আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net
Showing posts with label পর্দা ও পর্দার বিধান. Show all posts
Showing posts with label পর্দা ও পর্দার বিধান. Show all posts

Saturday, September 15, 2018

প্রশ্নোত্তর (বয়ান করা, ওয়াজ নসীহত করা ও মহিলাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে)

আলেম নন এমন কারো পক্ষে বয়ান করা হারাম

প্রশ্ন: কোন ইসলামী বোন যদি আলিমা না হয়ে থাকেন, তিনি কি ইসলামী বোনদের সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় বয়ান করতে পারবেন?
উত্তর: যিনি যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না, তিনি যেন দ্বীনি বয়ান না দেন। কেননা, আমার আক্বা আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ফতোওয়ায়ে রযবীয়ার ২৩তম খন্ডের ৩৭৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন: ওয়াজ বলুন আর যে কোন ধরনের কথাবার্তাই বলুন- এতে সব চেয়ে প্রথম কথা হল আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم وَ عَزَّوَجَلّ এর অনুমতি। যে ব্যক্তি যথেষ্ট জ্ঞানের মালিক নন, তার পক্ষে ওয়াজ করা হারাম। সেই ব্যক্তির ওয়াজ শোনাও জায়েয নেই। কেউ যদি مَعَاذَ الله عَزَّوَجَل বদ-মাযহাবী হয়ে থাকে, তাহলে সে তো শয়তানেরই প্রতিনিধি। তার কথা শোনা তো জঘন্য ধরনের হারাম। (মসজিদে বয়ান দেবার ক্ষেত্রে তাকে বাধাঁ প্রদান করতে হবে)। আবার কারো বয়ান দ্বারা যদি ফিতনা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তাকেও ইমাম সাহেব সহ মসজিদের উপস্থিত লোকজন বাধাঁ দেবার হক রাখেন। আর যদি বিশুদ্ধ আকীদাসম্পন্ন পরিপূর্ণ সুন্নী আলেমে দ্বীন ওয়াজ করে থাকেন, তাহলে তাঁকে বাধাঁ দেবার অধিকার কেউ রাখে না। যেমন: মহান আল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় পারার সূরা বাকারায় ১১৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন:

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُہٗ

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: কোন্ ব্যক্তি তার চেয়ে অধিক অত্যাচারী যে আল্লাহর মসজিদ সমূহে তাঁর নাম নেওয়ায় বাধাঁ প্রদান করে। (পারা: ২, সূরা: আল বাকারা, আয়াত: ১১৪) (ফতোওয়ায়ে রজবীয়া, ২৩তম খন্ড, ৩৭৮ পৃষ্ঠা)

Thursday, September 13, 2018

কাপড় পরিধান বিষয়ক সুন্নাত ও আদব

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি কৃতজ্ঞতা যে, তিনি আমাদেরকে কাপড় পরিধানের যোগ্যতা দান করেছেন, পক্ষান্তরে অন্যান্য জীব জন্তুর নিকট কাপড় পরিধানের যোগ্যতা নেই।পোষাক পরিচ্ছদ দ্বারা আমরা লজ্জাস্থান ঢাকতে পারি, ঠান্ডা ও গরম থেকে বাঁচতে পারি। আর কাপড় চোপড় আমাদের মান মর্যাদা সৌন্দর্য কে বহুগুনে বাড়িয়ে তোলে। তবে নানা সম্প্রদায়ের নানা ধরণের পোষাক হয়ে থাকে কিন্তু সর্বাপেক্ষা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত, সম্মানিত ও স্বতন্ত্র হচ্ছে মুসলমানের পোষাক। নিম্নে পোষাকের ব্যাপারে কতিপয় সুন্নাত ও আদাব পেশ করা হলো-

۞ সাদা রংয়ের পোষাক সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। এ রংয়ের পোষাক ছিল নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর অত্যন্ত পছন্দনীয় ও প্রিয়তর। হযরত সায়্যিদুনা সুমরা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন: নবীয়ে পাক, সাহেবে লাওলাক, হুযুর পুর নূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন, “তোমরা সাদা পোষাক পরিধান করো, কেননা তা অত্যন্ত পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন এবং তা দ্বারা তোমরা মৃতদের কাফন পরিধান করাবে।”(সুনানে তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৮১৯, খন্ড-৪র্থ, পৃষ্ঠা-৩৭০)

Tuesday, October 10, 2017

পর্দার মাসআলা (ত্রয়োদশ পর্ব)

কুফু (যোগ্যতা) কাকে বলে?
প্রশ্ন:- কুফু কাকে বলে? 
উত্তর:- সাধারণ পরিভাষায় শুধুমাত্র স্ব-জাতিকে (বংশ) কুফু বলা হয়ে থাকে এবং শরীয়াতে কুফুর সংজ্ঞা হলো; “জাতি অথবা ধর্ম অথবা পেশা অথবা চলাফেরা অথবা অন্য কোন কর্মে অযোগ্য না হওয়া, যা দ্বারা বিয়ে হওয়ায় অভিভাবকের জন্য (অর্থাৎ মেয়ের বাবা, দাদা ইত্যাদি) সামাজিক ভাবে লজ্জা ও বদনামীর কারণ হয়।” (ফতোওয়া মালেকুল উলামা, ২০৬ পৃষ্ঠা) সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ “বাহারে শরীয়াত”এ বর্ণনা করেন: “যোগ্যতার জন্য ছয়টি জিনিসের উপর নির্ভর করা হয়: ১. জাত (বংশ)। ২. ইসলাম। ৩. পেশা। ৪. আযাদ (স্বাধীন হওয়া)। ৫. সততা। ৬. সম্পদ।” (বাহারে শরীয়াত, ৭ম অংশ, ৫৩ পৃষ্ঠা) 

কুফু'র প্রতিটি শর্তের বিস্তারিত বর্ণনা 
(১) জাত (বংশ) এর বর্ণনা 
প্রশ্ন:- বংশের মধ্যে যোগ্যতা দ্বারা কি উদ্দেশ্য? 
উত্তর:- বংশের মধ্যে যোগ্যতা দ্বারা উদ্দ্যেশ হলো; প্রচলিত নিয়মানুযায়ী মেয়ের বিপরীতে ছেলের বংশ হয়তো উচ্চ হবে অথবা সমান, আর যদি সামান্য কম হয়েও যায় তবে এতটুকু যেন কম না হয় যে, মেয়ের অভিভাবকের (অর্থাৎ বাবা ও দাদা ইত্যাদি) জন্য অসম্মানের কারণ হয়। বংশের উচ্চতা ও নিম্নতা সমান পর্যায় হওয়ার কিছু বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরূপ: (ক) কোরাইশের যতগুলো বংশ রয়েছে তা সবগুলো পরস্পর যোগ্যতা রাখে। শুধু তাই নয়, কোরাইশ তো বটে, কিন্তু হাশেমি নয়। তবে এমন কোরাইশি হাশেমি বংশের যোগ্য। “ফতোওয়ায়ে রযবীয়া”য় বর্ণিত আছে: “সৈয়দজাদীর বিয়ে কোরাইশ বংশের প্রতিটি বংশের সাথে হতে পারবে, হোক সে আলাবী বংশের অথবা আব্বাসি অথবা জাফরি অথবা সিদ্দীকি অথবা ফারুকি অথবা উসমানি অথবা উমাবী।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ১১তম খন্ড, ৭১৬ পৃষ্ঠা) 

পর্দার মাসআলা (দ্বাদশ পর্ব)

আবদুল্লাহ্ বিন মোবারকের তাওবার কারণ 
প্রশ্ন:- হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ্ বিন মোবারকও رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ কি অবৈধ প্রেমের রোগে আক্রান্ত ছিলেন? 
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ। কিন্তু তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে তাওবা করে নেন এবং উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন। হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ্ বিন মোবারক رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর ঘটনা কিছুটা এমন: “শুরুতে তিনি একজন সাধারণ যুবক ছিলেন। তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এক দাসীর (কানিয) প্রেমে পড়ে গেলেন এবং তা খুবই গভীর হয়ে গিয়েছিলো। প্রচন্ড শীতে একবার তার দর্শন লাভের জন্য তিনি সেই দাসীর বাড়ীর পাশে পুরো রাত দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমনকি এই অবস্থায় সকাল হয়ে গেলো। সারা রাত অহেতুক অতিবাহিত হওয়াতে তার অন্তরে নিন্দাভাব সৃষ্টি হলো এবং এ বিষয়ে খুবই অনুশোচনা হলো যে, এই দাসীর অপেক্ষায় পুরো রাত অতিবাহিত করে দিলাম, কিন্তু কোন উপকার হলো না। আহ! যদি এই রাত আল্লাহ্ তাআলার ইবাদতে অতিবাহিত করতাম! এই ভাবনায় তার অন্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে গেলো এবং তাঁর অন্তরে মাদানী পরিবর্তন সাধিত হলো। তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ সত্য অন্তরে তাওবা করলেন, দাসীর ভালবাসা তার অন্তর থেকে বের করে দিলেন। আপন প্রতিপালকের দিকে মনোযোগী হলেন এবং অতি অল্প সময়ে বিলায়াতের উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলেন এবং আল্লাহ্ তাআলা তার শান এতো বৃদ্ধি করলেন যে, 

সাপ, মাছি তাড়ানোয় রত ছিলো 
একবার তাঁর সম্মানীত আম্মাজান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهَا তাঁর খোঁজে বের হলেন, তখন একটি বাগানের গোলাপ গাছের নিচে তাঁকে এভাবে শোয়া অবস্থায় দেখলেন যে, একটি সাপ মুখে নার্গিছ গাছের ডাল নিয়ে মাছি তাড়াচ্ছিলো। অর্থাৎ তাঁর শরীর থেকে মাছি তাড়াচ্ছিলো। (তাযকিরায়ে আওলিয়া, ১ম খন্ড, ১৬৬ পৃষ্ঠা) 
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।  اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

পর্দার মাসআলা (একাদশ পর্ব)

দোয়ার ফযীলত 
ইসলামী বোনেরা! আসলেই এই কথাটি বিশুদ্ধ যে, “নিয়্যত পরিস্কার তো মঞ্জিল সহজ” সেই ইসলামী বোনের সংশোধন হওয়ার আকাঙ্খা ছিলো আর এর জন্য দোয়াও করতো তখন আল্লাহ্ তাআলা তার সংশোধনের ব্যবস্থাও করে দিলেন। আমাদেরও উচিত, নফস ও শয়তানের আক্রমন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দোয়া করাতে অবহেলা না করা। কেননা, “দোয়া মুমিনের হাতিয়ার” দোয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যায়, রহমতে আলম, হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দু'টি বাণী লক্ষ্য করুন: (১) “আমি কি তোমাদের সেই জিনিসের ব্যাপারে বলবো না, যা তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে মুক্তি দান করবে এবং তোমাদের রিযিক প্রশস্থ করে দিবে, রাত দিন আল্লাহ্ তাআলার নিকট দোয়া করতে থাকো। কেননা, দোয়া মুমিনের হাতিয়ার।” (মুসনদে আবু ইয়ালা, ২য় খন্ড, ২০১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৮০৬) 

(২) “দোয়া ভাগ্যকে পরিবর্তন করে দেয় এবং উপকার করার দ্বারা বয়স বৃদ্ধি পায় এবং বান্দা গুনাহের কারণে রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।” (ইবনে মাজাহ্, ৪র্থ খন্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪০২২) 

দা'ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত” এর ১৬তম অধ্যায়ের ১৯৯ পৃষ্ঠায় সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “এই হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দোয়ার মাধ্যমে বিপদাপদ দূর হয়ে যায়, এখানে ভাগ্য দ্বারা উদ্দেশ্য তাকদীরে মুয়াল্লাক (ঝুলন্ত ভাগ্য) এবং বয়স বৃদ্ধি দ্বারাও এই উদ্দেশ্য যে, উপকার করা বয়স বৃদ্ধির কারণ এবং রিযিক দ্বারা আখিরাতের সাওয়াবই উদ্দেশ্য। কেননা, গুনাহ রিযিক থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ এবং হতে পারে যে, কখনো দুনিয়াবী রিযিক থেকেও বঞ্চিত হয়ে যায়।” 

পর্দার মাসআলা (দশম পর্ব)

আকর্ষনীয় বোরকা 
প্রশ্ন:- ইসলামী বোন আধুনিক ডিজাইনের মুক্তো গাঁথা দৃষ্টিনন্দন বোরকা পরিধান করে বাইরে যাবে কিনা? 
উত্তর:- এতে পুরোপুরি ফিতনা রয়েছে যে, মনের রোগী এই আকর্ষনীয় বোরকা চোখ তুলে তুলে দেখবে। মনে রাখবেন! মহিলার বোরকা যতই দৃষ্টিনন্দন ও ডিজাইনেবল হবে ততই ফিতনার আশংকা বৃদ্ধি পাবে। প্রসিদ্ধ মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “মহিলার জন্য আবশ্যক হলো; উচ্চমানের পোশাক এবং উন্নত মানের বোরকা পরিধান করে যেন বাইরে না যায়। কেননা, সুশোভিত বোরকা পর্দা নয় বরং তা সৌন্দর্য্য প্রকাশ করা।” (মিরআত, ৫ম খন্ড, ১৫ পৃষ্ঠা) 

প্রশ্ন:- মহিলা (যদি) সাদা অথবা সুন্দর চাদরের মাধ্যমে সম্পূর্ন দেহ ঢেকে বের হয় তাহলে? 
উত্তর:- চাদরের মধ্যে কোন ধরনের আকর্ষনীয় কিছু না থাকা উচিত। যেমনিভাবে- হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মাদ গাযালী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এর মর্যাদা পূর্ণ বর্ণনার সারাংশ হচ্ছে: “সাধারনত মহিলা যে দৃষ্টিনন্দন চাদর ও ঘোমটা পরিধান করে, তা যথেষ্ট নয়। বরং যখন তারা সাদা চাদর পরিধান করে অথবা সুন্দর ঘোমটা পরিধান করে তখন তার মাধ্যমে উত্তেজনা আরও নাড়া দিয়ে উঠে যে, হয়ত মুখ খোলার পর তাকে আরও সুন্দর দেখা যাবে! সুতরাং সাদা চাদর ও সুন্দর ঘোমটা এবং বোরকা পরিধান করে বাইরে বের হওয়া মহিলাদের জন্য হারাম। যে মহিলা এমন করবে, সে গুনাহগার হবে এবং তার পিতা, ভাই বা স্বামী যে তাকে এর অনুমতি প্রদান করবে সেও তার সাথে গুনাহে লিপ্ত হবে।” (কিমিয়ায়ে সাআদাত, ২য় খন্ড, ৫৬০ পৃষ্ঠা) 

মাদানী বোরকা 
প্রশ্ন:- তাহলে বোরকার ধরণ কেমন হবে? 
উত্তর:- মোটা কাপড়ের ঢিলেঢালা ও অনার্কষনীয় রংয়ের তাবু সাদৃশ্য সাদাসিদে বোরকা হওয়া চাই, যাতে পরিধানকারীনীর ব্যাপারে অনুমান করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায় যে, “সে যুবতী নাকি বৃদ্ধা।” 

পর্দার মাসআলা (নবম পর্ব)

ইসলামী বোন ও নেকীর দাওয়াত 
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা নেকীর দাওয়াত দেয়ার জন্য নিজের প্রতিবেশী ইসলামী বোনের ঘরের দরজায় যেতে পারবে কিনা? 
উত্তর:- পরিপূর্ণ পর্দা সহকারে যেতে পারবে। কিন্তু এই অবস্থায় ইসলামী বোনকে অনেক সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। 

আওয়াজ কিভাবে স্পষ্ট হলো! 
ইসলামী বোনেরা! দুনিয়া ও আখিরাতের অগণিত মঙ্গল লাভ করার জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন সাংগঠনিক পদ্ধতি অনুযায়ী নেকীর দাওয়াতের মাদানী দাওরায় অংশগ্রহণ করুন। নেকীর দাওয়াতের এলাকায়ে দাওরার বরকতের কথা কি বলবো! আপনাদের ঈমান সতেজ করার জন্য মাদানী কাফেলার একটি মনোরম ও সুগন্ধিত মাদানী বাহার উপস্থাপন করছি। পাঞ্জাবের এক ইসলামী বোনের লিখিত বর্ণনার সারাংশ হলো; আমাদের এলাকার একজন ইসলামী বোন গলার রোগে আক্রান্ত ছিলো। স্পষ্ট আওয়াজ বের হতো না এবং তা এমন ছিলো যে, তার একেবারে নিকটে বসা লোকও তার আওয়াজ ভালভাবে বুঝতে পারতো না। ডাক্তার অপারেশনের জন্য বললো এবং এটাও বললো যে, হয়তো আওয়াজ ভাল হবে অথবা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে দা'ওয়াতে ইসলামীর একজন ইসলামী বোন তাকে নেকীর দাওয়াতের মাদানী দাওরায় অংশগ্রহণ করার উৎসাহ প্রদান করলো, তখন সে বিভিন্ন ঘরে পর্দাসহকারে প্রদান করা নেকীর দাওয়াতে অংশগ্রহণ করার জন্য তাদের সঙ্গ অবলম্বন করলো। যখন সেই ইসলামী বোন মাদানী দাওরা থেকে ফিরে এলো তখন আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো যে, তার আওয়াজ পূর্বের তুলনায় অনেক ভাল হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর পরের দিনেই যখন সে দা'ওয়াতে ইসলামীর ইসলামী বোনদের সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করলো, তখন তার আওয়াজ এমন ভাবে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, মনে হয় কখনোও বন্ধই হয়নি। এমনি ভাবে নেকীর দাওয়াতের মাদানী দাওরা ও সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার বরকতে সে এই রোগ থেকে মুক্তি পেলো। 

আমিনা কে লাল! সদকা ফাতেমা কে লাল কা, 
দুর আব তো শা'মতেঁ কর বে'কসু ও মজবুর কি। 
বেহরে শাহে করবালা হোঁ দূর আফাত ও বালা, 
এ্যায় এ হাবিবে রব্বে দাওয়ার বে'কসু ও মজবুর কি। 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 

পর্দার মাসআলা (অষ্টম পর্ব)

ইসলামী বোনেরা! আপনারা দেখলেন তো! সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার কেমন বরকত, এই কথাটি স্মরন রাখবেন! ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার নিয়্যত যেন শুধুমাত্র দুনিয়াবী সমস্যা সমাধান হওয়ার কারণে না হয়। জ্ঞান অন্বেষন ও সাওয়াব অর্জনের নিয়্যতও অবশ্যই করে নেয়া উচিত। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ ইসলামী বোনদের শরয়ী পর্দা সহকারে পাকিস্তান সহ বাংলাদেশের অসংখ্য শহর এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন স্থানে সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমা হয়ে থাকে। প্রত্যেক ইসলামী বোনের উচিত, দা'ওয়াতে ইসলামী ইজতিমায় শুধু নিজে অংশগ্রহণ করবেন না বরং অন্যান্য ইসলামী বোনদেরকেও মুহাব্বত সহকারে সাক্ষাত করে ইনফিরাদী কৌশিশ করে ইজতিমায় অংশগ্রহণের দাওয়াত দিতে থাকা। 

মাদানী ফুল: হযরত সায়্যিদুনা জাবির رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত; খাতামুল মুরসালীন, শফীউল মুযনিবীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “প্রত্যেক নেকী সদকা স্বরূপ আর তোমাদের আপন ভাইয়ের সাথে উৎফুল্লতা সহকারে সাক্ষাত করাও নেকী, আর নিজের বালতি দ্বারা নিজের ভাইয়ের পাত্রে পানি ঢেলে দেয়াও নেকী।” (মুসনদে আহমদ বিন হাম্বল, ৫ম খন্ড, ১১১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৪৭১৫) 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 

পর্দা করতে সংকোচবোধ হলে... 
প্রশ্ন:- পরিবেশ খুবই আধুনিক এবং ফ্যাশন খুবই ছড়িয়ে পড়েছে, শরয়ী পর্দা করতে সংকোচবোধ হয়, এখন কি করা যায়? 
উত্তর:- শরয়ী পর্দা ত্যাগ করা যাবে না। কেননা, এটা উচ্চ পর্যায়ের নেকী। আর বেপর্দা হওয়া মারাত্মক গুনাহ। পর্দা করাতে যত বেশি কষ্ট অনুভব হবে, সাওয়াবও اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ তত বেশি অর্জিত হবে। কথিত আছে: اَفْضَلُ الْعِبَادَاتِ اَحْمَزُهَا অর্থাৎ “সর্বোত্তম ইবাদত সেটাই যাতে বেশি কষ্ট হয়।” (কাশফুল খিফা, ১ম খন্ড, ১৪১ পৃষ্ঠা) 

ইমাম শরফুদ্দিন নববী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “যদি ইবাদতে কষ্ট ও খরচ বেশি হয় তবে সাওয়াব ও ফযীলতও বেশি হয়ে যায়।” (শরহে সহীহ্ মুসলিম লিন নববী, ১ম খন্ড, ৩৯০ পৃষ্ঠা) হযরত সায়্যিদুনা ওমর বিন আব্দুল আযিয رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: “উত্তম ইবাদত সেটা, যার জন্য নফসকে অপারগ হতে হয়।” (ইত্তিহাফু সাদাত লিয যুবায়দী, ১১তম খন্ড, ১০ পৃষ্ঠা) হযরত সায়্যিদুনা ইব্রাহিম বিন আদহাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “যে আমল দুনিয়াতে যতটুকু কষ্টসাধ্য হবে, কিয়ামতের দিন তা (আমল) মিযানে (পরিমাপের পাল্লায়) ততটুকু ভারী হবে।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া, ৯৫ পৃষ্ঠা সংকলিত) তবে হ্যাঁ! যদি কারো নিজের অন্তরই ভেজাল হয়, তখন আর কি বলব! প্রখ্যাত মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ নূরুল ইরফানের ৩১৮ নং পৃষ্ঠায় বলেন: “যার জন্য গুনাহ করা সহজ ও নেক কাজ করা কষ্ট অনুভূত হয়, তবে মনে করো তার অন্তরে নিফাক রয়েছে।” আল্লাহ্ তাআলা রক্ষা করুন। 

اٰمِين بِجا  هِ  النَّبِىِّ الْاَمين صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

পর্দার মাসআলা (সপ্তম পর্ব)

মহিলাদের চাকরী করা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন:- মহিলারা কি চাকরী করতে পারবে? 
উত্তর:- পাঁচটি শর্তাবলী সহকারে অনুমতি রয়েছে। যেমনিভাবে- আমার আক্বা আ'লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “এখানে পাঁচটি শর্তাবলী রয়েছে; ১। কাপড় যেন পাতলা না হয়, যা দ্বারা মাথার চুল অথবা হাতের কব্জি ইত্যাদি এবং সতরের কোন অংশের রং প্রকাশ পায়। 

২। কাপড় যেন আঁটোসাঁটো না হয়, যা দ্বারা শরীরের অবস্থাদি (অর্থাৎ বুকের উত্থান অথবা রানের গোলাকৃতি) ইত্যাদি প্রকাশ পায়। 

৩। চুল অথবা গলা কিংবা পেট বা হাতের কব্জির বা পায়ের গোড়ালীর কোন অংশ যেন প্রকাশ না পায়। 

৪। কখনও যেন কোন পর-পুরুষের সাথে সামান্য সময়ের জন্যও একাকীত্বে অবস্থান করতে না হয়। 

৫। তার (মহিলার) সেখানে চাকরী করাতে বা বাহিরে আসা যাওয়াতে কোন ফিতনার আশংকাও যেন না হয়। যদি এই পাঁচটি শর্তাবলী পূরণ হয় তবে কোন সমস্যা নেই, আর যদি এর মধ্যে থেকে একটিও কম হয় তবে চাকরী করা হারাম।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪৮ পৃষ্ঠা) 


বর্তমান যুগ মুখর্তা ও কপটতার যুগ, বর্ণিত পাঁচটি শর্তাবলীর উপর আমল করাটা বর্তমানে খুবই কঠিন। আজকালঅফিসগুলোতে পুরুষ ও মহিলা مَعَاذَ الله عَزَّوَجَل (আল্লাহর পানাহ! ) একত্রে কাজ করে আর এমনিভাবেই উভয়ের জন্য বেপর্দা, অন্তরঙ্গতা আর কুদৃষ্টি দেয়া হতে বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব। এজন্য মহিলাদের উচিত, ঘর ও অফিস ইত্যাদিতে চাকরী না করে অন্য কোন ঘরোয়া উপার্জনের মাধ্যম অবলম্বণ করা। 


পর্দার মাসআলা (ষষ্ঠ পর্ব)

শিক্ষকের সাথেও কি পর্দা করতে হবে? 
প্রশ্ন:- না মাহরাম শিক্ষকের সাথেও কি পর্দা করতে হবে? 
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! যেমন; শৈশবকালে কোন না-মাহরামের নিকট কোরআনে পাক পড়তো, আর এখন সে বালিগা হয়ে গেছে। তবে সেই শিক্ষকের সাথেও পর্দা করা ফরয হয়ে যাবে। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “বাকী রইল পর্দা করা, শিক্ষক ও শিক্ষক নয় এমন ব্যক্তি, পীর ও পীর নয় এমন ব্যক্তি, আলীম ও আলীম নয় এমন পীর এতে সবাই সমান।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৩তম খন্ড, ৬৩৯ পৃষ্ঠা) 

পীর ও মুরিদনীর পর্দা 
প্রশ্ন:- মুরিদনী এবং পীরের মধ্যেও কি পর্দা রয়েছে? 
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! না-মাহরাম পীরের সাথেও মহিলার পর্দা রয়েছে। আমার আক্বা আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “পর্দার ব্যাপারে পীর ও পীর নয় এমন ব্যক্তি প্রত্যেক পর-পুরুষের ব্যাপারে হুকুম সমান।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২০৫ পৃষ্ঠা) 


পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: দাইয়্যুস কে এবং পালিত সন্তানের সাথে পর্দার বিধান (পঞ্চম পর্ব)

দাইয়্যুসের সংজ্ঞা

প্রশ্ন:- দাইয্যুস কাকে বলে?
উত্তর:- যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজের স্ত্রী ও মাহরিমদেরকে বেপর্দা হওয়া থেকে বারণ করে না, সেই “দাইয়্যুস”। প্রিয় নবী, হুযুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ! ইরশাদ করেন: “তিন ব্যক্তি কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না; দাইয়্যুস এবং পুরুষ সূলভ আকৃতি ধারণকারী মহিলা আর মদ্য পানে অভ্যস্থ ব্যক্তি।” (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৪র্থ খন্ড, ৫৯৯ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৭৭২২) পুরুষের ন্যায় চুল কর্তনকারী এবং পুরুষ সূলভ পোশাক পরিধানকারীরা বর্ণিত হাদীসে পাক থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন। ছোট মেয়েদেরকে ছেলেদের মতো চুল কাটানো এবং তাদেরকে ছেলে সূলভ কাপড় এবং ক্যাপ ইত্যাদি পরিধান করানো ব্যক্তিরাও সতর্কতা অবলম্বন করুন, যেন ছোট মেয়েরা এই সময় থেকেই নিজেকে পুরুষ থেকে আলাদা মনে করে আর বুদ্ধি হওয়ার পর এবং বালিগা (প্রাপ্ত বয়স্কা) হওয়ার পর যেন নিজের অভ্যাস ও চালচলনকে শরীয়াতানুযায়ী পরিচালিত করতে কষ্টের সম্মুখীন হতে না হয়। হাদীসে পাকে এটা বলা হয়েছে যে: “কখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না” তা দ্বারা দীর্ঘদিন যাবত জান্নাতে প্রবেশ হওয়া থেকে বঞ্চিত থাকাই উদ্দেশ্য। কেননা, যে মুসলমান নিজের গুনাহের কারণে مَعَاذَ الله عَزَّوَجَل ( (আল্লাহর পানাহ!) জাহান্নামে যাবে, সে অবশেষে জান্নাতে অবশ্যই প্রবেশ করবে। কিন্তু এটা স্মরণ রাখবেন! এক মুহুর্তের কোটি ভাগের এক ভাগও জাহান্নামের আগুন সহ্য করা যাবে না। তাই আমাদেরকে প্রত্যেক গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য সদা সর্বদা চেষ্টা ও জান্নাতুল ফিরদাউসে বিনা হিসাবে প্রবেশের দোয়া করা উচিত। দাইয্যুসের ব্যাপারে হযরত আল্লামা আলাউদ্দিন হাসকাফী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “দাইয়্যুস সেই ব্যক্তি, যে নিজের স্ত্রী অথবা অন্য কোন মাহারিমের প্রতি যথাযথ শরয়ী বিধান প্রয়োগ না।” (দুররে মুখতার, ৬ষ্ট খন্ড, ১১৩ পৃষ্ঠা) জানা গেলো, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজের স্ত্রী, মা, বোন এবং যুবতি মেয়ে ইত্যাদিকে অলি-গলিতে, বাজার সমূহে, শপিং সেন্টারগুলোতে এবং পার্ক সমূহে বেপর্দা ভাবে ঘুরে বেড়াতে, অপরিচিত প্রতিবেশীদের, নামাহরাম আত্মীয়দের, না-মাহরাম চাকর, পাহারাদার এবং ড্রাইভারের সাথে সংকোচহীন এবং বেপর্দা হওয়া থেকে বাধা প্রদান করে না, তারাই দাইয়্যুস। আর তারা জান্নাত থেকে বঞ্চিত এবং জাহান্নামের ভাগীদার।
আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “দাইয়্যুস ব্যক্তি খুবই মারাত্মক পর্যায়ের ফাসিক এবং প্রকাশ্য ফাসিকের (ফাসিকে মুলিন) পিছনে নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরিমী। তাকে ইমাম বানানো বৈধ নয় এবং তার পিছনে নামায আদায় করা গুনাহ এবং আদায় করলে পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া সংকলিত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫৮৩ পৃষ্ঠা)

পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: কাদের সাথে পর্দা করতে হবে? (চতুর্থ পর্ব)

মহিলাদের জন্য কার কার সাথে পর্দা রয়েছে?

প্রশ্ন:- মহিলাদের জন্য কোন কোন পুরুষের সাথে পর্দা রয়েছে, আর কোন পুরুষের সাথে পর্দা নেই?
উত্তর:- মহিলাদের জন্য প্রত্যেক অচেনা বালিগ পুরুষের সাথে পর্দা রয়েছে। অচেনা বলতে; যে মাহরামের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত নয়। মাহরাম দ্বারা সে পুরুষগণ উদ্দেশ্য, যাদের সাথে সব সময়ের জন্য বিয়ে হারাম। চাই সে হারাম বংশগত হোক বা অন্য কোন কারণে হোক। যেমন; দুধের সম্পর্ক অথবা শশুড়ালী সম্পর্ক হোক।

মাহারিমের প্রকারভেদ

প্রশ্ন:- মাহরামের মধ্যে কোন কোন লোক অন্তর্ভূক্ত?
উত্তর:- মাহরামের মধ্যে তিন প্রকারের লোক অন্তর্ভূক্ত:
(১) বংশের কারণে যাদের সাথে সবসময়ের জন্য বিয়ে হারাম।
(২) দুধের সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে বিয়ে হারাম।
(৩) ‘মুসাহারাত’ অর্থাৎ শশুড়ালী সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে বিয়ে হারাম। যেমন; শশুড়ের জন্য তার পুত্রবধু অথবা শাশুড়ীর জন্য তার মেয়ের জামাই। ‘মুসাহারাত’কে এভাবে বুঝে নেয়া যায়, মেয়ে যেই ছেলের সাথে বিয়ে করে, সেই ছেলের উসুল (মূল) ও ফুরু (শাখা)। উসুল দ্বারা উদ্দেশ্য পিতা, দাদা, পিতার দাদা এভাবে উপরস্থ পর্যন্ত, আর ফুরু দ্বারা উদ্দেশ্য সন্তানের সন্তান এভাবে নিম্ন পর্যায় পর্যন্ত) তার জন্য সব সময়ের জন্য হারাম হয়ে যায়। অনূরূপভাবে স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর উসুল (মূল) ও ফুরুর (শাখার) সাথেও বিয়ে সব সময়ের জন্য হারাম। এছাড়া যিনা এবং যিনার দিকে আহ্বানকারী কর্ম (যেমন; উত্তেজনা সহকারে শরীরকে আবরণ ব্যতিত স্পর্শ করা বা চুম্বন করার) মাধ্যমেও পুরুষ ও মহিলার জন্যও এই বিধান কার্যকর হবে। অর্থাৎ ‘মুসাহারাতে’র হারাম কর্মের বিধান কার্যকর হবে। বংশগত মাহরাম ব্যতিত উভয় প্রকারের মাহরামের সাথে পর্দা ওয়াজিব নয় এবং নিষেধাজ্ঞা নেই। বিশেষ করে যখন মেয়ে যুবতী হয়ে যায় বা ফিতনার আশংকা থাকে তবে পর্দা করবে। 

পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: বর-কনে একে অন্যকে দেখা (তৃতীয় পর্ব)

যাকে বিয়ে করবে তাকে দেখা

প্রশ্ন:- শুনেছি যেই মেয়েকে বিয়ে করবে তাকে নাকি পুরুষ দেখতে পারবে?
উত্তর:- আপনি ঠিকই শুনেছেন। উভয়েই একে অপরকে দেখতে পারবে। সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “(পুরুষ ও মহিলা একে অপরকে দেখার অনুমতি সমৃদ্ধ) আরও একটি ধরণ রয়েছে, আর তা হলো যদি ছেলে সেই মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে এই নিয়্যতে সে ঐ মেয়েকে দেখতে পারবে। কেননা, হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে: “যার সাথে বিয়ে করবে, তাকে দেখে নাও। কেননা, এটা ভালবাসা দৃঢ়তার মাধ্যম।” (সুনানে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ৩৪৬ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১০৮৯)
তেমনিভাবে মহিলাও সেই পুরুষকে দেখতে পারবে, যে তার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। যদিওবা যৌন উত্তেজনার আশংকা থাকে, কিন্তু দেখার মধ্যে উভয়ের এই নিয়্যতই থাকা উচিত যে, হাদীস শরীফের উপর আমল করছি।”  (বাহারে শরীয়াত, ১৬তম অংশ, ৯০ পৃষ্ঠা)


যদি দেখা সম্ভব না হয় তবে কি করা উচিৎ

প্রশ্ন:- যদি ছেলে মেয়ে একে অপরকে দেখা সম্ভব না হয়, তবে অন্য কোন পদ্ধতি রয়েছে কি?:
উত্তর:- এর পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “যেই মেয়েকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক, যদি তাকে দেখা সম্ভব না হয়, যেমনিভাবে বর্তমান যুগে প্রচলিত রয়েছে যে, যদি কেউ বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে কোনভাবেই ছেলেকে মেয়ের চেহারা দেখতে দেয় না (অর্থাৎ এমতাবস্থায় ছেলের সাথে এতোটা মজবুত পর্দা করা হয়, যা পর-পুরুষের সাথেও করা হয় না) এই অবস্থায় সেই ব্যক্তির উচিত যে, যেন অন্য কোন মহিলাকে পাঠিয়ে কনেকে দেখিয়ে নেয়া এবং সে এসে মেয়ের সম্পূর্ণ অবয়ব ও দৈহিক কাঠামো ইত্যাদি বর্ণনা করবে, যেন বরের কাছে তার দৈহিক অবস্থা ও আকৃতির ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা হয়ে যায়।” (বাহারে শরীয়াত, ১৬তম অংশ, ৯০ পৃষ্ঠা)

পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: সতর এর মাসআলা (দ্বিতীয় পর্ব)

সতর কাকে বলে?

প্রশ্ন:- সতরে আওরাত (সতর ঢাকা) কাকে বলে?
উত্তর:- সতরের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে; গোপন করা বা ঢেকে রাখা। যে অঙ্গ সমূহকে ঢেকে রাখা আবশ্যক, সেগুলোকে “আওরাত” বলা হয়। আর সমষ্টিগত ভাবে ঢেকে রাখার এই কর্মকে “সতরে আওরাত” (অর্থাৎ গোপনীয় অঙ্গ সমূহকে ঢেকে রাখা) বলা হয়।আমাদের সমাজে এই বিশেষ অঙ্গ সমূহকে সতর বলা হয়। যেগুলোকে ঢেকে রাখা আবশ্যক।

দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ১২৫০ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত”এর ১ম খন্ডের ৪৭৯ পৃষ্ঠায় সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “সতরে আওরাত (অর্থাৎ সতর গোপন করা) প্রতিটি অবস্থায় ওয়াজিব। চাই সে নামাযে থাকুক বা না থাকুক। একা হোক বা সবার সামনে থাকুক। কোন সঠিক কারণ ব্যতিত একাকীত্বেও সতর খোলা বৈধ নয় এবং লোকদের সামনে হোক অথবা নামাযের মধ্যে (প্রতিটি অবস্থায়) সতর ঢেকে রাখা সর্বসম্মতিক্রমে ফরয।” (বাহারে শরীয়াত, ১ম অংশ, ৩য় অংশ, ৪৭৯ পৃষ্ঠা)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

সতর সম্পর্কিত বিধানের দু’টি প্রকারভেদ রয়েছে:

(১) নামাযের মধ্যে নারী ও পুরুষের জন্য সতরের বিধান।
(২) নামাযের বাইরে সতরের বিধান। অর্থাৎ কে কার শরীরের কতটুকু অংশ দেখতে পারবে। প্রথম প্রকারের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা প্রশ্নোত্তর আকারে লক্ষ্য করুন।

Monday, October 9, 2017

পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: পর্দার মাসআলা (প্রথম পর্ব)

عورت (তথা মহিলা) এর শাব্দিক অর্থ

প্রশ্ন:- عورت (তথা মহিলা) এর শাব্দিক অর্থ কি?
উত্তর:- عورت (তথা মহিলা) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো; “গোপন করার বস্তু”। আল্লাহ্ তাআলার মাহবুব, হুযুর পুরনূ রাসূলুল্লাহ্ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: عورت ( তথা মহিলা), “মহিলা’ই” (অর্থাৎ গোপন করার বস্তু)। যখন সে বের হয় তখন তাকে শয়তান উঁকিমেরে দেখে।” (অর্থাৎ তাকে দেখা শয়তানের কাজ) (সুনানে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১১৭৬)

আজকালও কি পর্দা করা আবশ্যক?

প্রশ্ন:- এই যুগেও কি পর্দা করা আবশ্যক?
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! কিছু বিষয় যদি দৃষ্টির সামনে রাখা হয় তবে اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ পর্দার মাসয়ালা বুঝার ক্ষেত্রে সহজ হবে। ২২ পারা সূরা আহযাব এর ৩৩ নং আয়াতে পর্দার হুকুম দিতে গিয়ে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং নিজেদের ঘরগুলোতে অবস্থান করো এবং বেপর্দা থেকো না যেমন পূর্ববর্তী জাহেলী যুগের পর্দাহীনতা; (পারা: ২২, সূরা: আহযাব, আয়াত: ৩৩)

খলিফায়ে আ’লা হযরত, সদরুল আফাযিল হযরত আল্লামা মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এই আয়াতের টীকায় বলেন: পূর্বের অন্ধকার যুগ (জাহেলীয়্যতের যুগ)দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলামের পূর্বের যুগ। সেই যুগে মহিলারা বেপর্দা বের হতো। নিজের সৌন্দর্য্যতা ও রূপ মাধুর্যকে (অর্থাৎ শরীরের সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যতা যেমন; বুকের উত্তান ইত্যাদি) প্রকাশ করতো। যেন পর-পুরুষেরা তা দেখে। এমন পোশাক পরিধান করতো যার দ্বারা শরীর পুরোপুরি আবৃত হতো না। (খাযায়িনুল ইরফান, ৬৭৩ পৃষ্ঠা)

আফসোস! অন্ধকার যুগের সেই পর্দাহীনতা ও নির্লজ্জতা বর্তমান যুগেও দেখা যাচ্ছে, নিঃসন্দেহে যেমনি ভাবে সেই যুগে পর্দা আবশ্যক ছিলো, তেমনি ভাবে বর্তমানেও আবশ্যক।

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন