বিভাগ সমূহ

বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

কালো বিচ্ছু (দাঁড়ি রাখার বিধান সম্বলিত)

কথিত আছে, একবার কোয়েটার নিকটবর্তী এক গ্রামে ‘ক্লিন শেভ’করা এক বেওয়ারিশ যুবকের লাশ পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেষে লোকজন মিলে লাশটি দাফন করে দিল। ইত্যবসরে মৃতের ওয়ারিশগণ খোঁজ খবর নিয়ে সেখানে এসে পৌঁছল। তারা লোকজনের সামনে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করল যে, তাদের এই প্রিয়জনের লাশটি তাদের গ্রামে নিয়ে গিয়ে সেখানে দাফন করতে চায়। অতএব, কবরের মাটি সরিয়ে ফেলা হল। লাশটির মুখের দিক হতে যখন পাথরের খন্ডটি সরিয়ে ফেলা হল তখন মৃতের অবস্থা দেখে লোকদের মুখ থেকে ভয়ঙ্কর চিৎকার বেরিয়ে আসল। কারণ, এইমাত্র যে যুবকটির লাশ দাফন করা হয়েছে, তার মুখ কাল দাঁড়িতে ছেয়ে গেছে, আর সে দাঁড়ি কালো চুলের নয় বরং তা ছিল কালো কালো বিচ্ছুরই। ভয়ঙ্কর, লোমহর্ষক এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন ইস্তেগফার পড়তে থাকে এবং তাড়াতাড়ি কবরটি ঢেকে দিয়ে ভয়ে সকলে পালিয়ে গেল। 

লাশ বের করার জন্য পুনরায় কবর খোঁড়া কেমন? 

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! কোয়েটার ঘটনায় লাশটি নিয়ে যাবার জন্য কবর খোঁড়ার আলোচনা রয়েছে। এই সুযোগে এখানে এই ব্যাপারে জরুরি মাস্আলাটিও জেনে নিন যে, শরয়ী অনুমোদন ব্যতিত কবর খোঁড়া হারাম। আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেছেন: (পুনরায়) কবর খোঁড়া হারাম, হারাম এবং কঠোর হারাম। আর এতে করে মৃত ব্যক্তির মারাত্মক অসম্মানি হয় এবং আলাহ তাআলার গোপন রহস্যকে হেয় করা হয় ।[ফাতাওয়ায়ে রজভীয়া। ৯য় খন্ড, পৃষ্ঠা : ৪০৫]

দাঁড়ি মুন্ডিয়ে যখনই গোসলখানায় প্রবেশ করল ...

একবার সাগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ এর (অর্থাৎ লেখকের) উক্ত ঘটনাটি শুনে (বাবুল মদীনা, করাচীর) এক যুবক আল্লাহ তাআলার ভয়ে মুখে দাঁড়ি সাজিয়ে নেয়। কিন্তু পরিবার-পরিজনের বাধায় আর বিয়ের প্রলোভনে পড়ে সেও দাঁড়ি মুন্ডিয়ে ফেলে। কিন্তু কালো বিচ্ছুর ঘটনাটি তার মন থেকে মুছে যায়নি। শেভ করার পর গোসলখানায় প্রবেশ করতেই সে হতবাক হয়ে গেল যে, সেখানে একটি কাল কীট হামাগুড়ি দিচ্ছিল। এ অবস্থা দেখেই সে তৎক্ষণাৎ দাঁড়ি মুন্ডানো থেকে তওবা করে নিল এবং اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ পুনরায় দাঁড়ি রাখা শুরু করে দিল।

দাঁড়িগুলোকে ছেড়ে দাও

রাসুলের মহব্বতের পিপাসীরা! আলাহর হাবীব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর এই মহান বাণীটি বারবার পাঠ করতে থাকুন যে, “তোমাদের গোঁফগুলো খুবই খাটো করো আর দাঁড়িগুলোকে ছেড়ে দাও (অর্থাৎ লম্বা করো), ইহুদীদের মত আকৃতি বানিও না।”[ইমাম তাহাবী কৃত শরহে মাআনিল আছার ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা : ২৮।]

মৃত্যুর পর হৃদয় বিদারক দৃশ্য

ওহে অলস ইসলামী ভাইয়েরা! একটু ভাবুন। মৃত্যুর পর আপনার কিছুই চলবে না। আপনাকে যারা আনন্দ দিত তারা আপনার কাপড়- চোপড় পর্যন্ত খুলে নেবে। আপনি যত মর্যাদাশীলই হোন না কেন, আপনাকে সেই কাফনই পরানো হবে যা পরানো হয়ে থাকে ফুটপাতে পড়ে থাকা বেওয়ারিশ লাশদেরকে। আপনার গাড়ি আছে, সেটি গ্যারেজেই দাঁড়িয়ে থাকবে। আপনার দামী দামী পোষাক সিন্দুকেই থেকে যাবে। আপনার ধন-সম্পদ, আপনার রক্তে উপার্জিত ঘামঝরা পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ আপনার ওয়ারিশরা দখল করে নেবে। আপনজনরা চোখের পানি ফেলতে থাকবে। আর অনাত্মীয়রা খুশি আনন্দ করতে থাকবে। আপনাকে যারা আনন্দ দিত তারা আপনার লাশ কাঁধে উঠিয়ে রওয়ানা দেবে। আপনাকে নিয়ে আসবে এমন এক বিরাণ ভূমিতে যেই ভয়ঙ্কর জায়গায় আপনি কখনও আসেননি। বিশেষ করে রাতে আপনি এক মুহুর্তের জন্যও সেখানে একাকী আসেননি। কখনও আসতে পারতেনও না। বরং সেই স্থানের নাম শুনতেই আপনি ভয়ে কেঁপে উঠতেন। এখন গর্ত খুঁড়ে আপনাকে বুক সমান মাটির নিচে দাফন করে আপনার সব বন্ধু-বান্ধব ফিরে যাবে। আপনার পাশে এক রাত তো দূরের কথা এক ঘণ্টা সময়ের জন্যও কেউ থাকতে রাজি হবে না। চাই সে আপনার প্রাণপ্রিয় পুত্রই হোক না কেন, সেও পালিয়ে দূরে সরে যাবে। এবার এই অন্ধকারের ছোট কবরে জানা নেই কত হাজার কোটি বছর আপনাকে থাকতে হবে। আপনি চিন্তিত হবেন, দু:খিত হবেন। আপনার মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। এদিকে কবর চাপ দিতে থাকবে। আর আপনি চিৎকার করতে থাকবেন। করুণ দৃষ্টিতে দেখতে থাকবেন আপনার বন্ধু-বান্ধবদের চোখের আড়াল হওয়ার দৃশ্য, আপনার মন ভেঙ্গে চুরমার হতে থাকবে। ইত্যবসরে কবরের দেওয়ালগুলো ভূমিকম্পের ন্যায় দুলতে আরম্ভ করবে। দেখতে দেখতে দুইজন ভয়ানক আকৃতির ফিরিশতা (মুনকার ও নকীর) লম্বা লম্বা দাঁত নিয়ে কবরের দেওয়ালগুলো চিড়তে চিড়তে আপনার সামনে এসে উপস্থিত হবে। তাদের চোখ দিয়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকবে।ভয়ঙ্কর কালো কালো চুল আপাদমস্তক ঝুলতে থাকবে। আপনাকে তারা হুঙ্কার দিয়ে ঝাটকি মেরে বসাবে। অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আপনাকে প্রশ্ন করবে “مَنْ رَّبُّكَ؟ তোমার রব কে?” “ دِيْنُكَ؟ مَا তোমার ধর্ম কী?” ইত্যবসরে আপনার ও মদীনা শরীফের সাথে যত পর্দা প্রতিবন্ধক হয়ে ছিল, সবগুলো উঠিয়ে দেয়া হবে। কারো যেন মনোমুগ্ধকর, আদুরে আদুরে সুপ্রিয় চেহারা আপনার সামনে দেখা দিবে, অথবা সে মহান স্বত্তা আপনার সামনে স্বয়ং আগমন করবেন। আশ্চর্যের কী যে, আপনার চক্ষুদ্বয় লজ্জায় অবনত হয়ে যাবে। হতে পারে, আপনি চিন্তায় পড়ে যাবেন যে, এ চোখ উঠাই কোন্ সাহসে? নিজের বিকৃত কুৎসিৎ চেহারা দেখাই কিভাবে? ইনি তো সেই সত্ত্বা যিনি আমার প্রিয় আকা মুহাম্মদুর রাসূলুলাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمআমি যাঁর কলেমা পড়তাম। নিজেকে তাঁর গোলাম বলেও দাবী করতাম। কিন্তু আমি এ কী করলাম? প্রিয় আকা ও মুনিব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم তো আদেশ দিয়েছিলেন, দাঁড়ি লম্বা কর, গোঁফ ছোট করে ছেঁটে ফেল, ইহুদীদের মত আকৃতি বানিওনা। কিন্তু হায় আমার দুর্ভাগ্য! কয়েকদিনের পার্থিব সৌন্দর্য্যরে জন্য নিজের জীবনটাকে খুইয়ে দিয়েছি। ফ্যাশন আমাকে ধ্বংস করে দিল। প্রিয় মুনিব ও আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আমি আমার চেহারা ইহুদীদের মত অর্থাৎ মাদানী আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুশমনদের ন্যায় বানিয়ে রেখেছিলাম। হায়! এখন কী অবস্থা হবে আমার! আর এমন যেন না হয় যে, আমার বিকৃত এই চেহারা দেখে আমার মাদানী আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নেন, আর এই ঘোষণা দেন যে, এ তো আমার দুশমনদের চেহারা, গোলামদের মত তো নয়।আল্লাহ না করুন, এমন যদি হয়ে থাকে তাহলে একটু ভাবুন, তখন আপনার কী অবস্থা হতে পারে?

না উঠ্ সাকে কিয়ামত তলক খোদা কি কসম
আগর নবী নে নজর ছে গিরা কে ছোড় দিয়া।

এমন হবে না, اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ কখনও হবে না! আপনি তো এখনও জীবিত আছেন। সবকিছু মেনে নিন! নিজের দুর্বল শরীর নিয়ে একটু ভাবুন। মনে সাহস সঞ্চয় করুন। ইংরেজ ফ্যাশন, ইংরেজ কৃষ্টি- কালচারকে তিন তালাক দিন আর আপনার চেহারাকে প্রিয় নবী মাদানী আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর পবিত্র সুন্নাত দিয়ে সাজিয়ে নিন এবং এক মুষ্ঠি দাঁড়ি সাজিয়ে নিন। কখনও শয়তানের এই প্রতারণায় পড়বেন না, শয়তানের এরূপ কুমন্ত্রণায় মন দেবেন না যে, “এখনও তো আমার দাঁড়ি রাখার সময় হয়নি, আমার বয়সই বা আর কত? আমার এত জ্ঞানই বা কোথায়? কেউ যদি দ্বীন ধর্মের বিষয়ে কোন প্রশ্ন করে বসে তবে আমি তো এর উত্তর দিতে পারব না। সুতরাং আমি যখন বড় হব, যোগ্য হব, তখনই দাঁড়ি রাখব।” মনে রাখবেন, এ হল শয়তানের সরাসরি আক্রমণ যে, মানুষ নিজের ব্যাপারে এমনই ভাবতে থাকুক যে, হ্যাঁ, আমি এখন যোগ্য হয়ে গেছি।” মনে রাখবেন, নিজেকে নিজে যোগ্য মনে করাই অযোগ্যতার বড় প্রমাণ। নিজেকে নিজে ছোট ভাবুন। যেখানে বড় বড় আলেমগণও সকল প্রশ্নের উত্তর দেননা। সেখানে আপনি কি সব ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন ? নফসের প্রতারণার শিকার হবেন না। নিজের অপারগতাকে স্বীকার করে নিন, আনুগত্যে আসুন। আপনার মাতা আপনাকে বাধা দিক, পিতা আপনাকে নিষেধ করুক, সমাজ আপনাকে ধিক্কার দিক। বিয়েতে বাধা আসুক। যা-ই হোক না কেন, আল্লাহ্ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসুল صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর আদেশ আপনাকে মানতেই হবে। মনে পূর্ণ আশা রাখুন! পবিত্র লওহে মাহফুজে যদি আপনার জোড়া লিখা হয়ে থাকে, তবে বিয়ে আপনার হবেই হবে। আর যদি আপনার জোড়া লেখা না থাকে, তবে পৃথিবীর কোন শক্তি আপনাকে বিয়ে করাতে পারবে না। জীবনের ভরসা কোথায়?

দাঁড়ি মুন্ডাতেই মৃত্যু

কোন ব্যক্তি সাগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ কে (লিখককে) এ ধরনের একটি ঘটনা শুনান যে, বাংলাদেশের এক যুবক দাঁড়ি রেখেছিল। যখন তার বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসে, তার মা-বাবা তাকে দাঁড়ি মুন্ডাতে বাধ্য করে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে নাপিতের কাছে গিয়ে দাঁড়ি মুন্ডিয়ে ঘরে আসার পথে রাস্তা পার হচ্ছিল। হঠাৎ দ্রুতগামী একটি গাড়ি এসে তাকে চাপা দিয়ে চলে গেল আর তৎক্ষণাত তার মৃত্যু হল। তার বিয়ের সাধ মাটি হয়ে গেল। এখন মা-বাবা তার কী কাজে আসবে? না বিয়ে হল, না দাঁড়ি থাকল।অতএব, প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! সাবধান হয়ে যান। আলাহ তাআলার উপর ভরসা করে আজই সংকল্প করুন যে, এখন থেকে আমি তাজেদারে রিসালত, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর মুহাব্বতে গর্দান দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমার মুখের দাঁড়ি পৃথিবীর কোন শক্তি ছিনিয়ে নিতে পারবে না। সাবাশ! ধন্য! ধন্য!!

দাঁড়ি-মুন্ডানকারীদের ব্যাপারে মাদানী আকা ﷺ এর ঘৃনাভরা এক শিক্ষণীয় ঘটনা 

ইরানের সবচেয়ে নিকৃষ্ট কুকুর (বাদশাহ্) খসরু পারভেজের নিকট হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর মাধ্যমে মদীনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর পক্ষ থেকে নেকির দাওয়াত সম্বলিত একটি চিঠি মোবারক পৌঁছে। সেই জালিম নবী-বিদ্বেষী পারভেজ পত্রবাহককে দেখতেই ক্ষোভে রাগে তাঁকে শহীদ করে ফেলে এবং তার বদ-জবানে গালমন্দ করতে থাকে।(পারভেজের বে-আদবীমূলক ও ঔদ্বত্যপূর্ণ শব্দগুলো উল্লেখ করার সাহস হচ্ছে না, তাই উহ্য রেখে দিলাম।) এর পর ইরানের কুকুর (পারভেজ) তার ইয়ামেনে নিয়োজিত গভর্ণর বাজানকে (যার অধীনে আরবের সকল রাষ্ট্র ছিল) এই হুকুম পাঠাল যে, ..................(এখানেও ইরানের কুকুর পারভেজের গালমন্দ উহ্য রাখা হল)। বাজান একটি সেনাদল তৈরি করল। সেনাপতির নাম ছিল ‘খারখাসরা’। তাছাড়া মদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার, হুযুর নবী করীম রউফুর রাহিম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর কর্মকান্ড ও রীতি-নীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাষ্ট্রীয় এক প্রধানকেও তার সাথে দেওয়া হল। তার নাম ছিল ‘বানুয়া’। এই দুই প্রধান যখন মদীনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দরবারে এসে পৌঁছাল, নবী-প্রতাপে তাদের গর্দানের শিরাগুলো কাঁপতে আরম্ভ করে দিল। যেহেতু এরা ছিল পারস্য অগ্নিপূজারী তাই তাদের মুখের দাঁড়ি ছিল মুন্ডানো আর গোঁফগুলো এতই লম্বা ছিল যে, তাদের মুখ পর্যন্ত ঢাকা ছিল। তারা তাদের বাদশাহ্ পারভেজকে ‘রব’ বলত। তাদের চেহারা দেখতেই প্রিয় আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ব্যথিত হলেন। ঘৃনাভরে বললেন, “তোমাদের ধ্বংস হোক, এরূপ আকৃতি বানাতে তোমাদের কে বলেছে?” তারা জবাব দিল, “আমাদের ‘রব’ পারভেজ বলেছে।” প্রিয় আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করলেন: “কিন্তু আমার রব (আল্লাহ) তাআলা তো আমাকে আদেশ দিয়েছেন, দাঁড়ি বাড়াও আর গোঁফ ছাটো।” [মাদারিজুন্নবুয়ত, খন্ড : ২য়। পৃষ্ঠা : ২২৪, ২২৫। ফাতাওয়ায়ে রজভীয়া, খন্ড : ২২, পৃষ্ঠা : ৬৪৭] 

কিয়ামতের হৃদয়-কাপাঁনো দৃশ্য 

প্রিয় প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এই ঘটনাটির প্রতি গভীর দৃষ্টি দিন। ভাবুন। বুঝে না এলে পুনরায় পড়ুন । গভীর চিন্তা করুন। দুইজনলোক, যারা এখনও কাফের, মুসলমান হয়নি। শরীয়তের আদেশ-নিষেধ সম্পর্কেও সম্পূর্ণ অজ্ঞ এবং মুকাল্লিফও নয় (অর্থাৎ শরীয়তের বিধি নিষেধ এখনও তাদের উপর বর্তায়নি।) কিন্তু তারা স্বাভাবিক সৃষ্টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, চেহারার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ধ্বংস করে দিয়েছে, মদীনার তাজেদার, উভয় জগতের মালিক ও মুখতার, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দৃষ্টি মোবারকে তাদের এই (অর্থাৎ দাঁড়ি মুন্ডানোর) কাজটি অত্যন্ত গর্হিত মনে হল। আর তিনি নিখিল বিশ্বের রহমত হওয়া সত্ত্বেও ইরশাদ করলেন: ‘তোমাদের ধ্বংস হোক’। একটু ভাবুন। বুঝার চেষ্টা করুন। কিয়ামতের ময়দানে যখন সবাই একত্রিত হবে, সকলে যখন নফসী নফসী করবে, মা তার সন্তান থেকে আর সন্তান তার পিতা থেকে পালিয়ে বেড়াবে, সে সময় তো একমাত্র পবিত্র সত্ত্বা হুযুর মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ই থাকবেন, যিনি হবেন গুনাহ্গারদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। এই মদীনার তাজেদার, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর পবিত্র খেদমতে সবাইকে উপস্থিত হতে হবে। মনে রাখবেন! যে ব্যক্তি যে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে, তাকে সে অবস্থাতেই কিয়ামতের দিন উঠানো হবে। দাঁড়িওয়ালারা উঠবে দাঁড়ি মুখে, আর দাঁড়িহীনরা উঠবে দাঁড়ি বিহীন অবস্থায়। ওহে মাহবুব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সুন্নাত ধ্বংসকারীরা! প্রাণপ্রিয় সরকার, শাহান শাহে আবরার, হুযুর নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যদি আপনাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি আমাকে এখনও ভালবাস? দিবালোকের ন্যায় এটা স্পষ্ট যে, আপনি অস্বীকার করতেই পারবেন না। তখন আপনি এটাই বলবেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহصَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ! আপনিই তো আমাদের সব কিছু।আমরা আপনাকে আমাদের মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি, ধন-দৌলত সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় জানি। হে আমাদের সরকার ! আমরা তো পৃথিবীতে ঝুম ঝুম করে আপনার দরবারে আরজ করতাম, 

“মেরে তো আপ হি সব কুছ হেঁ রহমতে আলম! 
মাঁই জী রাহা তোঁ জমানে মেঁ আপ হি কে লিয়ে।” 

ওহে হুজুর পুরনূর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! আমরা তো আপনার জন্য মন পাগলপারা ছিলাম যে, অস্থির হয়ে আমরা আরজ করতাম, 

“গোলামে মোস্তফা বন কর মাঁই বিক জাওঁ মদীনে মেঁ 
মোহাম্মদ নাম পর সওদা সরে বাজার হো জায়ে!” 

ওহে আমাদের প্রিয় মুনিব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ! আমাদের ভালবাসার সাগরে যখন খুব বেশি জোশ উঠত, তখন এমনও বলে দিতাম, 

“জান ভি মাঁই তো দে দোঁ খোদা কি কসম! 
কুঈ মাঙ্গে আগর মোস্তফা কে লিয়ে।” 

এসব শুনে (আল্লাহ না করুন) প্রিয় আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم হয়ত এ কথা বলবেন, “হে আমার গোলামরা! তোমরা যদি সত্য সত্য আমাকে মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি এবং ধন-দৌলত থেকে বেশি ভালবাসতে, কেবল আমার জন্যই পৃথিবীতে জীবিত ছিলে, আমার নামেই যদি বিক্রি হওয়ার বাসনায় থাকতে, বরং জীবনও দিয়ে দিতে তৈরি থাকতে, তা হলে কারণটি কী ছিল যে, তোমরা তোমাদের আকার-আকৃতি আমার দুশমনদের ন্যায় বানিয়ে রাখতে? আমার এ সব আদেশ-নিষেধ কি তোমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি। গোঁফগুলো ছোট করবে, দাঁড়িগুলোকে বাড়তে দাও, ইহুদীদের মত আকৃতি বানিও না।” [ইমাম তাহাবী প্রণিত শরহে মাআনিল আছার খন্ড : ৪র্থ, পৃ-২৮।]। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত অনুযায়ী চলে, সে আমার, আর যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে রাখে, সে আমার নয়। [কানযুল উম্মাল। খন্ড ৮ম পৃষ্ঠা : ১১৬। হাদীস নম্বর : ২২৭৪৯]। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতের উপর আমল করে না, সে আমার দলভূক্ত নয়। [সুনানে ইবনে মাজাহ্। খন্ড : ২য়। পৃষ্ঠা : ৪০৬। হাদিস নম্বর : ১৮৪৬।]

যদি আকা ﷺ মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে ...! 

ফ্যাশন জগতে প্রাণ উৎসর্গকারীরা! এসব মহান বাণী স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও আল্লাহ না করুন আমাদের প্রিয় মক্কী মাদানী আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم যদি মুখ ফিরিয়ে নেন, তখন আপনি কী করবেন? কার দ্বারে গিয়ে আবেদন করবেন? কার দরজায় শাফাআতের ভিক্ষা নিতে যাবেন? আল্লাহ তাআলার গজব ও আজাব হতে বাঁচাবেন কে? এখনও সুযোগ আছে। যতদিন নিশ্বাস আছে, সময় আছে, শীঘ্রই তওবা করে নিন। আপনার চেহারাকে প্রিয় আকা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمএর সুমধুর প্রিয় সুন্নাত দিয়ে সাজিয়ে নিন। আপনার চেহারায় নবী প্রেমের নিদর্শন সৃষ্টি করে নিন। এই সুখের চিন্তাটি বাদ দিন যে, এখন বয়সই বা আর কত? পরে না হয় রেখে নিব,বিয়ের পরে দেখা যাবে। হে আমার সরলসোজা ইসলামী ভাইয়েরা! শয়তানের পাতা ফাঁদে পা দিবেন না। সে কতই না মিষ্টি ভাষায় আপনাকে এ কথা বুঝাতে চেষ্টা করবে যে, এখনও দাঁড়ি রাখার বয়স তোমার হয়নি। পরে না হয় রেখে দিও। এটা শয়তানের সফল কৌশল। এই অপকৌশল ব্যবহার করে এই মর্দুদ জানি না কত মানুষকে যে ধ্বংস করে দিয়েছে। আসুন আপনাদেরকে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা শুনাই : 

মৃত্যুর পূর্বে দুর্ভাগ্য 

এক যুবক কম-বেশি সারা বছর ‘দা’ওয়াতে ইসলামী’র সুন্নাতে ভরা মাদানী পরিবেশের সাথে সংশিষ্ট ছিল।দাঁড়িও রাখল। পরে জানি না কী বুঝল! হয়ত কোন খারাপ বন্ধু জুটেছে আর আল্লাহরই পানাহ  দাঁড়ি শেভ করে ফেলল। বৃহস্পতিবার রাতে বাবুল মদীনা করাচীর সাপ্তাহিক সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অনুপস্থিত থাকে। জুমার দিন বন্ধুদের সাথে বাবুল মদীনা করাচীর প্রসিদ্ধ বিনোদনকেন্দ্র ‘হক্স বে’র সমুদ্র সৈকতে পিকনিকে যায়। কিন্তু হায়! বেচারা সমুদ্রের পানিতে ডুবে মৃত্যুর শিকার হয়ে গেল! 

মিলে খাক মেঁ আহলে শাঁ কেয়সে কেয়সে 
মকীঁ হো গায়ে লা মকাঁ কেয়সে কেয়সে। 
হুয়ে নামওয়র বে নিশাঁ কেয়সে কেয়সে 
জমীঁ খা গাঈ নও জওয়াঁ কেয়সে কেয়সে। 
জাগা জী লাগানে কি দুনিয়া নেহিঁ হে 
ইয়ে ইবরত কি জা হে তামাশা নেহিঁ হে। 

ফ্যাশন-পুজারীদের সঙ্গ তওবা তওবা! 

এই যুবকটির বয়স প্রায় বিশ বছর হবে। কতই বা বয়স! ভেবেছে দাঁড়ি রাখার বয়স এখনও হয়ত আমার আসেইনি! এরূপ ভেবেছে বিধায় তো মৃত্যুর মাত্র পনের দিন পূর্বে কি দাঁড়ি সাফ করে নেয়নি।না, কখনও এটা কাম্য নয়। হায় বেচারার কপাল! আফসোস মন্দ সঙ্গের প্রভাব। ইয়া আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা করুন। ডুবে মরা এই যুবকটি আমাদের সকলের উদ্ধারের জন্য অনেক অনেক শিক্ষামূলক বিষয় রেখে গেছে। যেসব ব্যক্তি দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশ থেকে দূরে সরে যাবার জন্য মনে মনে ইচ্ছা করে কিংবা ভ্রমণ-বিনোদনে মত্তদের সাথে বন্ধুত্ব করে, সে যেন এই শিক্ষণীয় ঘটনার উপর ভাল করে মনোযোগ দেয় যে, আমিও যেন অন্যান্যদের সামনে লাঞ্চনার শিক্ষায় পরিণত হয়ে না যাই। আমার এই ফ্যাশন-পুজারী বন্ধুরা  নিজেরা তো ডুবেছেই আমাকেও যেন ডুবাতে না পারে। আর কখনও এমন যেন না হয় যে, আমার জীবনের শেষ মুহুর্তটি উপস্থিত আর সে কারণেই শয়তান তার শক্তি আমার উপর ব্যবহার করছে যেন কিছু সময়ের মন্দ সঙ্গের সংস্পর্শতায় সে আমার জীবনের সব মূল্যবান উপার্জন ধ্বংস করে দিতে পারে। বেনামাযী ও ফাসেকদের সঙ্গদাতাগণ! সাবধান!!! ৭ম পারা, সূরা আল আনআমের ৬৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন: 
وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطٰنُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرٰى مَعَ الْقَوْمِ الظّٰلِمِينَ (68) 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদঃ“যখনই তোমাকে শয়তান ভুলিয়ে দেবে, অত:পর স্বরণে আসার পর কখনও অত্যাচারীদের সাথে বসবে না।”(পারা-৭ম, সূরা-আনআম, পৃ-৬৮) 

রাসূলে পাক ﷺএর পছন্দের দাঁড়িই রাখবে 

ওহে মাদানী মাহবুব صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর ভালবাসার প্রত্যাশীরা! পরাজয় মেনে নিন! নিজের জীবনের উপর অহংকার করবেন না। পার্থিব নামে মাত্র অপারগতা ও লৌকিক বাধ্যবাধকতাকে বেঁচে থাকার বাহানা বানাবেন না। আসুন! আসুন!! রাসূলে পাক صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمএর দয়া ও করুনার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে নিন। তাঁর পালনকর্তা ও অতিক্ষমাশীল মালিকের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিন। তাঁর (অর্থাৎ রাসূলে পাকের) নিকটও ক্ষমা চেয়ে নিন। এ হল দয়া ও করুণার আলীশান দরবার। এ দরবার থেকে কোন ভিক্ষুক খালি হাতে নিরাশ হয়ে ফিরে যায়না। সুন্নাতের ভিক্ষা নিয়ে নিন। আপনার চেহারা হতে আল্লাহ তাআলার ও মোস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুশমনদের সাদৃশ্যতাকে জীবনের জন্য ধুয়ে মুছে সাফ করে নিন। চেহারায় আদুরে আদুরে সুন্নাত সাজিয়ে নিন। আর হ্যাঁ, মনে রাখবেন, শয়তান বড়ই ধোকাবাজ ও প্রতারক। আপনি তো ইংরেজদের এবং ইহুদীদের পাশ ছেড়ে এবার দাঁড়িও সাজিয়ে নিলেন, শয়তান কিন্তু আপনাকে ভিন্ন কৌশলে আবার পথ আগলে ধরবে। আপনাকে যেন আবার ফ্রান্সদের পায়ে নিয়ে ফেলে না দেয়।মূল কথা হল, কখনও ‘ফ্রান্স কাটিং দাঁড়ি’ অর্থাৎ ছোট ছোট খসখসে দাঁড়ি রাখবেন না। কারণ, দাঁড়ি মুন্ডানো এবং দাঁড়ি কেটে এক মুষ্ঠি থেকে ছোট করে ফেলা উভয়টি হারাম। দাঁড়ি রাখবেন, অবশ্যই রাখবেন। তবে প্রিয় মোস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর পছন্দের দাঁড়িই রাখবেন। অর্থাৎ পূর্ণ এক মুষ্ঠি রাখবেন। 

দাঁড়ি ছোট করে ফেলা কারও মতে জায়েয নেই 

আলা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ফাতাওয়ায়ে রজভীয়ার ২২ খন্ডের ৬৫২ পৃষ্ঠায় ‘দুররে মুখতার’, ‘ফতহুল কদীর’ ও‘আল বাহরুর রায়িক’ ইত্যাদি প্রণিধানযোগ্য ফিকহের কিতাবের বরাত দিয়ে বর্ণনা করছেন, “দাঁড়ি এক মুষ্ঠি থেকে কম থাকা অবস্থায় তা থেকে ছাটা, যেমনটি করে থাকে কোন কোন পাশ্চাত্য নপুংসকেরা, এরূপ করাটা কারো মতেই জায়েয নেই। আর সম্পূর্ণটাই মুন্ডিয়ে ফেলাও অগ্নিপূজারী, ইহুদী, হিন্দু এবং কোন কোন ইংরেজদেরই কাজ। [গুনিয়াতু যাভীল আহকাম ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা : ২০৮ । আল বাহরুর রায়িক, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা :৪৯০। ফতহুল কদীর। খন্ড : ২য়। পৃষ্ঠা : ২৭০।] 

দাঁড়ি-মুন্ডানো লোকেরা দুর্ভাগা 

দাঁড়ি যারা ছেটে ছোট করে রাখে বরং যারা একেবারেই রাখে না, তারা যেন সম্মানিত ফকীহগণের উক্ত বিবৃতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। বরং শিক্ষণীয় বিষয়ের সব চেয়ে বড় শিক্ষণীয় হল এই যেমন-আলা হযরত ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দিদে দ্বীন ও মিল্লাত, আলিমে শরীয়ত, পীরে তরীকত, হযরত আল্লামা মাওলানা আলহাজ্ব হাফেজ কারী শাহ ইমাম আহমদ রেযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ স্বীয় কিতাব ‘লামআতুদ্ব দ্বোহা’য় হযরত সায়্যিদুনা কা’আবুল আহবার رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ প্রমূখগণের বাণী উদ্বৃতি করেছেন, “শেষ জমানায় এমন কিছু লোক হবে, যারা দাঁড়ি ছাটবে। তারা একান্তই দুর্ভাগা। অর্থাৎ তাদের জন্য ধর্মে কোন অংশ নেই। আখিরাতেও নেই কোন প্রাপ্তি।” [ফাতাওয়ায়ে রজভীয়া। খন্ড : ২২। পৃষ্ঠা : ৬৫১]। দেখলেন তো আপনারা! দাঁড়ি কেটে যারা এক মুষ্ঠি হতে কম করে ফেলে তারা দ্বীন ও দুনিয়া এবং আখিরাতে কতই দুর্ভাগা। 

সরকার কা আশেক ভি কিয়া দাঁড়ি মুন্ডতা হে! 
কিঁউ ইশক কা চেহরে সে ইজহার নেহিঁ হোতা। 

মাদানী বাসনা 

আল্লাহর ইহসানের জন্য তাঁর প্রতি হাজার প্রশংসা যাদের তৌফিক হয়েছে, নিজেদের চেহারাকে মোস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দুশমনদের অপায়া থেকে পবিত্র রেখে সুন্নাত দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছেন।এবার তাদের উচিত হবে, যেহেতু এতদিন পর্যন্ত দাঁড়ি মুন্ডিয়ে ছিল,তাই এর জন্য তওবাও করে নেয়। সাথে সাথে এটাও চেষ্টা করবে,নিজেদের মাথার চুলও যেন ইংরেজদের স্টাইলে রাখা না হয়। বরং সুন্নাত অনুযায়ী বাবরী চুল রাখবে। মাথায় সর্বদা পাগড়ী শরীফ সাজিয়ে রাখবে। কারণ হুজুরে আনওয়ার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمসর্বদা আপন নূরানী মাথা মোবারকে টুপি শরীফের উপরে পাগড়ী শরীফ সাজিয়ে রাখতেন। পাগড়ী শরীফ হল সুন্নাতে লাযেমা দায়েমা মুতাওয়াতিরা (অর্থাৎ আবশ্যিক সার্বক্ষণিক ধারাবাহিক সর্বজন গৃহীত সুন্নাত)। মদীনার তাজেদার صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন:“পাগড়ী বাঁধ, তোমাদের ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ সহনশীলতায় যথেষ্ট বৃদ্ধি ঘটবে।”[ইমাম হাকিম প্রণীত আল মুস্তাদরাক, খন্ড-৫ম, পৃষ্ঠা : ২৭২, হাদিস : ৭৪৮৮]অন্যত্র বলেন: رَكعَتَانِ بِعِمَامَةٍ خَيْرِ مِّنْ سَبعَينِ رَكعضةً بِلَا عِمَامَةٍ অর্থাৎ “পাগড়ী সমেত দুই রাকাত নামায পাগড়ীবিহীন সত্তর রাকাত নামাযের চেয়ে শ্রেয়।”[ইমাম সুয়ুতী কৃত আল জামিউস সগীর, পৃষ্ঠা : ২৭৩। হাদিস : ৪৪৬৮] এ ছাড়াও পোষাক-আশাকও সাদা রঙের পড়বেন। যে কোন ধরনের ফ্যাশন ভাব পরিহার করে সর্বদা সাদা-সিধা পোষাক পরিধান করবেন। ইংরেজ পোষাক এড়িয়ে চলবেন। প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে ঊলার সাথে জামাত সহকারে আদায় করবেন। অযথা হাসি- ঠাট্টা, উপহাস এবং অনর্থক কথা-বার্তা বলার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন আপনি একজন সম্মানি মুসলমান হিসাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করবেন। যেখানেই ‘দা’ওয়াতে ইসলামী’র সুন্নাতে ভরা ইজতেমায় যোগ দেওয়া সম্ভব হয়, অবশ্যই শরীক হবেন। জীবনকে আমল সমৃদ্ধ করার জন্য দৈনিক ফিকরে মদীনার মাধ্যমে মাদানী ইনআমাতের রিসালা পূরণ করে প্রত্যেক মাদানী মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যে আপনার এলাকার দা’ওয়াতে ইসলামীর যিম্মাদারকে জমা দিয়ে দিন। কুরআন ও সুন্নাত প্রচারের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফেলা শহর থেকে শহরে, গ্রামে গঞ্জে প্রতিনিয়ত সফর করতেই থাকে, সুন্নাতের প্রশিক্ষণের জন্য তাঁদের সাথে আপনি অবশ্যই সফর করে আপনার আখিরাতকে উত্তমভাবে সাজিয়ে নিন।
--------
লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা “মুহাম্মদ ইলয়াস আত্তার” কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত ২৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত "কালো বিচ্ছু" নামক রিসালার ৩-২১ নং পৃষ্ঠা হতে সংগৃহীত। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই রিসালাটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন। অন্যকে উপহার দিন। 
যারা মোবাইলে (পিডিএফ) রিসালাটি পড়তে চান তারা ফ্রি ডাউনলোড করুন ।
ইসলামিক বাংলা বইয়ের লিংক এক সাথে পেতে এখানে ক্লিক করুন
মাদানী চ্যানেল দেখতে থাকুন