আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net

Sunday, June 3, 2018

ইতিকাফের ফযিলত

ফয়যানে ইতিকাফ 
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! রমযানুল মুবারকের বরকত সম্পর্কে কি বলবো! এমনি তো রমযানের প্রতিটি মুহুর্ত রহমতে পরিপূর্ণ, প্রতিটি মুহুর্ত অশেষ বরকত দ্বারা সমৃদ্ধ রয়েছে। কিন্তু এ সম্মানিত মাসে শবে ক্বদর সর্বাপেক্ষা বেশী গুরুত্ব রাখে। সেটা পাবার জন্য আমাদের প্রিয় আকা মদীনা ওয়ালে মুস্তফা হযরত মুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّمপবিত্র মাহে রমযানের পুরো মাসও ই‘তিকাফ করেছেন। 

আর আখেরী দশদিনের ই‘তিকাফ তো হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم খুবই গুরুত্ব দিতেন। এমনকি একবার কোন বিশেষ সমস্যার কারণে হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم রমাযানুল মুবারকে ই‘তিকাফ করতে পারেন নি। তাই শাওয়ালুল মুকাররামের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করেছিলেন। (সহীহ বোখারী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৭১, হাদিস নং ২০৩১) 

এক বার সফরের কারণে হুযুর মাদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার, হযরত মুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই হুযুর صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم পরবর্তী রমযান শরীফে বিশ দিন ইতিকাফ করেছেন। (জামে তিরমিযী, ২য় খন্ড, ২১২ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৮০৩)

Tuesday, April 10, 2018

কবর ও দাফনের মাদানী ফুল (নিয়মাবলী)

۞আল্লাহ্ তাআলার বাণী: 

أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ كِفَاتًا (25) أَحْيَاءً وَأَمْوَاتًا (26) 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আমি কি জমিনকে একত্রকারী করিনি। তোমাদের জীবিত ও মৃতদের। (পারা- ২৯, সূরা- মুরসালাত, আয়াত- ২৫, ২৬) 

এ আয়াতে মোবারাকার ব্যাখ্যায় “নূরুল ইরফান” ৯২৭ পৃষ্ঠার বর্ণিত আছে; এভাবে যে, জীবিতরা যমীনের পৃষ্ঠের উপর আর মৃতরা যমীনের পেটে একত্রিত আছে। 

۞মৃতকে দাফন করা ফরযে কিফায়া (অথার্ৎ একজনও দাফন করে দেয় তবে সবাই দায়মুক্ত হয়ে যাবে, নতুবা যার কাছে সংবাদ পৌঁছেছিল আর দাফন করাইনি গুনাহগার হবে) মৃতকে যমীনে রেখে চারিদিক থেকে দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দেয়া জায়েয নেই। (বাহারে শরীয়তে, ১ম খন্ড, ৮৪২ পৃষ্ঠা) 

۞কবর সমুহ আল্লাহ্ তাআলার নেয়ামত। কেননা, এতে মৃতকে দাফন করে দেয়া হয়। যাতে পশু এবং অন্যান্য বস্তগুলো তার খেয়ানত না করে। 

মৃত ব্যক্তির অসহায়ত্ব

লাশ এবং গোসলদাতা 
প্রখ্যাত আলিম ও মুহাদ্দিস এবং প্রসিদ্ধ তাবেয়ী বুযুর্গ হযরত সায়্যিদুনা সুফিয়ান ছওরী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ থেকে বর্ণিত; “মৃত ব্যক্তি সবকিছু জানতে পারে। এমনকি (সে) গোসলদাতাকে বলে: তোমাকে আল্লাহ্ তাআলার শপথ দিচ্ছি, তুমি গোসলদানে আমার সাথে নম্রতা প্রদর্শন করো। আর যখন তাকে খাটে রাখা হয়, তখন তাকে বলা হয়: “নিজের ব্যাপারে মানুষের মন্তব্যগুলো শুনো। (শরহুস্ সুদূর, ৯৫ পৃষ্ঠা) 

মৃত ব্যক্তি কি বলে? 
আমীরুল মু’মিনীন হযরত সায়্যিদুনা ওমর ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বর্ণনা করেন; মদীনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: “মৃত ব্যক্তিকে যখন খাটে রাখা হয় এবং তাকে নিয়ে এখনোও তিন কদম পথ অতিক্রম করা হয়েছে মাত্র, তখন সে বলে, আর তার কথা মানুষ এবং জ্বীন ব্যতীত আল্লাহ্ তাআলা যাদের চান তাদেরকে শুনান। মৃত ব্যক্তি বলে: “হে আমার ভাইয়েরা! এবং হে আমার লাশ বহনকারীরা! তোমাদেরকে যেন দুনিয়া ধোকায় না ফেলে, যেভাবে আমাকে ধোঁকায় ফেলেছিল। আর সৃষ্টি যেন তোমাদেরকে খেলায় (মগ্ন) না রাখে। যেভাবে সে আমাকে মগ্ন রেখেছিল। আমি যা কিছু উপার্জন করেছি তা নিজের ওয়ারিশদের জন্য রেখে যাচ্ছি। আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন আমার কাছ থেকে হিসাব নিবেন। আর আমাকে পাকড়াও করবেন। অথচ (আজ) তোমরা আমাকে বিদায় জানাচ্ছ এবং আমাকে আহবান করছো (অর্থাৎ আমার জন্য কান্নাকাটি করছ)। (শরহুস সুদুর, ৯৩ পৃষ্ঠা, কিতাবুল কুবুর মাআ মাওসুআতে ইবনে আবিদ দুনিয়া, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৬১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৫) 

Tuesday, March 27, 2018

জানাযার ১৫টি মাদানী ফুল

৪টি ফরমানে মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم 

১। যে (ব্যক্তি)কোন মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে মৃতের পরিবারের নিকট গিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করলো, তবে আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য এক ক্বিরাত সাওয়াব লিখে দিবেন, অতঃপর যদি মৃতের সাথে যায় তবে আল্লাহ্ তাআলা দুই ক্বিরাত প্রতিদান লিখেন, অতঃপর যদি মৃতের জানাযার নামায আদায় করে, তবে তিন ক্বিরাত, অতঃপর যদি কাফন-দাফনে উপস্থিত থাকে তবে চার ক্বিরাত আর প্রতি ক্বিরাত উহুদ পাহাড়ের সমান। (সংশোধিত ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ৯ম খন্ড, ৪০১ পৃষ্ঠা। উম্দাতুল ক্বারী, ১ম খন্ড, ৪০০ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪৭) 

২। মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে, (তার মধ্যে একটি হলো) যখন মৃত্যু হবে তখন তার জানাযায় অংশ নেয়া। (মুসলিম, ১১৯২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ৫ (২১৬২), সংক্ষেপিত) 

৩। “যখন কোন জান্নাতী ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে তখন আল্লাহ্ তাআলা ঐ সমস্ত লোকদের শাস্তি দিতে লজ্জাবোধ করেন যারা তার জানাযা নিয়ে চলে, যারা এর পেছনে চলে এবং যারা তার জানাযার নামায আদায় করে। (আল ফিরদাউস বিমাসুরিল খাত্তাব, ১০ম খন্ড, ২৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং: ১১০৮) 

Saturday, March 24, 2018

মৃত ব্যক্তির অনুশোচনা

কবরে মাটি দেয়ার কারণে ক্ষমা হয়ে গেলো 
এক ব্যক্তির ইন্তিকালের পর কেউ তাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলো: مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ؟ অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা আপনার সাথে কিরূপ আচরণ করেছেন? উত্তরে বললেন: আমার আমল পরিমাপ করা হলো, গুণাহের ওজন বেড়ে গেলো, অতঃপর একটি থলে আমার নেকীর পাল্লায় রাখা হলো, যার কারণে اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ আমার নেকীর পাল্লা ভারী হয়ে গেলো এবং আমার ক্ষমা হয়ে গেলো। যখন সেই থলেটি খোলা হলো তখন তার মধ্যে সেই মাটি দেখলাম যা আমি এক মুসলমানের দাফনের সময় তার কবরে দিয়েছিলাম। (মিরকাতুল মাফাতিহ, ৪র্থ খন্ড, ১৮৯ পৃষ্ঠা) 

صَلُّوا عَلَى الحَبِيب ! صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلى مُحَمَّد 

কেউ সত্যিই বলেছেন: 
রহমতে হক ‘বাহা’ না মে জুইদ, 
রহমতে হক ‘বাহানা’ মে জুইদ। 
(অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলার রহমত মূল্য নয়, বাহানা খোঁজে থাকে) 

কবরে মাটি দেওয়ার পদ্ধতি 
মুসলমানের কবরে মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। এর পদ্ধতি হলো: কবরের মাথার পার্শ্ব হতে দুই হাতে মাটি উঠিয়ে তিনবার কবরে দেবে, প্রথমবার দেওয়ার সময় বলবে: مِنْهَا خَلَقْنٰكُمْ (আমি জমিন থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি) দ্বিতীয়বার দেওয়ার সময় বলবে: وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ (সেটার মধ্যেই তোমাদেরকে আবার নিয়ে যাবো) এবং তৃতীয়বার দেওয়ার সময় বলবে: وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخرٰى (এবং সেটা থেকে পুনরায় তোমাদেরকে বের করবো।) এবার বাকী মাটি কোদাল ইত্যাদি দিয়ে ঢেলে দিন। 

Sunday, March 11, 2018

আশিকে আকবার (আবু বকর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী)

শৈশবের আশ্চর্যজনক ঘটনা 

দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৫৬১ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব ‘মালফূজাতে আলা হযরত’ ৪র্থ খন্ডের ৬০ থেকে ৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, সিদ্দীকে আকবর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ কখনও মূর্তিকে সিজদা করেননি। অল্প বয়সে তাঁর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ পিতা তাঁকে মূর্তিঘরে নিয়ে যান আর বলেন, এটা হচ্ছে তোমার উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ প্রভু, তাকে সিজদা কর। যখন তিনি رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ মূর্তির সামনে গেলেন, তখন আবু বকর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বললেন: আমি ক্ষুর্ধাত, আমাকে খাবার দাও? আমি বিবস্ত্র, আমাকে পরিধানের বস্ত্র দাও? আমি পাথর ছুঁড়ে মারছি, তুমি যদি সত্যিকার প্রভু হয়ে থাক, তা হলে নিজেকে বাঁচাও। মূর্তি কী জবাব দেবে! তিনি رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ একটি পাথর ছুঁড়ে মারলেন, পাথরটি লাগতেই মূর্তিটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। পিতা এই অবস্থা দেখে রাগান্বিত হয়ে গেল, পুত্রের চেহারায় একটি থাপ্পর মারল, সিদ্দীকে আকবর رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ কে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে এল, সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করল: মা বললেন, আমার ছেলেকে তাঁর অবস্থায় ছেড়ে দিন, যখন সে ভূমিষ্ঠ হল, তখন অদৃশ্য হতে আওয়াজ এসেছিল... 

يَا اَمَةَ اللهِ عَلَى التَّحْقِيْقِ اَبْشِرِىْ بِالْوَلَدِ الْعَتِيْقِ اِسْمُہٗ فِى السَّمَاءِ الصِّدِّيْقُ لِمُحَمَّدٍ صَاحِبٌ وَّ رفِيْقٌ 

অনুবাদঃ “হে আল্লাহ পাকের সত্যিকার বাঁদী! তোমাকে সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে এ শিশুটি ‘আতীক’ বা মুক্ত, আসমানে এর নাম হচ্ছে ‘সিদ্দীক’। আর মুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর সফরসঙ্গী এবং তাঁর সাথী।” 

Tuesday, February 27, 2018

দরূদ শরীফ পাঠের ফযিলত (৭)

❤❤ফযিলত-৫১❤❤
হযরত সায়্যিদুনা শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সোলায়মান জাযুলী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বলেন: আমি সফরে ছিলাম। এক স্থানে আসার পর নামাযের সময় হয়ে গেল। সেখানে একটি কূপ ছিল, কিন্তু বালতি আর রশি ছিল না। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, তখনি একটি ঘরের উপর হতে এক মাদানী মুন্নী আমাকে আড়াল হতে দেখছিল, আর জিজ্ঞাসা করল: আপনি কী খুঁজছেন? আমি বললাম: কন্যা, রশি আর বালতি। সে জিজ্ঞাসা করল: আপনার নাম? বললাম: মুহাম্মদ ইবনে সোলায়মান জাযুলী। মাদানী মুন্নীটি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলল: আচ্ছা! আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যার প্রসিদ্ধির ডঙ্কা বাজছে চারদিকে। অথচ আপনার অবস্থা এই যে, কূপ থেকে পানিও নিতে পারছেন না! এ কথা বলেই সে কূপে থুথু ফেলল। মুহুর্তেই পানি উপরের দিকে উঠে গেল এবং পানি কুপ থেকে উপচে পড়তে লাগল। তিনি জাযুলী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ওযু করার পর সেই অসাধারণ মাদানী মুন্নীকে বললেন: কন্যা! তুমি সত্যি করে বল তো, এ অসাধারণ ক্ষমতা তুমি কিভাবে অর্জন করেছ? সে বলল: আমি দরূদ শরীফ পাঠ করে থাকি আর তার বরকতেই এই দয়া হয়েছে। তিনি বলেন: এই অসাধারণ মাদানী মুন্নীর কথায় প্রভাবিত হয়ে আমি সেখানেই সংকল্প করলাম যে, দরূদ শরীফের উপর কিতাব লিখব। (সা’আদাতুদ দারাইন, পৃষ্ঠা-১৫৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত) অতঃপর তিনি দরূদ শরীফের কিতাব রচনা করেন। যেটি সর্বজন গৃহীত হয়েছে আর সেই কিতাবের নাম হল “দালায়িলুল খায়রাত”।

Monday, February 19, 2018

তেল লাগানো ও চিরুনী ব্যবহার সম্পর্কিত ১৯টি মাদানী ফুল

﴾১﴿ হযরত সায়্যিদুনা আনাস رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ বলেন: আল্লাহর মাহবুব, হুযুর পুরনূর, নবী করীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم প্রায়ই আপন মাথা মোবারকে তেল ব্যবহার করতেন, আর দাঁড়ি মোবারক চিরুনী দিয়ে আঁচড়াতেন। মাথা মোবারকে প্রায়ই কাপড় রাখতেন। এমনকি কাপড়টি তেলে ভিজা থাকত। [ আশ শামায়িলুল মোহাম্মদীয়া লিত তিরমিযী, ৪র্থ পৃষ্ঠা] বুঝা গেল, ‘সারবন্দ’ ব্যবহার করা সুন্নাত। ইসলামী ভাইদের উচিত, যখনই মাথায় তেল লাগাবে, ছোট একটি কাপড় মাথায় বেঁধে নেবে। এতে করে اِنْ شَاءَ الله عَزَّوَجَلّ টুপি ও পাগড়ী মাথার তেল থেকে রক্ষা পাবে। اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَل সগে মদীনা عُفِىَ عَنْهُ (লিখক) অনেক বছর ধরে ‘সারবন্দ’ ব্যবহার করে আসছে।

﴾২﴿ নবী করীম, রউফুর রহীম صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: “যার চুল রয়েছে, সে যেন সেগুলোর সম্মান করে।” [সুনানে আবু দাঊদ, ৩ খন্ড, ১০৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪১৬৩]। অর্থাৎ সেগুলো ধৌত করবে, তেল লাগাবে, আর চিরুনী দিয়ে আঁচড়াবে। [আশি‘আতুল লুমআত, ৩ খন্ড, ৬১৭ পৃষ্ঠা]

Sunday, February 18, 2018

বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাদানী ফুল

আল্লাহর অলীর আমন্ত্রণের কাহিনী 

কোন এক ধনবান ব্যক্তি একদা হযরত সায়্যিদুনা হাতেম আসাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ কে দাওয়াত দিল এবং আমন্ত্রণে যাওয়ার জন্য খুব জোর করল। তিনি বললেন: তুমি যদি আমার এ তিনটি শর্ত মেনে নাও, তাহলে আসব। ১. আমার যেখানে ইচ্ছা বসব। ২. আমার যা ইচ্ছা খাব। ৩. আমি যা বলব, তোমাদের তা করতে হবে। ধনবান লোকটি এই তিনটি শর্ত মেনে নিল। আল্লাহর অলীর সাক্ষাতের জন্য অসংখ্য লোকজন জমা হল। নির্দিষ্ট সময়ে হযরত সায়্যিদুনা হাতেম আসাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِএসে পৌঁছলেন। লোকজন যেখানে তাদের জুতো রেখেছিল তিনি এসেই সেখানে বসে গেলেন। খাওয়া-দাওয়া যখন শুরু হল, হযরত সায়্যিদুনা হাতেম আসাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ আপন থলের ভিতর থেকে একটি শুকনো রুটি বের করে তা খেয়ে নিলেন। খাওয়া-দাওয়া যখন শেষ হয়ে গেল, তিনি মেজবানকে উদ্দেশ্য করে বললেন: একটি চুলা নিয়ে আস আর তাতে একটি তাবা রাখ। যেই হুকুম সেই কাজ। আগুনের তাপে যখন তাবাটি কয়লার মত লাল হয়ে গেল, তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ তখন সেই তাবাটির উপর খালি পায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর বললেন: আজকের খাবারে আমি শুকনো রুটি খেয়েছি। এই কথা বলে তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ তাবা থেকে নেমে গেলেন। এরপর উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে বললেন: আপনারা প্রত্যেকেও এক এক করে এই তাবায় দাঁড়িয়ে আজকের দাওয়াতে যা যা খেয়েছেন তার হিসাব দিয়ে যান। এ কথা শুনে লোকদের মুখে চিৎকার শুরু হল। সকলে সমস্বরে বলল: হুজুর! এই ক্ষমতা তো আমাদের কারো নেই। (কোথায় গরম তাবা আর কোথায় আমাদের নরম পা। আমরা সবাই তো এমনিতেই গুনাহ্গার (দুনিয়াবাজ লোক)। তিনি رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ বললেন: যেক্ষেত্রে আপনারা দুনিয়ার এই গরম তাবায় দাঁড়িয়ে আজকের মাত্র এক বেলা খাবারের মত নেয়ামতের হিসাব দিতে অপারগ রয়ে গেলেন, সেক্ষেত্রে কাল কিয়ামতের দিন এত দীর্ঘ জীবনের সকল নেয়ামতের হিসাবগুলো কীভাবে দিবেন? অতঃপর তিনি সূরা তাকাসুরের শেষের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:
 ثُمَّ لَتُسئَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيْمِ 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদের সবাইকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। 

অশ্রুর বারিধারা (ইমাম আবু হানীফা)

জমজমাট বাজারে রেশমী কাপড়ের একটি দোকানে দোকানটির কর্মচারী আল্লাহ তাআলার কাছে জান্নাত চেয়ে দোআ করছিল। এ অবস্থা দেখে দোকানের মালিকের হৃদয় নরম হয়ে গেল। দু’চোখ থেকে এমনভাবে অশ্রু গড়াতে শুরু করল যে, তার উভয় কান ও কাঁধ কাঁপতে লাগল। দোকানের মালিক সাথে সাথে দোকান বন্ধ করার নিদের্শ দিলেন, নিজের মাথার উপর কাপড় মুড়িয়ে তাড়াতাড়ি উঠে গেলেন, আর বলতে লাগলেন: আফসোস! আমরা আল্লাহ তাআলার প্রতি কতই যে ভয়হীন হয়ে গেছি। আমাদের মধ্য থেকে কেবল একজন লোক নিজের মন থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে জান্নাত চেয়ে নিচ্ছে। (এ তো অনেক সাহসিকতার আবেদন)। আমাদের মত গুনাহ্গারদের উচিত, আল্লাহ তাআলার কাছে (নিজেদের গুনাহের) ক্ষমা প্রার্থনা করা। সে দোকানের মালিক আল্লাহর ভয়ে অত্যন্ত ভীত ছিলেন। রাতে নামাযের জন্য যখন দাঁড়াতেন, তাঁর চোখ থেকে এমনভাবে অশ্রু বের হত যে, চাটাইয়ের উপর টপ টপ করে চোখের পানির ফোঁটা পড়ার শব্দ শোনা যেত, আর এত বেশী কান্না করতেন যে, আশেপাশের লোকজনের মনে তার প্রতি দয়া সৃষ্টি হত। [আল খায়রাতুল হিসান লিল হায়তামী হতে সংক্ষেপিত, ৫০, ৫৪ পৃষ্ঠা] 

Wednesday, February 14, 2018

মেহমানদারীর ২০টি মাদানী ফুল

۞ছয়টি হাদীস শরীফ:
(১) “যে (ব্যক্তি) আল্লাহ্ এবং কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে তার উচিত মেহমানকে সম্মান করা।” (বুখারী, ৪র্থ খন্ড, ১০৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬০১৮) প্রখ্যাত মুফাস্সীর হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় বলেন: মেহমানের সম্মান হলো; তার সাথে উৎফুল্লভাবে সাক্ষাৎ করবে, তার জন্য খাবার এবং অন্যান্য খেদমতের ব্যবস্থা করবে, যথাসম্ভব নিজের হাতে তার সেবা করবে। (মিরআত, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫২ পৃষ্ঠা)
(২) “যখন কোন মেহমান কারো কাছে আসে তখন নিজের রিযিক (সাথে) নিয়ে আসে আর (যখন) তার কাছ থেকে চলে যায় তখন ঘরের মালিকের গুনাহ ক্ষমা হওয়ার মাধ্যম হয়ে থাকে।” (কানযুল উম্মাল, ৯ম খন্ড, ১০৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৫৮৩১)
(৩) “যে নামায কায়েম করলো, যাকাত আদায় করলো, হজ্ব সম্পাদন করলো, রমযানের রোযা রাখলো এবং মেহমানদারী করলো তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আল মুজামুল কবীর, ১২তম খন্ড, ১০৬ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১২৬৯২)
(৪) “যে ব্যক্তি (সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) মেহমানদারী করে না, তার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।” (মুসনদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ৬ষ্ঠ খন্ড, ১৪২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭৪২৪)

কবরের পরীক্ষা

কবরের হুংকার 
হযরত সায়্যিদুনা আবুল হাজ্জাজ সুমালী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ থেকে বর্ণিত; নবী করীম, রউফুর রহীম, রাসূলে আমীন صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেছেন: যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে শায়িত করা হয়, তখন কবর তাকে সম্বোধন করে বলে: হে মানুষ! তোমার ধ্বংস হোক! তুমি কেন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে? তোমার কি এতটুকুও জানা ছিলোনা যে, আমি ফিতনার ঘর, অতি অন্ধকারের ঘর। অতঃপর তুমি কিসের ভিত্তিতে আমার উপর দিয়ে সদম্ভে চলাফেরা করেছিলে?’ যদি সে মৃত ব্যক্তি নেককার বান্দা হয়, তখন এক গায়েবী আওয়াজ কবরকে সম্বোধন করে বলে: হে কবর! তোমার মধ্যে শায়িত ব্যক্তি যদি সৎ কাজের আদেশ দাতা হয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারী হয়, তাহলে তার সাথে তুমি কিরূপ আচরণ করবে? উত্তরে কবর বলে: যদি তাই হয়, তবে আমি তার জন্য মনোমুগ্ধকর বাগানে পরিণত হবো। অতঃপর সে ব্যক্তির শরীর নূরের শরীরে পরিণত হয়ে যায় এবং তার রূহ আল্লাহ্ তাআলার দরবারের দিকে উড়ে চলে যায়।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৬৭ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৬৮৩৫) 


মুবাল্লিগদের জন্য শুভ সংবাদ! 
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! উপরোক্ত হাদীস শরীফের উপর একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন! যখনই কোন (ব্যক্তি) কবরবাসী হয়ে যায়, সে নেককার হোক কিংবা গুনাহগার, তাকে কবরে ভীতি প্রদর্শন করা হয়। দাওয়াতে ইসলামীর মুবাল্লিগগণ! ফয়যানে সুন্নাতের দরস দাতাগণ! এলাকায়ী দাওরা বরায়ে নেকীর দাওয়াতে অংশগ্রহণকারীগণ! নিজ সন্তানদেরকে সুন্নাত মোতাবেক লালন-পালন কারীগণ! এবং সুন্নাত শিক্ষাদানের জন্য ইনফিরাদি কৌশিশকারীগণের জন্য সুসংবাদ এই হবে যে, কবরে একটি অদৃশ্য আওয়াজ সৎকাজের আদেশ দাতা ও মন্দ কাজে নিষেধকারীদেরকে সাহায্য-সহযোগীতা করবে এবং এভাবে কবর তাদের জন্য বাগানে পরিণত হবে। 

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন