বিভাগ সমূহ

রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮

অশুভ প্রথা বা কুসংস্কারে বিশ্বাস (১)

অলক্ষুনে কে? 

কোন বাদশা একদা তার সভাসদদের নিয়ে দরবারে বসা ছিলো। এমন সময় কালো বর্ণের এক চোখ কানা ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হল বাদশার সম্মুখে। সবাই অভিযোগ করল, এই লোকটি এমন ধরনের অলক্ষুনে যে, কেউ যদি সকালে উঠে একে দেখে, সেই দিন তাকে অবশ্যই কোন না কোন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। সুতরাং তাকে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেওয়া হোক। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর বাদশা বললেন, চূড়ান্ত বিচার করার আগে আমি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখবো, কাল সকালে সর্বপ্রথম আমি তাকে দেখবো, তারপর অন্য কাজে হাত দেবো। পরদিন সকালে বাদশা যখন ঘুম থেকে উঠলো, দরজা খুলতেই সর্বপ্রথম সেই কানা ব্যক্তিটিকেই দাঁড়ানো দেখতে পেলো। তাকে দেখেই বাদশা পেছনে ফিরে গেলো এবং দরবারে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলো। পোষাক পাল্টাবার পর বাদশা যখনই জুতোয় পা দিলো, তখনই তাতে লুকিয়ে থাকা বিষাক্ত বিচ্ছু তাকে দংশন করলো।

শনিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৮

প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কিত ১৫ টি মাদানী ফুল

৮টি হাদীস শরীফ 
(১) “আল্লাহ্ তা’আলা নেক মুসলমানের সদকায়/ খাতিরে তাঁর আশেপাশের ১০০টি ঘর থেকে বিপদাপদ দূরীভূত করে দেন। অতঃপর তিনি صَلَّی اللّٰہُ  تَعَالٰی عَلَیْهِ  وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এই আয়াতে করীমা তিলাওয়াত করেন: 

وَلَوْلَا دَفْعُ اللهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ 

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: ”আর যদি আল্লাহ্ মানুষের মধ্য থেকে একজনকে অন্যের দ্বারা প্রতিহত না করেন, তবে অবশ্যই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।” (৩য় পারা, সূরা বাক্বারা, আয়াত- ২৫১) (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৮ম খন্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৩৫৩৩) 

(২) “আল্লাহ্ তা’আলার নিকট সর্বোত্তম প্রতিবেশী হল- যে আপন প্রতিবেশীর কল্যাণকামী হয়ে থাকে।” (তিরমিযী, ৩য় খন্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৯৫১) 

(৩) “ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার দুষ্টামী থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।” (মুসলিম, ৪৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৬) 

(৪) “ঐ ব্যক্তি মুমীন নয়, যে নিজে পেট ভরে আহার করেছে, আর তার প্রতিবেশী অনাহারে রয়েছে।”(শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খন্ড, ২২৫ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩৩৮৯) অর্থাৎ- সে পূর্ণঙ্গ মুমীন নয়। 

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৮

কিয়ামতের পরীক্ষা

মাদানী মুন্নার ভয়

অর্ধরাতে একটি ছোট্ট মাদানী মুন্না হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসে গেল এবং চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। তার পিতা গভীর রাতে কান্নার আওয়াজ শুনে ভয়ে জাগ্রত হয়ে গেলেন এবং বলতে লাগলেন: “হে আমার প্রিয় বৎস! কাঁদছ কেন?” মাদানী মুন্না কাঁদতে কাঁদতে উত্তর দিল: “আব্বাজান! আগামীকাল বৃহস্পতিবার। শিক্ষক আগামীকাল পূর্ণ সপ্তাহের পরীক্ষা নিবেন।আমি পড়ার প্রতি মনোযোগ দিই নাই। তাই আগামীকাল শিক্ষক আমাকে প্রহার করবে। একথা বলে বাচ্চা হাউমাউ করে আরো উচ্চ আওয়াজে কাঁদতে লাগল। এ ঘটনায় পিতার চোখে অশ্রু এসে গেল এবং সে নিজের নফস কে সম্বোধন করে বলতে লাগলেন: “এই বাচ্চাকে মাত্র এক সপ্তাহের হিসাব দিতে হবে এবং শিক্ষককে চাইলে কোন বাহানাও দেয়া যায়। তারপরও সে কাঁদছে এবং প্রহারের ভয়ে তার চোখে ঘুম আসছে না। আর আফসোস! হায় আফসোস! আমার উপরতো পূর্ণ জীবনের হিসাব ঐ একক পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তা’আলার নিকটেই দিতে হবে। যাকে কোন বাহানা দেয়া যাবে না। তদুপরি আমার কিয়ামতের পরীক্ষা সামনে রয়েছে। কিন্তু আমি অলসতার ঘুমে ঘুমিয়ে রয়েছি। অবশেষে আমার কোন ভয় আসছে না কেন? (দুররাতুন নাছেহীন, ২৯৫ পৃষ্ঠা)

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এই ঘটনায় আমাদের জন্য শিক্ষণীয় অসংখ্য মাদানী ফুল রয়েছে। আমাদের চিন্তা করা উচিৎ যে, একটি মাদানী মুন্না তার ধ্যান এবং মাদানী চিন্তাধারা দেখুন! মাদানী মুন্না মাদ্রাসার হিসাবের ভয়ে কান্না করছে, আর তার পিতা কিয়ামতের হিসাব নিকাশের কঠোরতা স্মরণ করে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছেন।

করীম আপনে করম কা সদকা লাঈম বে কদর কো না শরমা
তো আওর গাদা ছে হিসাব লেনা গাদা ভী কোয়ী হিসাব মে হে।