর্থাৎ- সে আমার অন্তরকে আঘাতপ্রাপ্ত করে দিয়েছে এবং হৃদয় টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। আল্লাহ্র কসম! হায়! আমার ইচ্ছা হলো, তো যদি আল্লাহ্ তাআলা আমাকে সৃষ্টিও না করতেন এবং আমি কোন আলোচনার যোগ্য বস্তুও না হতাম। এটা বলে পুনরায় নামাযে দাঁড়িয়ে গেলো। (ইহ্ইয়াউল উলূম, ৫ম খন্ড, ১৫২ পৃষ্ঠা) আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক। 
اٰمِين بِجا هِ النَّبِيِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم
আহ সলবে ঈমান কা খউফ খায়ে জাতা হে,
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা “মুহাম্মদ ইলয়াস আত্তার” কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত নামায বিষয়ের এনসাইক্লোপিডিয়া ও মাসাইল সম্পর্কিত “নামাযের আহকাম” নামক কিতাবের ৫১-৫৩ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন অথবা প্লে স্টোর থেকে এই কিতাবের অ্যাপ ফ্রি ইন্সটল করুন
বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

Thursday, June 8, 2017

দিদারে মুস্তফা ﷺ ও ভালবাসার ফযিলত

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আকিদা ও আমল পরিশুদ্ধ করার এবং ধর্মীয় জরুরী বিষয়াদী জানার জন্য তবলীগে কুরআন ও সুন্নতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফিলায় সফর করাকে নিজ অভ্যাসে পরিণত করুন। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ দা’ওয়াতে ইসলামী আহলে হকদের সুন্নতে ভরপুর সংগঠন। এর একটি ঈমান তাজাকারী ঘটনা শুনুন ও বিমোহিত হোন।
দিদারে মুস্তফা ﷺ ও ভালবাসার ফযিলত
যেমন তাবলীগে কুরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর ৩ দিনের আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতিমা শেষে (মুলতান) থেকে আশিকানে রসূলগণের অসংখ্য মাদানী কাফিলা সুন্নতের প্রশিক্ষণের জন্য শহর থেকে শহরে, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে সফরে রওয়ানা হয়ে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায়  আন্তর্জাতিক সুন্নতে ভরা ইজতিমা ১৪২৬ হিজরীতে আগরাতাজ কলনী বাবুল মদীনা করাচী এর একটি মাদানী কাফিলা সফরের নিয়ম মোতাবেক একটি মসজিদে পৌঁছে অবস্থান করছিল। রাত্রে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ল তখন মাদানী কাফিলায় অংশগ্রহণকারী এক নতুন ইসলামী ভাইয়ের ভাগ্য চমকে উঠল। এবং তার স্বপ্নযোগে মদীনার তাজেদার হযরত মুহাম্মদ  এর দিদার নসিব হয়ে গেল। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। দা’ওয়াতে ইসলামীর সত্যতা মনে প্রাণে জেনে নিয়ে মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলেন।

নেককারদের ভালবাসার ফযীলত

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেনতো! আশিকানে রসূলদের সাহচার্যের বরকতে এক সৌভাগ্যবান ইসলামী ভাই এর জীবনে তাজেদারে রিসালাত হযরত মুহাম্মদ     এর যিয়ারত নসীব হয়ে গেল। এজন্য সর্বদা উত্তম সঙ্গ বেছে নেয়া চাই ও ভাল লোকদের ভালবাসা চাই। মাদানী কাফিলায় সফরকারী সৌভাগ্যবানদের ও নেককার লোকদের মুহাব্বত করার উত্তম সুযোগ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য নেককার লোকদের ভালবাসার সাতটি ফযীলত শ্রবণ করুন এবং আন্দোলিত হোন।
(১) আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন বলবেন, ওরা কোথায়, যারা আমার সম্মানার্থে একে অপরকে ভালবাসত, আজ আমি তাদেরকে আমার (আরশের) ছায়াতলে রাখব। আজ আমার (আরশের) ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই। (মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৩৮৮, হাদীস-২৫৬৬)
(২) আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, যে সমস্ত লোক আমার জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা রাখে এবং আমারই জন্য একে অপরের কাছে বসে এবং পরস্পরের মধ্যে মেলামেশা করে আর টাকা খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালবাসা
ওয়াজিব হয়ে গেল। (মুআত্তা, খন্ড-২য়, পৃষ্ঠা-৪৩৯, হাদীস নং-১৮২৮)
(৩) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, যে সমস্ত লোক আমার সম্মানের জন্য একে অপরের সাথে মুহব্বত রাখে তাদের জন্য নূরের মিম্বর হবে যা দেখে নবী ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবেন অর্থাৎ পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করবেন।)
(সুনানে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-১৭৪, হাদীস নং-২৩৯৭, দারুল ফিকর, বৈরুত)
(৪) দু’ব্যক্তি একে অপরকে আল্লাহর ওয়াস্তে মুহাব্বত করল যাদের একজন পূর্বে ও অপরজন পশ্চিমে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা’আলা উভয়কে একত্রিত করবেন এবং বলবেন, এই সেই ব্যক্তি যাকে তুমি আমার জন্য ভালবাসতে।
(শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৪৯২, হাদীস নং-৯০২২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ্, বৈরুত)
(৫) জান্নাতে ইয়াকুত পাথরের স্তম্ভ রয়েছে যার উপর জবরজদ পাথরদ্বারা নির্মিত বালাখানা রয়েছে, আর সেটা এমনই উজ্জল যেন আলোকিত নক্ষত্রের মত। লোকেরা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! ঐ ঘরে কে থাকবে? হুজুর   বললেন, ঐ সমস্ত লোক যারা আল্লাহ তাআলার জন্য পরস্পরের মধ্যে মুহাব্বত রেখেছে, একই জায়গায় বসে, একে অপরের সাথে মিলামিশা করেছে। (শুআবুল ঈমান, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃষ্ঠা-৪৮৭, হাদীস নং-৯০০২, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)
(৬) আল্লাহর ওয়াস্তে মুহাব্বতকারী আরশের পাশে ইয়াকুত পাথরের চেয়ারে বসা থাকবে। (আল মুজামুল কবির, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-১৫০, হাদীস নং-৩৯৭৩, দারু ইহইয়ায়িত তারাসিল আরবী, বৈরুত)
(৭) যে ব্যক্তি কারো সাথে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা রাখে, আল্লাহর ওয়াস্তে শত্রুতা রাখে, আল্লাহর ওয়াস্তে দান করে, আল্লাহর ওয়াস্তে বিরত থাকে তাহলে সে নিজের ঈমান পরিপূর্ণ করল। (সুনানে আবু দাউদ, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-২৯০, হাদীস নং-৪৬৮১)
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৯৬-১৯৮ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন


মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

সবুজ গম্বুজের ইতিহাস

সবুজ গম্বুজ, যার দীদারের জন্য প্রতিটি আশিকের হৃদয় ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকে, আর চক্ষু অশ্রুসজল হয়ে যায়, এটাও বিদআতে হাসানা। কেননা হযরত মুহাম্মদ   এর প্রকাশ্য বেসাল শরীফের অনেক বছর পর তা নির্মিত হয়েছে। এ সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছুটা জেনে নিন।
সবুজ গম্বুজের ইতিহাস
মাদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার, হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর রওযা ই আনওয়ারের উপর সর্ব প্রথম গম্বুজ শরীফ নির্মিত হয় ৬৭৮ হিজরী / ১২৬৯ খৃষ্টাব্দে এবং সেটার উপর হলদে রং লাগানো হয়। আর তা তখন হলদে গম্বুজ হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলো। তারপর যুগ পরিবর্তন হতে লাগলো ৮৮৮ হিজরী / ১৪৮৩ খৃষ্টাব্দে কালো পাথর দিয়ে নতুন গম্বুজ তৈরি করা হলো। আর সেটার উপর সাদা রং লাগানো হলো। আশেকগণ সেটাকে ‘আলকুব্বাতুল বায়দ্বা’ অথবা ‘গুম্বাদে বায়দ্বা’ অর্থাৎ ‘সাদা গম্বুজ’ বলতে লাগলো। ৯৮০ হিজরী / ১৫৭২ খৃষ্টাব্দে চূড়ান্ত সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করা হলো। আর সেটাকে রংবেরং এর পাথর দিয়ে সাজানো হলো। তখন সেটার এক রং রইলনা। সম্ভবতঃ স্থাপত্য শিল্পের চিত্তাকর্ষক ও দৃষ্টি কেড়ে নেয়ার মতো দৃশ্যের কারণে সেটা রংবেরংয়ের গম্বুজ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করলো। ১২৩৩ হিজরী / ১৮১৮ খৃষ্টাব্দে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সেটা নির্মাণ করা হলো। এরপর এ পর্যন্ত কেউ তাতে পরিবর্তন করেনি। অবশ্য, সবুজ রং এ সৌভাগ্য পেতে লাগলো যে, তা রংকর্মীদের হাতের মাধ্যমে সেটার গায়ে লেগে যাচ্ছে।
‘গুম্বদে খাদ্বরা’ (সবুজ গুম্বুজ) যা নিঃসন্দেহে বিদ’আতে হাসানা’ তা আজ সারা দুনিয়ার মুসলমানদের প্রত্যাবর্তনের বরকতময় স্থান, চোখের জ্যোতি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি। اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ  সেটাকে দুনিয়ার কোন শক্তি বিলীন করতে পারবেনা। যে সেটাকে বিরোধীতার কারণে নিশ্চিহ্ন করতে চাইবে, আল্লাহর পানাহ! সে নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
এগুলোর মতো সমস্ত নতুন আবিস্কৃত নেক কাজের বুনিয়াদ ওই হাদিসে পাক যা মুসলিম শারীফের বর্ণনায় ইতোপূর্বে উলে−খ করা হয়েছে, যাতে এরশাদ হয়েছে, যে কেউ ইসলামে ভালো পদ্ধতি চালু করে, সে তার সাওয়াব পাবে এবং তাদের সাওয়াবও যারা এর পর তদনুযায়ী আমল করবে।*
(*) মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه এর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘জাআল হক্ব’ বিদআত ও বিদআতের প্রকারভেদ ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য সেটা পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাবের ১৯৫-১৯৬ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। কিতাবটি নিজে কিনুন, অন্যকে উপহার দিন।
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

Thursday, June 1, 2017

কন্যা সন্তানের ফযিলত

মনে রাখবেন! কন্যা সন্তানের ফযীলত কোন অংশে কম নয়। এই ব্যাপারে ৩টি হাদীসে রসূল শুনুন।

(১) যে ব্যক্তি নিজের তিনজন কন্যা সন্তানের লালন পালন করবে সে জান্নাতে যাবে এবং তাকে এমন মুজাহিদের সাওয়াব দান করবে, যে মুজাহিদ জিহাদ অবস্থায় রোযা রাখে ও নামায কায়েম করে। (আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব, খন্ড-৩য়, পৃ-৪৬, হাদীস নং-২৬ দারুল কুতবিল ইলমিয়্যাহ্ বৈরত)
কন্যা সন্তানের ফযিলত
(২) যার তিনজন কন্যা বা তিনজন বোন থাকবে এবং সে তাদের সাথে সদাচারণ করে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(জামে তিরমিযী, খন্ড-৩য়, পৃ-৩৬৬, হাদীস নং-১৯১৯, দারুল ফিকর, বৈরুত)

(৩) যে ব্যক্তি তিন জন কন্যা বা বোনকে এভাবে লালন-পালন করে যে তাদেরকে শিষ্টাচার (আদব) শিখায় এবং তাদের উপর দয়া করে এমনকি আল্লাহ তাআলা তাদের অমুখাপেক্ষী করে দেয় (অর্থাৎ তারা সাবালেগা হয়ে যায় বা তাদের বিবাহ শাদী হয়ে যায় বা তারা মাল-সম্পদের মালিক হয়ে যায়)। (লুমআত এর পাদটিকা,৪র্থ খন্ড, পৃঃ ১৩২)

Tuesday, March 21, 2017

ইসলামী জীবন লোগো

আমাদের ইসলামী জীবন ব্লগটির দক্ষ টিম গত কিছুদিন আগে নিচের লোগোটি ডিজাইন করে ফেসবুক পেইজ ও এই ব্লগ সাইটটির জন্য। লোগোটির ডান পাশে কুরআনের একটি আয়াতের অংশ আর বাম পাশে তার অর্থ দেয়া হয়েছে। যেহেতু পেজের নাম ইসলামী জীবন তাই এই আয়াতটি বেছে নেয়া হয়েছে। লোগোর পিছনে যে মিনার টি দেখা যাচ্ছে তা হচ্ছে মদিনা পাকের সবুজ গম্বুজের উপরের অংশের শুধুমাত্র বর্ডার টুকু।

Logo Of Islami Jibon Blog ইসলামী জীবন ব্লগ এর লোগে

যাই হোক, আমাদের সাথে থাকুন, সুন্দর পোস্ট করার প্রত্যয়ে আছি আমরা। ইসলামী বই থেকে টাইপ করে মান সম্মত পোস্ট করার কাজ অব্যাহত আছে। আর দশটি পেজ বা ব্লগের  মত কপি পেস্ট করে পোস্ট করা থেকে বিরত আছি আমরা। দোআ করবেন, আর পেজ ও ব্লগের পোস্টগুলো আপনাদের সোস্যাল সাইটে শেয়ার করবেন।


আমাদের সকল স্যোসাল সাইট

দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

Thursday, August 11, 2016

আমাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও পলিসি

ইসলামী জীবন মূলত শুরু হয়েছে ২৬/১২/২০১৩ ইং তারিখে ফেসবুকে একটি পেইজ খোলার  মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় এই সাইটটি খোলা হলো ০৯/০৮/২০১৬ ইং তারিখে। আমরা ক্রমান্বয়ে গড়ে তুলতে যাচ্ছি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামীক ওয়েবসাইট।

আমাদের লক্ষ্য

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামীক কিতাব/বই গুলোকে টেক্সট আকারে এখানে পাবলিশ করা। কেননা, এখন অধিকাংশই মানুষই গুগল সার্চ করে তার কাঙ্খিত বিষয়টি পেতে চায়। আগে যেমন বই থেকে খুঁজতো তা এখন নাই বললেই চলে। সামনে এই গুগল নির্ভরতা আরো বাড়বে। আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে যে সকল বই নির্বাচন করা হয়েছে তা এখানে দেখতে পারবেন ইসলামীক বই

আমাদের উদ্দেশ্য

সোস্যাল সাইটগুলোতে বিশেষ করে ফেসবুকে ইসলামীক বিষয়গুলোকে কপি পেস্ট করে করে এত পরিমান বিকৃতি সাধন করছে যে, কোন রেফারেন্স ছাড়া বা ভুয়া রেফারেন্সেই পোস্ট করে যাচ্ছে। তাই ইসলামী জীবন টিমের উদ্দেশ্য এই বিকৃতি সাধন থেকে দশ জন কে হলেও উদ্ধার করা। তবেই আমাদের শ্রম সার্থক।
Islami Jibon

আমাদের আদর্শ

এই সাইটের টিম কোন জঙ্গি কর্মকান্ড কে সমর্থন করে না এবং যে বা যারা এসব অপতৎপরতায় লিপ্ত তাদের স্পষ্টভাবেই ঘৃণা করে। কারণ একটাই, এদের মূল উদ্দেশ্য ইসলামকে বিকৃত করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এই সাইটের টিম আদর্শগত ভাবেই বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক দ্বীনি সংগঠন “দা’ওয়াতে ইসলামী” কে সমর্থন করে। দা’ওয়াতে ইসলামী বিশ্বের ২০০ টিরও অধিক দেশে ১০৩+ বিভাগে দ্বীনি কাজ করে যাচ্ছে।

আমাদের আগামীর পরিকল্পনা

হাজার হাজার কিতাব টাইপ করে টেক্সট সংরক্ষন করার পরিকল্পনা রয়েছে। إن شاء الله 
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে, আমাদের ওয়েবসাইট (https://www.islamijibon.net) তৈরি করা হলো, ভবিষ্যতে মোবাইল অ্যাপ সহ আরো বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাথেই থাকুন...

আমাদের প্রাইভেসী পলিসি

আমাদের ভিজিটর ও সাবস্ক্রাইবার বা যেকোন ব্যক্তি যে কোন ভাবে এই সাইটে যুক্ত হলে তাদের সকল তথ্য ও যাবতীয় গোপনীয়তা আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানে বাধ্য। তাদের মেইল আইডি বা মোবাইল নাম্বার বা অন্য যে কোন তথ্য প্রকাশ করা বা তৃতীয় কোন পক্ষের কাছে বিক্রি আমাদের পলিসির বাহিরে। তাই ব্যবহার কারী প্রত্যেকে এখানে নিশ্চিন্তে পদ চারণা করতে পারবেন । আর আমাদের এই কাজ সম্পূর্ণ অলাভজনক ও বিজ্ঞাপন প্রদর্শনহীন।

আমাদের সাইটের লিখা কপি করতে...

আপনি নিম্নের শর্ত মেনে আমাদের সাইটের লিখা কপি করতে পারবেন।
১। লিখাটির শুরু থেকে শেষ অবধি কোনরূপ পরিবর্তন করা যাবে না।
২। প্রতিটি লিখা শেষ হওয়ার পর নিচে লিখকের নাম, বইয়ের নাম ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং ডাউনলোড লিংক সহ থাকতে হবে।
৩। যেহেতু লিখাগুলো দাওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত তাই আমাদের মূল লিখক, বইয়ের নাম ও ডাউনলোড লিংক দেয়া কর্তব্য। নিজের নামে/সাইটের নিজস্ব লিখা হিসাবে চালানো একটি গর্হিত কাজ।
৪। আপনি যে সাইটে কপি করবেন সেটি ইসলামীক সাইট হতে হবে।
৫। আপনার সাইটে কোনরূপ কমার্সিয়াল কর্মকান্ড থাকতে পারবেনা। পারবেনা  কোন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনী। সম্পূর্ণ অলাভজনক হতে হবে।

আমাদের সাথে কাজ করার সুযোগ

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সমর্থন করেন এমন যে কেউ আমাদের সাথে কাজ করতে পারবেন। আমাদের লক্ষ্য উপার্জনমূলক নয়, সেবামূলক। এটি অবশ্যই মনে রেখে আসতে হবে। যদি পারিশ্রমিক নির্ধারণ হয় তবে সেটি ভিন্ন বিষয়। স্বেচ্ছাশ্রমের আগ্রহ নিয়েই  আসতে হবে প্রথমে।
আপনার দ্বারা তৈরিকৃত টেক্সট অবশ্যই আপনার নামেই পাবলিশ হবে। যদিও নাম পাবলিশ আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়।



একটি সুন্দর  জীবনের জন্য...

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন