আপডেট
স্বাগতম! ইসলামী জীবন ব্লগে নিয়মিত ভিজিট করুন আর শিখুন ইসলামীক জ্ঞান। শেয়ার করুন আপনার সোস্যাল সাইটে। প্রয়োজনে লাইভ চ্যাটের সহায়তা নিন। হোয়াটসঅ্যাপে ইসলামীক পোষ্ট পেতে +880 1946 13 28 62 নাম্বারে Post লিখে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিন। ধন্যবাদ!
বাংলা ভাষায়, অলাভজনক, বৃহত্তম ইসলামীক ওয়েবসাইট বানানোর প্রত্যয়ে “ইসলামী জীবন“ কাজ করে যাচ্ছে। www.islamijibon.net
Showing posts with label তারাবীহ. Show all posts
Showing posts with label তারাবীহ. Show all posts

Wednesday, June 7, 2017

তারাবীহর জামাআত ‘বিদআতে হাসানা’ (নতুন প্রচলিত পূণ্যময় কাজ)

মাদিনার তাজেদার, উভয় জগতের সরদার ﷺ নিজেও তারাবীহ পড়েছেন এবং এটাকে খুব পছন্দও করেছেন। কোরআনের ধারক, মদীনার সুলতান হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর মহান বাণী, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে রমযানে রাত্রি জাগরণ করে তার পূর্বাপর গুনাসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।’ উম্মতের উপর তারাবীহ ফরয করে দেয়া হয় কিনা এই আশঙ্কায় রসূল ﷺ  বাদ দিতেন, অতঃপর আমীরুল মু’মিনীন সায়্যিদুনা ওমর ফারূকে আযম  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  তাঁর খিলাফতের সময় মাহে রমযানুল মুবারকের একরাতে মসজিদে দেখতে পেলেন যে, কেউ একাকী আবার কেউ জামাআতে (তারাবীহ) পড়ছেন। এটা দেখে তিনি বললেন, আমি চাচ্ছি, সবাইকে এক ইমামের সাথে একত্রিত করে দেয়াই উত্তম হবে। তাই তিনি হযরত সায়্যিদুনা উবাই ইবনে কা’ব  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  কে সবার ইমাম করে দিলেন। অতঃপর যখন দ্বিতীয় রাতে তাশরীফ আনলেন, তখন দেখলেন লোকেরা জামাআত সহকারে (তারাবীহ) আদায় করছেন। (তিনি খুব খুশী হলেন) আর বললেন نِعْمَ الْبِدْعَةُ هٰذِه অর্থাৎ এটা উত্তম বিদআত। (বুখারী ১ম খন্ড , পৃঃ ৬৫৮, হাদিস নং -২০১০ )
বিদআত প্রসঙ্গ
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা ! আল্লাহর প্রিয় রাসূল ﷺ আমাদের প্রতি কতোই খেয়াল রেখেছেন। শুধু এ আশঙ্কায় তারাবীহ সবসময় পড়েননি যে, তা আবার উম্মতের উপর ফরয হয়ে যায় কিনা। এ হাদিসে পাক থেকে কিছু সংখ্যক কুমন্ত্রণার চিকিৎসাও হয়ে গেলো। যেমন, তারাবীর নিয়ম মোতাবেক জামাআত হুযুর ﷺ ও জারী করতে পারতেন, কিন্তু করেন নি।
অনুরূপভাবে, ইসলামে ভাল পদ্ধতির প্রচলনের জন্য তাঁর গোলামদেরকে সুযোগ করে দিলেন যে কাজ সৃষ্টিকুল শ্রেষ্ঠ শাহে মদীনা ﷺ করেন নি, ওই কাজ সায়্যিদুনা ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ নিছক আপন ইচ্ছায় করেন নি, বরং শাহেনশাহে দো আলম হযরত মুহাম্মদ ﷺ কিয়ামত পর্যন্ত ভালো ভালো কাজ চালু করার জন্য নিজের পবিত্র প্রকাশ্য জীবদ্দশায়ই অনুমতি দান করেছিলেন।

তারাবীর ৩৫ টি মাদানী ফুল

১। তারাবীহ্ প্রত্যেক বিবেকবান ও বালেগ ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনের জন্য সুন্নতে মুআক্কাদাহ। (দুররুল মুখতারঃ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৩) সেটা বর্জন করা জায়িয নেই।
২। তারাবীর নামায বিশ রাকাআত। সায়্যিদুনা ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর শাসনামলে বিশ রাকাতই পড়া হতো। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী: ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৯৯, হাদিস নং ৪৬১৭ নং হাদিস)
৩। তারাবীর জামাআত সুন্নতে মুআক্কাদাহ আলাল কেফায়া। সুতরাং যদি মসজিদের সবাই ছেড়ে দেয় তবে সবাই তিরস্কারযোগ্য কাজ করলো। (অর্থাৎ মন্দ কাজ করলো)। আর যদি কয়েকজন লোক জামাআত সহকারে পড়ে, তবে যারা একাকী পড়েছে, তারা জামাআতের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। (হেদায়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭০)
৪। তারাবীর নামাযের সময় হল এশার ফরয নামায পড়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এশার ফরয আদায় করার পূর্বে পড়ে নিলে বিশুদ্ধ হবে না। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৫)
৫। এশার ফরয ও বিতরের পরও তারাবী পড়া যায়। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৪) যেমন, কখনো ২৯ শে রমযান চাঁদ দেখার সাক্ষী পেতে দেরী হলে এমনই ঘটে থাকে।
৬। মুস্তাহাব হচ্ছে- তারাবীতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করা। যদি অর্ধ রাতের পরেও পড়ে তবুও মাকরূহ হবে না। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৫)
৭। তারাবীহ ছুটে গেলে তার কাযা নেই। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৪৯৪ পৃষ্ঠা)
৮। উত্তম হচ্ছে- তারাবীর বিশ রাকআত নামায দুই দুই রাকআত করে দশ সালাম সহকারে সম্পন্ন করা। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৫)

ফয়যানে তারাবীহ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ রমযানুল মুবারকে যেখানে আমরা অগণিত নে’মত পেতে পারি, সেগুলোর মধ্যে ‘তারাবীর সুন্নত’ও রয়েছে। সুন্নতের মহত্ত্বের কথা কি বলবো? আমিনার বাগানের সুবাসিত ফুল, আল্লাহর প্রিয় রসূল হযরত মুহাম্মদ এর জান্নাতরূপী বাণী, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালবাসে, সে আমাকে ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” (জামে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃ-৩১০, হাদীস নং-২৬৮৭)

ফয়যানে তারাবীহ

রমযানে ৬১ বার খতমে কোরআন

তারাবীহ সুন্নতে মুআক্কাদাহ। তাতে কমপক্ষে একবার খতমে কুরআনও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। আমাদের ইমামে আযাম আবু হানীফা  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , " রমযানুল মুবারকে ৬১ বার কুরআন করীম খতম করতেনঃ ত্রিশ খতম দিনে, ত্রিশ খতম রাতে আর একবার তারাবীহের নামাযে। তাছাড়া, তিনি  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , " ৪৫ বছর ইশার ওযু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন। (বাহারে শরীআত, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ-৩৭)
এক বর্ণনায় অনুযায়ী ইমাম আযম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه , " জীবনে ৫৫ বার হজ্ব করেছেন আর যে স্থানে তিনি ইন্তিকাল করেছেন সেখানে তিনি সাত হাজার বার কুরআন মজিদ খতম করেছেন। (উকুদুন হিমান, পৃ-২২১)

পোস্ট শ্রেণি

অন্যান্য (15) অযু-গোসল-পবিত্রতা (14) আকিকা (1) আমাদের কথা (1) আযান (3) আযাব (4) ইতিকাফ (1) ইফতারী (1) ইবাদত (14) ইসলামী ইতিহাস (8) ঈদের নামায (1) ওমরা (27) কবর যিয়ারত (8) কাযা নামায (3) কারবালা (7) কালিমা (1) কুরবানী (6) কুসংস্কার (3) খেজুর (1) চিকিৎসা (12) জানাযা নামায (3) তওবা (4) তারাবীহ (3) দিদারে ‍মুস্তফা (1) দুরূদ শরীফের ফযিলত (8) নামায (24) নিয়ত (2) পর্দা ও পর্দার বিধান (15) পিতা-মাতা হক্ব (1) প্রতিযোগিতা (2) প্রশ্নোত্তর (16) ফয়যানে জুমা (3) ফযিলত (11) বদ আমল (5) বিদআত (4) ভালবাসা (1) মওত-কবর-হাশর (7) মদিনা (2) মনীষীদের জীবনী (7) মা (1) মাদানী ফুল (28) মাসাইল (88) মিলাদুন্নবী (2) মিসওয়াক (1) মুহাররম (2) যাকাত-ফিতরা (1) রজব (3) রমযান (13) রুহানী ইলাজ (4) রোজা (17) লাইলাতুল ক্বদর (1) শাওয়াল (1) শাবান (3) শিক্ষনীয় ঘটনা (2) শিশু (3) সদক্বাহ (1) সাহরী (1) সিরাতুন্নবী (2) সুন্নাত ও আদব (26) স্বাস্থ্য কথন (10) হজ্ব (27) হাদিস (1)

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন