আপডেট
স্বাগতম! ইসলামিক সঠিক জ্ঞান নিয়ে ”ইসলামী জীবন” আপনার পাশে। নিয়মিত ভিজিট করুন, দেখুন বিষয়ভিত্তিক পোস্টগুলো আর শিখতে থাকুন... হোয়াটসেপ সার্ভিসে জয়েন হতে “Post” লিখে সেন্ড করুন এই “01511993330” হোয়াটসেপ নাম্বারে। আমাদের ওয়েবসাইট www.islamijibon.net । ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায় অলাভজনক বৃহত্তম ইসলামিক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী জীবন টিম। আসছে মোবাইল অ্যাপলিকেশন... সাইট www.islamijibon.net

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

মেহমানদারীর ২০টি মাদানী ফুল

۞ছয়টি হাদীস শরীফ:

  • (১) “যে (ব্যক্তি) আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার উচিত মেহমানকে সম্মান করা।” (বুখারী, ৪র্থ খন্ড, ১০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬০১৮) প্রখ্যাত মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় বলেন: মেহমানের সম্মান হলো; তার সাথে উৎফুল্লভাবে সাক্ষাৎ করবে, তার জন্য খাবার এবং অন্যান্য খেদমতের ব্যবস্থা করবে, যথাসম্ভব নিজের হাতে তার সেবা করবে। (মিরআত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫২ পৃষ্ঠা)

(২) “যখন কোন মেহমান কারো কাছে আসে তখন নিজের রিযিক (সাথে) নিয়ে আসে আর (যখন) তার কাছ থেকে চলে যায় তখন ঘরের মালিকের গুনাহ ক্ষমা হওয়ার মাধ্যম হয়ে থাকে।” (কানযুল উম্মাল, ৯ম খন্ড, ১০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৫৮৩১)
(৩) “যে নামায কায়েম করলো, যাকাত আদায় করলো, হজ্ব সম্পাদন করলো, রমযানের রোযা রাখলো এবং মেহমানদারী করলো তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আল মুজামুল কবীর, ১২তম খন্ড, ১০৬ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১২৬৯২)
(৪) “যে ব্যক্তি (সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) মেহমানদারী করে না, তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।” (মুসনদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ৬ষ্ঠ খন্ড, ১৪২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭৪২৪)



(৫) “কোন ব্যক্তির এটা বিবেকহীনতা যে, সে নিজের মেহমান থেকে খেদমত নিবে।” (আল জামেউস সগীর, ২৭৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৬৮৬)
(৬) “সুন্নাত হলো; লোক মেহমানকে দরজা পর্যন্ত বিদায় দেওয়ার জন্য যাবে।” (ইবনে মাজাহ, ৪র্থ খন্ড, ৫২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৩৫৮) মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: আমাদের মেহমান হলো সে, যে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বাহির থেকে আসে, হোক তার সাথে আমাদের পরিচয় আগে থেকে থাকুক বা না থাকুক। যে আপন মহল্লা বা আপন শহর থেকে আমাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য আসে, দু-চার মিনিটের জন্য আগত ব্যক্তি সাক্ষাৎকারী হয়ে থাকে, মেহমান নয়। তার স্নেহ-মমতা, সেবা-যত্ম করো, কিন্তু তার জন্য দাওয়াত নেই, আর যে অপরিচিত ব্যক্তি নিজের কাজের জন্য আমাদের কাছে আসে সে মেহমান নয়। যেমন- বিচারক বা মুফতীর কাছে মোকাদ্দমা ওয়ালা বা ফতোয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি এসে থাকে, এরা বিচারকের মেহমান নয়। (মিরআত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫৪ পৃষ্ঠা) 
۞মেহমানের উচিত, তার ঘরের মালিকের ব্যস্ততা এবং দায়িত্ব সমূহের প্রতি খেয়াল রাখা। বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ডের ৩৯১ পৃষ্ঠায় ১৪নং হাদীস শরীফে বীর্ণত আছে: যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তাআলা এবং কিয়ামতের দিনের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন মেহমানকে সম্মান করে। এক দিন এক রাত তার সেবা-যত্ম করে (অর্থাৎ এক দিন সম্পূর্ণ ভাল মেহমানদারী করবে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তার জন্য উত্তম খাবার তৈরী করাবে) আর অতিরিক্ত যিয়াফত হলো, তিন দিন (অর্থাৎ এক দিন পরে সংকোচবোধ করবে না, বরং যা বিদ্যমান রয়েছে সেগুলোই পেশ করবে) আর তিন দিনের পর সদকা। মেহমানের জন্য এটা বৈধ নয়, মেযবানের সেখানে পড়ে থাকা এবং তাকে সমস্যায় ফেলে দেয়া। (বুখারী, ৪র্থ খন্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬১৩৫)
۞যখন আপনি কারো ঘরে মেহমান হিসেবে যাবেন, তখন উত্তম হলো, ভালো ভালো নিয়্যত সহকারে সামর্থ্য অনুযায়ী মেযবান বা তার বাচ্চাদের জন্য তোহফা নিয়ে যাবেন।
۞অনেক সময় এমনও হয়ে থাকে যে, মেহমান কোন উপহার না নিলে তবে মেযবান বা তার ঘরের সদস্যরা মেহমানের নিন্দা করার গুনাহে পড়ে যায়। তবে যেখানে নিশ্চিতভাবে বা প্রবল ধারণার মাধ্যমে এমন অবস্থা হয়, সেখানে মেহমানের উচিত, কোন অপারগতা ব্যতীত যাবে না। প্রয়োজনবশতঃ যাবে এবং উপহার নিয়ে গেলে কোন সমস্যা নেই। অবশ্য মেযবান এ নিয়্যতে নিলো যে, যদি মেহমান উপহার না আনতো তবে ঘরের মালিক এ মেহমানের নিন্দা করতো বিশেষ নিয়্যত সহকারে তো নয়, কিন্তু তার এটা মন্দ অভ্যাস। তবে যেখানে তার প্রবল ধারণা হয় যে, তোহফা আনয়নকারী এ কারণে অর্থাৎ ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য এনেছে তবে এখন গ্রহণকারী মেযবান গুনাহগার এবং জাহান্নাম আগুনের হকদার হবে, আর এ তোহফা তার হকের মধ্যে ঘুষ হবে। হ্যাঁ! যদি নিন্দা করার নিয়্যত না থাকে আর না তার এমন অভ্যাস রয়েছে তবে তোহফা কবুল করাতে কোন সমস্যা নেই।
۞সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরীকা, হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী আমজাদ আলী আযমী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: মেহমানের চারটি বিষয় (থাকা) জরুরী;
(১) যেখানে বসানো হবে সেখানে বসবে
(২) যা কিছু তার সামনে উপস্থাপন করা হবে এতে খুশি হওয়া। এটা যেন না বলা: এর থেকে উত্তম খাবার তো আমি আমার ঘরে খেয়ে থাকি বা এ ধরণের অন্যান্য শব্দাবলী
(৩) অনুমতি ছাড়া ঘরের মালিকের সেখান থেকে উঠবে না
(৪) যখন সেখান থেকে যাবে তখন যেন তার জন্য দোয়া করে। (আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা)
۞ঘর বা খাবার ইত্যাদির ব্যাপারে কোন ধরণের আপত্তি ও মিথ্যা প্রশংসা করবে না। মেযবান ও মেহমানকে মিথ্যা বলার আশঙ্কার মধ্যে নিক্ষেপকারী প্রশ্নাবলী করবে না, যেমন- বলা আমাদের খাবার কেমন লেগেছে? আপনার খাবার পছন্দ হয়েছি কিনা? এমন পরিস্থিতিতে খাবার পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও মেহমান ভদ্রতার খাতিরে খাবারের মিথ্যা প্রশংসা করে, তবে গুনাহগার হবে। এ ধরণের প্রশ্ন করবে না যে, আপনি পেট ভর্তি করে খাবার খেয়েছেন কিনা? কেননা, এখানেও উত্তরে মিথ্যা বলার আশঙ্কা রয়েছে যে, কম খাওয়ার অভ্যাস বা বেশি খাওয়া থেকে বেঁচে থাকা বা কোন ধরণের অপারগতার কারণে কম খাওয়া সত্ত্বেও বারবার বলা ও বাঁচার জন্য মেহমানকে বলতে হয় যে, আমি খুব পেট ভরে খেয়েছি।
۞মেযবানের উচিত, মেহমানকে সময়ে সময়ে বলবে: “আরো খাও” কিন্তু জোরাজোরি করবে না। কেননা, কখনো আবার জোরাজোরির কারণে বেশি খেয়ে না নেয়, আর তা তার জন্য ক্ষতিকর হয়। (আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৪৪ পৃষ্ঠা)
۞হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ গাযালী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: সঙ্গী যদি কম খায় তবে উৎসাহ প্রদান করে বলুন: খান! কিন্তু তিনবার থেকে বেশি বলবেন না। কেননা, এটা “জোরাজোরি” করা হলো, আর সীমা অতিক্রম হলো। (ইহ্ইয়াউল উলুম, ২য় খন্ড, ৯ পৃষ্ঠা)
۞মেযবানকে একেবারে নিশ্চুপ থাকা উচিত নয়, আর এটাও না করা উচিত যে, খাবার রেখে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। বরং সেখানে উপস্থিত থাকুন। (আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)
۞মেহমানদের সামনে চাকর ইত্যাদির উপর রাগান্বিত হবেন না।(আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা)
۞মেযবানের উচিত, মেহমানের সেবা-যত্নে নিজে মশগুল হয়ে যাওয়া, চাকরদের দায়িত্বে তাকে ছেড়ে না দেয়া। কেননা, এটা হযরত ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ عَلَيْهِ السَّلَام এর সুন্নাত। (আলমগিরী, ৫ম খন্ড, ৩৪৫ পৃষ্ঠা ,বাহারে শরীয়াত, ৩য় খন্ড, ৩৯৪ পৃষ্ঠা) যে ব্যক্তি নিজের ভাইদের (মেহমানদের) সাথে খাবার খায়, তার থেকে হিসাব হবে না। (কুতুল কুলুব, ২য় খন্ড, ৩০৬ পৃষ্ঠা)
۞হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ গাযালী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: যে ব্যক্তি কম আহার করে থাকে, সে লোকদের সাথে খেলে তখন সে যেন কিছুক্ষণ পর খাওয়া শুরু করে আর ছোট লোকমা উঠায় এবং আস্তে আস্তে খায়, যেন শেষ পর্যন্ত অন্যান্য লোকদের সঙ্গ দিতে পারে। (মিরকাতুল মাফাতিহ, ৮ম খন্ড, ৮৪ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪২৫৪)
۞যদি কেউ এজন্য তাড়াতাড়ি হাত গুটিয়ে নেয় যেন লোকদের অন্তরে ভাল স্থান দখল করে আর তাকে পেটের কুফলে মদীনা লাগানো ব্যক্তি (অর্থাৎ ক্ষুধা থেকে কম আহারকারী) মনে করে, তবে রিয়াকারী এবং জাহান্নামের আগুনের শাস্তির হকদার।
۞যদি ক্ষুধা থেকে একটু অতিরিক্ত এজন্য খেয়ে নিয়েছে যে, মেহমানের সাথে খাচ্ছে এবং জানে যে, সে হাত গুটিয়ে নিলে মেহমান লজ্জা পাবে এবং তৃপ্তি সহকারে খাবে না, তবে এ অবস্থায়ও একটু অতিরিক্ত খাওয়া বৈধ। যখন এতটুকু বেশি হয় যার দ্বারা পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা না হয়। (দুররে মুখতার, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫৬১ পৃষ্ঠা)
۞এক ব্যক্তি আরয করলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ্ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আমি এক ব্যক্তির ঘরে যাই। সে আমার মেহমানদারী করেনি এখন সে আমার ঘরে এসেছে তবে কি আমি তার থেকে প্রতিশোধ নিবো? ইরশাদ করলেন: “না, বরং তুমি তার মেহমানদারী করো।” (তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৪০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২০১৩)


অসংখ্য সুন্নাত শিখার জন্য মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ২টি কিতাব (১) ৩১২ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “বাহারে শরীয়াত” ১৬তম খন্ড (২) ১২০ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব ‘সুন্নাত ও আদব’হাদিয়া দিয়ে সংগ্রহ করে পাঠ করুন। সুন্নাত প্রশিক্ষনের একটি সর্বোত্তম মাধ্যম হচ্ছে, দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফেলায় আশিকানে রাসূলের সাথে সুন্নাতে ভরা সফর করা।

লুটনে রহমতে কাফিলে মে চলো, শিখনে সুন্নাতে কাফিলে মে চলো।
হোগি হাল মুশকিলে কাফিলে মে চলো, খতম হো শা-মতে, কাফিলে মে চলো।

--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৩২ পৃষ্ঠা সম্বলিত “কবরের পরীক্ষা“ নামক রিসালার ২৬-৩১ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
দাওয়াতে ইসলামীর সকল বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন 
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন

পোস্ট শ্রেণি

অযু-গোসল-পবিত্রতা (12) আপডেট চলমান (25) আমাদের কথা ও অন্যান্য বিষয়াবলী (6) আমাদের প্রিয় নবী ﷺ (4) আরবি মাস ও ফযীলত (11) ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষনীয় ঘটনা (4) ইসলামী জীবন ও সুন্দর চরিত্র (4) ঈদ-কাযা-জানাযা-তারাবী-নফল ও অন্যান্য নামায (5) উত্তম আমল ও সাওয়াবের কাজ (4) কুরআন-তাফসীর ও হাদিস (16) কুরবানী (6) চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কথন (14) জিকির-দোআ-দুরূদ ও ফযীলত (8) নবী-সাহাবী ও আওলিয়াদের জীবনী (8) নামায (17) পর্দা ও লজ্জাশীলতা (16) ফয়যানে জুমা (3) বদ আমল ও গুনাহের কাজ (2) মওত-কবর-হাশর ও আযাব (12) মাসআলা-মাসাইল ও প্রশ্নোত্তর (4) মাসাইল (30) যাকাত-ফিতরা ও সদক্বাহ'র বিধান (1) রোযা/রমযানের বিধান ও ফযীলত (9) সুন্নাত ও আদব/ মাদানী ফুল (38) হজ্ব-ওমরাহ ও যিয়ারতে মদিনা (27)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন