বিভাগ সমূহ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

রমযানুল মুবারকের ১৩টি মাদানী ফুল

(এই সকল মাদানী ফুল তফসীরে নঈমী ২য় খন্ড থেকে নেয়া হয়েছে)

১. কা’বা শরীফ মুসলমানদেরকে তার নিকট ডেকে রহমত প্রদান করে, কিন্তু এটা (মাহে রমযান) এসে রহমত বন্টন করে। এ বিষয়টা এমন যেন সেটা (কা’বা) একটা কূপ, আর এটা (রমযান শরীফ) হচ্ছে সমুদ্র। অথবা ওটা (অর্থাৎ কা’বা) হচ্ছে সমুদ্র আর এটা (অর্থাৎ রমযান) হচ্ছে বৃষ্টি।

২. প্রতিটি মাসে বিশেষ বিশেষ কিছু দিন-তারিখ রয়েছে। আর তারিখগুলোর মধ্যেও বিশেষ মুহুর্তে ই’বাদত-বন্দেগী সম্পন্ন করা হয়। যেমন-ঈদুল আযহার কয়েকটা (বিশেষ) তারিখে হজ্জ, মুহররমের দশম দিন উত্তম, কিন্তু রমযান মাসে প্রতিদিনে ও প্রতিটি মুহুর্তে ইবাদত হয়। রোযা ইবাদত, ইফতার ইবাদত, ইফতারের পর তারাবীর জন্য অপেক্ষা করা ইবাদত, তারাবীহ পড়ে সাহারীর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ঘুমানো ইবাদত, তারপর সাহারী খাওয়াও ইবাদত। মোটকথা, প্রতিটি মুহুর্তে আল্লাহ তাআলার শান ও মহা বদান্যতাই নজরে পড়ে।


৩. ‘রমযান’ হচ্ছে একটা ‘ভাট্টি’। ভাট্টি হল অপরিস্কার লোহাকে পরিস্কার এবং পরিস্কার লোহাকে মেশিনের যন্ত্রাংশে পরিণত করে দামী করে দেয়, আর স্বর্ণকে অলংকারে পরিণত করে ব্যবহারের উপযুক্ত করে দেয়, তেমনিভাবে রমযান মাস গুনাহগারদের পবিত্র করে এবং নেককার লোকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়।

৪. রমযানে নফলের সাওয়াব ফরযের সমান এবং ফরযের সাওয়াব সত্তর গুণ বেশি পাওয়া যায়।

৫. কিছু সংখ্যক আলিম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযানে মৃত্যুবরণ করে, তাকে কবরে প্রশ্ন করা হয় না।”

৬. এ মাসে শবে ক্বদর রয়েছে। আগের আয়াত থেকে বুঝা গেলো যে, কোরআন রমযান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে। অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে,
إِنَّآ اَنْزَلْنٰهُ فِىْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: নিশ্চয় আমি সেটাকে ক্বদর রাত্রিতে অবতরণ করেছি। (পারা-৩০, সূরা-কদর, আয়াত-১)
উভয় আয়াতকে মিলালে বুঝা যায় যে, শবে ক্বদর রমযান মাসেই। আর তা ২৭তম রাতে হবার সম্ভাবনা থাকে বেশী। কেননা, লায়লাতুল ক্বদর এর মধ্যে ৯টি বর্ণ আছে, আর এ ‘শব্দ দু’টি সূরা ক্বদরে তিনবার করে ইরশাদ হয়েছে। যার গুণফল দাঁড়ায় ২৭ (সাতাশ)। সুতরাং বুঝা গেলো সেটা (শবে ক্বদর) ২৭ তম রাতেই।

৭. রমযান মাসে শয়তানকে বন্দী করা হয়, দোযখের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, জান্নাতকে সুসজ্জিত করা হয় এবং দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। এ কারণে, এসব দিনে সৎকর্ম অধিক ও গুনাহ কমে যায়। যে সব লোক গুনাহ করেও নেয়, তারা ‘নফসে আম্মারা’ কিংবা ‘নিজেদের সাথী শয়তান’ (সঙ্গে অবস্থানকারী শয়তান) পথভ্রষ্ট করার কারণে করে থাকে।
৮. রমযানে পানাহারের হিসাব হয় না।

৯. কিয়ামতে রমযান ও কোরআন রোযাদারের জন্য সুপারিশ করবে। রমযান বলবে, “ওহে আমার মালিক! আমি তাকে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত রেখেছিলাম।” আর কোরআন আরয করবে, “ওহে মহান রব! আমি তাকে তিলাওয়াত ও তারাবীর মাধ্যমে ঘুমাতে দেইনি।

১০. হুযুর পুরনূর শফিয়ে ইয়াউমুন নুশুর, হযরত মুহাম্মদ ﷺ রমযানুল মুবারকে প্রত্যেক কয়েদীকে মুক্ত করে দিতেন এবং প্রত্যেক ভিখারীকে দান করতেন। মহা মহিম প্রতিপালকও রমযান মাসে দোযখীদেরকে মুক্তি দেন। সুতরাং রমযানে নেক কাজ করা এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত।

১১. কোরআন করীমে শুধু ‘রমযান’ শরীফের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেটার ফযীলতসমূহই বর্ণিত হয়েছে। অন্য কোন মাসের নাম ও ফযীলত সুস্পষ্টভাবে নেই। মাসগুলোর মধ্যে কোরআন শরীফে শুধু রমযান মাসের নাম নেয়া হয়েছে, নারীদের মধ্যে শুধু বিবি মরিয়ম رضى الله عنها এর নাম এসেছে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে শুধু হযরত সায়্যিদুনা যায়দ ইবনে হারিসা رضى الله عنه এর নাম নেয়া হয়েছে, যার কারণে ওই তিন জনের মহত্ব জানা গেলো।

১২. রমযান শরীফে ইফতার ও সাহারীর সময় দু’আ কবুল হয়; (অর্থাৎ ইফতারের সময় ও সাহারীর সময়।) এ মর্যাদা অন্য কোন মাসে নেই।

১৩. (রমযান) শব্দের মধ্যে পাঁচটি বর্ণ আছে : ر দ্বারা (রহমতে ইলাহী) বুঝায়, ميم দ্বারা (মুহব্বতে ইলাহী), ض দ্বারা (আল্লাহ তাআলার বদান্যতার দায়িত্ব) বুঝায়, ا দ্বারা (আল্লাহর নিরাপত্তা) এবং ن দ্বারা (নূরে ইলাহী) বুঝায়। তদুপরি, রমযানে পাঁচটি ইবাদত বিশেষভাবে সম্পন্ন হয় : ১. রোযা, ২. তারাবীহ, ৩. তিলাওয়াতে কোরআন, ৪. ইতিকাফ এবং ৫. শবে ক্বদরের ইবাদত। সুতরাং যে কেউ সত্য অন্তরে এ পাঁচটি ইবাদত করবে সে ওই পাঁচটি পুরস্কারের উপযুক্ত হবে। (তাফসীরে নঈমী, খন্ড-২য়, পৃ-২০৮)

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks for supporting.