বিভাগ সমূহ

সোমবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৭

পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর: পর্দার মাসআলা (প্রথম পর্ব)

عورت (তথা মহিলা) এর শাব্দিক অর্থ

প্রশ্ন:- عورت (তথা মহিলা) এর শাব্দিক অর্থ কি?
উত্তর:- عورت (তথা মহিলা) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো; “গোপন করার বস্তু”। আল্লাহ্ তাআলার মাহবুব, হুযুর পুরনূ রাসূলুল্লাহ্ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: عورت ( তথা মহিলা), “মহিলা’ই” (অর্থাৎ গোপন করার বস্তু)। যখন সে বের হয় তখন তাকে শয়তান উঁকিমেরে দেখে।” (অর্থাৎ তাকে দেখা শয়তানের কাজ) (সুনানে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১১৭৬)

আজকালও কি পর্দা করা আবশ্যক?

প্রশ্ন:- এই যুগেও কি পর্দা করা আবশ্যক?
উত্তর:- জ্বী, হ্যাঁ! কিছু বিষয় যদি দৃষ্টির সামনে রাখা হয় তবে اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ পর্দার মাসয়ালা বুঝার ক্ষেত্রে সহজ হবে। ২২ পারা সূরা আহযাব এর ৩৩ নং আয়াতে পর্দার হুকুম দিতে গিয়ে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং নিজেদের ঘরগুলোতে অবস্থান করো এবং বেপর্দা থেকো না যেমন পূর্ববর্তী জাহেলী যুগের পর্দাহীনতা; (পারা: ২২, সূরা: আহযাব, আয়াত: ৩৩)

খলিফায়ে আ’লা হযরত, সদরুল আফাযিল হযরত আল্লামা মাওলানা সায়্যিদ মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এই আয়াতের টীকায় বলেন: পূর্বের অন্ধকার যুগ (জাহেলীয়্যতের যুগ)দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলামের পূর্বের যুগ। সেই যুগে মহিলারা বেপর্দা বের হতো। নিজের সৌন্দর্য্যতা ও রূপ মাধুর্যকে (অর্থাৎ শরীরের সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যতা যেমন; বুকের উত্তান ইত্যাদি) প্রকাশ করতো। যেন পর-পুরুষেরা তা দেখে। এমন পোশাক পরিধান করতো যার দ্বারা শরীর পুরোপুরি আবৃত হতো না। (খাযায়িনুল ইরফান, ৬৭৩ পৃষ্ঠা)

আফসোস! অন্ধকার যুগের সেই পর্দাহীনতা ও নির্লজ্জতা বর্তমান যুগেও দেখা যাচ্ছে, নিঃসন্দেহে যেমনি ভাবে সেই যুগে পর্দা আবশ্যক ছিলো, তেমনি ভাবে বর্তমানেও আবশ্যক।

অন্ধকার (জাহেলী) যুগের সময়সীমা কতটুকু?

প্রখ্যাত মুফাস্‌সীর, হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: আহ! যদি উপরোক্ত আয়াত দ্বারা বর্তমান যুগের মুসলমান মহিলারা শিক্ষাগ্রহণ করতো। এই মহিলারা সেই উম্মাহাতুল মু’মিনীনদের চেয়ে উর্ধ্বে নয়। “রুহুল বয়ানে”র প্রণেতা رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: হযরত সায়্যিদুনা আদম عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام সায়্যিদুনা নুহ عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام এর তুফানের মধ্যবর্তী যুগকে প্রথম অন্ধকার যুগ (জাহেলী যুগ) বলা হয়, যার সময়সীমা বারশত বাহাত্তর (১২৭২) বছর ছিলো। আর ঈসা عَلٰی نَبِیِّنَاوَعَلَیْہِ الصَّلوٰۃُ وَالسَّلام ও হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মধ্যবর্তী যুগকে দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ বলা হয়। যার সময়সীমা প্রায় ছয়শত (৬০০) বছর ছিলো। (নূরুল ইরফান, ৬৭৩ পৃষ্ঠা, রুহুল বয়ান, ৭ম খন্ড, ১৭০ পৃষ্ঠা) 
وَاللهُ ورسوله اَعْلَمُ عَزَّوَجَلّ و صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم

পর্দাহীনতা ও নির্লজ্জতার শাস্তি

প্রশ্ন:- বেপর্দার শাস্তি কি?
উত্তর:- মহিলাদের বেপর্দা হওয়া আল্লাহ্ তাআলার গযবের মাধ্যম এবং ধ্বংসের কারণ। এই প্রশ্নের উত্তরে ১৮ পারার সূরা নূরের ৩১নং আয়াতের এই অংশটুকুর তাফসীর লক্ষ্য করুন। যেমনিভাবে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ

.কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং যেন মাটির উপর সজোরে পদক্ষেপ না করে, যাতে জানা যায় গোপন সাজসজ্জা; (পারা: ১৮, সূরা: নুর, আয়াত: ৩১)
বর্ণিত আয়াতে মোবারাকার ব্যাখ্যায় মুফাস্‌সীরে কোরআন মুহাম্মদ নঈম উদ্দীন মুরাদাবাদী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: অর্থাৎ মহিলারা ঘরের মধ্যে চলাফেরা করার সময়ও এতটুকু আস্তে পা ফেলবে যেন তাদের অলংকারের আওয়াজ শুনা না যায়। মাসয়ালা: এজন্যই মহিলাদের উচিত তারা যেন শব্দ সৃষ্টিকারী নূপুর পরিধান না করে। হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে: “আল্লাহ্ তাআলা সেই সম্প্রদায়ের দোয়া কবুল করেন না, যে সম্প্রদায়ের মহিলারা নূপুর পরিধান করে থাকে।” (তাফসীরাতে আহমদীয়া, ৫৬৫ পৃষ্ঠা) এ থেকে বুঝে নেয়া উচিত যে, যখন অলংকারের শব্দ দোয়া কবুল হওয়াকে বাধাগ্রস্থ করে, তবে বিশেষ করে মহিলারা নিজের আওয়াজকে (শরীয়াতের বিনা অনুমতিতে অন্য পুরুষ পর্যন্ত পৌঁছানো) এবং তাদের বেপর্দা হওয়া, কিরূপ আল্লাহ্ তাআলা গযবের কারণ হবে। পর্দার ব্যাপারে বেপরোয়া হওয়া ধ্বংসের কারণ। (খাযায়িনুল ইরফান, ৫৬৬ পৃষ্ঠা)

নূপুর দ্বারা কোন অলংকার উদ্দেশ্য

প্রশ্ন:- হাদীসে পাকে যে শব্দসৃষ্টিকারী নূপুর পরিধানে বারণ করা হয়েছে তা দ্বারা কোন অলংকার উদ্দেশ্য?
উত্তর:- এর দ্বারা পায়ের ঘুঙ্গুর উদ্দেশ্য, এমন অলংকার পরিধানকারীনিদের ব্যাপারে একটি হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে: “আল্লাহ্ তাআলা শব্দসৃষ্টিকারী নুপুরের আওয়াজকে এমনিভাবে অপছন্দ করেন যেমনিভাবে গানের আওয়াজকে অপছন্দ করেন এবং যে মহিলা এমন অলংকার পরিধান করবে তার হাশর তেমনই হবে যেমনটি বাদ্যযন্ত্র বাদকদের হবে। যে মহিলা শব্দসৃষ্টিকারী নূপুর পরিধান করে তার উপর অভিশাপ অবতীর্ণ হয়।” (কানযুল উম্মাল, ১৬তম খন্ড, ১৬৪ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪৫০৬৩)

প্রতিটি নূপুরের সাথে শয়তান থাকে

হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ্ বিন যুবাইর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: আমাদের ঘরের (এক) দাসী হযরত যুবাইর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর মেয়েকে নিয়ে হযরত ওমর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর নিকট গেলো, এমতাবস্থায় তার পায়ে নুপুর ছিলো। হযরত সায়্যিদুনা ওমর ফারুক رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ সেটাকে কেঁটে দিলেন এবং বললেন: “আমি হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর নিকট শুনেছি যে, প্রতিটি নুপুরের সাথে শয়তান থাকে।” (সুনানে আবু দাউদ, ৪র্থ খন্ড, ১২৪ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪২৩০)

নূপুর বিশিষ্ট ঘরে ফিরিশতা আগমন করে না

হযরত সায়্যিদাতুনা বুনানা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا বলেন: আমি উম্মুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা সিদ্দীকা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তাঁর কাছে একটি শিশু কন্যাকে আনা হলো, যার পায়ে নুপুর ছিলো, যেটা আওয়াজ করছিল। (তা দেখে) তিনি رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا বললেন: তাকে কখনও আমার নিকট আনবেনা। কিন্তু যদি তার নুপুর ভেঙ্গে ফেলা হয় (তবে আনবে)। আমি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে ইরশাদ করতে শুনেছি: “যে ঘরে নুপুর থাকে সেই ঘরে ফিরিশতা আগমন করে না।” (সুনানে আবু দাউদ, ৪র্থ খন্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪২৩১)

এই অধ্যায়ের হাদীসে মোবারাকার টীকায় প্রখ্যাত মুফাস্‌সীর, হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: اَجْرَاسْ শব্দটি جَرْس এর বহুবচন। যার অর্থ হলো: নুপুর এবং তার ন্যায় শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তু। উটের গলায় ঝুমুর এবং বাজ পাখির পায়ের চামড়াকেও আজরাস বলা হয়। হিন্দুস্থানেও পূর্ববর্তী মহিলাদের মধ্যে নুপুরের প্রচলন ছিলো। হাদীসে আয়েশায় رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا যেই নুপুর ভেঙ্গে ফেলার বর্ণনা রয়েছে, তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুফতী সাহেব رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: এমন ভাবে ভেঙ্গে দিবে যে, তার ভিতরের কংকর বের করে দিবে অথবা তার নুপুরকে আলাদা করে দিবে অথবা সেই নুপুরটা স্বয়ং ভেঙ্গে ফেলবে। মোটকথা হলো, তাতে যেন শব্দ না হয়। (মিরআতুল মানাজিহ, ৬ষ্ঠ খন্ড, ১৩৬ পৃষ্ঠা)

অলংকারের শব্দের হুকুম

প্রশ্ন:- মহিলাদের জন্য কী শব্দ সৃষ্টিকারী অলংকার পরিধান করা একেবারে নিষিদ্ধ?
উত্তর:- না, এমন তো কখনও হতে পারে না। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ “ফতোওয়ায়ে রযবীয়া” ২২তম খন্ডের ১২৭ ও ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন: “বরং মহিলাদের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও একেবারে অলংকার বিহীন থাকা মাকরূহ। কেননা, এতে পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য পাওয়া যায়।” তিনি আরো বলেন: হাদীসে পাকে বর্ণিত রয়েছে: হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم হযরত মাওলা আলী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ কে ইরশাদ করলেন: يَا عَلِيُّ مُرْنِسَاءَكَ لَايُصَلِّيْنَ عُطُلًا অর্থাৎ; হে আলী! নিজ পরিবারের মহিলাদেরকে হুকুম দাও যে, (তারা যেন) অলংকার বিহীন নামায আদায় না করে।” (আল মু’জামুল আওসাত লিত তাবারানী, ৪র্থ খন্ড, ২৬২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৫৯২৯)

উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا মহিলাদের জন্য অলংকার বিহীন নামায পড়াকে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) মনে করতেন আর বলতেন: “যদি কিছুও না পাও তবে একটি রশি গলায় বেধেঁ নাও।” (আস্‌সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, ২য় খন্ড, ৩৩২ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩২৬৭) 

আ’লা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ শব্দ সৃষ্টিকারী অলংকার ব্যবহার করা সম্পর্কে বলেন: “শব্দ সৃষ্টিকারী অলংকার মহিলার জন্যসেই অবস্থায় পরিধান করা জায়েয, যখন তাকে না-মাহরাম যেমন; চাচাতো, খালাতো, মামাতো, ফুফাতো ভাই, ভাসুর, দেবর, বোনের স্বামীর সামনে আসতে না হয়। আর না তার অলংকারের শব্দ না-মাহরাম পর্যন্ত পৌঁছে।” আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:

وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আর আপন সাজসজ্জাকে যেন প্রকাশ না করে, কিন্তু নিজেদের স্বামীর নিকট; (পারা: ১৮, সূরা: নূর, আয়াত: ৩১)

আল্লাহ্ তাআলা আরো ইরশাদ করেন:
وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আর যেন মাটির উপর সজোরে পদক্ষেপ না করে যাতে জানা যায় তাদের গোপন সাজসজ্জা। (পারা: ১৮, সূরা: নূর, আয়াত: ৩১)

নোট: এই আয়াতে করীমা যেমনিভাবে না-মাহরাম পর্যন্ত অলংকারের শব্দ পৌঁছাতে নিষেধ করছে, অনূরূপভাবে যখন শব্দ না পৌঁছে তখন তা পরিধান করা মহিলাদের জন্য জায়েয সাব্যস্ত করছে। কেননা, এই আয়াতে মোবারাকায় জোরে জোরে পা রাখতে বারণ করা হয়েছে, পরিধান করতে বারণ করা হয়নি। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ১২৭-১২৮ পৃষ্ঠা, সংকলিত)


স্বামীর জন্য মহিলাদের অলংকার পরিধান করা

প্রশ্ন:- স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য মহিলাদের অলংকার পরিধান করা কেমন?
উত্তর:- সাওয়াবের কাজ। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: “স্বামীর জন্য মহিলাদের অলংকার পরিধান করা, সাজসজ্জা করা মহান প্রতিদানের মাধ্যম ও তার জন্য নফল নামায আদায় করা থেকেও উত্তম। কতিপয় নেক্কার বিবিগণ (এমনও ছিলেন) নিজে এবং তার স্বামী উভয়েই আউলিয়ায়ে কিরামের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ছিলেন। প্রতি রাতে ইশারের নামাযের পর পুরোপুরি নব বধুর মতো সেজে নিজের স্বামীর নিকট আসতেন। যদি তাকে নিজের দিকে আগ্রহী মনে হতো তবে স্বামীর নিকট উপস্থিত থাকতেন। নতুবা অলংকার খুলে জায়নামায বিছিয়ে নামাযে লিপ্ত হয়ে যেতেন। আর নব বধুকে সাজানো তো অনেক পুরোনো সুন্নাত এবং অনেক হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। বরং যুবতি মেয়েদেরকে ভাল পোশাক ও অলংকার দ্বারা সজ্জিত রাখা যেন তাদের বিয়ের প্রস্তাব আসে, এটাও সুন্নাত।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ১২৬ পৃষ্ঠা)
কিন্তু স্মরণ রাখবেন! সাজ-সজ্জা যেন ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে এবং তাও শুধুমাত্র মাহরামদের সামনে হয়। যুবতী মেয়েদের সাজিয়ে পর-পুরুষের সামনে বেপর্দা অবস্থায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হারাম এবং জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ।

প্রিয় নবী এর দীদার নসীব হয়ে গেলো

ইসলামী বোনেরা! শরয়ী পর্দা করাতে দৃঢ়তা পাওয়ার জন্য তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকুন। দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাজও করতে থাকুন এবং দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাত প্রশিক্ষণের মাদানী কাফেলায় ইসলামী বোনেরা মুসাফির হওয়ার সৌভাগ্যও অর্জন করতে থাকুন।* যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, মাদানী কাফেলায় কি পাওয়া যায়? তবে আমি বলব: মাদানী কাফেলায় কি পাওয়া যায় না! এই মাদানী বাহারটি লক্ষ্য করুন এবং নবীর প্রেমে মুখরিত অন্তরের অনুধাবন মাদানী বাহারের পরিশেষে প্রদত্ত কবিতার লাইনে سُبْحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَل বলে সত্যায়নের মোহর লাগিয়ে নিন। হায়দারাবাদ সিন্ধু প্রদেশের একজন ইসলামী বোনের বর্ণনা কিছুটা এরকম: আমাদের এলাকার দা’ওয়াতে ইসলামীর ইসলামী বোনদের একটি মাদানী কাফেলা আগমন করলো। দ্বিতীয় দিন নেকীর দাওয়াতের মাদানী দাওরার পর অনুষ্ঠিত সুন্নাতে ভরা বয়ানে আমারও অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জিত হলো। বয়ান শেষে যখন সালাত ও সালামের এই কবিতার লাইনগুলো পড়া হলো;

“হে শাহানশাহে মদীনা আস্‌সালাতু ওয়াস্‌সালাম” তখন আমি জাগ্রত চোখে দেখলাম যে, রহমতে আলম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ফুলের মালা পরিধান করে সেখানে আগমণ করলেন। আমার আক্বা, উভয় জাহানের দাতা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْہِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কে দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম না, আমার চোখ দিয়ে অশ্রুধারা প্রবাহিত হতে লাগলো। অতঃপর সেই ঈমান তাজাকারী দৃশ্য আমার চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো, আর তখনই ইজতিমাও সমাপ্ত হয়ে গেলো।
-------------
*ইসলামী বোনদের মাদানী কাফেলা প্রত্যেক মুসাফির ইসলামী বোনের সাথে তার সন্তানের বাবা অথবা নির্ভরযোগ্য মুহরিম পুরুষ থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া যিম্মাদারদের জন্য নিজের ইচ্ছায় মাদানী কাফেলায় সফর করানোর অনুমতি নেই। যেমন- ইসলামী বোনদের মাদানী কাফেলার জন্য ইসলামী বোনদের মজলিশ বরায়ে মুলক (দেশ পর্যায়ের ইসলামী বোনদের যিম্মাদারের) অনুমতি আবশ্যক।
-------------
মিল গেয়ে ওহ তো ফির কমি কেয়া হে,
দোনো আলম কো পা লিয়া হামনে।

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ৩৪৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত “পর্দা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর“ নামক কিতাবের ১-১০ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই কিতাবটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন।

যারা মোবাইলে (পিডিএফ) কিতাবটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
বাংলা ইসলামীক বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন

মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন